ব্যবসা সহজ করায় জোর দিচ্ছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ৫৪
ডিসিসিআইয়ের ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে কথা বলছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সুশাসন ও স্বচ্ছতায় জোর দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যবসা সহজ করায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের নীতিগত দুর্বলতা ও অযৌক্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে অর্থনীতিতে যে অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার এখন সংস্কারের পথে হাঁটছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কোনো আলাদা সত্তা নয়; বরং জনগণ ও অর্থনৈতিক অংশীজনদের সমন্বয়ে গঠিত কাঠামো। অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ ও স্বচ্ছতা বজায় না থাকলে অর্থনীতিতে ভারসাম্য থাকে না। বর্তমানে সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে আগের এই পরিস্থিতি পেয়েছে। সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। অতীতের অনেক প্রকল্পের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ছিল দুর্বল এবং আইএমইডির পর্যালোচনায় অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বেসরকারি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি টেকসই করা সম্ভব নয়। এজন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা জরুরি।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেল, এলএনজি এবং সারের দাম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি, ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং জ্বালানি মজুদ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সরকার ব্যক্তিগত পর্যায়ে করহার বাড়াতে চায় না; বরং করদাতার সংখ্যা বা করজালের পরিধি বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সম্পর্কিত