স্থিতিশীল ধারায় ফিরল বাংলাদেশের ঋণমান
স্ট্রিম প্রতিবেদক

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস, রিজার্ভ বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডিস রেটিংস।
বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যায়নে মুডিস এ তথ্য জানায়।
তবে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ইতিবাচক হলেও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও খেলাপি ঋণের কারণে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের রেটিং ‘বি২’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘নট প্রাইম’-এ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ঋণমান ইতিবাচক হওয়ার কারণ
সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী রূপান্তর ও সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতি জনসমর্থনের ফলে রাজনৈতিক ঝুঁকি কমেছে। এছাড়া বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বাজারভিত্তিক বিনিময় হারের ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা চার মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান। এর ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ স্পর্শ করতে পারে।
ব্যাংক খাত ও রাজস্বের ঝুঁকি
মুডিস জানিয়েছে, রেটিং আটকে থাকার মূল কারণ ব্যাংকিং খাতের সংকট। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৮ শতাংশে। মূলধন ঘাটতি মেটাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব সংগ্রহ বিশ্বে অন্যতম সর্বনিম্ন এবং মোট রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ চলে যায় ঋণের সুদ মেটাতে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুডিসের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।
.png)





