বেনাপোলে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা, ৪ সিঅ্যান্ডএফের লাইসেন্স স্থগিত

Multiple Authors
স্ট্রিম প্রতিবেদক ও স্ট্রিম সংবাদদাতা
যশোর

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ০৩
বেনাপোল স্থলবন্দর। ছবি: সংগৃহীত

বেনাপোল স্থলবন্দরে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে কাস্টমসের বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২৫ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় চারটি সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– লিংক ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স রয়েল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স করিম অ্যান্ড সন্স ও হুদা ইন্টারন্যাশনাল। এ ছাড়া আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদন্ত করা হচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বন্দরে মোট রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত তিন মাসে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও বিজিবির তথ্যের ভিত্তিতে অন্তত ১৫টি মিথ্যা ঘোষণার চালান জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, যার মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা চলছিল।

গত ৫ এপ্রিল ঢাকার মেসার্স ‘নুসরাত ট্রেডিং’ বেনাপোল দিয়ে ২৬০টি সিন্থেটিক ফেব্রিক্স পণ্য আমদানি করে। পণ্য খালাসে কাস্টমস হাউসে কাগজপত্র জমা দেয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স ‘খাজা এন্টারপ্রাইজ’। কাস্টমস গোয়েন্দারা চালানটি পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি পায়। জব্দ করা এসব শাড়ির বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা। একইভাবে গত ১৩ মার্চ ১৩০ বস্তা বেকিং পাউডার আমদানির আড়ালে ১০৮ প্যাকেজে প্রায় ৬ কোটি টাকার দামি শাড়ি, থ্রি-পিস ও প্রসাধন সামগ্রী আনা হয়।

গত ৯ মার্চ ঘাসের বীজ ঘোষণা দিয়ে পাটের বীজ আনা হয়। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি মোটর পার্টসের চালানে প্রায় ৩ টন অতিরিক্ত পণ্য আনা হয়।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, বন্দরে আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকার পরও মাদক, আমদানি নিষিদ্ধ ও মিথ্যা ঘোষণার পণ্য প্রবেশ করছে। এতে সরকার যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি নিরাপদ বাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, গত কয়েক মাসে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির সময় আমরা ১৪টি বড় চালান জব্দ করেছি। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। অনিয়মের দায়ে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। প্রতিটি সন্দেহজনক চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি কোনো কাস্টমস কর্মকর্তা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত