বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগে চীন দ্বিতীয়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

চীন ও বাংলাদেশ। ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) চীনের উপস্থিতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট এফডিআই প্রবাহে শীর্ষ তিন উৎস দেশ ছিল নেদারল্যান্ডস, চীন ও সিঙ্গাপুর। ওই বছর দেশে আসা মোট নিট এফডিআইয়ের ১৮ শতাংশের বেশি জোগান দিয়েছে চীন।

পরিসংখ্যানে আরও জানা যায়, গত বছর দেশে আসা চীনা নিট এফডিআই ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চীনের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ (সঞ্চিত) প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশের ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ৪৪ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে বিদ্যুৎ খাতে। ৪১ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার ডলার এসেছে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে এবং ৩৬ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার এসেছে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট এফডিআই প্রবাহে শীর্ষ তিন উৎস দেশ ছিল নেদারল্যান্ডস, চীন ও সিঙ্গাপুর।

দীর্ঘদিন চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিভিন্ন সড়ক প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন তারা উৎপাদনমুখী শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে।

এর প্রতিফলন দেখা গেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) প্রকল্পে। ২০১৬ সালে ঘোষিত এই প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে গতি পেয়েছে। প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ ও এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়োইং। ছবি : সংগৃহীত
বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়োইং। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাইরে মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, লজিস্টিকস ও শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পে দুই দেশের অংশীদারত্ব বাড়ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং এলএনজি অবকাঠামোতে চীনা বিনিয়োগ জোরদার হচ্ছে।

সম্প্রতি কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের তৃতীয় ভাসমান এলএনজি পুনর্বিন্যাসকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) নির্মাণে নীতিগত অনুমোদন হয়েছে, যা একটি চীনা প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে উৎপাদন, বিদ্যুৎ, বস্ত্র, নির্মাণ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৫১০টি চীনা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্য করছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত