এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪১%

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রান্তিক এলাকায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং। ছবি: সংগৃহীত
প্রান্তিক এলাকায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং। ছবি: সংগৃহীত

দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। এটি এক বছর আগের চেয়ে ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংবিষয়ক সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

এতে দেখা গেছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) শেষে ঋণ বিতরণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৮৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এটি আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণকৃত মোট ঋণের ৬৪ দশমিক ১৭ শতাংশ বা ২৬ হাজার ২২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা পেয়েছেন গ্রামীণ গ্রাহকরা।

তবে নারীরা ঋণপ্রাপ্তিতে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন। মোট এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টধারীর প্রায় অর্ধেক নারী (১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯১৮ জন) হলেও তারা পেয়েছেন মোট ঋণের মাত্র ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ (৫ হাজার ২০০ কোটি ২০ লাখ টাকা)।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নারীদের আরও বেশি ঋণ সুবিধার আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে যুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৩টি ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। এর ৮৫ শতাংশই (২ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৫টি) গ্রামীণ এলাকার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবাগ্রহীতার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা প্রমাণ করে যে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এই সেবার চাহিদা বাড়ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে নারী গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা পুরুষদের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে এই সেবা পৌঁছে দিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং।

এই খাতে আমানতও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৯০৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এক বছর আগের তুলনায় তা ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ-আমানত অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিক শেষে ছিল ৭৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।

দেশে আসা রেমিট্যান্স গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং। জুন শেষে এজেন্টদের মাধ্যমে বিতরণকৃত মোট অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় তা ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ও এক বছর আগের তুলনায় ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। এর সুবিধাভোগী সবচেয়ে বেশি হচ্ছেন গ্রামীণ গ্রাহকরা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণকৃত রেমিট্যান্সের ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশই পেয়েছেন তারা।

এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) এবং নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করছে।

সেবাগ্রহীতার পাশাপাশি এজেন্ট হিসেবেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ১৫ হাজার ৪২৪ জন এজেন্ট ২০ হাজার ৫৯৭টি আউটলেট পরিচালনা করছে। এর মধ্যে নারী এজেন্ট ১ হাজার ৭৭৬ জন। তাদের পরিচালনাধীন আউটেলেটের সংখ্যা ২ হাজার ১০৬টি।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত আউটলেটে ২৩ লাখ ৪০ হাজার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ লাখ ৪০ হাজার অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ এলাকার।

প্রান্তিক অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হয়। এসব আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকরা আমানত, ঋণ, রেমিট্যান্স, বিল পরিশোধ ও সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত