
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হয়েছে ১ হাজার ২৬৭ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১২৬ কোটি ডলার। এ হিসাবে এক বছরে বাণিজ্য বেড়েছে ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের আকার ছিল ১ হাজার ৭২ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ হাজার ১৪৯ কোটি ডলারের তুলনায় তা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ভারতের চেয়ে প্রায় ১৯৫ কোটি ডলার বেশি ছিল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে ভারতকে সরিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। শীর্ষ অবস্থানে চীন এখনো অনেক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য হয়েছে ২ হাজার ২৯৬ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের আমদানি বেড়ে যাওয়া। এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩৫৬ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রধানত রপ্তানিনির্ভর। তৈরি পোশাক রপ্তানির সুবাদে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে বড় উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও বেড়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২২ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের গম আমদানি করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরে এ খাতে কোনো আমদানি ছিল না। সয়াবিন বীজ আমদানি ৩৫ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৬২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তুলা আমদানি ২৩ কোটি ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮ কোটি ডলার। এলএনজি আমদানি হয়েছে প্রায় ৪৮ কোটি ডলারের।
বাংলাদেশী পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়ানোর পর দুই দেশ বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির আওতায় প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য এবং ১৫ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। এছাড়া উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিষয়েও অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে বিধিনিষেধের প্রভাব
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য কমার পেছনে সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ ও পাল্টা ব্যবস্থার প্রভাব রয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে একাধিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি স্থগিত করেছে। অন্যদিকে কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশী পণ্য তৃতীয় দেশে রপ্তানির সুবিধা প্রত্যাহার করেছে ভারত। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, কাঠের আসবাবসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নয়াদিল্লি। এর প্রভাব পড়েছে উভয় দেশের বাণিজ্যে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর দেশটিতে বাংলাদেশী পণ্যের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল তুলা ও সুতা আমদানিতে ভারতের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ৫২ কোটি ডলারের তুলা আমদানি করেছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা প্রায় ২৩ শতাংশ কমে ৪০ কোটি ডলারে নেমেছে। একই সময়ে সুতা আমদানি ১৭৫ কোটি ডলার থেকে কমে ১৪৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তুলা ও সুতা মিলিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার।
দুই দেশের বাণিজ্যে অশুল্ক বাধা, আমদানি-রপ্তানি বিধিনিষেধ ও রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
.png)






