স্ট্রিম ডেস্ক

বিচার হয় ব্যক্তির। দলের কি কখনো বিচার হয়? হ্যাঁ, হয়। ইতিহাসে এমন কিছু নজির রয়েছে, যেখানে কোনো কোনো রাষ্ট্র বা আদালত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ, বিলুপ্ত বা ভেঙে দিয়েছে, ধরন বুঝে শাস্তিও দিয়েছে। কারণ তাদের বিরুদ্ধে ছিল যুদ্ধাপরাধ, গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, বর্ণবাদ, সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ড কিংবা নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ।
নিষিদ্ধ হওয়ার পর বা শাস্তি ভোগ করার পর কোনো কোনো দল নতুন নামে রাজনীতিতে ফিরেছে। আবার কোনো দল একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
জার্মানির নাৎসি পার্টি
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হলো জার্মানির নাৎসি পার্টি। নাৎসি পার্টির নেতৃত্বে অ্যাডলফ হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেন এবং হলোকাস্টসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান।
১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষে মিত্রশক্তি নাৎসি পার্টিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। পরে জার্মানির সংবিধান ও আইন এমনভাবে প্রণয়ন করা হয় যেন নাৎসি মতাদর্শের পুনরুত্থান ঠেকানো যায়। বর্তমানে দেশটিতে নাৎসি প্রতীক, প্রচারণা ও সংশ্লিষ্ট অনেক কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ।
নিও-নাৎসি দলও নিষিদ্ধ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও জার্মানিতে নাৎসি মতাদর্শ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছিল। ১৯৫২ সালে সোশ্যালিস্ট রেইচ পার্টিকে দেশটির আদালত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এটি ছিল পশ্চিম জার্মানিতে আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হওয়া প্রথম রাজনৈতিক দল। আদালতের মতে, দলটি গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি ছিল।
ইতালি: ফ্যাসিস্ট পার্টি বিলুপ্ত
ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টির নেতা বেনিতো মুসোলিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের মিত্র ছিলেন। ১৯৪৫ সালে তাঁর সরকারের পতনের পর ফ্যাসিস্ট পার্টি বিলুপ্ত হয়। পরে ইতালির সংবিধানেও ফ্যাসিস্ট পার্টি পুনর্গঠনের বিরুদ্ধে বিধান যুক্ত করা হয়। আজও প্রকাশ্যে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেশটিতে আইনি বিতর্কের বিষয়।
ইরাক: সাদ্দামের বাথ পার্টি
আরব সোশালিস্ট বাথ পার্টি দীর্ঘদিন সাদ্দাম হোসেনের ক্ষমতার ভিত্তি ছিল। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে সাদ্দাম সরকারের পতনের পর বাথ পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর শুরু হয় ‘ডি-বাথিফিকেশন’ কর্মসূচি। হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ তারা বাথ পার্টির সদস্য ছিলেন। এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে ইরাকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে।
স্পেন: সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বাতাসুনা
স্পেনের বাস্ক ন্যাশনালিস্ট পার্টি ‘বাতাসুনা’-কে ২০০৩ সালে নিষিদ্ধ করা হয়। স্পেনের আদালতের রায় ছিল, দলটির সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তারা ওই সংগঠনকে সহায়তা করছিল। পরে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসও স্পেনের আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
তুরস্ক: আদালতের রায়ে একের পর এক দল নিষিদ্ধ
তুরস্কে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি। দেশটির সাংবিধানিক আদালত কয়েক দশকে ২০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েলফেয়ার পার্টি, যা ১৯৯৮ সালে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়। এছাড়া ভার্চু পার্টি এবং ডেমোক্রেটিক সোসাইটি পার্টিও আদালতের রায়ে বিলুপ্ত হয়।
বেলজিয়াম: বর্ণবাদের অভিযোগ
বেলজিয়ামের কট্টর ডানপন্থী দল ‘ভ্লামস ব্লক’ ২০০৪ সালে বর্ণবাদবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতের রায়ের পর বিলুপ্ত হয়। পরে দলটি নতুন নাম—‘ভ্লামস বেলাং’ নিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসে।
থাইল্যান্ড: আদালতের মাধ্যমে দল বিলুপ্ত
থাইল্যান্ডে নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়েছে। ২০০৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ‘থাই রাক থাই পার্টি’ নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে থাইল্যান্ডের আদালতের রায়ে বিলুপ্ত হয়। এরপর ২০০৮ সালে ‘থাই নেশন পার্টি’ এবং ‘নিউট্রাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’-কেও আদালত বিলুপ্ত ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে এসব দলের অনেক নেতা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
ইউক্রেন: কমিউনিস্ট পার্টির ওপর নিষেধাজ্ঞা
২০১৫ সালে ইউক্রেন ‘ডিকমিউনাইজেশন’ আইন প্রণয়নের পর ‘কমিউনিস্ট পার্টি অব ইউক্রেন’-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের অভিযোগ ছিল, দলটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও আইন লঙ্ঘন করেছে এবং সোভিয়েত প্রতীক ও আদর্শ প্রচার অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিতর্ক হয়েছে।
সব নিষেধাজ্ঞা কি স্থায়ী
না। ইতিহাস বলছে, সব নিষিদ্ধ দল চিরতরে হারিয়ে যায়নি। অনেক দল নতুন নাম, নতুন নেতৃত্ব বা নতুন কাঠামো নিয়ে আবার রাজনীতিতে ফিরেছে। বেলজিয়ামের দল ভ্লামস বেলাং বা থাইল্যান্ডের বিভিন্ন দলের উত্তরসূরি সংগঠন তার উদাহরণ।
আবার কিছু ক্ষেত্রে, যেমন জার্মানির নাৎসি পার্টি বা ইতালির ফ্যাসিস্ট পার্টি, রাষ্ট্র নিজেই এমন সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করেছে যাতে সেই মতাদর্শের দল আগের রূপে আর ফিরে আসতে না পারে।
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক দেশে খুবই বিরল এবং ব্যতিক্রমী একটি পদক্ষেপ। ইতিহাসে দেখা যায়, সাধারণত যুদ্ধাপরাধ, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, বর্ণবাদ, গণতন্ত্র উৎখাতের চেষ্টা, সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ড বা গুরুতর নির্বাচনী অপরাধের মতো অভিযোগের ভিত্তিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রশ্নটি সব সময়ই আইন, ইতিহাস এবং রাজনীতির জটিল সমীকরণের অংশ হয়ে থেকেছে।

বিচার হয় ব্যক্তির। দলের কি কখনো বিচার হয়? হ্যাঁ, হয়। ইতিহাসে এমন কিছু নজির রয়েছে, যেখানে কোনো কোনো রাষ্ট্র বা আদালত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ, বিলুপ্ত বা ভেঙে দিয়েছে, ধরন বুঝে শাস্তিও দিয়েছে। কারণ তাদের বিরুদ্ধে ছিল যুদ্ধাপরাধ, গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, বর্ণবাদ, সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ড কিংবা নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ।
নিষিদ্ধ হওয়ার পর বা শাস্তি ভোগ করার পর কোনো কোনো দল নতুন নামে রাজনীতিতে ফিরেছে। আবার কোনো দল একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
জার্মানির নাৎসি পার্টি
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হলো জার্মানির নাৎসি পার্টি। নাৎসি পার্টির নেতৃত্বে অ্যাডলফ হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেন এবং হলোকাস্টসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান।
১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষে মিত্রশক্তি নাৎসি পার্টিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। পরে জার্মানির সংবিধান ও আইন এমনভাবে প্রণয়ন করা হয় যেন নাৎসি মতাদর্শের পুনরুত্থান ঠেকানো যায়। বর্তমানে দেশটিতে নাৎসি প্রতীক, প্রচারণা ও সংশ্লিষ্ট অনেক কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ।
নিও-নাৎসি দলও নিষিদ্ধ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও জার্মানিতে নাৎসি মতাদর্শ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছিল। ১৯৫২ সালে সোশ্যালিস্ট রেইচ পার্টিকে দেশটির আদালত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এটি ছিল পশ্চিম জার্মানিতে আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হওয়া প্রথম রাজনৈতিক দল। আদালতের মতে, দলটি গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি ছিল।
ইতালি: ফ্যাসিস্ট পার্টি বিলুপ্ত
ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টির নেতা বেনিতো মুসোলিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের মিত্র ছিলেন। ১৯৪৫ সালে তাঁর সরকারের পতনের পর ফ্যাসিস্ট পার্টি বিলুপ্ত হয়। পরে ইতালির সংবিধানেও ফ্যাসিস্ট পার্টি পুনর্গঠনের বিরুদ্ধে বিধান যুক্ত করা হয়। আজও প্রকাশ্যে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেশটিতে আইনি বিতর্কের বিষয়।
ইরাক: সাদ্দামের বাথ পার্টি
আরব সোশালিস্ট বাথ পার্টি দীর্ঘদিন সাদ্দাম হোসেনের ক্ষমতার ভিত্তি ছিল। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে সাদ্দাম সরকারের পতনের পর বাথ পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর শুরু হয় ‘ডি-বাথিফিকেশন’ কর্মসূচি। হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ তারা বাথ পার্টির সদস্য ছিলেন। এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে ইরাকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে।
স্পেন: সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বাতাসুনা
স্পেনের বাস্ক ন্যাশনালিস্ট পার্টি ‘বাতাসুনা’-কে ২০০৩ সালে নিষিদ্ধ করা হয়। স্পেনের আদালতের রায় ছিল, দলটির সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তারা ওই সংগঠনকে সহায়তা করছিল। পরে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসও স্পেনের আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
তুরস্ক: আদালতের রায়ে একের পর এক দল নিষিদ্ধ
তুরস্কে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি। দেশটির সাংবিধানিক আদালত কয়েক দশকে ২০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েলফেয়ার পার্টি, যা ১৯৯৮ সালে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়। এছাড়া ভার্চু পার্টি এবং ডেমোক্রেটিক সোসাইটি পার্টিও আদালতের রায়ে বিলুপ্ত হয়।
বেলজিয়াম: বর্ণবাদের অভিযোগ
বেলজিয়ামের কট্টর ডানপন্থী দল ‘ভ্লামস ব্লক’ ২০০৪ সালে বর্ণবাদবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতের রায়ের পর বিলুপ্ত হয়। পরে দলটি নতুন নাম—‘ভ্লামস বেলাং’ নিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসে।
থাইল্যান্ড: আদালতের মাধ্যমে দল বিলুপ্ত
থাইল্যান্ডে নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়েছে। ২০০৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ‘থাই রাক থাই পার্টি’ নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে থাইল্যান্ডের আদালতের রায়ে বিলুপ্ত হয়। এরপর ২০০৮ সালে ‘থাই নেশন পার্টি’ এবং ‘নিউট্রাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’-কেও আদালত বিলুপ্ত ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে এসব দলের অনেক নেতা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
ইউক্রেন: কমিউনিস্ট পার্টির ওপর নিষেধাজ্ঞা
২০১৫ সালে ইউক্রেন ‘ডিকমিউনাইজেশন’ আইন প্রণয়নের পর ‘কমিউনিস্ট পার্টি অব ইউক্রেন’-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের অভিযোগ ছিল, দলটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও আইন লঙ্ঘন করেছে এবং সোভিয়েত প্রতীক ও আদর্শ প্রচার অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিতর্ক হয়েছে।
সব নিষেধাজ্ঞা কি স্থায়ী
না। ইতিহাস বলছে, সব নিষিদ্ধ দল চিরতরে হারিয়ে যায়নি। অনেক দল নতুন নাম, নতুন নেতৃত্ব বা নতুন কাঠামো নিয়ে আবার রাজনীতিতে ফিরেছে। বেলজিয়ামের দল ভ্লামস বেলাং বা থাইল্যান্ডের বিভিন্ন দলের উত্তরসূরি সংগঠন তার উদাহরণ।
আবার কিছু ক্ষেত্রে, যেমন জার্মানির নাৎসি পার্টি বা ইতালির ফ্যাসিস্ট পার্টি, রাষ্ট্র নিজেই এমন সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করেছে যাতে সেই মতাদর্শের দল আগের রূপে আর ফিরে আসতে না পারে।
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক দেশে খুবই বিরল এবং ব্যতিক্রমী একটি পদক্ষেপ। ইতিহাসে দেখা যায়, সাধারণত যুদ্ধাপরাধ, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, বর্ণবাদ, গণতন্ত্র উৎখাতের চেষ্টা, সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ড বা গুরুতর নির্বাচনী অপরাধের মতো অভিযোগের ভিত্তিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রশ্নটি সব সময়ই আইন, ইতিহাস এবং রাজনীতির জটিল সমীকরণের অংশ হয়ে থেকেছে।
.png)

সম্প্রতি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার মধ্যে লাখো মানুষের চোখ আটকে ছিল একটি দৃশ্যে— প্রধান কফিনের ওপর রাখা ছোট্ট একটা সাদা কফিন। কফিনের সামনে রাখা একটি ছোট শিশুর ফ্রেমে বাঁধানো ছবি।
৫ ঘণ্টা আগে
মাঝেমধ্যেই দেখা যায় কেউ বাসায় টিয়া পাখি পুষছেন, কেউ পুষছেন বানর বা কচ্ছপ। আবার অভিযানে উদ্ধার হচ্ছে অজগর, পেঁচা কিংবা শকুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রায়ই বন্যপ্রাণী কেনাবেচার বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। অনেকেই মনে করেন, ‘একটা পাখি বা কচ্ছপ পুষলে সমস্যা কোথায়?’
১৭ ঘণ্টা আগে
খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি বা বান্দরবানে সংঘর্ষ, অপহরণ কিংবা গোলাগুলির কোনো ঘটনায় প্রায়ই দুটি নাম শোনা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। তবে অনেকেই জানেন না, দুটি সংগঠনের জন্ম একই প্রেক্ষাপট থেকে হলেও পরে মতপার্থক্যের কারণে তারা আলাদা পথে হাঁটে।
২১ ঘণ্টা আগে
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় জানাজা ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তেহরান থেকে কোম, পরে মাশহাদ এবং ইরাকের শিয়া পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় শোকানুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে ইরান।
০৬ জুলাই ২০২৬