এক্সপ্লেইনার

বিএনপি সরকারের হেলথ কার্ড কি স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তন ঘটাতে পারবে

স্ট্রিম গ্রাফিক

ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পরপরই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেয়। এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেরও অংশ, যার মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে।

সরকার গঠনের পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সেল গঠন করা হয়, যা এই ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয় ব্যবস্থার বাস্তবায়ন তদারকি করবে। এই সেল স্বাস্থ্য, তথ্য, শিক্ষা, অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্চের শুরুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এই কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুন মাসের শেষ নাগাদ একটি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্ড বিতরণ শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এর আওতায় ১ লাখ নতুন কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী। এছাড়া একটি ইলেকট্রনিক রেফারেল সিস্টেম, জিপিএস ট্র্যাকিংসহ অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ব্যবস্থাও রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা, পুষ্টি ও কৃষি—এই তিন খাতে সমন্বিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ই-হেলথ কার্ড বা জাতীয় স্বাস্থ্য আইডি এর প্রধান উপাদান। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেবে। মার্চে চালু হওয়া এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে, যা খাবারে পুষ্টি বাড়াতে সহায়ক হবে। আর কৃষক কার্ড খাদ্য উৎপাদনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হচ্ছে। তিনটি কার্ড মিলে একটি সমন্বিত কল্যাণমূলক কাঠামো গঠনের ভিত্তি হবে।

ই-হেলথ কার্ড কী, এতে কী থাকবে

ই-হেলথ কার্ড একটি স্মার্ট কার্ড, যাতে একটি স্বতন্ত্র হেলথ আইডি, কন্ট্যাক্টলেস চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন রোগীর প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা তথ্য একটি নিরাপদ কেন্দ্রীভূত ডিজিটাল সিস্টেমে সংরক্ষণ করা হবে। দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এই তথ্য ব্যবহার করতে পারবে।

এই কার্ডে রোগীর নাম, বয়স, রক্তের গ্রুপসহ মৌলিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ চিকিৎসা ইতিহাস, চলমান চিকিৎসা ও ব্যবহৃত ওষুধের তথ্য রাখা হবে। টিকাদানের রেকর্ড এবং বিভিন্ন পরীক্ষার সারসংক্ষেপ ও ল্যাব রিপোর্টও থাকবে। চিকিৎসক বা হাসপাতাল কার্ডটি স্ক্যান করে বা ইউনিক আইডি ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে রোগীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেখতে পারবেন। এই ব্যবস্থা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত সব স্তরের চিকিৎসা সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে (স্বাস্থ্য সেতু) যুক্ত করবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, এই কার্ডে রোগীর সব চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে দেশের যেকোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে কার্ডের মাধ্যমে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার তথ্য সহজেই দেখা যাবে।

কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে

এই উদ্যোগের সঙ্গে নতুন ১ লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীর কার্যক্রম যুক্ত থাকবে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ রোগ শনাক্ত করবেন, প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন এবং প্রয়োজনে রোগীদের ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠাবেন। এতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বাড়বে এবং প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, এই কার্ড চালু হলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও নির্ভুল চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। চিকিৎসকরা সহজেই রোগীর পূর্ববর্তী তথ্য জানতে পারবেন, যা সঠিক চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, এই হেলথ কার্ডের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবার অধিকার পুরোপুরি ভোগ করতে পারবে এবং এটি বাংলাদেশকে একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হেলথ কার্ড, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হবে এবং সেবা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতে কতটা কার্যকর হবে

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির প্রস্তাবিত ই-হেলথ কার্ড সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা খণ্ডিত এবং কাগজভিত্তিক। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের নিজেই পরীক্ষার রিপোর্ট ও নথিপত্র বহন করতে হয় এবং একই চিকিৎসা ইতিহাস বারবার বলতে হয়। এই বাস্তবতা থেকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এই কার্ড।

বর্তমানে দেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে একই পরীক্ষা বারবার করার প্রয়োজন কমবে এবং চিকিৎসা আরও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হতে পারবে।

জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়ের লক্ষ্য, বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং রেফারেল ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার সঙ্গে এই কার্ড যুক্ত হলে হাসপাতালের ওপর চাপ কমতে পারে এবং জরুরি সেবার মানও বাড়তে পারে। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে অনুরূপ ডিজিটাল ব্যবস্থায় চিকিৎসার ভুল এবং অতিরিক্ত ব্যয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে জানা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ গণমাধ্যমে তাঁর লেখা এক নিবন্ধে বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে একটি ইউনিক ই-হেলথ কার্ড দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করে তুলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই কার্ড স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।

তবে বিশ্লেষজ্ঞরা শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা যথেষ্ট নয় বলেও সতর্কও করেছেন। ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের প্রোগ্রাম পরিচালক শেখ মাসুদুল আলম বলেন, ই-হেলথ কার্ডসহ বিএনপির প্রতিশ্রুতিগুলো সাহসী ও অনুপ্রেরণাদায়ক হলেও বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৩২ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি সমস্যা, দুর্বল তদারকি এবং শহর-গ্রামের বৈষম্য বিদ্যমান। এছাড়া স্বাস্থ্য বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা ছাড়া শুধু জনবল বাড়ালে অদক্ষতা কমার পরিবর্তে বাড়তেও পারে। সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহিতা শক্তিশালী ও শাসনব্যবস্থা উন্নত করা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যমান সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়া এই উদ্যোগ ব্যয়বহুল হলেও অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন ই-হেলথ কার্ড উদ্যোগ বাস্তবায়নের গতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এর অর্থ হলো মোট জাতীয় বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দিতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এত বড় পরিমাণ ব্যয় বাড়ানো রাষ্ট্রের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয়। তাই এই লক্ষ্য ধীরে ধীরে অর্জন করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, প্রায় পাঁচ বছরের একটি সময়সীমার মধ্যে ধাপে ধাপে এই লক্ষ্যে এগোনো বাস্তবসম্মত হতে পারে।

উন্নত দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে তুলনা

এই উদ্যোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে উন্নত দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। যুক্তরাজ্যের এনএইচএস ব্যবস্থায় প্রতিটি রোগীর একটি নির্দিষ্ট নম্বর থাকে, যার মাধ্যমে সারাজীবনের চিকিৎসা রেকর্ড ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হয়।

ভারতের আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের অধীনে নাগরিকদের জন্য ১৪ সংখ্যার একটি ইউনিক স্বাস্থ্য নম্বর চালু রয়েছে। এস্তোনিয়া, সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়ায় সম্পূর্ণ সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালু রয়েছে, যেখানে স্মার্ট কার্ড বা অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। উন্নত দেশগুলোতে এসব সুবিধা মানুষের গড় আয়ু বাড়ানো এবং বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয় কমাতে সহায়ক হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত দেশের মতো সার্বজনীন বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। যুক্তরাজ্যের মতো বিনামূল্যে হাসপাতাল সেবা বা উচ্চমানের বিশেষায়িত চিকিৎসা অতিরিক্ত খরচ ছাড় দেওয়া এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয়। কারণ এই কার্ড মূলত শুধু একটি ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা, যা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য বীমা বা সুরক্ষা কাঠামো নয়।

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো বেসরকারি খাতনির্ভর এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই উন্নত দেশের সঙ্গে পূর্ণ সমতা অর্জন নির্ভর করবে জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য ব্যয় নিশ্চিত করা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের মান নিয়ন্ত্রণের ওপর।

দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়ন নীতি বিশেষজ্ঞ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এক সাক্ষাতকারে ই-হেলথ কার্ড ব্যবস্থাকে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি। তিনি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কাঠামোকে পুনর্বিন্যাস বা ‘রিপারপোজ’ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ইউনিয়ন সাব-সেন্টার এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বিচ্ছিন্ন কাঠামোকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব। এই নেটওয়ার্ককে ই-হেলথ কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সেবার কার্যকারিতা বাড়বে। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সরকার যদি সততা ও সদিচ্ছা নিয়ে বাজেট বাড়ানো সহ স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করে, তাহলে ধাপে ধাপে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জন করা সম্ভব।

সম্পর্কিত