স্ট্রিম ডেস্ক

পাবলিক বাসে পাশাপাশি সিটে বসে অফিসে যাচ্ছিলেন আসিফুর রহমান ও আদনান আহমেদ (ছদ্মনাম)। আসিফ সাহেব চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, চোখের সামনে পত্রিকা মেলে বসে আছেন। আদনান সাহেব চাকরি করেন সরকারি প্রতিষ্ঠানে।
যানজটে বসে থাকতে থাকতে আদনান সাহেব আসিফ সাহেবের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, ‘পে-স্কেলের কোনো খবর আছে নাকি পত্রিকায়? শুনলাম, ধাপে ধাপে দেবে নাকি?’
আসিফ সাহেব বললেন, ‘আমি করি বেসরকারি চাকরি, পে-স্কেলের খবর-টবর রাখি না ভাই। আদার ব্যাপারী, জাহাজের খবর রাইখা লাভ আছে?’
নতুন পে-স্কেল নিয়ে এমন আলাপ-আলোচনা এখন প্রায় সর্বত্রই শোনা যাচ্ছে। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপন। গত ১১ জুন চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এখনো সেই গেজেট প্রকাশ পায়নি। গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় বেতন কত বাড়বে, কোন ধাপে বাড়বে, ভাতা কবে যুক্ত হবে এসব প্রশ্নেরও কোনো সুস্পষ্ট উত্তর মিলছে না।
তবে পে-স্কেল নিয়ে মানুষের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল কীভাবে নির্ধারিত হয়, কত টাকা বাড়ে তাদের? বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতনের সঙ্গে কি কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা বা তুলনা করে এই বেতন নির্ধারণ করা হয়?
সরকারি চাকরির বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি বেসরকারি খাত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা, দায়িত্বের ধরন, দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং একটি মানসম্মত প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রাখা। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
পে-স্কেল বা জাতীয় বেতন স্কেল হলো সরকার নির্ধারিত একটি বেতন কাঠামো। এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ, দায়িত্ব, যোগ্যতা ও চাকরির স্তর অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় বেতন পান। এতে বিভিন্ন গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উচ্চ গ্রেডে এবং নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা নিম্ন গ্রেডে অবস্থান করেন। একই গ্রেডে থাকা কর্মচারীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর ইনক্রিমেন্ট পান এবং পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চতর গ্রেডে গেলে বেতনও বৃদ্ধি পায়।
পে-স্কেল নির্ধারণের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়। প্রথমত, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। দ্বিতীয়ত, বহুজাতিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে দক্ষ জনবল নিয়োগ করে। মেধাবীদের সরকারি চাকরিতে আকৃষ্ট করতে এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের ধরে রাখতে আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো জরুরি। তৃতীয়ত, কর্মচারীদের বেতন যদি তাদের মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) পূরণে পর্যাপ্ত হয়, তবে দুর্নীতি করার প্রবণতা কমে।
এছাড়াও আরও কিছু কারণের মধ্যে রয়েছে, পর্যাপ্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সরকারি কর্মচারীদের সততার সাথে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করে। সমাজের অন্যান্য পেশার মানুষের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমানের সামঞ্জস্য বজায় রাখা। অবসরকালীন পেনশনের সুবিধা ও অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মচারীদের সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সঠিক সময়ে বেতন বৃদ্ধি পেলে কর্মচারীদের কাজের প্রতি আগ্রহ ও কাজের মান বহুগুণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ পে-স্কেল কেবল বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা নয়, এটি রাষ্ট্রের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সরকার যখন নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সাধারণত একটি জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে সুপারিশ দেয়। যেমন—দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারের রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি চাকরির দায়িত্ব ও ঝুঁকি, দক্ষ জনবল ধরে রাখার প্রয়োজন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকারি বেতন কাঠামো ইত্যাদি। কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে অর্থনীতি, বাজেট ও রাজস্ব সক্ষমতাও গভীরভাবে জড়িত।
এটি সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি চাকরির বেতন কাঠামো এক নয়। কারণ দুই খাতের লক্ষ্য, অর্থায়ন এবং পরিচালনা ব্যবস্থা ভিন্ন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেতন নির্ধারণ হয় বাজার, প্রতিষ্ঠানের মুনাফা, কর্মীর দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতার ওপর। অন্যদিকে সরকারি চাকরির বেতন নির্ধারণ হয় জাতীয় বাজেট এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের ভিত্তিতে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সরকার বেসরকারি খাতকে একেবারেই বিবেচনায় নেয় না।
বেতন কমিশন অনেক সময় দক্ষ জনবল সরকারি চাকরি ছেড়ে বেসরকারি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ার প্রবণতা, শ্রমবাজারের অবস্থা এবং বিভিন্ন পেশার আয়ের পার্থক্যও পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করে সরকারি বেতন নির্ধারণ করা হয় না।
সরকারি চাকরিতে কেবল মূল বেতনই নয়, আরও নানা ধরনের সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, অবসর-পরবর্তী পেনশন বা গ্র্যাচুইটি, ছুটি ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা। এসব সুবিধাও মোট আর্থিক প্রাপ্তির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মূল বেতন তুলনামূলক বেশি হলেও চাকরির নিরাপত্তা বা অবসর-পরবর্তী সুবিধা সরকারি চাকরির মতো নাও থাকতে পারে। আবার বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি চাকরির চেয়ে অনেক বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধাও দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশে নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। অতীতে বিভিন্ন সময়ে নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন ২০০৯ সালের পর ২০১৫ সালে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়। এরপর এখন পর্যন্ত নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হলেও বিভিন্ন সময়ে মহার্ঘ্য ভাতা, বেতন সমন্বয় বা নতুন বেতন কমিশন গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন পে-স্কেল নির্ভর করে সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থা, বাজেট সক্ষমতা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।
নতুন পে-স্কেলের আলোচনা শুরু হলেই একদিকে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল্যস্ফীতির কারণে বেতন সমন্বয়ের দাবি তোলেন। অন্যদিকে বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটি অংশ প্রশ্ন তোলেন, একই সময়ে তাদের বেতন বাড়ানোর কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন কেন বাড়ানো হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দুই খাতের বেতন কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় এ ধরনের সরাসরি তুলনা সব সময় যৌক্তিক নয়। তবে রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং আয়ের বৈষম্য বিবেচনায় রেখে নীতি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

পাবলিক বাসে পাশাপাশি সিটে বসে অফিসে যাচ্ছিলেন আসিফুর রহমান ও আদনান আহমেদ (ছদ্মনাম)। আসিফ সাহেব চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, চোখের সামনে পত্রিকা মেলে বসে আছেন। আদনান সাহেব চাকরি করেন সরকারি প্রতিষ্ঠানে।
যানজটে বসে থাকতে থাকতে আদনান সাহেব আসিফ সাহেবের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, ‘পে-স্কেলের কোনো খবর আছে নাকি পত্রিকায়? শুনলাম, ধাপে ধাপে দেবে নাকি?’
আসিফ সাহেব বললেন, ‘আমি করি বেসরকারি চাকরি, পে-স্কেলের খবর-টবর রাখি না ভাই। আদার ব্যাপারী, জাহাজের খবর রাইখা লাভ আছে?’
নতুন পে-স্কেল নিয়ে এমন আলাপ-আলোচনা এখন প্রায় সর্বত্রই শোনা যাচ্ছে। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপন। গত ১১ জুন চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এখনো সেই গেজেট প্রকাশ পায়নি। গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় বেতন কত বাড়বে, কোন ধাপে বাড়বে, ভাতা কবে যুক্ত হবে এসব প্রশ্নেরও কোনো সুস্পষ্ট উত্তর মিলছে না।
তবে পে-স্কেল নিয়ে মানুষের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল কীভাবে নির্ধারিত হয়, কত টাকা বাড়ে তাদের? বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতনের সঙ্গে কি কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা বা তুলনা করে এই বেতন নির্ধারণ করা হয়?
সরকারি চাকরির বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি বেসরকারি খাত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা, দায়িত্বের ধরন, দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং একটি মানসম্মত প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রাখা। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
পে-স্কেল বা জাতীয় বেতন স্কেল হলো সরকার নির্ধারিত একটি বেতন কাঠামো। এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ, দায়িত্ব, যোগ্যতা ও চাকরির স্তর অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় বেতন পান। এতে বিভিন্ন গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উচ্চ গ্রেডে এবং নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা নিম্ন গ্রেডে অবস্থান করেন। একই গ্রেডে থাকা কর্মচারীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর ইনক্রিমেন্ট পান এবং পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চতর গ্রেডে গেলে বেতনও বৃদ্ধি পায়।
পে-স্কেল নির্ধারণের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়। প্রথমত, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। দ্বিতীয়ত, বহুজাতিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে দক্ষ জনবল নিয়োগ করে। মেধাবীদের সরকারি চাকরিতে আকৃষ্ট করতে এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের ধরে রাখতে আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো জরুরি। তৃতীয়ত, কর্মচারীদের বেতন যদি তাদের মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) পূরণে পর্যাপ্ত হয়, তবে দুর্নীতি করার প্রবণতা কমে।
এছাড়াও আরও কিছু কারণের মধ্যে রয়েছে, পর্যাপ্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সরকারি কর্মচারীদের সততার সাথে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করে। সমাজের অন্যান্য পেশার মানুষের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমানের সামঞ্জস্য বজায় রাখা। অবসরকালীন পেনশনের সুবিধা ও অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মচারীদের সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সঠিক সময়ে বেতন বৃদ্ধি পেলে কর্মচারীদের কাজের প্রতি আগ্রহ ও কাজের মান বহুগুণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ পে-স্কেল কেবল বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা নয়, এটি রাষ্ট্রের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সরকার যখন নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সাধারণত একটি জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে সুপারিশ দেয়। যেমন—দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারের রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি চাকরির দায়িত্ব ও ঝুঁকি, দক্ষ জনবল ধরে রাখার প্রয়োজন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকারি বেতন কাঠামো ইত্যাদি। কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে অর্থনীতি, বাজেট ও রাজস্ব সক্ষমতাও গভীরভাবে জড়িত।
এটি সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি চাকরির বেতন কাঠামো এক নয়। কারণ দুই খাতের লক্ষ্য, অর্থায়ন এবং পরিচালনা ব্যবস্থা ভিন্ন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেতন নির্ধারণ হয় বাজার, প্রতিষ্ঠানের মুনাফা, কর্মীর দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতার ওপর। অন্যদিকে সরকারি চাকরির বেতন নির্ধারণ হয় জাতীয় বাজেট এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের ভিত্তিতে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সরকার বেসরকারি খাতকে একেবারেই বিবেচনায় নেয় না।
বেতন কমিশন অনেক সময় দক্ষ জনবল সরকারি চাকরি ছেড়ে বেসরকারি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ার প্রবণতা, শ্রমবাজারের অবস্থা এবং বিভিন্ন পেশার আয়ের পার্থক্যও পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করে সরকারি বেতন নির্ধারণ করা হয় না।
সরকারি চাকরিতে কেবল মূল বেতনই নয়, আরও নানা ধরনের সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, অবসর-পরবর্তী পেনশন বা গ্র্যাচুইটি, ছুটি ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা। এসব সুবিধাও মোট আর্থিক প্রাপ্তির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মূল বেতন তুলনামূলক বেশি হলেও চাকরির নিরাপত্তা বা অবসর-পরবর্তী সুবিধা সরকারি চাকরির মতো নাও থাকতে পারে। আবার বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি চাকরির চেয়ে অনেক বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধাও দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশে নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। অতীতে বিভিন্ন সময়ে নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন ২০০৯ সালের পর ২০১৫ সালে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়। এরপর এখন পর্যন্ত নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হলেও বিভিন্ন সময়ে মহার্ঘ্য ভাতা, বেতন সমন্বয় বা নতুন বেতন কমিশন গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন পে-স্কেল নির্ভর করে সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থা, বাজেট সক্ষমতা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।
নতুন পে-স্কেলের আলোচনা শুরু হলেই একদিকে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল্যস্ফীতির কারণে বেতন সমন্বয়ের দাবি তোলেন। অন্যদিকে বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটি অংশ প্রশ্ন তোলেন, একই সময়ে তাদের বেতন বাড়ানোর কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন কেন বাড়ানো হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দুই খাতের বেতন কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় এ ধরনের সরাসরি তুলনা সব সময় যৌক্তিক নয়। তবে রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং আয়ের বৈষম্য বিবেচনায় রেখে নীতি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
.png)

বিচার হয় ব্যক্তির। দলের কি কখনো বিচার হয়? হ্যাঁ, হয়। ইতিহাসে এমন কিছু নজির রয়েছে, যেখানে কোনো কোনো রাষ্ট্র বা আদালত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ, বিলুপ্ত বা ভেঙে দিয়েছে, ধরন বুঝে শাস্তিও দিয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার মধ্যে লাখো মানুষের চোখ আটকে ছিল একটি দৃশ্যে— প্রধান কফিনের ওপর রাখা ছোট্ট একটা সাদা কফিন। কফিনের সামনে রাখা একটি ছোট শিশুর ফ্রেমে বাঁধানো ছবি।
৯ ঘণ্টা আগে
মাঝেমধ্যেই দেখা যায় কেউ বাসায় টিয়া পাখি পুষছেন, কেউ পুষছেন বানর বা কচ্ছপ। আবার অভিযানে উদ্ধার হচ্ছে অজগর, পেঁচা কিংবা শকুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রায়ই বন্যপ্রাণী কেনাবেচার বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। অনেকেই মনে করেন, ‘একটা পাখি বা কচ্ছপ পুষলে সমস্যা কোথায়?’
২১ ঘণ্টা আগে
খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি বা বান্দরবানে সংঘর্ষ, অপহরণ কিংবা গোলাগুলির কোনো ঘটনায় প্রায়ই দুটি নাম শোনা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। তবে অনেকেই জানেন না, দুটি সংগঠনের জন্ম একই প্রেক্ষাপট থেকে হলেও পরে মতপার্থক্যের কারণে তারা আলাদা পথে হাঁটে।
০৬ জুলাই ২০২৬