
রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকাতে এখন বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারিতে তৈরি পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট। এতে একদিকে ক্রেতাদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে বিক্রি কমেছে দোকানগুলোতে।
গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে নতুন দাম কার্যকর করেছে বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।
সংগঠনটির সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান, পাউরুটি, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার কিছু পণ্যের দাম না বাড়িয়ে ওজন কমানো হয়েছে।
বেকারি শিল্পে ২৫ লাখ শ্রমিক কাজ করেন দাবি করে জালাল উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ঢাকার প্রায় অর্ধশত বেকারি বন্ধ হয়েছে। আগের দাম চালু থাকলে আরও অনেক কারখানা বন্ধ হবে। কাজ হারাবে অনেক মানুষ। তাই দাম বাড়ানো ছাড়া আমাদের উপায় ছিল না।’
বেকারি মালিকরা বলছেন, প্রধান কাঁচামাল ময়দা, চিনি, ডালডা, সয়াবিন তেল, গ্যাসসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। এ কারণে তারা ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দাম বাড়িয়েছেন।
দাম বাড়ানোর দাবিতে গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেকারি কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল। শুক্রবার নিয়মিতভাবেই উৎপাদন বন্ধ থাকে। শনিবার সকাল থেকে নতুন নির্ধারিত মূল্যে বাজারে বেকারি পণ্য সরবরাহ শুরু হয়েছে।
বেকারি পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা। তাদের একজন ভ্যানচালক আব্দুল আলিম। মালিবাগে একটি চায়ের স্টলে বসে বনরুটি আর চা খাচ্ছিলেন তিনি। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আগে যে নাশতা করতে ৩০ টাকা খরচ হতো, এখন লাগছে ৪০ টাকা। আমরা বড় হোটেলে যেতে পারি না। রুটি আর কেক খেয়েই নাশতা করতে হয়। এগুলোরও যদি দাম বাড়ে, তাহলে আমরা খাবো কী?’
কারওয়ান বাজার এলাকার চা দোকানি আজিজুল হক বলেন, ‘গত শনিবার থেকে বর্ধিত দামে কেক, রুটি বিক্রি করছি। তাই আগের মতো কাস্টমার নাই। অনেকে দাম শুনে না কিনে চলে যাচ্ছেন। যার কোনো উপায় নাই, তিনি বাড়তি দাম দিয়েই খাচ্ছেন।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনিতেই বাজারে মাছ, মাংস, সবজি, তেল, চিনি প্রভৃতি নিত্যসামগ্রীর দাম বাড়তির দিকে। এ অবস্থায় বেকারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের খরচের হিসাবে চাপ তৈরি হয়েছে।
.png)


-7c29dd-256x144.webp)


