এক্সপ্লেইনার
মারুফ ইসলাম

ভারতে ‘গরু’ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড চলছে। এই গৃহপালিত পশুটি ভারতের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতির অন্যতম অনুঘটক। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কেন্দ্রে এবং বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গো-রক্ষা এবং গো-মাংস বর্জনের বিষয়টি রাজনৈতিক মেরুকরণের বড় একটি হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি রাজ্যসরকার গঠনের পরপরই গরু ও মহিষ জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় ‘গরু-বিতর্ক’ নতুন করে হাওয়া পেয়েছে।
এর আগে ২০১৪ সালে বিজেপি কেন্দ্রে সরকার গঠনের পর থেকে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে (যেমন—উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, আসাম) গো-বধ বিরোধী আইন অত্যন্ত কঠোর করে। এরপর ২০১৭ সালের মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয় পশুবাজারে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে গবাদিপশু কেনাবেচা নিষিদ্ধ করে ‘দ্য প্রটেকশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেলস রুলস’ জারি করে। দেশজুড়ে তা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
ভারতের বহু রাজ্যে অবশ্য আগে থেকেই গরু জবাই সীমিত বা নিষিদ্ধ ছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আইনগুলো আরও কঠোর হয়। যেমন মহারাষ্ট্রে ২০১৫ সালে আইন কঠোর করা হয়। পরে শাস্তি বাড়ানোর আলোচনা শুরু হয়। গুজরাটে গরু জবাইয়ের শাস্তি করা হয় যাবজ্জীবন পর্যন্ত ।
চলতি মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। রাজ্যের ৯ম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক পাঁচদিনের মাথায় তিনি গত ১৪ মে রাজ্যজুড়ে গরু, মহিষ ও বাছুর জবাই এবং প্রকাশ্যে পশু বলির ওপর তীব্র বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে মূলত ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫০ এবং কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী কয়েকটি নির্দেশনার কড়া বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। নতুন নিয়মে ১৪ বছরের কম বয়সী এবং পুরোপুরি কর্মক্ষম বা প্রজননক্ষম কোনো গবাদিপশু জবাই করা যাবে না।
শুভেন্দুর এই সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য বিজেপি নেতাদের দাবি, এই পদক্ষেপ কোনো ধর্মীয় কারণে নয়, বরং জনস্বাস্থ্য রক্ষা, অবৈধ পশুপাচার রোধ এবং আদালতের নির্দেশ মেনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রাস্তাঘাটে বা খোলামেলা জায়গায় পশু জবাইয়ের ফলে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, তাই অনুমোদিত কসাইখানা ছাড়া অন্য কোথাও পশু জবাই দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এবং রাজ্যে তীব্র মেরুকরণ তৈরি করতেই এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তারা একে নাগরিকের খাদ্য তালিকায় সরকারি হস্তক্ষেপ ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছে।
কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দল বলছে, মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের জীবিকার ওপর চাপ তৈরি করতেই এই রাজনীতি করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের নিষেধাজ্ঞার পর আদালতেও চ্যালেঞ্জ ওঠে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পরে ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেয়। আদালতে আবেদনকারীরা বলেছিলেন, এতে লাখ লাখ মানুষের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়েছে । এটি সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
সবচেয়ে বড় চাপে পড়েছেন খামারিরা। ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গরু শুধু ধর্মীয় প্রাণী নয়; এটি কৃষি ও দুগ্ধশিল্পের অংশ। দুধ দেওয়া বন্ধ করলে সাধারণত কৃষকেরা বয়স্ক গরু বিক্রি করে নতুন গরু কেনেন। কিন্তু বিক্রির সুযোগ কমে গেলে সেই চক্র ভেঙে যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক কৃষক বয়স্ক গরু রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করতে না পেরে বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে দুগ্ধ খামারিরা বলছেন, উৎপাদন কমে যাওয়া গরু দীর্ঘদিন ধরে পালন করা অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই অসন্তোষ দেখা গেছে। ১৪ বছরের কম বয়সী গরু জবাইয়ে কড়াকড়ির ঘোষণার পর খামারিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকে বলছেন, এতে দুগ্ধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেউ কেউ কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘মানুষের জন্মসনদ নেই, এখন গরুর জন্মসনদ লাগবে।’
তবে সব মানুষের প্রতিক্রিয়া একরকম নয়। বিজেপি সমর্থকদের একটি অংশ মনে করে, গরু রক্ষা করা ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ। তাদের মতে, অবৈধ কসাইখানা ও পাচার বন্ধ হওয়া উচিত। আবার অন্য অংশ বলছে, গরু নিয়ে অতিরিক্ত রাজনীতি দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো আড়াল করছে। অনেকেই বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি বা কৃষি সংকটের বদলে গরু ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সমালোচনা করছেন।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবার ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যায়। সেখানে বিজেপির কিছু স্থানীয় নেতাই প্রকাশ্যে গো-মাংস নিষিদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। আসামের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ২০১৭ সালে বলেছিলেন, ‘বিজেপি-শাসিত উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে খাদ্যাভ্যাসের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইচ্ছা নেই।’
আবার কেরালার বিজেপি নেতা মেজর রাভি ২০২৪ সালে বলেছিলেন, মানুষের খাবার পছন্দ করার স্বাধীনতা থাকা উচিত। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা অপ্রয়োজনীয় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
আইনগত দিক থেকে ভারতের সংবিধানে গবাদিপশু রক্ষা এবং জবাইয়ের বিষয়ে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
ভারতের সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা যেন কৃষি ও পশুপালনকে আধুনিক করে এবং গরু, বাছুর ও অন্যান্য দুগ্ধবতী পশুর বংশ রক্ষা ও জবাই বন্ধে পদক্ষেপ নেয়।
এছাড়া ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক ‘আব্দুল হাকিম কুরাইশি বনাম বিহার রাজ্য’ মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, গরু বা গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর ‘পরিপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ খামারি ও কসাইদের জীবিকা নির্বাহের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করতে পারে না। তাই শুধু অনুৎপাদনশীল ও বৃদ্ধ পশু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া উচিত।
মাত্র কয়েকদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তাতে বলা হয়েছে, যৌথভাবে পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের লিখিত ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া গরু-মহিষ জবাই করলে ৬ মাসের জেল, এক হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
সবমিলিয়ে বিজেপির ‘গরু নিয়ে রাজনীতি’ আপাতদৃষ্টিতে একটি ধর্মীয় ও আবেগীয় বিষয় মনে হলেও এর অর্থনৈতিক পরিণতি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। চামড়া শিল্প, মাংস রপ্তানি এবং গ্রামীণ ডেইরি অর্থনীতি—সবই এই পশুর সঙ্গে সম্পৃক্ত। পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন আইনি কড়াকড়ি শেষ পর্যন্ত গ্রামীণ অর্থনীতিকে কোনো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়, নাকি চোরাচালান বন্ধে সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, ইকোনমিক টাইমস, আল জাজিরা ও ডেইলি সাবাহ

ভারতে ‘গরু’ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড চলছে। এই গৃহপালিত পশুটি ভারতের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতির অন্যতম অনুঘটক। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কেন্দ্রে এবং বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গো-রক্ষা এবং গো-মাংস বর্জনের বিষয়টি রাজনৈতিক মেরুকরণের বড় একটি হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি রাজ্যসরকার গঠনের পরপরই গরু ও মহিষ জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় ‘গরু-বিতর্ক’ নতুন করে হাওয়া পেয়েছে।
এর আগে ২০১৪ সালে বিজেপি কেন্দ্রে সরকার গঠনের পর থেকে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে (যেমন—উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, আসাম) গো-বধ বিরোধী আইন অত্যন্ত কঠোর করে। এরপর ২০১৭ সালের মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয় পশুবাজারে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে গবাদিপশু কেনাবেচা নিষিদ্ধ করে ‘দ্য প্রটেকশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেলস রুলস’ জারি করে। দেশজুড়ে তা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
ভারতের বহু রাজ্যে অবশ্য আগে থেকেই গরু জবাই সীমিত বা নিষিদ্ধ ছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আইনগুলো আরও কঠোর হয়। যেমন মহারাষ্ট্রে ২০১৫ সালে আইন কঠোর করা হয়। পরে শাস্তি বাড়ানোর আলোচনা শুরু হয়। গুজরাটে গরু জবাইয়ের শাস্তি করা হয় যাবজ্জীবন পর্যন্ত ।
চলতি মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। রাজ্যের ৯ম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক পাঁচদিনের মাথায় তিনি গত ১৪ মে রাজ্যজুড়ে গরু, মহিষ ও বাছুর জবাই এবং প্রকাশ্যে পশু বলির ওপর তীব্র বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে মূলত ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫০ এবং কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী কয়েকটি নির্দেশনার কড়া বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। নতুন নিয়মে ১৪ বছরের কম বয়সী এবং পুরোপুরি কর্মক্ষম বা প্রজননক্ষম কোনো গবাদিপশু জবাই করা যাবে না।
শুভেন্দুর এই সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য বিজেপি নেতাদের দাবি, এই পদক্ষেপ কোনো ধর্মীয় কারণে নয়, বরং জনস্বাস্থ্য রক্ষা, অবৈধ পশুপাচার রোধ এবং আদালতের নির্দেশ মেনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রাস্তাঘাটে বা খোলামেলা জায়গায় পশু জবাইয়ের ফলে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, তাই অনুমোদিত কসাইখানা ছাড়া অন্য কোথাও পশু জবাই দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এবং রাজ্যে তীব্র মেরুকরণ তৈরি করতেই এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তারা একে নাগরিকের খাদ্য তালিকায় সরকারি হস্তক্ষেপ ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছে।
কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দল বলছে, মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের জীবিকার ওপর চাপ তৈরি করতেই এই রাজনীতি করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের নিষেধাজ্ঞার পর আদালতেও চ্যালেঞ্জ ওঠে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পরে ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেয়। আদালতে আবেদনকারীরা বলেছিলেন, এতে লাখ লাখ মানুষের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়েছে । এটি সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
