মায়ের হাতের রান্নার গোপন রহস্যটা আসলে কী? মা দিবসের এই মুহূর্তে পৃথিবীর সকল মমতাময়ী মায়ের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে আজকের এই লেখা।
ফাবিহা বিনতে হক

বাইরে বৃষ্টি দেখে খুব শখ করে পাতলা খিচুড়ি রান্না করলাম। সঙ্গে ডিম ভাজি। বৃষ্টির দিনে আমার মা-ও পাতলা খিচুড়ি রান্না করেন। বাড়ি থেকে দূরে আছি। মায়ের হাতের খিচুড়ি খাওয়ার সৌভাগ্য সব সময় হয় না। তাই নিজেরই রাঁধতে হলো। খেলামও পেট ভরে। কিন্তু মন ভরল কি?
এখনও মুখে লেগে আছে মায়ের রান্না করা খিচুড়ির স্বাদ। তাই উপকরণ যতই ঠিক থাকুক, মায়ের যত্ন আর ভালোবাসা ছাড়া সেই রান্নায় ঠিকঠাক স্বাদ কখনোই আসবে না।
একবার আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর প্রিয় খাবার কী? তখন এক ধরনের অনুশোচনাও গ্রাস করলো আমাকে। সবসময় দেখেছি, মা আমাদের প্রিয় খাবারই রান্না করেন। তিনিও যে কারও সন্তান, তাঁরও যে প্রিয় খাবার থাকতে পারে তা আমরা বেমালুম ভুলে গেছি।
আমরা মায়ের হাতের খাবার আরাম করে খাই। তাতেই তিনি তৃপ্তি পান। হয়তো পৃথিবীর সকল মা-ই এমন। কারণ, সবার কাছেই তাঁর মায়ের রান্না সবচেয়ে আলাদা, সবচেয়ে সুস্বাদু।
আবার সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর কথা চিন্তা করুন। সবেমাত্র সে পৃথিবীর আলো দেখেছে। চারপাশের কিছুই সে চেনে না। এই অচেনা পৃথিবীতে তার একমাত্র ভরসার জায়গা হলো মায়ের কোল। বেঁচে থাকার জন্য শিশুটি শুধু নির্ভর করে মায়ের বুকের দুধের ওপর। ভালো করে মাকে চিনে ওঠার আগেই, চিনে যায় তার মায়ের গন্ধ। অবচেতনভাবেই বুঝতে শেখে, এই জায়গাটিই সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, খাবারের একমাত্র উৎস।
এই যে ‘মা’ হয়ে ওঠা, নিজের শরীর থেকে সন্তানকে পুষ্টি দেওয়া—এখান থেকেই শুরু হয় মা আর সন্তানের মধ্যে নির্ভরশীলতার বাঁধন। আস্তে আস্তে শিশুটি হয়তো বুকের দুধ ছেড়ে অন্য খাবারে অভ্যস্ত হয়। কিন্তু মানসিকভাবে সেই নির্ভরশীলতা কি কখনও কাটিয়ে উঠতে পারে?
আরেকটু বড় হওয়ার পর সেই শিশুর শরীরে নানা রকম অনুভূতি তৈরি হয়। কিন্তু পেটে ব্যথা হচ্ছে, নাকি ঘুম পাচ্ছে, নাকি ক্ষুধা লেগেছে—সে কিছুই বুঝিয়ে বলতে পারে না। তার এই সব না-বলা কথা প্রকাশের একটাই উপায় থাকে, আর তা হলো কান্না।
পৃথিবীতে মা-ই হলেন একমাত্র জাদুকর, যিনি এই কান্নার ভাষা সবার আগে বোঝেন। মা-ই প্রথম বুঝতে পারেন, কোনটা ক্ষুধার কান্না, কোনটা ব্যথার। মা তাকে প্রথম ক্ষুধার কষ্ট চেনান, এরপর চেনান ‘খাদ্য’। তখন শিশুর কচি মস্তিষ্কে একটা জিনিস খুব সুন্দর করে গেঁথে যায়—ক্ষুধা পেলে কষ্ট হয়, আর মা যখন খেতে দেন, তখন সেই কষ্ট দূর হয়ে যায়।
শিশুকে খাওয়ানোর সময়টাও মায়েদের কাছে কোনো সাধারণ কাজ নয়। শিশুর মুখে খাবার তুলে দিতে মায়েরা কতই না গল্প ফাঁদেন এই সময়! আকাশে উড়ে যাওয়া পাখিকে দেখিয়ে হয়তো বলেন, ‘আয় পাখি আয়, আমার সোনা মানিকের খাবারটা খেয়ে যা।’ পরক্ষণেই আবার নিজেই বলেন, ‘যা পাখি যা, তুই কেন খাবি! আমার বাবু নিজেই খাবে।’
খাওয়ানোর সময় শিশু অবাক হয়ে দেখে, তার মুখে এক লোকমা খাবার তুলে দিতে পেরে মায়ের চোখেমুখে কী ভীষণ আনন্দ! নিজের পেট ভরার চেয়েও, মায়ের মুখের এই তৃপ্তির হাসি শিশুকে বেশি আনন্দ দেয়। এই ছোট ছোট সুখের অনুভূতি শিশুর মনে আজীবনের জন্য গেঁথে যায়।
সন্তান আরেকটু বড় হলে মায়ের কাজ আরও বেড়ে যায়। তার সন্তান কতটুকু ঝাল সহ্য করতে পারবে! বুকের দুধ ছেড়ে এখন কি একটু নুডলস হজম করতে পারবে? ডিমটা কি পোচ করে দিলে খাবে, নাকি সেদ্ধ দিলে? কোন খাবারে বাবুর অ্যালার্জি হচ্ছে?
