এক্সপ্লেইনার
স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ জানাজার জন্য প্রতিবেশী দেশ ইরাকেও নেওয়া হবে। আগামী ৮ জুলাই ইরাকে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, লাখ লাখ ইরাকি সেই জানাজায় অংশ নেবে।
ইরাকি সংবাদমাধ্যম আমওয়াজ জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ ইরানের পাবত্র শহর কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। এই কাজে সমন্বয় করবে ইরাকি সরকার ও পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস (পিএমইউ)।
কেন এই রাজনৈতিক শোক
রাজনৈতিক নেতাদের জানাজা কোনো মামুলি ঘটনা নয়। এর পেছনে অনেক কিছু জড়িত থাকে। গবেষকেরা বলছেন, খামেনির এই সম্মিলিত জানাজা মনে করিয়ে দিচ্ছে, তারা একটি বৃহত্তর নৈতিক সম্প্রদায়ের অংশ। এতে সামাজিক সংহতি আরও দৃঢ় হবে। দীর্ঘদিন ধরে ইরাক ও ইরানের মধ্যে যে রেশারেশি জারি ছিল, তা লাঘব হবে। সুতরাং খামেনির জানাজা ইরাকে অনুষ্ঠিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে, পুরো সম্প্রদায়কে পুনরুজ্জীবিত করা।
এগুলো পরিবর্তনের মুহূর্তও বটে। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর পর এক ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়, জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়ে। সেসব যেন না হয়, অর্থাৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা ঠিক আছে, এটি প্রমাণ করার জন্যও জানাজায় নানা আয়োজন করা হয়।
এ ক্ষেত্রে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির তার ইতিহাসের সবচেয় বিপজ্জনক সময় পার করছে। ইরানের আঞ্চলিক জোট এখন সবচেয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। এর কিছু অংশ এরই মধ্যে দুর্বল হয়ে গেছে।তাই ইরান খামেনির জানাজাকে রাজনৈতিক শোকের একটি অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে।
এতে তাদের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক নতুন করে উজ্জীবীত হবে। এর মাধ্যমে আনুগত্য ও জোটের ধারবাহিকতা রক্ষারও একটি ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। গবেষকেরা বলছেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা মৃত্যুর পরও তাঁর ‘রাজনৈতিক জীবন’ বজায় রাখতে পারেন। তাদের জানাজা, কবর ও শোকানুষ্ঠানগুলো তাদের জীবিত থাকার বৈধতা তৈরি করে।
ইরাক কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইরানের বাইরে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ইরাক শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই কারবালা, নাজাফ এবং অন্যান্য ইরাকি শহরে খামেনির জন্য শোক পালনের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। এটি ধর্মীয় ভক্তির ঊর্ধ্বে একটি বিষয়।
শতাব্দী ধরে ইরাক শিয়া ইসলামের একটি পবিত্র ভূমি হিসেবে পরিচিত। ইরাকের পবিত্র শহরগুলো কেবল ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং শিয়া শাসকদের রাজনৈতিক বৈধতার চিরন্তন উৎস হিসেবেও কাজ করেছে। শেষ তিনজন কাজার সম্রাট—মোজাফফর আদ-দিন শাহ (১৮৯৬-১৯০৭), মোহাম্মদ আলী শাহ (১৯০৭-৯) এবং আহমদ শাহ (১৯০৯-১৯২৫)—কারবালায় সমাহিত হয়েছেন। এসব স্থানে সমাহিত হওয়া বিরাট মর্যাদার বিষয়। তবে খামেনিকে কারবালায় সমাহিত করা হবে না। তাঁকে তাঁর নিজ শহর ইরানের মাশহাদে সমাহিত করা হবে।
খামেনিকে ঘিরে এই বিরাট শোকানুষ্ঠানের তাৎপর্য শুধু ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় নয়। এগুলো একটি সমসাময়িক রাজনৈতিক বার্তাও দেয়। ইরাকে বড় আকারের শোকানুষ্ঠানগুলো প্রমাণ করে যে, বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা, হত্যাকাণ্ড এবং যুদ্ধ সত্ত্বেও ইরানের আঞ্চলিক জোট নেটওয়ার্ক রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এগুলো এমন সম্পর্ককে পুনঃনিশ্চিত করে যা কেবল সামরিক সক্ষমতা বা কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না।
তাই খামেনির জানাজা ইরানের আদর্শিক, ধর্মীয়, সামরিক এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মিলনের প্রতিনিধিত্ব করে। এই মিলন আজ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তেহরান তার আঞ্চলিক প্রকল্পের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। ইরান ইতিমধ্যে সিরিয়ায় তার কৌশলগত অবস্থান হারিয়েছে, লেবাননে তার প্রভাব নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে এবং ইরাকে পিএমইউ-কে রাষ্ট্রের সাথে একীভূত করার ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা চলছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ইরাকের অনুষ্ঠানগুলো কেবল স্মরণের কাজ নয়। এটি এই মুহূর্তে একটি আন্তঃজাতীয় রাজনৈতিক সম্প্রদায়কে পুনরুজ্জীবীত করার চেষ্টা। তাই ইরাকে খামেনির জানাজা শোকাতুর মানুষটির উত্তরাধিকারের পাশাপাশি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও অনেক কিছু বলে দেয়।
যুদ্ধের পর শোক
ইসরায়েলের হাতে খামেনির নিহত হওয়ার চার মাস পর তার জানাজা হচ্ছে। এটি অস্বাভাবিক তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। আগের রাজনৈতিক শোকের মুহূর্তগুলোর বিপরীতে, এই অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইরান তার আঞ্চলিক কৌশল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উভয়ই পুনর্মূল্যায়ন করছে।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, যা খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, তা সব পক্ষের জন্য সামরিক সংঘাতের সীমাবদ্ধতাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে। তারপর থেকে তেহরান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আলোচনায় ফিরে এসেছে; উপসাগরীয় আরব দেশগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ক্রমবর্ধমানভাবে বিনিয়োগ করছে; এবং ইরাক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়াতে প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে ইরান ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখছে।
সোলাইমানি থেকে রাইসি হয়ে খামেনি
ইরান মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে তিনটি বড় রাজনৈতিক জানাজা সম্পন্ন করেছে, যার প্রতিটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার ভিন্ন ভিন্ন স্তম্ভ ছিল।
২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানির জানাজা, যাঁকে ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদে হত্যা করা হয়। তিনি ছিলেন কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার। কাসেম সোলায়মানির জানাজা ইরানের সামরিক ও আঞ্চলিক শক্তির প্রকাশ ঘটিয়েছিল। এটি ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে পরিচিত আঞ্চলিক জোট নেটওয়ার্ককে মহিমান্বিত করেছিল এবং অবাধ্যতা ও স্থিতিশীলতার বার্তার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সংকেত দিয়েছিল।
তারপর ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজা। তাঁর জানাজা ইরানি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা প্রমাণ করেছিল। সাবেক এই প্রেসিডেন্টের জানাজা দেখিয়েছিল, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের আকস্মিক মৃত্যুও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে না।
সর্বশেষ খামেনির জানাজা। এটি সবচেয় তাৎপর্যপূর্ণ। সোলাইমানি বা রাইসির বিপরীতে, এই সাবেক সর্বোচ্চ নেতা নিজেই ইরানি রাজনৈতিক ব্যবস্থার আদর্শিক ও ধর্মীয় ভিত্তির মূর্ত প্রতীক ছিলেন। তাই তার মৃত্যু কেবল একটি সামরিক কৌশল বা সরকারের ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করে না, বরং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন তার স্থায়িত্ব পরীক্ষা করে।
এই অর্থে, খামেনির জানাজা উত্তরাধিকারের চেয়ে বৈধতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এর সফলতা কেবল ইরানের জনশোকের বিশালতা দিয়ে নয়, বরং মিত্রদের আশ্বস্ত করার ক্ষমতার মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আঞ্চলিক প্রকল্প এর সবচেয়ে প্রভাবশালী স্থপতির মৃত্যুর পরও টিকে থাকতে পারবে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই ইরাক তার বিশেষ তাৎপর্য গ্রহণ করেছে।
(ইরাকি সংবাদমাধ্যম আমওয়াজ থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত)

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ জানাজার জন্য প্রতিবেশী দেশ ইরাকেও নেওয়া হবে। আগামী ৮ জুলাই ইরাকে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, লাখ লাখ ইরাকি সেই জানাজায় অংশ নেবে।
ইরাকি সংবাদমাধ্যম আমওয়াজ জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ ইরানের পাবত্র শহর কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। এই কাজে সমন্বয় করবে ইরাকি সরকার ও পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস (পিএমইউ)।
কেন এই রাজনৈতিক শোক
রাজনৈতিক নেতাদের জানাজা কোনো মামুলি ঘটনা নয়। এর পেছনে অনেক কিছু জড়িত থাকে। গবেষকেরা বলছেন, খামেনির এই সম্মিলিত জানাজা মনে করিয়ে দিচ্ছে, তারা একটি বৃহত্তর নৈতিক সম্প্রদায়ের অংশ। এতে সামাজিক সংহতি আরও দৃঢ় হবে। দীর্ঘদিন ধরে ইরাক ও ইরানের মধ্যে যে রেশারেশি জারি ছিল, তা লাঘব হবে। সুতরাং খামেনির জানাজা ইরাকে অনুষ্ঠিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে, পুরো সম্প্রদায়কে পুনরুজ্জীবিত করা।
এগুলো পরিবর্তনের মুহূর্তও বটে। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর পর এক ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়, জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়ে। সেসব যেন না হয়, অর্থাৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা ঠিক আছে, এটি প্রমাণ করার জন্যও জানাজায় নানা আয়োজন করা হয়।
এ ক্ষেত্রে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির তার ইতিহাসের সবচেয় বিপজ্জনক সময় পার করছে। ইরানের আঞ্চলিক জোট এখন সবচেয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। এর কিছু অংশ এরই মধ্যে দুর্বল হয়ে গেছে।তাই ইরান খামেনির জানাজাকে রাজনৈতিক শোকের একটি অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে।
এতে তাদের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক নতুন করে উজ্জীবীত হবে। এর মাধ্যমে আনুগত্য ও জোটের ধারবাহিকতা রক্ষারও একটি ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। গবেষকেরা বলছেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা মৃত্যুর পরও তাঁর ‘রাজনৈতিক জীবন’ বজায় রাখতে পারেন। তাদের জানাজা, কবর ও শোকানুষ্ঠানগুলো তাদের জীবিত থাকার বৈধতা তৈরি করে।
ইরাক কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইরানের বাইরে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ইরাক শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই কারবালা, নাজাফ এবং অন্যান্য ইরাকি শহরে খামেনির জন্য শোক পালনের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। এটি ধর্মীয় ভক্তির ঊর্ধ্বে একটি বিষয়।
শতাব্দী ধরে ইরাক শিয়া ইসলামের একটি পবিত্র ভূমি হিসেবে পরিচিত। ইরাকের পবিত্র শহরগুলো কেবল ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং শিয়া শাসকদের রাজনৈতিক বৈধতার চিরন্তন উৎস হিসেবেও কাজ করেছে। শেষ তিনজন কাজার সম্রাট—মোজাফফর আদ-দিন শাহ (১৮৯৬-১৯০৭), মোহাম্মদ আলী শাহ (১৯০৭-৯) এবং আহমদ শাহ (১৯০৯-১৯২৫)—কারবালায় সমাহিত হয়েছেন। এসব স্থানে সমাহিত হওয়া বিরাট মর্যাদার বিষয়। তবে খামেনিকে কারবালায় সমাহিত করা হবে না। তাঁকে তাঁর নিজ শহর ইরানের মাশহাদে সমাহিত করা হবে।
খামেনিকে ঘিরে এই বিরাট শোকানুষ্ঠানের তাৎপর্য শুধু ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় নয়। এগুলো একটি সমসাময়িক রাজনৈতিক বার্তাও দেয়। ইরাকে বড় আকারের শোকানুষ্ঠানগুলো প্রমাণ করে যে, বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা, হত্যাকাণ্ড এবং যুদ্ধ সত্ত্বেও ইরানের আঞ্চলিক জোট নেটওয়ার্ক রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এগুলো এমন সম্পর্ককে পুনঃনিশ্চিত করে যা কেবল সামরিক সক্ষমতা বা কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না।
তাই খামেনির জানাজা ইরানের আদর্শিক, ধর্মীয়, সামরিক এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মিলনের প্রতিনিধিত্ব করে। এই মিলন আজ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তেহরান তার আঞ্চলিক প্রকল্পের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। ইরান ইতিমধ্যে সিরিয়ায় তার কৌশলগত অবস্থান হারিয়েছে, লেবাননে তার প্রভাব নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে এবং ইরাকে পিএমইউ-কে রাষ্ট্রের সাথে একীভূত করার ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা চলছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ইরাকের অনুষ্ঠানগুলো কেবল স্মরণের কাজ নয়। এটি এই মুহূর্তে একটি আন্তঃজাতীয় রাজনৈতিক সম্প্রদায়কে পুনরুজ্জীবীত করার চেষ্টা। তাই ইরাকে খামেনির জানাজা শোকাতুর মানুষটির উত্তরাধিকারের পাশাপাশি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও অনেক কিছু বলে দেয়।
যুদ্ধের পর শোক
ইসরায়েলের হাতে খামেনির নিহত হওয়ার চার মাস পর তার জানাজা হচ্ছে। এটি অস্বাভাবিক তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। আগের রাজনৈতিক শোকের মুহূর্তগুলোর বিপরীতে, এই অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইরান তার আঞ্চলিক কৌশল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উভয়ই পুনর্মূল্যায়ন করছে।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, যা খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, তা সব পক্ষের জন্য সামরিক সংঘাতের সীমাবদ্ধতাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে। তারপর থেকে তেহরান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আলোচনায় ফিরে এসেছে; উপসাগরীয় আরব দেশগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ক্রমবর্ধমানভাবে বিনিয়োগ করছে; এবং ইরাক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়াতে প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে ইরান ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখছে।
সোলাইমানি থেকে রাইসি হয়ে খামেনি
ইরান মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে তিনটি বড় রাজনৈতিক জানাজা সম্পন্ন করেছে, যার প্রতিটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার ভিন্ন ভিন্ন স্তম্ভ ছিল।
২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানির জানাজা, যাঁকে ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদে হত্যা করা হয়। তিনি ছিলেন কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার। কাসেম সোলায়মানির জানাজা ইরানের সামরিক ও আঞ্চলিক শক্তির প্রকাশ ঘটিয়েছিল। এটি ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে পরিচিত আঞ্চলিক জোট নেটওয়ার্ককে মহিমান্বিত করেছিল এবং অবাধ্যতা ও স্থিতিশীলতার বার্তার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সংকেত দিয়েছিল।
তারপর ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজা। তাঁর জানাজা ইরানি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা প্রমাণ করেছিল। সাবেক এই প্রেসিডেন্টের জানাজা দেখিয়েছিল, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের আকস্মিক মৃত্যুও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে না।
সর্বশেষ খামেনির জানাজা। এটি সবচেয় তাৎপর্যপূর্ণ। সোলাইমানি বা রাইসির বিপরীতে, এই সাবেক সর্বোচ্চ নেতা নিজেই ইরানি রাজনৈতিক ব্যবস্থার আদর্শিক ও ধর্মীয় ভিত্তির মূর্ত প্রতীক ছিলেন। তাই তার মৃত্যু কেবল একটি সামরিক কৌশল বা সরকারের ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করে না, বরং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন তার স্থায়িত্ব পরীক্ষা করে।
এই অর্থে, খামেনির জানাজা উত্তরাধিকারের চেয়ে বৈধতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এর সফলতা কেবল ইরানের জনশোকের বিশালতা দিয়ে নয়, বরং মিত্রদের আশ্বস্ত করার ক্ষমতার মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আঞ্চলিক প্রকল্প এর সবচেয়ে প্রভাবশালী স্থপতির মৃত্যুর পরও টিকে থাকতে পারবে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই ইরাক তার বিশেষ তাৎপর্য গ্রহণ করেছে।
(ইরাকি সংবাদমাধ্যম আমওয়াজ থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত)
.png)

যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে এমন এক সময়ে, যখন দেশটি আবারও রাজনৈতিক বিভাজন, বর্ণবাদী উত্তেজনা এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল ও শিবসেনার পর এবার বিজেপির নজর কি উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির দিকে? শুধু সরকার টিকিয়ে রাখাই নয়, সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা অর্জনের লক্ষ্যেই কি বিরোধী দলগুলির সাংসদদের নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে? সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই জল্পনাকেই আরও জোরালো করেছে।
০৩ জুলাই ২০২৬
বিশ্বের মাদকবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মাদকের উৎপাদন, পরিবহন, অর্থপাচার এবং বিক্রির নেটওয়ার্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি বৈশ্বিক হয়ে উঠেছে। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে মেক্সিকোর দুই কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন—সিনালোয়া কার্টেল এবং কার্টেল দে জালিস্কো নুয়েভা জেনেরাসিওন (সিজেএনজি)।
০৩ জুলাই ২০২৬
এক সময় 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ার অন্যতম প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্পকে। ২০১১ সালে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল স্বল্পমূল্যে দেশে সংযোজন করা ল্যাপটপ শিক্ষার্থী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া।
০২ জুলাই ২০২৬