মুক্তি পেয়ে ফিলিস্তিনিদের ভাষ্যকারাগার নয়, আমরা কসাইখানায় ছিলামযুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের বন্দী বিনিময় হচ্ছে। হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, মুক্তি পেলেন ৮৮ ফিলিস্তিনি বন্দীযুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের কারাগার থেকে প্রথম ধাপে মুক্তি পেয়েছেন ৮৮ জন ফিলিস্তিনি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মোট ১,৯০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গাজা ধ্বংস করে ইসরায়েল নিজের নৈতিক ভাবমূর্তিও ধ্বংস করেছেএবারের গাজা যুদ্ধ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘটিত সবচেয়ে দীর্ঘ, রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধ। এর সমাপ্তি হবে এক ধরনের নাটকীয়তায়, যার মূল পরিকল্পনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জিম্মিদের মুক্তি দিচ্ছে হামাস, রাত থেকেই অপেক্ষায় ইসরায়েলিরাগাজায় দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আজ (রোববার) এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকে তাকিয়ে আছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন। ইসরায়েল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর নাগাদ (স্থানীয় সময়) হামাস মুক্তি দিতে যাচ্ছে তাদের হাতে থাকা শেষ ৪৮ জন জিম্মিকে।
ট্রাম্প কীভাবে গাজা যুদ্ধবিরতিতে সফল হলেনমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা ১০ অক্টোবর প্রথম ধাপের শান্তি পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এতে ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই সাফল্য গাজা যুদ্ধের প্রথম বড় ধরনের উত্তেজনা প্রশমনের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েলগাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত লাইন থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এর পরপরই উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে উত্তরের দিকে ফিরতে দেখা গেছে।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি: গাজা যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তিপ্রায় দুই বছরের ভয়াবহ সংঘাতের পর বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর, ২০২৫) ইসরায়েল ও হামাস যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। একে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘতম সংঘাতগুলোর একটির গুরুত্বপূর্ণ মোড়বদল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপনিবেশমুক্ত পরিকল্পনা ছাড়া গাজায় স্থায়ী শান্তি আসবে নাযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনায় কিছু ইতিবাচক প্রস্তাব আছে— যেমন জিম্মি মুক্তি, মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন। কিন্তু পুরো পরিকল্পনাটি উপনিবেশিক মানসিকতায় ভরপুর। এতে বলা হয়েছে, গাজা তদারক করবেন ট্রাম্প নিজে।
যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে হামাস-ইসরায়েল রাজি: ট্রাম্পগাজায় যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়নে একমত হয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলে।
হামাসের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ‘স্বাগত’ জানানোর পর গাজায় বিস্ময়অনেক ফিলিস্তিনি বিস্ময় ও বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপে শতশত ফিলিস্তিনির পোস্টে ছড়িয়ে পড়ছে নানান প্রশ্ন—‘যুদ্ধ কি শেষ হয়ে গেছে?’, ‘এটা কি সত্যি, নাকি স্বপ্ন?’
ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববাসীর আশাবাদট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের আংশিক সমর্থনের পর বিশ্বজুড়ে আশাবাদ জেগেছে। কাতারসহ গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীরাও এতে আশা খুঁজছেন। দুই বছর ধরে চলা গণহত্যা থামার সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া কি বিশ্ব ইসরায়েলকে থামাতে পারবেমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা মেনে নিতে হামাসকে রবিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই সময়ের মধ্যে হামাস একটি চুক্তি মেনে নিলে গাজায় যুদ্ধ শেষ হবে।
এখন কী চাইছে হামাস, যুদ্ধ কি বন্ধ হবেমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আংশিক মেনে নিয়েছে হামাস। তবে তারা বলেছে, কিছু বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। এই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকালে ট্রাম্প ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজা বোমাবর্ষণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামাস ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত।’ অন্যদিকে ইসরায়েল জ