ড. বিভূতিভূষণ মিত্র

সময়টা ১৯৭০ সাল। এমন একটি তারিখ বেছে নেওয়া হলো, যেন স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরাও এতে যুক্ত হতে পারে। তারিখ হলো ২২ এপ্রিল। বসন্তকালীন ছুটির পর। সেদিন আমেরিকার প্রায় ২ কোটি মানুষ নেমে এসেছিল রাস্তায়। কারণ, পৃথিবীকে বাঁচাতে হবে। এই আন্দোলনেই পাস হয়েছিল পরিবেশ সংরক্ষণ আইন। গড়ে উঠেছিল পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাও। এটি শুধু আমেরিকায় আটকে থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বব্যাপী। ১৯৯০ সালে এটি মূলত আন্তর্জাতিক রূপ পায়। এখন প্রায় ১৯৩টি দেশে এটি পালিত হয়। আর এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ। এত মানুষ যুক্ত হওয়ার কারণ হলো—আমরা প্রত্যেকেই বুঝতে পেরেছি, ধরিত্রী এখন নানা কারণে ধ্বংসের কবলে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো দূষণ করছে, সেই প্রতিষ্ঠানই আবার সুরক্ষা পাচ্ছে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে, বায়ুদূষণ, প্লাস্টিক দূষণসহ নানাবিধ দূষণের কবলে পড়ছে পরিবেশ, বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে আনুমানিক ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। বায়ুদূষণের কারণে মূলত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসারসহ শ্বাসযন্ত্রের নানা সংক্রমণ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের আরেকটি তথ্য মতে, বাংলাদেশে ২০১৯ সালে বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ৭৮ থেকে ৮৮ হাজার মানুষ মারা গেছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বায়ুদূষণে মারা যায়। বায়ুদূষণের কারণে বাড়ছে বিষণ্নতাও। এর ফলে জিডিপির ৪ শতাংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর গড়ে অন্তত ৬ দশমিক ৮ বছর করে আয়ু কমে যাচ্ছে। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার নিকটবর্তী গাজীপুর দেশের সবচেয়ে দূষিত জেলা। এখানকার মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে ৮ দশমিক ৩ বছর।
বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো বাতাসে পিএম বা অতি ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি। বাতাস ভালো বলা যায়, যদি কোনো স্থানে এই কণার পরিমাণ ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে। ৫১ থেকে ১০০ হলে মধ্যম মানের, ১০১ থেকে ১৫০ হলে বিপদসীমা, ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ৩০১ থেকে ৫০০ হলে তা বিপজ্জনক। একটি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের মাত্রা শীতকালে বেশি থাকে এবং বর্ষাকালে কিছুটা কমে। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়জুড়ে দূষণের মাত্রা বেশি থাকে, যা সারা বছরের প্রায় ৬৫ শতাংশ।
পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বায়ুদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলছেন। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হলো সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, ভূতাপীয় শক্তি ও বায়োমাস। এগুলো প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত শক্তি, পুনঃব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব। আমরা যেসব জ্বালানি ব্যবহার করি, তা থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বেশি হয়। বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করলে এই নিঃসরণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে।
বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই তাপপ্রবাহের ঘটনা ঘটছে। প্রতি বছর এপ্রিল মাসে গড়ে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ ঘটে। ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহ এত বেড়েছে যে কয়েকবার হিট অ্যালার্ট জারি করতে হয়েছে। বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধির কারণে তাপপ্রবাহ বাড়ছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল আইপিসিসির মতে, বাংলাদেশের তাপমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে ০ দশমিক ৪৪ থেকে ০ দশমিক ৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০৫০ সালে এটি ১ দশমিক ৩ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অতিবৃষ্টি ৭ শতাংশ বাড়বে এবং প্রতি দশকে একবার তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়লে তাপপ্রবাহ ৯ দশমিক ৪ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে তাপপ্রবাহের ঘটনা বেড়েছে ২ দশমিক ৮ গুণ।
এই পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার ধরণ বদলে যাচ্ছে। সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার। মার্চ থেকে মে সময়ে বৃষ্টিপাত কমেছে, আর জুন থেকে নভেম্বর সময়ে বেড়েছে। এর ফলে শীতকালে শুষ্কতা ও বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেড়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শতাব্দীর শেষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দেশের ১৭ শতাংশ উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যেতে পারে।
পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—সমুদ্র থেকে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, জিনগত বৈচিত্র্য কমে যাওয়া, খাদ্যাভাব ও শিকার। বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ৫০ একর বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে। বন উজাড়ের কারণে অর্ধেকের বেশি প্রজাতি হুমকির মুখে। দূষণের কারণে বিশ্বে প্রায় ৭০০ প্রজাতি সরাসরি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
বাংলাদেশেও বন্যপ্রাণী বিলুপ্তির প্রধান কারণ—নগরায়ন, আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ, শিকার ও জলবায়ু পরিবর্তন। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত দেশগুলো শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও বাড়িয়েছে। এর ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক শতকে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে ৪৩টি দেশ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ডুবে যেতে পারে।
বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। দেশের প্রায় ১৮ শতাংশ এলাকা বন্যার ঝুঁকিতে। প্রতি বছর প্রায় ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যা তীব্র হলে ৫৫ শতাংশ এলাকা ডুবে যেতে পারে। বাংলাদেশে মৌসুমি, আকস্মিক ও জোয়ারজনিত—এই তিন ধরনের বন্যা দেখা যায়।
এই বছরের ধরিত্রী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের শক্তি, আমাদের পৃথিবী’। অর্থাৎ পরিবেশ রক্ষার শক্তি আমাদের হাতেই। আমাদের পৃথিবীকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। এ জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিতে হবে।
ধরিত্রী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দূষণমুক্ত, নিরাপদ পৃথিবী গড়ার দায়িত্ব আমাদেরই। তাই শুধু দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে— গাছ লাগানো, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, বন রক্ষা করা ইত্যাদি।
আমাদের মনে রাখতে হবে, পৃথিবী বাঁচাতে আমাদের শক্তিই যথেষ্ট।
লেখক: পরিবেশবিষয়ক লেখক

সময়টা ১৯৭০ সাল। এমন একটি তারিখ বেছে নেওয়া হলো, যেন স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরাও এতে যুক্ত হতে পারে। তারিখ হলো ২২ এপ্রিল। বসন্তকালীন ছুটির পর। সেদিন আমেরিকার প্রায় ২ কোটি মানুষ নেমে এসেছিল রাস্তায়। কারণ, পৃথিবীকে বাঁচাতে হবে। এই আন্দোলনেই পাস হয়েছিল পরিবেশ সংরক্ষণ আইন। গড়ে উঠেছিল পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাও। এটি শুধু আমেরিকায় আটকে থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বব্যাপী। ১৯৯০ সালে এটি মূলত আন্তর্জাতিক রূপ পায়। এখন প্রায় ১৯৩টি দেশে এটি পালিত হয়। আর এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ। এত মানুষ যুক্ত হওয়ার কারণ হলো—আমরা প্রত্যেকেই বুঝতে পেরেছি, ধরিত্রী এখন নানা কারণে ধ্বংসের কবলে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো দূষণ করছে, সেই প্রতিষ্ঠানই আবার সুরক্ষা পাচ্ছে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে, বায়ুদূষণ, প্লাস্টিক দূষণসহ নানাবিধ দূষণের কবলে পড়ছে পরিবেশ, বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে আনুমানিক ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। বায়ুদূষণের কারণে মূলত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসারসহ শ্বাসযন্ত্রের নানা সংক্রমণ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের আরেকটি তথ্য মতে, বাংলাদেশে ২০১৯ সালে বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ৭৮ থেকে ৮৮ হাজার মানুষ মারা গেছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বায়ুদূষণে মারা যায়। বায়ুদূষণের কারণে বাড়ছে বিষণ্নতাও। এর ফলে জিডিপির ৪ শতাংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর গড়ে অন্তত ৬ দশমিক ৮ বছর করে আয়ু কমে যাচ্ছে। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার নিকটবর্তী গাজীপুর দেশের সবচেয়ে দূষিত জেলা। এখানকার মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে ৮ দশমিক ৩ বছর।
বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো বাতাসে পিএম বা অতি ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি। বাতাস ভালো বলা যায়, যদি কোনো স্থানে এই কণার পরিমাণ ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে। ৫১ থেকে ১০০ হলে মধ্যম মানের, ১০১ থেকে ১৫০ হলে বিপদসীমা, ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ৩০১ থেকে ৫০০ হলে তা বিপজ্জনক। একটি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের মাত্রা শীতকালে বেশি থাকে এবং বর্ষাকালে কিছুটা কমে। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়জুড়ে দূষণের মাত্রা বেশি থাকে, যা সারা বছরের প্রায় ৬৫ শতাংশ।
পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বায়ুদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলছেন। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হলো সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, ভূতাপীয় শক্তি ও বায়োমাস। এগুলো প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত শক্তি, পুনঃব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব। আমরা যেসব জ্বালানি ব্যবহার করি, তা থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বেশি হয়। বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করলে এই নিঃসরণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে।
বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই তাপপ্রবাহের ঘটনা ঘটছে। প্রতি বছর এপ্রিল মাসে গড়ে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ ঘটে। ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহ এত বেড়েছে যে কয়েকবার হিট অ্যালার্ট জারি করতে হয়েছে। বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধির কারণে তাপপ্রবাহ বাড়ছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল আইপিসিসির মতে, বাংলাদেশের তাপমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে ০ দশমিক ৪৪ থেকে ০ দশমিক ৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০৫০ সালে এটি ১ দশমিক ৩ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অতিবৃষ্টি ৭ শতাংশ বাড়বে এবং প্রতি দশকে একবার তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়লে তাপপ্রবাহ ৯ দশমিক ৪ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে তাপপ্রবাহের ঘটনা বেড়েছে ২ দশমিক ৮ গুণ।
এই পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার ধরণ বদলে যাচ্ছে। সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার। মার্চ থেকে মে সময়ে বৃষ্টিপাত কমেছে, আর জুন থেকে নভেম্বর সময়ে বেড়েছে। এর ফলে শীতকালে শুষ্কতা ও বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেড়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শতাব্দীর শেষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দেশের ১৭ শতাংশ উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যেতে পারে।
পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—সমুদ্র থেকে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, জিনগত বৈচিত্র্য কমে যাওয়া, খাদ্যাভাব ও শিকার। বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ৫০ একর বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে। বন উজাড়ের কারণে অর্ধেকের বেশি প্রজাতি হুমকির মুখে। দূষণের কারণে বিশ্বে প্রায় ৭০০ প্রজাতি সরাসরি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
বাংলাদেশেও বন্যপ্রাণী বিলুপ্তির প্রধান কারণ—নগরায়ন, আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ, শিকার ও জলবায়ু পরিবর্তন। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত দেশগুলো শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও বাড়িয়েছে। এর ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক শতকে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে ৪৩টি দেশ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ডুবে যেতে পারে।
বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। দেশের প্রায় ১৮ শতাংশ এলাকা বন্যার ঝুঁকিতে। প্রতি বছর প্রায় ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যা তীব্র হলে ৫৫ শতাংশ এলাকা ডুবে যেতে পারে। বাংলাদেশে মৌসুমি, আকস্মিক ও জোয়ারজনিত—এই তিন ধরনের বন্যা দেখা যায়।
এই বছরের ধরিত্রী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের শক্তি, আমাদের পৃথিবী’। অর্থাৎ পরিবেশ রক্ষার শক্তি আমাদের হাতেই। আমাদের পৃথিবীকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। এ জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিতে হবে।
ধরিত্রী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দূষণমুক্ত, নিরাপদ পৃথিবী গড়ার দায়িত্ব আমাদেরই। তাই শুধু দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে— গাছ লাগানো, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, বন রক্ষা করা ইত্যাদি।
আমাদের মনে রাখতে হবে, পৃথিবী বাঁচাতে আমাদের শক্তিই যথেষ্ট।
লেখক: পরিবেশবিষয়ক লেখক

চারদিকে রাজধানী উন্নয়ন প্রকল্পের (রাজউক) আবাসন প্রকল্প আর দ্রুত বাড়তে থাকা কংক্রিটের জঙ্গল। চলছে জলাভূমি ভরাটের মহোৎসব। কিন্তু এর মাঝেই যেন এক টুকরো স্বস্তি হয়ে টিকে আছে ঢাকার উত্তরা সংলগ্ন দিয়াবাড়ি এলাকার প্রকৃতি।
৪ ঘণ্টা আগে
বুড়িগঙ্গাসহ দেশের নদীগুলো বাঁচানো যাচ্ছে না; পরিবেশ ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার নামে দেশে যা চলছে, তাকে চরম ‘হিপোক্রেটিক বিহেভিয়ার’ (ভণ্ডামি) বলে আখ্যায়িত করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু।
১৯ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহ এখন আর মৌসুমি অস্বস্তির বিষয় নয়। এটি ধীরে ধীরে বড় ধরনের জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে প্রতি বছরই গরম আরও দীর্ঘ, তীব্র ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। সম্প্রতি পরিবেশ বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় এই পরিবর্তনের পেছনের কারণগুলো নতুনভাবে ব্যাখ্যা
৪ দিন আগে
রাজধানীর উপর দিয়ে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই ঢাকার তাপমাত্রা লাফিয়ে বাড়তে শুরু করবে।
৭ দিন আগে