ভারতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, বন্যার শঙ্কা বাংলাদেশে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ০৩
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

বাংলাদেশ ঘেঁষা ভারতের তিন রাজ্যে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অফিস। টানা তিন দিনের এই বৃষ্টির প্রভাবে নদ-নদীর পানি বেড়ে স্বল্পস্থায়ী বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পাউবো জানায়, পদ্মা (ভারতে গঙ্গা) এবং গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

পদ্মার পানি বর্তমানে স্থিতিশীল। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঙ্খা পয়েন্টে বর্তমানে ‘সতর্ক সীমায়’ প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। আর গড়াই নদের পানি মাগুরার কামারখালী পয়েন্টে সতর্কসীমায় পৌঁছেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় গড়াই নদের পানিপ্রবাহ ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে ওই জেলাগুলোর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পানি তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। বর্তমানে তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে ‘সতর্কসীমায়’ প্রবাহিত হচ্ছে। আর দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা নদীর পানি কমেছে। তবে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে সতর্কসীমায় বইছে।

ভারতের পূর্বাভাস ও বৃষ্টিপাত

রোববার ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) বুলেটিন অনুযায়ী, দেশটির ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে প্রচুর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসাম ও মেঘালয়ে এবং ১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিমালয়-সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ব্যাপক বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উজানে আসামের আগমনীতে ১৪০ মিলিমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গের কুমারগ্রামে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে ৫৮ ও জলপাইগুড়িতে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

দেশের আবহাওয়া

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) রোববারের সকাল ৯টার বুলেটিন অনুযায়ী, ভারতের ছত্তিশগড় এলাকায় থাকা লঘুচাপটি মৌসুমী বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর প্রভাবে আজ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণও হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ভেতরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়– ৬০ মিলিমিটার। এ ছাড়া কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে ৫০, চট্টগ্রামের আমবাগানে ৪৪ এবং রংপুরে ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, আগামী কয়েক দিন দেশের তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত