এক্সপ্লেইনার
কাজী নিশাত তাবাসসুম

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব কি ইচ্ছে করলেই ত্যাগ করা যায়? ত্যাগ করলে কী সুবিধা বা পরিবর্তন আসে? আবার কি সেই নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া সম্ভব? অনেকের মধ্যে এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খায়। বিশেষ করে যারা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান বা অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিতে চান, তাদের মধ্যে এই ভাবনা ব্যাপকভাবে দেখা যায়।
সম্প্রতি এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন— এমন খবর সামনে আসার পর ‘নাগরিকত্ব’ বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নাগরিকত্ব ত্যাগ বা দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্যবসা, করনীতি, রাজনৈতিক অধিকার, নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক চলাচল এবং আইনি সুবিধার মতো নানা বাস্তব কারণ।
বাংলাদেশ নাগরিকত্ব অধ্যাদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি নাগরিক নির্দিষ্ট ঘোষণা ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করতে পারে। সরকার অনুমোদন দিলে সেই ত্যাগ কার্যকর হয়। আবার ধারা ১৭ অনুযায়ী, সরকার নির্দিষ্ট শর্তানুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমোদন দেয়। বিশেষ করে, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এটি প্রযোজ্য।
বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদের সুযোগ রেখেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সেবা বিভাগ অনলাইনে এই সেবা পরিচালনা করছে।
তবে সব দেশের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদিত নয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিলতায় পড়তে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ তাজরিনা সাজ্জাদ তাঁর গবেষণা মাইগ্রেশন পলিটিক্স— এ বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিদেশে স্থায়ী বসবাস ও ব্যবসার সুবিধা, শক্তিশালী পাসপোর্টের সুবিধা, কর ও সম্পদ সুরক্ষা, রাজনৈতিক বা আইনি ঝুঁকি এড়ানো ও সন্তানের ভবিষ্যৎ।
অনেক ধনী ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস, ব্যাংকিং সুবিধা, কর ছাড় বা বিনিয়োগ সুরক্ষার জন্য অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেন। অনেক দেশে নাগরিক না হলে ব্যবসা পরিচালনা, সম্পদ কেনা বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসে সীমাবদ্ধতা থাকে। বিশ্বের বহু দেশে এক পাসপোর্ট দিয়ে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করা সম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বা চলাচলে সুবিধা বাড়ে।
আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা অনেক সময় এমন দেশে নাগরিকত্ব নেন যেখানে করহার কম বা সম্পদ সুরক্ষা বেশি। একে অনেক বিশেষজ্ঞ ‘ট্যাক্স প্ল্যানিং’ হিসেবেও দেখেন।
অনেকেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মামলা বা অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণেও বিদেশি নাগরিকত্ব নিতে পারেন। যদিও সব ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য একই নয়। অনেক পরিবার সন্তানদের উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থায়ী ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে।
নাগরিকত্ব ত্যাগ মানে শুধু একটি পাসপোর্ট ছেড়ে দেওয়া নয়। এর ফলে কিছু সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকারও সীমিত হতে পারে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব না থাকলে ভোটাধিকার, নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিংবা কিছু সরকারি পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন কেউ। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নানা আপিল ও বিতর্কও দেখা গেছে।
বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন ১৯৫১-এর ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পুনরায় গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অতীতে এমন বহু উদাহরণও আছে। যেমন: স্বাধীনতার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছিল। পরে তিনি দেশে ফিরে আবার নাগরিকত্ব ফিরে পান।
রাজনৈতিক পালাবদল, আইনি সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে অতীতে আরও অনেকে নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করেছেন বলে আইনজীবীরা জানান।
বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু। বিশেষ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আপত্তি ওঠে। নির্বাচন কমিশন অনেককে বৈধ ঘোষণা করলেও কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল করে, পরে আপিলে পুনরায় বৈধ করা হয়।
বিএনপির ও জামায়াতের কয়েকজন প্রার্থী এই দ্বৈত নাগরিকত্বের ছিলেন। যারা পরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পান। কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভুঁইয়া ও জামায়াত প্রার্থী মো. ইউসুফ সোহেলসহ আরও অনেকে এ তালিকায় ছিলেন।
গবেষক আখন্দ আখতার হোসেনের কনটেস্টেড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি অ্যান্ড পলিটিক্যাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত একটি বিষয়।
সম্প্রতি মোহাম্মদ সাইফুল আলমের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি। হাইকোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মেমো স্থগিত করেছেন। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা কেন বিদেশি নাগরিকত্ব নিতে আগ্রহী হন? এটি কি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ব্যবসার কৌশল, নাকি এর পেছনে আরও বড় অর্থনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে?
দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ব্যবসা বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক উদ্যোক্তা বহু দেশভিত্তিক পরিচয় তৈরি করতে চান। কারণ এতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ও চলাচলে সুবিধা পাওয়া যায়।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, দেশের সম্পদ ব্যবহার করে গড়ে ওঠা বড় ব্যবসায়ীরা যদি শেষ পর্যন্ত বিদেশি নাগরিকত্বে ঝোঁকেন, তাহলে সেটি দেশের অর্থনীতি ও আস্থার জন্য নেতিবাচক বার্তাও দিতে পারে।
একসময় নাগরিকত্ব ছিল জন্মভূমির সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্কের প্রতীক। এখন বিশ্বায়নের যুগে সেটি অনেকাংশে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সুযোগের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশেও প্রবাসী জনগোষ্ঠী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্বের আবেদন বেড়েছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের অনেকেই আবার বাংলাদেশি পরিচয়ও ধরে রাখতে চান। ফলে নাগরিকত্ব এখন শুধু জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন নয়, এটি ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ, বৈশ্বিক চলাচল এবং অর্থনৈতিক কৌশলেরও অংশ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব কি ইচ্ছে করলেই ত্যাগ করা যায়? ত্যাগ করলে কী সুবিধা বা পরিবর্তন আসে? আবার কি সেই নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া সম্ভব? অনেকের মধ্যে এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খায়। বিশেষ করে যারা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান বা অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিতে চান, তাদের মধ্যে এই ভাবনা ব্যাপকভাবে দেখা যায়।
সম্প্রতি এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন— এমন খবর সামনে আসার পর ‘নাগরিকত্ব’ বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নাগরিকত্ব ত্যাগ বা দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্যবসা, করনীতি, রাজনৈতিক অধিকার, নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক চলাচল এবং আইনি সুবিধার মতো নানা বাস্তব কারণ।
বাংলাদেশ নাগরিকত্ব অধ্যাদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি নাগরিক নির্দিষ্ট ঘোষণা ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করতে পারে। সরকার অনুমোদন দিলে সেই ত্যাগ কার্যকর হয়। আবার ধারা ১৭ অনুযায়ী, সরকার নির্দিষ্ট শর্তানুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমোদন দেয়। বিশেষ করে, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এটি প্রযোজ্য।
বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদের সুযোগ রেখেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সেবা বিভাগ অনলাইনে এই সেবা পরিচালনা করছে।
তবে সব দেশের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদিত নয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিলতায় পড়তে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ তাজরিনা সাজ্জাদ তাঁর গবেষণা মাইগ্রেশন পলিটিক্স— এ বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিদেশে স্থায়ী বসবাস ও ব্যবসার সুবিধা, শক্তিশালী পাসপোর্টের সুবিধা, কর ও সম্পদ সুরক্ষা, রাজনৈতিক বা আইনি ঝুঁকি এড়ানো ও সন্তানের ভবিষ্যৎ।
অনেক ধনী ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস, ব্যাংকিং সুবিধা, কর ছাড় বা বিনিয়োগ সুরক্ষার জন্য অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেন। অনেক দেশে নাগরিক না হলে ব্যবসা পরিচালনা, সম্পদ কেনা বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসে সীমাবদ্ধতা থাকে। বিশ্বের বহু দেশে এক পাসপোর্ট দিয়ে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করা সম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বা চলাচলে সুবিধা বাড়ে।
আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা অনেক সময় এমন দেশে নাগরিকত্ব নেন যেখানে করহার কম বা সম্পদ সুরক্ষা বেশি। একে অনেক বিশেষজ্ঞ ‘ট্যাক্স প্ল্যানিং’ হিসেবেও দেখেন।
অনেকেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মামলা বা অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণেও বিদেশি নাগরিকত্ব নিতে পারেন। যদিও সব ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য একই নয়। অনেক পরিবার সন্তানদের উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থায়ী ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে।