সবচেয়ে বড় চাপে পড়েছেন খামারিরা। ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গরু শুধু ধর্মীয় প্রাণী নয়; এটি কৃষি ও দুগ্ধশিল্পের অংশ। দুধ দেওয়া বন্ধ করলে সাধারণত কৃষকেরা বয়স্ক গরু বিক্রি করে নতুন গরু কেনেন। কিন্তু বিক্রির সুযোগ কমে গেলে সেই চক্র ভেঙে যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক কৃষক বয়স্ক গরু রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করতে না পেরে বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে দুগ্ধ খামারিরা বলছেন, উৎপাদন কমে যাওয়া গরু দীর্ঘদিন ধরে পালন করা অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই অসন্তোষ দেখা গেছে। ১৪ বছরের কম বয়সী গরু জবাইয়ে কড়াকড়ির ঘোষণার পর খামারিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকে বলছেন, এতে দুগ্ধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেউ কেউ কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘মানুষের জন্মসনদ নেই, এখন গরুর জন্মসনদ লাগবে।’
তবে সব মানুষের প্রতিক্রিয়া একরকম নয়। বিজেপি সমর্থকদের একটি অংশ মনে করে, গরু রক্ষা করা ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ। তাদের মতে, অবৈধ কসাইখানা ও পাচার বন্ধ হওয়া উচিত। আবার অন্য অংশ বলছে, গরু নিয়ে অতিরিক্ত রাজনীতি দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো আড়াল করছে। অনেকেই বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি বা কৃষি সংকটের বদলে গরু ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সমালোচনা করছেন।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবার ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যায়। সেখানে বিজেপির কিছু স্থানীয় নেতাই প্রকাশ্যে গো-মাংস নিষিদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। আসামের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ২০১৭ সালে বলেছিলেন, ‘বিজেপি-শাসিত উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে খাদ্যাভ্যাসের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইচ্ছা নেই।’
আবার কেরালার বিজেপি নেতা মেজর রাভি ২০২৪ সালে বলেছিলেন, মানুষের খাবার পছন্দ করার স্বাধীনতা থাকা উচিত। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা অপ্রয়োজনীয় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
আইনগত দিক থেকে ভারতের সংবিধানে গবাদিপশু রক্ষা এবং জবাইয়ের বিষয়ে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
ভারতের সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা যেন কৃষি ও পশুপালনকে আধুনিক করে এবং গরু, বাছুর ও অন্যান্য দুগ্ধবতী পশুর বংশ রক্ষা ও জবাই বন্ধে পদক্ষেপ নেয়।
এছাড়া ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক ‘আব্দুল হাকিম কুরাইশি বনাম বিহার রাজ্য’ মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, গরু বা গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর ‘পরিপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ খামারি ও কসাইদের জীবিকা নির্বাহের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করতে পারে না। তাই শুধু অনুৎপাদনশীল ও বৃদ্ধ পশু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া উচিত।
মাত্র কয়েকদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তাতে বলা হয়েছে, যৌথভাবে পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের লিখিত ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া গরু-মহিষ জবাই করলে ৬ মাসের জেল, এক হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
সবমিলিয়ে বিজেপির ‘গরু নিয়ে রাজনীতি’ আপাতদৃষ্টিতে একটি ধর্মীয় ও আবেগীয় বিষয় মনে হলেও এর অর্থনৈতিক পরিণতি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। চামড়া শিল্প, মাংস রপ্তানি এবং গ্রামীণ ডেইরি অর্থনীতি—সবই এই পশুর সঙ্গে সম্পৃক্ত। পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন আইনি কড়াকড়ি শেষ পর্যন্ত গ্রামীণ অর্থনীতিকে কোনো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়, নাকি চোরাচালান বন্ধে সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, ইকোনমিক টাইমস, আল জাজিরা ও ডেইলি সাবাহ

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আবারও ফার্নেস তেলের দাম বাড়িয়েছে। সম্প্রতি সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এই জ্বালানির মূল্য লিটারপ্রতি প্রায় ১৯ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসেও এক দফা দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানে ফার্নেস তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব কি ইচ্ছে করলেই ত্যাগ করা যায়? ত্যাগ করলে কী সুবিধা বা পরিবর্তন আসে? আবার কি সেই নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া সম্ভব? অনেকের মধ্যে এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খায়। বিশেষ করে যারা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান বা অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিতে চান, তাদের মধ্যে এই ভাবনা ব্যাপকভাবে দেখা যায়।
৩ দিন আগে
আফ্রিকায় আবারো ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা ভাইরাস। গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে পুনরায় এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) রোববার (১৭ মে) এই পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির তথ্য জানিয়ে তাঁকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবি তুলেছেন ৩৬ জন মার্কিন চিকিৎসক। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এবং অসংলগ্ন আচরণের জেরে তাঁরা এই জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
৩ দিন আগে