তুফায়েল আহমদ

তেহরানে ঢোকার বড় রাস্তাগুলো আবার ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে তেহরানের বাসিন্দারা নিজের ঘরে ফিরছে ‘এখন আমরা নিরাপদ’ এই আশাবাদ নিয়ে। ১২ দিনের যুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৬ শর বেশি ইরানি। লাখো মানুষ ঘরছাড়া। সোমবার (২৩ জুন) যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই ইসরায়েলি বিমান হামলার ক্ষত বয়ে বেড়ানো তেহরানে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।
তবে অনেকের জন্য এই ফিরে আসা নিজের বিছানায় ঘুমানোর স্বস্তির অনুভূতি এখনও ভয়ের ছায়ায় ঢাকা। তাদের মনে আবার হামলার ভয় রয়েই গেছে।
‘আমরা যেখানে ছিলাম, সেখানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকলেও এত দিন পরে নিজের চিরচেনা ঘরে ফেরার অনুভূতি বেহেশতে আসার মতো’, বলছিলেন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্বামীর সঙ্গে রাজধানী থেকে ২৮৬ কিলোমিটার দূরের জানজান শহরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয়ে থাকা ৩৩ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার নিকা। তাঁর কথার মধ্যে ফিরে আসার স্বস্তির পাশাপাশি ছিল উদ্বেগও, ‘আমি ঠিক জানি না, এই যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না।’
৩ জুন ভোরে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের হামলার পরপরই সূত্রপাত ঘটে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের আবাসিক এলাকায় বাড়তে থাকে বোমাবর্ষণ। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরান ‘খালি করা’র পরোক্ষ ‘হুমকি’ দেয়। তেহরানের বাসিন্দারা প্রাণভয়ে রাজধানী ছেড়ে বিভিন্ন শহর ও গ্রামে পালাতে বাধ্য হন। তাদের অনেকের জন্য এটা ছিল প্রতিদিনকার পরিচিত জগত ছেড়ে নিজের অস্তিত্বকে টুকরো করে ফেলার মতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘বোমা আর এয়ার ডিফেন্সের শব্দ থাকলেও দিনটা কোনোভাবে চলে যেত। কিন্তু রাতগুলো ছিল সত্যিই ভয়ংকর। তীব্র ভয় ও শঙ্কায় রাতগুলো কাটতেই চাইত না।’
২৬ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাবা বলেন, ‘যুদ্ধের আগে ভীষণ ব্যস্ত জীবন ছিল আমার। তেহরানে একটা ফুলটাইম চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করতাম। একা থাকি বলে ঘরের সব কাজ সামলাতাম নিজেই। যুদ্ধ শুরুর দুয়েক দিন প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি আমার এই রুটিন থেমে যাবে। তখনো আমি অফিস যেতাম, বাজার করতাম, ক্যাফেতে যেতাম। কিন্তু একটা সময় এসে মনে হলো, সবকিছু থেমে যাচ্ছে।’
যুদ্ধের পঞ্চম দিনে তেহরান ছাড়তে বাধ্য হন সাবা।
ভবিষ্যৎ যেখানে অনিশ্চিত
সাবার মতো সবার ভাগ্যে নিজের চিরচেনা বাড়িতে ফেরার সৌভাগ্য হয়নি।
প্রখ্যাত ইরানি সংগীতশিল্পী কেইভান সাকেত যুদ্ধের সময় পরিবারের সঙ্গে পাশের শহরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁর বাড়িতে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আবার ফিরে আসেন।
হৃদয়ের গভীর থেকে যুদ্ধ আর যুদ্ধবাজদের ঘৃণা করি আমি। মানুষের সবচেয়ে কুৎসিত সৃষ্টি হলো যুদ্ধ। কেইভান সাকেত, ইরানি সংগীতশিল্পী
নিজের বাড়িতে ফিরে আসার দৃশ্য তিনি বর্ণনা করেন এভাবে, ‘ভেতরে ঢুকে দেখি বেদনাদায়ক দৃশ্য, দরজা-জানালা সব চূর্ণবিচূর্ণ। বাড়ির বাইরের অংশ একেবারে বিধ্বস্ত। ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজ–সব নষ্ট হয়ে গেছে। আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে লোহার দরজাগুলো পর্যন্ত বেঁকে গেছে।’
এ সময় সাকেতের গলায় ছিল বেদনা। তিনি বলেন, ‘হৃদয়ের গভীর থেকে যুদ্ধ আর যুদ্ধবাজদের ঘৃণা করি আমি। মানুষের সবচেয়ে কুৎসিত সৃষ্টি হলো যুদ্ধ।’
যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ফলে আবার সহিংসতা শুরুর আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ১২ দিনে তারা ইরানের এক শর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। আর ইরান প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে অন্তত ৬১০ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৮১ জন আহত হয়েছে। এদের ৯০ শতাংশই সাধারণ নাগরিক।
এমনই একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হামেদ। যুদ্ধবিরতির দিনেই দক্ষিণ-পূর্ব শহর কেরমান থেকে তেহরানে ফিরে আসেন হামেদ। তবে আবারও তেহরান ছাড়তে হতে পারে এই চিন্তা এখনো তাঁর মনে রয়েই গেছে। তাই তিনি বলেন, ‘বারবার ফিরে আসা দুঃস্বপ্নের মতো। আমি চাই না আবার নিজের চিরচেনা বাড়ি ছেড়ে, জিনিসপত্র গুছিয়ে গন্তব্যহীন এক যাত্রায় বেরিয়ে পড়তে।’
কেইভান সাকেত বা হামেদের মতো তেহরানের অনেকের মনে দুশ্চিন্তা থাকলেও এ শহরের রাস্তাঘাট আবার ব্যস্ত হয়ে উঠছে। কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের আবার অফিসে ফিরতে বলেছে। সব মিলিয়ে যেন পুনরায় আগের স্বাভাবিক দিনগুলোতে ফিরতে চাইছে তেহরান।
তবে তেহরানের এই ‘স্বাভাবিক জীবনযাত্রা’র মধ্যেও এক অনিশ্চিত আশঙ্কার ছায়া যে রয়েছে তা না বললেও চলে।

তেহরানে ঢোকার বড় রাস্তাগুলো আবার ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে তেহরানের বাসিন্দারা নিজের ঘরে ফিরছে ‘এখন আমরা নিরাপদ’ এই আশাবাদ নিয়ে। ১২ দিনের যুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৬ শর বেশি ইরানি। লাখো মানুষ ঘরছাড়া। সোমবার (২৩ জুন) যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই ইসরায়েলি বিমান হামলার ক্ষত বয়ে বেড়ানো তেহরানে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।
তবে অনেকের জন্য এই ফিরে আসা নিজের বিছানায় ঘুমানোর স্বস্তির অনুভূতি এখনও ভয়ের ছায়ায় ঢাকা। তাদের মনে আবার হামলার ভয় রয়েই গেছে।
‘আমরা যেখানে ছিলাম, সেখানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকলেও এত দিন পরে নিজের চিরচেনা ঘরে ফেরার অনুভূতি বেহেশতে আসার মতো’, বলছিলেন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্বামীর সঙ্গে রাজধানী থেকে ২৮৬ কিলোমিটার দূরের জানজান শহরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয়ে থাকা ৩৩ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার নিকা। তাঁর কথার মধ্যে ফিরে আসার স্বস্তির পাশাপাশি ছিল উদ্বেগও, ‘আমি ঠিক জানি না, এই যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না।’
৩ জুন ভোরে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের হামলার পরপরই সূত্রপাত ঘটে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের আবাসিক এলাকায় বাড়তে থাকে বোমাবর্ষণ। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরান ‘খালি করা’র পরোক্ষ ‘হুমকি’ দেয়। তেহরানের বাসিন্দারা প্রাণভয়ে রাজধানী ছেড়ে বিভিন্ন শহর ও গ্রামে পালাতে বাধ্য হন। তাদের অনেকের জন্য এটা ছিল প্রতিদিনকার পরিচিত জগত ছেড়ে নিজের অস্তিত্বকে টুকরো করে ফেলার মতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘বোমা আর এয়ার ডিফেন্সের শব্দ থাকলেও দিনটা কোনোভাবে চলে যেত। কিন্তু রাতগুলো ছিল সত্যিই ভয়ংকর। তীব্র ভয় ও শঙ্কায় রাতগুলো কাটতেই চাইত না।’
২৬ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাবা বলেন, ‘যুদ্ধের আগে ভীষণ ব্যস্ত জীবন ছিল আমার। তেহরানে একটা ফুলটাইম চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করতাম। একা থাকি বলে ঘরের সব কাজ সামলাতাম নিজেই। যুদ্ধ শুরুর দুয়েক দিন প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি আমার এই রুটিন থেমে যাবে। তখনো আমি অফিস যেতাম, বাজার করতাম, ক্যাফেতে যেতাম। কিন্তু একটা সময় এসে মনে হলো, সবকিছু থেমে যাচ্ছে।’
যুদ্ধের পঞ্চম দিনে তেহরান ছাড়তে বাধ্য হন সাবা।
ভবিষ্যৎ যেখানে অনিশ্চিত
সাবার মতো সবার ভাগ্যে নিজের চিরচেনা বাড়িতে ফেরার সৌভাগ্য হয়নি।
প্রখ্যাত ইরানি সংগীতশিল্পী কেইভান সাকেত যুদ্ধের সময় পরিবারের সঙ্গে পাশের শহরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁর বাড়িতে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আবার ফিরে আসেন।
হৃদয়ের গভীর থেকে যুদ্ধ আর যুদ্ধবাজদের ঘৃণা করি আমি। মানুষের সবচেয়ে কুৎসিত সৃষ্টি হলো যুদ্ধ। কেইভান সাকেত, ইরানি সংগীতশিল্পী
নিজের বাড়িতে ফিরে আসার দৃশ্য তিনি বর্ণনা করেন এভাবে, ‘ভেতরে ঢুকে দেখি বেদনাদায়ক দৃশ্য, দরজা-জানালা সব চূর্ণবিচূর্ণ। বাড়ির বাইরের অংশ একেবারে বিধ্বস্ত। ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজ–সব নষ্ট হয়ে গেছে। আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে লোহার দরজাগুলো পর্যন্ত বেঁকে গেছে।’
এ সময় সাকেতের গলায় ছিল বেদনা। তিনি বলেন, ‘হৃদয়ের গভীর থেকে যুদ্ধ আর যুদ্ধবাজদের ঘৃণা করি আমি। মানুষের সবচেয়ে কুৎসিত সৃষ্টি হলো যুদ্ধ।’
যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ফলে আবার সহিংসতা শুরুর আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ১২ দিনে তারা ইরানের এক শর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। আর ইরান প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে অন্তত ৬১০ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৮১ জন আহত হয়েছে। এদের ৯০ শতাংশই সাধারণ নাগরিক।
এমনই একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হামেদ। যুদ্ধবিরতির দিনেই দক্ষিণ-পূর্ব শহর কেরমান থেকে তেহরানে ফিরে আসেন হামেদ। তবে আবারও তেহরান ছাড়তে হতে পারে এই চিন্তা এখনো তাঁর মনে রয়েই গেছে। তাই তিনি বলেন, ‘বারবার ফিরে আসা দুঃস্বপ্নের মতো। আমি চাই না আবার নিজের চিরচেনা বাড়ি ছেড়ে, জিনিসপত্র গুছিয়ে গন্তব্যহীন এক যাত্রায় বেরিয়ে পড়তে।’
কেইভান সাকেত বা হামেদের মতো তেহরানের অনেকের মনে দুশ্চিন্তা থাকলেও এ শহরের রাস্তাঘাট আবার ব্যস্ত হয়ে উঠছে। কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের আবার অফিসে ফিরতে বলেছে। সব মিলিয়ে যেন পুনরায় আগের স্বাভাবিক দিনগুলোতে ফিরতে চাইছে তেহরান।
তবে তেহরানের এই ‘স্বাভাবিক জীবনযাত্রা’র মধ্যেও এক অনিশ্চিত আশঙ্কার ছায়া যে রয়েছে তা না বললেও চলে।
.png)

বিশ্বরাজনীতির পুরোনো ছক যেন দ্রুত ভেঙে পড়ছে, তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ। যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর টানাপোড়েন সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতা ও নতুন মেরুকরণ।
৭ ঘণ্টা আগে
আধুনিক বিশ্বে শরণার্থী সংকট সামলানোর একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি হয়েছে। ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলো নিজের দেশে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বদলে অন্য দেশকে অর্থ দিয়ে তাদের সেখানে রাখতে চাইছে। ফলে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া শুধু মানবিক দায়িত্বের বিষয় থাকছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীত
১ দিন আগে
ভারতে ছাত্রদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ আপাতত থেমেছে। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দিল্লির যন্তর মন্তর পরিষ্কার করা হয়েছে। দেয়ালের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও যেন আপাতত নিজেদের পর্ব শেষ করেছে। অন্যদিকে বিজেপি আবার সংসদে নিজেদের বিল পাস করানোর কাজে ফিরেছে।
১২ আগস্ট ২০২৬
চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এবার সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত আউটরিচ সেশনগুলোও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
১২ আগস্ট ২০২৬