নাগরিকত্ব ত্যাগ মানে শুধু একটি পাসপোর্ট ছেড়ে দেওয়া নয়। এর ফলে কিছু সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকারও সীমিত হতে পারে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব না থাকলে ভোটাধিকার, নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিংবা কিছু সরকারি পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন কেউ। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নানা আপিল ও বিতর্কও দেখা গেছে।
বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন ১৯৫১-এর ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পুনরায় গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অতীতে এমন বহু উদাহরণও আছে। যেমন: স্বাধীনতার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছিল। পরে তিনি দেশে ফিরে আবার নাগরিকত্ব ফিরে পান।
রাজনৈতিক পালাবদল, আইনি সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে অতীতে আরও অনেকে নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করেছেন বলে আইনজীবীরা জানান।
বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু। বিশেষ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আপত্তি ওঠে। নির্বাচন কমিশন অনেককে বৈধ ঘোষণা করলেও কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল করে, পরে আপিলে পুনরায় বৈধ করা হয়।
বিএনপির ও জামায়াতের কয়েকজন প্রার্থী এই দ্বৈত নাগরিকত্বের ছিলেন। যারা পরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পান। কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভুঁইয়া ও জামায়াত প্রার্থী মো. ইউসুফ সোহেলসহ আরও অনেকে এ তালিকায় ছিলেন।
গবেষক আখন্দ আখতার হোসেনের কনটেস্টেড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি অ্যান্ড পলিটিক্যাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত একটি বিষয়।
সম্প্রতি মোহাম্মদ সাইফুল আলমের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি। হাইকোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মেমো স্থগিত করেছেন। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা কেন বিদেশি নাগরিকত্ব নিতে আগ্রহী হন? এটি কি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ব্যবসার কৌশল, নাকি এর পেছনে আরও বড় অর্থনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে?
দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ব্যবসা বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক উদ্যোক্তা বহু দেশভিত্তিক পরিচয় তৈরি করতে চান। কারণ এতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ও চলাচলে সুবিধা পাওয়া যায়।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, দেশের সম্পদ ব্যবহার করে গড়ে ওঠা বড় ব্যবসায়ীরা যদি শেষ পর্যন্ত বিদেশি নাগরিকত্বে ঝোঁকেন, তাহলে সেটি দেশের অর্থনীতি ও আস্থার জন্য নেতিবাচক বার্তাও দিতে পারে।
একসময় নাগরিকত্ব ছিল জন্মভূমির সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্কের প্রতীক। এখন বিশ্বায়নের যুগে সেটি অনেকাংশে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সুযোগের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশেও প্রবাসী জনগোষ্ঠী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্বের আবেদন বেড়েছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের অনেকেই আবার বাংলাদেশি পরিচয়ও ধরে রাখতে চান। ফলে নাগরিকত্ব এখন শুধু জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন নয়, এটি ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ, বৈশ্বিক চলাচল এবং অর্থনৈতিক কৌশলেরও অংশ হয়ে উঠছে।

আফ্রিকায় আবারো ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা ভাইরাস। গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে পুনরায় এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) রোববার (১৭ মে) এই পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির তথ্য জানিয়ে তাঁকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবি তুলেছেন ৩৬ জন মার্কিন চিকিৎসক। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এবং অসংলগ্ন আচরণের জেরে তাঁরা এই জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা খুব দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। এর মধ্যে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের বিষয়ও থাকবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিচুক্তি না হলে তেহরানকে ‘খুব খারাপ সময়’ পার করতে হবে।
১ দিন আগে
সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় স্বর্ণভোক্তা দেশ ভারত স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে।
২ দিন আগে