কাঁচা মরিচে আগুন, চড়া নিত্যপণ্যের দাম

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

টানা বর্ষণের প্রভাবে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে সবজি, ডিম, মুরগি ও মাছের দাম। সংগৃহীত ছবি

কাঁচা মরিচে আগুন! সপ্তাহ ঘুরতেই বেড়ে দর দ্বিগুণ হয়েছে। মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও চড়া। ১০০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি। ক্রেতার নাভিশ্বাস। বাজারের ফর্দে কাটছাট করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউ মার্কেটের বনলতা ও হাতিরপুল কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচসহ বেশির ভাগ সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারই প্রভাবে বাজারে আগুন লেগেছে। পাইকারিতেই চড়া দামে পণ্য কনিতে হচ্ছে। দাম নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে রোজ বিতণ্ডা হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, গত সপ্তাহেও তারা কাঁচা মরিচ ২০০-২৫০ টাকা কেজি বিক্রি করেছেন। পাইকারিতেই প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। তাই ৪০০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিউ মার্কেটের বনলতা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকেই কাঁচা মরিচ জোগান কম। আড়ৎ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই দাম বেশি না রাখলে লোকসান দিতে হবে।

নিউ মার্কেটে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ হোসেন বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহেই নতুন দামের মুখোমুখি হচ্ছি। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় অনেক কিছু কেনা বাদ দিয়েছি। অথবা পরিমাণে কম কিনছি।’

ডিম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আগের দরেই, ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। কয়েক দফা বেড়ে ব্রয়লার মুরগির দর স্থিতি পেয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়; সোনালী ৩২০-৩৫০।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যে, গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ১৫০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। চলতি সপ্তাহে তা ৩০০ থেকে ৪০০ হয়েছে। অবশ্য রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দামের লাগাম টানতে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে।

বাজারে বেগুনের কেজি ১২০-১৮০, বরবটি ১১০-১৩০, করলা ১২০-১৪০, শসা ১০০, চিচিঙ্গা ও কচুমুখী বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। তবে কিছুটা কমেছে ধুন্দল ও পটল, মিলছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। সবজির মধ্যে একমাত্র লাগালে রয়েছে পেঁপে, ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি।

ডিম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আগের দরেই, ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। কয়েক দফা বেড়ে ব্রয়লার মুরগির দর স্থিতি পেয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়; সোনালী ৩২০-৩৫০।

কারওয়ান বাজারে আসা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘এক হাজার টাকায় আগে যেসব পণ্য কিনতে পারতাম, এখন তা ছোট হয়ে এসেছে। এমনিতেই সবকিছুর দাম বেশি। হঠাৎ করে বিপদে ফেলেছে কাঁচা মরিচ।’

চালের বাজারে মোটা, মাঝারি ও মিনিকেট অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে চিনিগুড়া চাল কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০। টিসিবির তথ্যে, চলতি সময়ে মোড়কজাত আটা ও ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে অনেক সময় বিক্রেতারা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অযৌক্তিক মুনাফা করেন। ক্রেতার নাগালে বাজার রাখতে হলে সরকারি তদারকি জোরদার করা দরকার।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত