স্ট্রিম ডেস্ক

সম্প্রতি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার মধ্যে লাখো মানুষের চোখ আটকে ছিল একটি দৃশ্যে— প্রধান কফিনের ওপর রাখা ছোট্ট একটা সাদা কফিন। কফিনের সামনে রাখা একটি ছোট শিশুর ফ্রেমে বাঁধানো ছবি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ বলছে, কফিনটি আলী খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগিনির মরদেহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে সেই দৃশ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। দৃশ্যটি লাখো মানুষের বিবেককে নাড়িয়েছে, কাঁদিয়েছে কোটি জনতাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি লিখেছেন— যুদ্ধের ভয়াবহতা সব সময় পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানো যায় না। কখনো কখনো একটি ছোট কফিনই হাজারো শব্দের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগিনির কফিন আবারও তা প্রমাণ করল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। এর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিল খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি শিশু কোনো রাষ্ট্রীয় নীতি, সামরিক কৌশল কিংবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ নয়। সে যুদ্ধের সবচেয়ে অসহায় শিকার। ফলে এমন একটি দৃশ্য সহজেই রাজনৈতিক আলোচনার সীমা অতিক্রম করে মানবিক বেদনার প্রতীকে পরিণত হয়। খামেনির কফিনের পাশে তাঁর নাতনির কফিনের উপস্থিতি এমনই এক আবহের সৃষ্টি করেছে।
এর আগে ১৯৭২ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের নাপাম হামলা থেকে শুরু করে ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ কিংবা ২০২৩ সালে গাজায় নিহত শিশুদের ছবি—এমন বহু দৃশ্য বিশ্বজনমতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। শিশুদের মৃত্যু ও তাদের প্রতীকী ছবিকে ঘিরে বহুবার আন্তর্জাতিক কূটনীতি, মানবাধিকার বিতর্ক এবং যুদ্ধবিরতির দাবি নতুন গতি পেয়েছে। ইসরায়েলি মনোবিজ্ঞানী তেহিলা কোগুট একে বলেছেন ‘আইডেন্টিফায়েবল ভিকটিম ইফেক্ট’। অর্থাৎ হাজারো অজ্ঞাত মানুষের মৃত্যুর চেয়ে একটি নির্দিষ্ট শিশুর গল্প মানুষের মনে বেশি আবেগ তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষের মস্তিষ্ক একটি ব্যক্তির বেদনার সঙ্গে সহজে সংযোগ স্থাপন করতে পারে, যেখানে বিশাল সংখ্যার ট্র্যাজেডি অনেক সময় বিমূর্ত হয়ে যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে লাখো মানুষ খামেনি পরিবারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাই রাস্তায় নেমে আসে। ধর্মীয় নেতা, সামরিক কর্মকর্তা, বিদেশি প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের ভিড়ে রাজধানী শোকের নগরীতে পরিণত হয়। কিন্তু শোকযাত্রার সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল প্রধান কফিনের পাশেই শিশুটির ছোট কফিন বহন করার দৃশ্য, যা দেখে অনেকেই আবেগকে ধরে রাখতে না পেরে প্রকাশ্যে কান্না করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতে এমন দৃশ্য জনমত পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত শিশুদের ছবি বহুবার আন্তর্জাতিক কূটনীতি, মানবাধিকার আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির দাবিকে নতুন গতি দিয়েছে। কারণ একটি শিশুর মৃত্যু রাজনৈতিক মতাদর্শের সীমা অতিক্রম করে মানবিক বেদনার প্রতীকে পরিণত হয়।
খামেনির পরিবারকে ঘিরে এই ট্র্যাজেডিও সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। একই হামলায় পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন, ফলে এটি কেবল একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়, এটি একটি পারিবারিক বিপর্যয়ও। রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত শোকের এমন মিশ্রণ খুব কমই দেখা যায় বিশ্বরাজনীতিতে।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নারী ও শিশু। রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলে যায়, সামরিক সমীকরণ পরিবর্তিত হয়, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া একটি শিশুর জীবন আর কখনো ফিরে আসে না। তাই প্রতিটি সংঘাতের পর নতুন করে একটি প্রশ্নই বারবার সামনে আসে, কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক অর্জন কি একটি শিশুর প্রাণহানির ক্ষতিপূরণ করতে পারে?

সম্প্রতি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার মধ্যে লাখো মানুষের চোখ আটকে ছিল একটি দৃশ্যে— প্রধান কফিনের ওপর রাখা ছোট্ট একটা সাদা কফিন। কফিনের সামনে রাখা একটি ছোট শিশুর ফ্রেমে বাঁধানো ছবি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ বলছে, কফিনটি আলী খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগিনির মরদেহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে সেই দৃশ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। দৃশ্যটি লাখো মানুষের বিবেককে নাড়িয়েছে, কাঁদিয়েছে কোটি জনতাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি লিখেছেন— যুদ্ধের ভয়াবহতা সব সময় পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানো যায় না। কখনো কখনো একটি ছোট কফিনই হাজারো শব্দের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগিনির কফিন আবারও তা প্রমাণ করল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। এর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিল খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি শিশু কোনো রাষ্ট্রীয় নীতি, সামরিক কৌশল কিংবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ নয়। সে যুদ্ধের সবচেয়ে অসহায় শিকার। ফলে এমন একটি দৃশ্য সহজেই রাজনৈতিক আলোচনার সীমা অতিক্রম করে মানবিক বেদনার প্রতীকে পরিণত হয়। খামেনির কফিনের পাশে তাঁর নাতনির কফিনের উপস্থিতি এমনই এক আবহের সৃষ্টি করেছে।
এর আগে ১৯৭২ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের নাপাম হামলা থেকে শুরু করে ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ কিংবা ২০২৩ সালে গাজায় নিহত শিশুদের ছবি—এমন বহু দৃশ্য বিশ্বজনমতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। শিশুদের মৃত্যু ও তাদের প্রতীকী ছবিকে ঘিরে বহুবার আন্তর্জাতিক কূটনীতি, মানবাধিকার বিতর্ক এবং যুদ্ধবিরতির দাবি নতুন গতি পেয়েছে। ইসরায়েলি মনোবিজ্ঞানী তেহিলা কোগুট একে বলেছেন ‘আইডেন্টিফায়েবল ভিকটিম ইফেক্ট’। অর্থাৎ হাজারো অজ্ঞাত মানুষের মৃত্যুর চেয়ে একটি নির্দিষ্ট শিশুর গল্প মানুষের মনে বেশি আবেগ তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষের মস্তিষ্ক একটি ব্যক্তির বেদনার সঙ্গে সহজে সংযোগ স্থাপন করতে পারে, যেখানে বিশাল সংখ্যার ট্র্যাজেডি অনেক সময় বিমূর্ত হয়ে যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে লাখো মানুষ খামেনি পরিবারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাই রাস্তায় নেমে আসে। ধর্মীয় নেতা, সামরিক কর্মকর্তা, বিদেশি প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের ভিড়ে রাজধানী শোকের নগরীতে পরিণত হয়। কিন্তু শোকযাত্রার সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল প্রধান কফিনের পাশেই শিশুটির ছোট কফিন বহন করার দৃশ্য, যা দেখে অনেকেই আবেগকে ধরে রাখতে না পেরে প্রকাশ্যে কান্না করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতে এমন দৃশ্য জনমত পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত শিশুদের ছবি বহুবার আন্তর্জাতিক কূটনীতি, মানবাধিকার আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির দাবিকে নতুন গতি দিয়েছে। কারণ একটি শিশুর মৃত্যু রাজনৈতিক মতাদর্শের সীমা অতিক্রম করে মানবিক বেদনার প্রতীকে পরিণত হয়।
খামেনির পরিবারকে ঘিরে এই ট্র্যাজেডিও সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। একই হামলায় পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন, ফলে এটি কেবল একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়, এটি একটি পারিবারিক বিপর্যয়ও। রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত শোকের এমন মিশ্রণ খুব কমই দেখা যায় বিশ্বরাজনীতিতে।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নারী ও শিশু। রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলে যায়, সামরিক সমীকরণ পরিবর্তিত হয়, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া একটি শিশুর জীবন আর কখনো ফিরে আসে না। তাই প্রতিটি সংঘাতের পর নতুন করে একটি প্রশ্নই বারবার সামনে আসে, কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক অর্জন কি একটি শিশুর প্রাণহানির ক্ষতিপূরণ করতে পারে?
.png)

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী তিনিই রাষ্ট্রের প্রধান। অনেকেই মনে করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বড় একটি অংশই রাষ্ট্রপতির হাতে। কিন্তু সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় চিত্রটি ভিন্ন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। ফলে
২০ আগস্ট ২০২৬
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভূরাজনৈতিক অভিঘাত আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের প্রচলিত কাঠামোকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। রাশিয়াসহ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো এবং তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ডলারের বিকল্পে অর্থ পরিশোধের পথ খুঁজতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো
২০ আগস্ট ২০২৬
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব নামটি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় যেমন পরিচিত, তেমনই বিতর্কিত। একদিকে জঙ্গিবাদ, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বাহিনীটির ভূমিকা ছিল; অন্যদিকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে র্যাবকে ঘিরে রয়েছে। এবার সেই র
১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা জুলাই-জুন অর্থবছরের হিসাব পদ্ধতি বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে দেশের সব সরকারি কার্যক্রম চলবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ সময়সীমা অনুসরণ করে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অবশ্য হুট করে কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে একট
১৮ আগস্ট ২০২৬