বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ১৩
স্ট্রিম গ্রাফিক

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থীরা সুখবর পেতে পারেন। প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরগুলোতে আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রতিবছর ক্যাম্পাসেই বিভিন্ন শিফটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে সাভারে আসেন। এতে যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছে। ফলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চারটি উপকমিটি গঠন করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)–সংক্রান্ত উপকমিটিগুলো ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে (চবি) নিয়ে গঠিত উপকমিটি এখনো কাজ শুরু করেনি।

সব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জাবি প্রশাসন। জাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকমিটির প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। সব প্রতিবেদন পাওয়ার পর মিটিংয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ মিটিং হবে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গঠিত জাবির উপকমিটির সদস্য ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা যেহেতু বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, তাই বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা হতে পারে। আমরা পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত। তবে প্রতিটি ব্যবস্থারই ভালো-মন্দ আছে। আমরা চেষ্টা করব, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে। বাকি সিদ্ধান্ত পরবর্তী মিটিংয়ে হবে।’

অতীতের এই ব্যবস্থাকে ঘিরে বিভিন্ন সময় নানা বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ভর্তি পরীক্ষার শিফটভিত্তিক আয়োজন। একই ইউনিটের পরীক্ষা একাধিক শিফটে নেওয়ার কারণে প্রশ্নপত্রের কঠিনতা বা ধরনে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো শিফটের প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ হওয়ায় সেখান থেকে বেশি শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় জায়গা পাচ্ছেন, আবার অন্য শিফটে সেই সুযোগ কমে যাচ্ছে। এ কারণে শিফটভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতিকে বৈষম্যমূলক বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন।

এই বিতর্ক শুধু ভর্তিচ্ছুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অনেকের মধ্যেও ভর্তি পরীক্ষার শিফটভিত্তিক পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার দাবি থাকলেও কার্যকর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার সময় প্রশ্নের মান, শিফটভেদে ফলাফল এবং পরীক্ষার সুযোগের সমতা নিয়ে আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি ছিল ভৌগোলিক বৈষম্যের বিষয়টিও। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাভারে অবস্থিত হওয়ায় ঢাকার আশপাশের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া তুলনামূলক সহজ। কিন্তু চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী বা রংপুর অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে হলে অনেক বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে প্রতিযোগিতা যেখানে মেধার হওয়ার কথা, সেখানে দূরত্ব ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যেন বাড়তি একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়—এমন প্রশ্নও বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে।

দেশের বড় কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার চিত্রও গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে বদলেছে। একসময় ভর্তি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছুটতে হতো। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ অঞ্চলের কাছাকাছি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট তিন ইউনিটের পরীক্ষা ঢাকা ছাড়াও আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ইউনিটের পরীক্ষা হয়েছে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রাজশাহীতে। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হয়েছে রাজশাহীসহ ছয়টি বিভাগীয় শহরে।

গুচ্ছ পদ্ধতিও মূলত শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর ধারণাকে সামনে রেখে তৈরি হয়েছিল।

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা সমন্বিতভাবে আয়োজন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মূল সুবিধাগুলোর একটি হলো, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আলাদা জায়গায় গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন কমে যাওয়া।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় জাবি যদি বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা চালু করে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়টি এক অর্থে দেশের চলমান ভর্তি ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে। বিষয়টি এখনো পরিকল্পনা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে থাকলেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়