সন্তানের শরীরের খুঁটিনাটি সব হিসাব মায়ের নখদর্পণে থাকে। সন্তান কোন খাবারটি খেতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, তা মায়েরাই সারা জীবন মনে রাখেন।
সন্তানের খাবারের ব্যাপারে মায়েদের মতো সতর্ক আর কেউ থাকেন না। বাজার থেকে কিনে আনা চাল থেকে যদি একটু অন্যরকম গন্ধ আসে, তবে সেই চাল আর হাঁড়িতে উঠবে না। হয়তো চুলায় দুধের পাতিল রাখা ছিল, কিন্তু ঢাকনা দেওয়া ছিল না। মায়ের মনে সন্দেহ হলো—‘বিড়ালে মুখ দিল না তো?’ এই সামান্য সন্দেহের বশে পাতিলসুদ্ধ দুধ ফেলে দিতেও মায়ের একটুও বুক কাঁপবে না। সন্তানের পেটে যেন কোনোভাবেই ক্ষতিকর কিছু না যায়, সে বিষয়ে মায়ের মতো সদা সতর্ক হতে ক’জন পারে?
আমাদের মায়েরা সহজে মুখ ফুটে ‘ভালোবাসি’ বলেন না। তাঁদের ভালোবাসার অন্যতম ভাষা হলো খাবার।
‘ভাত খেয়েছিস?’— এই একটা বাক্যের মাঝেই লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সমস্ত আদর। হয়তো এ কারণেই আমরা না খেলেও মায়ের কাছে লুকিয়ে রাখি। যদি মায়েরা শোনেন, সন্তান না খেয়েই ঘুমিয়ে গেছে তবে রাতে আর তিনি ঘুমাতে পারবেন না।
বড় হয়ে ঘর ছাড়ার পর আমরা বুঝতে পারি, মায়ের হাতের রান্নার যে অমৃত স্বাদ, এর পেছনে কোনো গোপন মশলা নেই। এর মধ্যে জড়িয়ে আছে মায়ের যত্ন, আবেগ আর ভালোবাসার স্মৃতি।
তাই বয়স যতই বাড়ুক, পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন, মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ আমাদের বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় মায়ের ছোট্ট কোলে, যেখানে গেলে পৃথিবীর কোনো দুঃখ-কষ্ট, মালিন্য আমাদের স্পর্শ করতে পারে না।

বাইরে বৃষ্টি দেখে খুব শখ করে পাতলা খিচুড়ি রান্না করলাম। সঙ্গে ডিম ভাজি। বৃষ্টির দিনে আমার মা-ও পাতলা খিচুড়ি রান্না করেন। বাড়ি থেকে দূরে আছি। মায়ের হাতের খিচুড়ি খাওয়ার সৌভাগ্য সব সময় হয় না। তাই নিজেরই রাঁধতে হলো। খেলামও পেট ভরে। কিন্তু মন ভরল কি?
এখনও মুখে লেগে আছে মায়ের রান্না করা খিচুড়ির স্বাদ। তাই উপকরণ যতই ঠিক থাকুক, মায়ের যত্ন আর ভালোবাসা ছাড়া সেই রান্নায় ঠিকঠাক স্বাদ কখনোই আসবে না।
একবার আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর প্রিয় খাবার কী? তখন এক ধরনের অনুশোচনাও গ্রাস করলো আমাকে। সবসময় দেখেছি, মা আমাদের প্রিয় খাবারই রান্না করেন। তিনিও যে কারও সন্তান, তাঁরও যে প্রিয় খাবার থাকতে পারে তা আমরা বেমালুম ভুলে গেছি।
আমরা মায়ের হাতের খাবার আরাম করে খাই। তাতেই তিনি তৃপ্তি পান। হয়তো পৃথিবীর সকল মা-ই এমন। কারণ, সবার কাছেই তাঁর মায়ের রান্না সবচেয়ে আলাদা, সবচেয়ে সুস্বাদু।
আবার সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর কথা চিন্তা করুন। সবেমাত্র সে পৃথিবীর আলো দেখেছে। চারপাশের কিছুই সে চেনে না। এই অচেনা পৃথিবীতে তার একমাত্র ভরসার জায়গা হলো মায়ের কোল। বেঁচে থাকার জন্য শিশুটি শুধু নির্ভর করে মায়ের বুকের দুধের ওপর। ভালো করে মাকে চিনে ওঠার আগেই, চিনে যায় তার মায়ের গন্ধ। অবচেতনভাবেই বুঝতে শেখে, এই জায়গাটিই সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, খাবারের একমাত্র উৎস।
এই যে ‘মা’ হয়ে ওঠা, নিজের শরীর থেকে সন্তানকে পুষ্টি দেওয়া—এখান থেকেই শুরু হয় মা আর সন্তানের মধ্যে নির্ভরশীলতার বাঁধন। আস্তে আস্তে শিশুটি হয়তো বুকের দুধ ছেড়ে অন্য খাবারে অভ্যস্ত হয়। কিন্তু মানসিকভাবে সেই নির্ভরশীলতা কি কখনও কাটিয়ে উঠতে পারে?
আরেকটু বড় হওয়ার পর সেই শিশুর শরীরে নানা রকম অনুভূতি তৈরি হয়। কিন্তু পেটে ব্যথা হচ্ছে, নাকি ঘুম পাচ্ছে, নাকি ক্ষুধা লেগেছে—সে কিছুই বুঝিয়ে বলতে পারে না। তার এই সব না-বলা কথা প্রকাশের একটাই উপায় থাকে, আর তা হলো কান্না।
পৃথিবীতে মা-ই হলেন একমাত্র জাদুকর, যিনি এই কান্নার ভাষা সবার আগে বোঝেন। মা-ই প্রথম বুঝতে পারেন, কোনটা ক্ষুধার কান্না, কোনটা ব্যথার। মা তাকে প্রথম ক্ষুধার কষ্ট চেনান, এরপর চেনান ‘খাদ্য’। তখন শিশুর কচি মস্তিষ্কে একটা জিনিস খুব সুন্দর করে গেঁথে যায়—ক্ষুধা পেলে কষ্ট হয়, আর মা যখন খেতে দেন, তখন সেই কষ্ট দূর হয়ে যায়।
শিশুকে খাওয়ানোর সময়টাও মায়েদের কাছে কোনো সাধারণ কাজ নয়। শিশুর মুখে খাবার তুলে দিতে মায়েরা কতই না গল্প ফাঁদেন এই সময়! আকাশে উড়ে যাওয়া পাখিকে দেখিয়ে হয়তো বলেন, ‘আয় পাখি আয়, আমার সোনা মানিকের খাবারটা খেয়ে যা।’ পরক্ষণেই আবার নিজেই বলেন, ‘যা পাখি যা, তুই কেন খাবি! আমার বাবু নিজেই খাবে।’
খাওয়ানোর সময় শিশু অবাক হয়ে দেখে, তার মুখে এক লোকমা খাবার তুলে দিতে পেরে মায়ের চোখেমুখে কী ভীষণ আনন্দ! নিজের পেট ভরার চেয়েও, মায়ের মুখের এই তৃপ্তির হাসি শিশুকে বেশি আনন্দ দেয়। এই ছোট ছোট সুখের অনুভূতি শিশুর মনে আজীবনের জন্য গেঁথে যায়।
সন্তান আরেকটু বড় হলে মায়ের কাজ আরও বেড়ে যায়। তার সন্তান কতটুকু ঝাল সহ্য করতে পারবে! বুকের দুধ ছেড়ে এখন কি একটু নুডলস হজম করতে পারবে? ডিমটা কি পোচ করে দিলে খাবে, নাকি সেদ্ধ দিলে? কোন খাবারে বাবুর অ্যালার্জি হচ্ছে?
সন্তানের শরীরের খুঁটিনাটি সব হিসাব মায়ের নখদর্পণে থাকে। সন্তান কোন খাবারটি খেতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, তা মায়েরাই সারা জীবন মনে রাখেন।
সন্তানের খাবারের ব্যাপারে মায়েদের মতো সতর্ক আর কেউ থাকেন না। বাজার থেকে কিনে আনা চাল থেকে যদি একটু অন্যরকম গন্ধ আসে, তবে সেই চাল আর হাঁড়িতে উঠবে না। হয়তো চুলায় দুধের পাতিল রাখা ছিল, কিন্তু ঢাকনা দেওয়া ছিল না। মায়ের মনে সন্দেহ হলো—‘বিড়ালে মুখ দিল না তো?’ এই সামান্য সন্দেহের বশে পাতিলসুদ্ধ দুধ ফেলে দিতেও মায়ের একটুও বুক কাঁপবে না। সন্তানের পেটে যেন কোনোভাবেই ক্ষতিকর কিছু না যায়, সে বিষয়ে মায়ের মতো সদা সতর্ক হতে ক’জন পারে?
আমাদের মায়েরা সহজে মুখ ফুটে ‘ভালোবাসি’ বলেন না। তাঁদের ভালোবাসার অন্যতম ভাষা হলো খাবার।
‘ভাত খেয়েছিস?’— এই একটা বাক্যের মাঝেই লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সমস্ত আদর। হয়তো এ কারণেই আমরা না খেলেও মায়ের কাছে লুকিয়ে রাখি। যদি মায়েরা শোনেন, সন্তান না খেয়েই ঘুমিয়ে গেছে তবে রাতে আর তিনি ঘুমাতে পারবেন না।
বড় হয়ে ঘর ছাড়ার পর আমরা বুঝতে পারি, মায়ের হাতের রান্নার যে অমৃত স্বাদ, এর পেছনে কোনো গোপন মশলা নেই। এর মধ্যে জড়িয়ে আছে মায়ের যত্ন, আবেগ আর ভালোবাসার স্মৃতি।
তাই বয়স যতই বাড়ুক, পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন, মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ আমাদের বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় মায়ের ছোট্ট কোলে, যেখানে গেলে পৃথিবীর কোনো দুঃখ-কষ্ট, মালিন্য আমাদের স্পর্শ করতে পারে না।

ছোটবেলায় দাদীর মুখে শুনতাম, রাতের বেলা যদি চোখের সামনে দিয়ে কোনো কালো বিড়াল চলে যায়, তবে সেখানেই থেমে যেতে হবে। নিয়ম ছিল, অন্য কেউ ওই পথ দিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
৩ ঘণ্টা আগে
দর্শকদের কানে এখনও বাজে ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সেই তুমুল জনপ্রিয় গান, ‘ওয়াকা ওয়াকা’। বিশ্বকাপের গান মানেই যেন ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আর টিভির পর্দায় ভেসে ওঠা কোঁকড়ানো সোনালি চুলের শাকিরা।
৭ ঘণ্টা আগে
আজ এমন একজনের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী, যিনি দুটি দেশের জাতীয় সংগীত লিখেছেন। নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২৫ কোটি মানুষের কাছে তিনি প্রাসঙ্গিক। কখনো বা পূজনীয়। অথচ বাংলা ভাষাভাষীদের বাইরে কাউকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা জিজ্ঞেস করে দেখুন। বড়জোর এক মুহূর্তের শূন্য দৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই পাবেন না।
১০ ঘণ্টা আগে
জার্মানি কিংবা ইউরোপে যেমন গ্যেটে, বাংলাদেশ বা ভারতীয় জীবনে তেমনি রবীন্দ্রনাথ বার বার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন; বহু বিষয়ে, বহু কারণে। গ্যেটের প্রাসঙ্গিকতা আধুনিক ইউরোপীয় জীবনের নানা স্তরে বিদ্যমান; সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র ছাড়াও আধুনিক মানুষের আত্মিক পরিচয়, জীবনাকাঙ্ক্ষা, স্বাধ
১ দিন আগে