আমদানিতে মূল্য ওঠা-নামার ঝুঁকি কমাতে হেজিং সুবিধা চালু
স্ট্রিম প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে আমদানিকারকদের জন্য কমোডিটি প্রাইস রিস্ক হেজিং সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে দেশের আমদানিকারকরা আগে থেকে নির্দিষ্ট দামে পণ্যের ক্রয়াদেশ দিয়ে রাখতে পারবেন, যা আমদানি পণ্যের খরচ কমিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ থেকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এই বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এর আগে বৈদেশিক বাণিজ্যে মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠা-নামাজনিত ঝুঁকি বা ক্ষতি এড়াতে আগাম প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা হেজিং সুবিধা চালু করা হয়েছিল আমদানিকারকদের জন্য।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো যোগ্য আমদানিকারকদের পণ্যের মূল্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সুবিধা দিতে পারবে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়লে আমদানিকারকরা এর মাধ্যমে আর্থিক ঝুঁকি কমাতে পারবেন। এতে ব্যবসার ব্যয় পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরি করা সহজ হবে।
শিল্পের কাঁচামাল, জ্বালানি, ভোজ্যতেল, ধাতু, শস্য, সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানি এই সুবিধার আওতায় আসবে। আমদানিকারকরা তাদের প্রকৃত আমদানি ঝুঁকির সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বা শতভাগ পর্যন্ত হেজিংয়ের সুযোগ পাবেন। তবে সেজন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্র সংরক্ষণ ও নির্ধারিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
প্রকৃত আমদানি দায়ের বিপরীতে যোগ্য আমদানিকারকরা কমোডিটি ফিউচার, সোয়াপ, কমোডিটি সূচকভিত্তিক ফরোয়ার্ড চুক্তি, অপশনস ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত অন্যান্য আধুনিক হেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হেজিং কোনো জল্পনামূলক ব্যবসার সুযোগ নয়। এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠা-নামাজনিত প্রকৃত আর্থিক ঝুঁকি কমানো। এডি ব্যাংকগুলোকে আমদানিকারকদের যথাযথ যাচাই, সঠিক নথি সংরক্ষণ, ঝুঁকি প্রকাশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়া নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বড় আমদানিকারকদের অনেকেই নির্দিষ্ট দেশের মধ্যস্বত্বভোগী বা ট্রেডারদের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে পণ্য কিনে থাকেন। এর ফলে খরচ যেমন বেশি পড়ে, পাশাপাশি থার্ড পার্টি ট্রেডারদের মাধ্যমে অর্থ পাচারের ঝুঁকিও থেকে যায়। এই ব্যবস্থা প্রতিরোধে এবং দেশের আমদানিকারকদের সুরক্ষা দিতে পণ্য আমদানিতে হেজিং সুবিধা চালু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পণ্যের দামের আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে ক্রেতা ও উৎপাদক উভয়েই আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকেন। পণ্যের দাম বেড়ে গেলে ক্রয়মূল্য বেড়ে যায় এবং ব্যবসার মুনাফা কমে। আবার পণ্যের দাম কমে গেলে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েন। নতুন ব্যবস্থাটি সেই অনিশ্চয়তা দূর করবে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব পণ্যের দামের ওপর দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও উৎপাদন খরচ নির্ভর করে (যেমন তেল, ইস্পাত ও প্রধান কৃষিপণ্য), সেগুলোর ক্ষেত্রে এই সুবিধা দারুণ কার্যকর হবে। এসব পণ্যের মূল্য ওঠা-নামার সঙ্গে উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় ও ব্যবসার লাভ-ক্ষতির হিসাবের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।
.png)

-7c29dd-256x144.webp)


