leadT1ad

সুন্দরবনে ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘের অবস্থার উন্নতি, ভাঙেনি হাড়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

উদ্ধার হওয়া বাঘটির শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। ছবি: বন বিভাগের সৌজন্যে

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে ফাঁদে আটকা পড়া অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাঘটির শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বাঘটি এখন পানি ও খাবার গ্রহণ করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাঘটির আঘাতপ্রাপ্ত পায়ে কোনো হাড় ভাঙেনি। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলে এটিকে আবারও বনে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে বন বিভাগ।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ স্ট্রিমকে জানান, বাঘটি বর্তমানে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল খুলনায় পৌঁছান। আজ বুধবার সকালে ওই চিকিৎসক দল বাঘটিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

ইমরান আহমেদ বলেন, ‘বাঘটির শারীরিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। উদ্ধারের পর বাঘটি অত্যন্ত দুর্বল থাকলেও চিকিৎসার পর এটি পানি ও খাবার খেতে শুরু করেছে।’

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে আহত অবস্থায় বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর থেকেই বাঘটি বন বিভাগের ভেটেরিনারি অফিসার সাজ্জাদ জুলকারনাইনের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রফেসর ড. মো. হাদী নূর আলী খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ চিকিৎসক দল খুলনায় পৌঁছায়।

সুন্দরবনে উদ্ধার হওয়া বাঘটিকে কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞ দলের একজন সদস্য। ছবি: বন বিভাগের সৌজন্যে
সুন্দরবনে উদ্ধার হওয়া বাঘটিকে কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞ দলের একজন সদস্য। ছবি: বন বিভাগের সৌজন্যে

আজ সকালে বিশেষজ্ঞ দলটি বাঘটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। ইমরান আহমেদ বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘটির সামনের বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাঘটির চলনভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, এর কোনো হাড় ভাঙেনি।

ইমরান আহমেদ বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ক্ষত শুকানোর প্রক্রিয়াটি ঠিকঠাক থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাঘটি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং এটিকে বনে অবমুক্ত করা যাবে। তবে মানুষের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি থাকায় বাঘটি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলে আরও ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. গোলাম হায়দার, ঢাকার কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. গোলাম আযম চৌধুরী এবং সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হসপিটালের এডিশনাল ভেটেরিনারি অফিসার ডা. নাজমুল হুদা।

বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক হাদী নূর আলী খান বলেন, গত দুই দিন বাঘটি পানি পান করেছে এবং সামান্য মাংস খেয়েছে। মাংসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ মিশিয়ে অল্প অল্প করে খাবার দেওয়া হচ্ছে। কাছে গেলেই বাঘটি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে এবং বিকট শব্দে গর্জন করছে, যা তার স্বাভাবিক আচরণে ফেরার ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও বলেন, বাঘটির সম্পূর্ণ সুস্থ হতে দুই সপ্তাহ থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বাঘটির চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত