হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণে ১৫ বছরের পুনঃতফসিল সুবিধা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৪২
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

১ হাজার কোটি টাকার বেশি অঙ্কের খেলাপিরা ঋণ পুনঃতফসিল বা নবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছর সময় পাবেন। এর মধ্যে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডের সুযোগ থাকছে, যে সময়ে ঋণ পরিশোধে বিরতির সুবিধা পাওয়া যাবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এই নীতি সহায়তা উল্লেখ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই সুবিধা পেতে হলে গ্রাহকদের আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। তফসিলি ব্যাংকগুলোকে এসব আবেদন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই সুবিধা?

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক বড় শিল্পগ্রুপের ঋণ মন্দ হয়ে পড়েছে। তারা যেন খেলাপি ঋণ কমিয়ে কলকারখানা চালু রাখতে পারেন, সেই সুযোগ দিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

যারা আগের নীতি সহায়তার আওতায় সুবিধা নিয়েছিলেন, তারাও নতুন করে আবেদনের সুযোগ পাবেন। তবে আগে বিশেষ সুবিধার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়ে থাকলে সেই মেয়াদ বর্তমান সময়সীমা থেকে বাদ যাবে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জারিকৃত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অন্তত ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। সেই সুবিধার মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এখন নতুন সুবিধা পেতে পুনরায় আবেদন করতে হবে।

এক লিখিত বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা গ্রাহকের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অথচ বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থার কারণে ঋণগ্রহীতা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুদ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৮ মাসের একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এই রোডম্যাপের অংশ হিসেবেই নীতিমালাটি জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার কম, তারা ১৫ বছরের কম মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলের সীমিত সুবিধা পাবেন।

ব্যাংক খাতে বিশাল খেলাপি ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। ব্যাংকারদের মতে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির প্রভাবে খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে এস আলম, বেক্সিমকো, নাসা, ওরিয়ন, সিকদার, প্রিমিয়ার, বিসমিল্লাহ, হলমার্ক গ্রুপসহ কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর বড় অঙ্কের কেলেঙ্কারি এবং ন্যাশনাল, ইসলামী ও বেসিক ব্যাংকের জালিয়াতি এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এরই মধ্যে বিতরণকৃত ঋণের ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত