সুমন সুবহান

স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী একক মেরু বিশ্বব্যবস্থায় আমেরিকার যে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ছিল, তা আজ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। ওয়াশিংটন এখন আর কেবল একটি ফ্রন্টে মনোনিবেশ করে বৈশ্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে না। সামরিক ভাষায় একে বলা হচ্ছে 'স্ট্র্যাটেজিক ওভারস্ট্রেচ' বা কৌশলগত অতি-প্রসারণ। একদিকে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েকশ সামরিক ঘাঁটির রক্ষণাবেক্ষণ—সব মিলিয়ে পেন্টাগন এখন 'রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট' বা সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। ফলে এককভাবে 'বিশ্বের পুলিশ' হওয়ার দিন ফুরিয়ে আসছে, আর শুরু হয়েছে অগ্রাধিকার বেছে নেয়ার কঠিন লড়াই।
এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের মতো একাধিক সক্রিয় ফ্রন্টে সামরিক ও আর্থিক রসদ জোগান দেয়া ওয়াশিংটনের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-শক্তি এবং রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকি পেন্টাগনকে তাদের গ্লোবাল ডমিন্যান্স বা বৈশ্বিক আধিপত্যের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। শেষ পর্যন্ত মিত্রশক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে এবং কৌশলগত সংকোচন নীতি গ্রহণ করেই আমেরিকাকে হয়তো এই 'মাল্টি-থিয়েটার ডিলেমা' থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।
পেন্টাগনের সর্বশেষ জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে (National Defense Strategy) চীনকে কেবল একটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হয়নি; বরং তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে 'প্যাসিং চ্যালেঞ্জ' (Pacing Challenge) হিসেবে। এর গূঢ় অর্থ হলো, চীনই বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্র যার সামরিক, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমেরিকার বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার মতো পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনের সমরবিদরা মনে করেন, রাশিয়ার সামরিক হুমকি সাময়িক বা আঞ্চলিক হলেও, চীনের উত্থান একটি পদ্ধতিগত পরিবর্তন যা বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি এবং সেখানে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র মোতায়েন করে চীন ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলের জলসীমায় নিজেদের আধিপত্য জানান দিয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক মহড়া এবং 'এক চীন' নীতি কার্যকর করার দৃঢ় সংকল্প আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। পেন্টাগনের আশঙ্কা তাইওয়ান যদি চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার প্রতিরক্ষা বলয় (First Island Chain) ভেঙে পড়বে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান পথগুলো বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
সামরিক শক্তির পাশাপাশি চীন এখন প্রযুক্তির ময়দানেও আমেরিকার সমকক্ষ হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে চীন আমেরিকার ওপর এক ধরনের 'টেকনিক্যাল লিভারেজ' তৈরির চেষ্টা করছে। পেন্টাগন মনেকরে আধুনিক যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এখন আর কেবল কামানের গোলায় নয়, বরং মাইক্রোচিপের সক্ষমতায় নির্ধারিত হয়। তাই চীনের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পেন্টাগনের দীর্ঘদিনের মূল পরিকল্পনা ছিল মধ্যপ্রাচ্যের 'অন্তহীন যুদ্ধ' থেকে নিজেদের গুটিয়ে আনা এবং সেই বিপুল সামরিক সরঞ্জাম ও মনোযোগ ইন্দো-প্যাসিফিকে সরিয়ে নেয়া। এই নীতির নাম দেয়া হয়েছিল 'পিভট টু এশিয়া' (Pivot to Asia)। এর লক্ষ্য ছিল বেইজিংয়ের চারপাশ ঘিরে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যূহ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবতার নিঠুর পরিহাসে, ইউক্রেন বা গাজার মতো ফ্রন্টগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় আমেরিকার এই কৌশলগত স্থানান্তর বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবুও পেন্টাগনের টেবিলে অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বরে এখনো 'চীনের ছায়া' বা প্যাসিং চ্যালেঞ্জই রয়ে গেছে।
পেন্টাগন যখন তার সামরিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু 'পিভট টু এশিয়া' (Pivot to Asia) নীতির মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সরিয়ে নিতে চাইলো, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা তাকে পুনরায় আঁকড়ে ধরলো। গত কয়েক বছরে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও মিসাইল হামলা আমেরিকার বৈশ্বিক রণকৌশলকে ওলটপালট করে দিয়েছে। ওয়াশিংটন এই অঞ্চল থেকে সৈন্য কমিয়ে আনতে চাইলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তাকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এখানে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করাতে বাধ্য করছে।
আমেরিকা কেন মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে পারছে না, তার প্রধান কারণ হলো বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বা জ্বালানি সরবরাহ। লোহিত সাগর এবং বাব-আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ১২% থেকে ১৫% সমুদ্র বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। হুথিদের হামলার কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলে আমেরিকার ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’-এর মতো নৌ-অভিযান চালাতে হচ্ছে, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের জন্য বরাদ্দ করা অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার ও বিমানবাহী রণতরীগুলোকে (যেমন: ইউএসএস আইজেনহাওয়ার বা ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট) লোহিত সাগরে প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অবস্থানের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার। ইরানের সমর্থিত 'অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স' (হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুথি) যখন ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানছে, তখন ওয়াশিংটন চাইলেও উদাসীন থাকতে পারছে না। এই ছায়াযুদ্ধ আমেরিকাকে এক অনিচ্ছুক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে রেখেছে যা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল, অন্যদিকে এটি চীনের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করার পথে একটি বড় অন্তরায়।
বর্তমান বাস্তবতা হলো পেন্টাগনের বাজেটে যে অর্থ ও সরঞ্জাম চীনের ‘প্যাসিং চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলার জন্য রাখা হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ এখন মধ্যপ্রাচ্যের ছোটোখাটো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সস্তা ড্রোন ও রকেট ঠেকাতে ব্যয় হচ্ছে। কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল দিয়ে কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন ধ্বংস করার এই অসম যুদ্ধ আমেরিকার সামরিক ভাণ্ডারে টান ফেলছে। ফলে 'ইন্দো-প্যাসিফিক' যখন আমেরিকার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের 'অন্তহীন গোলকধাঁধা' তখন তার বাস্তবতার নিঠুর পরিহাস হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
আমেরিকার বৈশ্বিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের মধ্যে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী ও কৌশলগত সামরিক অক্ষ। যদিও এদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নেই তবুও ওয়াশিংটনকে ব্যস্ত রাখতে এই তিন শক্তি এখন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সমীকরণটি আরও স্পষ্ট হয়েছে, যেখানে মস্কোর সামরিক প্রয়োজন মেটাতে পিয়ংইয়ং এবং তেহরান সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার টিকে থাকার পেছনে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার ভূমিকা আজ আর গোপন নেই। কারণ:
১. ইরানি ড্রোন প্রযুক্তি: ইরান তাদের তৈরি সাশ্রয়ী কিন্তু কার্যকর 'শাহেদ' (Shahed-136) কামিকাজে ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার বিমান শক্তিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। কয়েক হাজার ডলারের এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে আমেরিকাকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের পেট্রিয়ট মিসাইল খরচ করতে হচ্ছে।
২. উত্তর কোরিয়ার গোলাবারুদ: গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে কয়েক মিলিয়ন রাউন্ড কামানের গোলা এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল সরবরাহ করেছে। এর বিনিময়ে রাশিয়া হয়তো পিয়ংইয়ংকে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি বা উন্নত সাবমেরিন নির্মাণে সহায়তা করছে, যা আমেরিকার মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জন্য এক বিশাল নিরাপত্তা ঝুঁকি।
আমেরিকার সামরিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসে বর্তমান সময়টি এক অভূতপূর্ব সংকটের। আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সমন্বিত তৎপরতা ওয়াশিংটনকে এমন এক 'তিন ফ্রন্টের মরণফাঁদে' ফেলেছে, যা তাদের বিশ্বব্যাপী সামরিক আধিপত্যের ভিত্তি নাড়িয়ে দিচ্ছে। নিচে তিনটি থিয়েটারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
ইউক্রেন এখন আমেরিকার জন্য একটি 'ব্ল্যাক হোল' বা অতল গহ্বরে পরিণত হয়েছে। রাশিয়াকে রুখতে ওয়াশিংটনকে কেবল রাজনৈতিক সমর্থন নয়, বরং শত শত বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র (যেমন: হিমার্স, আব্রামস ট্যাংক, প্যাট্রিয়ট মিসাইল) এবং অর্থ সহায়তা দিতে হচ্ছে। এরফলে আমেরিকার নিজস্ব অস্ত্রের মজুদে (Stockpile) টান পড়ছে।
অনেকক্ষেত্রে পেন্টাগনকে তাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত গোলাবারুদ ইউক্রেনে পাঠাতে হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের এই দীর্ঘসূত্রতা আমেরিকাকে ইউরোপীয় ফ্রন্টে এমনভাবে আটকে রেখেছে যে, তারা চাইলেও এশিয়া-প্যাসিফিকে তাদের পূর্ণ শক্তি স্থানান্তর করতে পারছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কৌশল ছিল 'মিনিমাম এনগেজমেন্ট' বা ন্যূনতম সম্পৃক্ততা, কিন্তু ইরানের 'অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স' সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে। গাজা সংঘাতের পর থেকে হিজবুল্লাহ এবং বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা সামলাতে আমেরিকাকে বিশাল নৌ-বহর মোতায়েন করতে হচ্ছে। বর্তমানে ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরে একাধিক বিমানবাহী রণতরি (Aircraft Carriers) এবং ডেস্ট্রয়ার প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে। এই নৌ-শক্তিগুলো মূলত চীনের নৌ-বাহিনীকে নজরদারিতে রাখার জন্য এশিয়ায় থাকার কথা ছিল, কিন্তু ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ক ওয়াশিংটনকে পশ্চিম এশিয়ায় পুনরায় ব্যস্ত করে তুলেছে।
পেন্টাগন যখন চীনের ওপর মনোযোগ দিতে চায়, ঠিক তখনই পিয়ংইয়ং তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক মিসাইল (ICBM) বা পারমাণবিক পরীক্ষার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের নজর কেড়ে নেয়। কিম জং উন-এর উত্তর কোরিয়া এখন আর কেবল আঞ্চলিক হুমকি নয়, বরং রাশিয়ার সাথে সামরিক চুক্তির পর তারা আরও সাহসী হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকাকে কোরিয় উপদ্বীপে নিয়মিত 'স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট' বা কৌশলগত বোমারু বিমান এবং পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন পাঠাতে হচ্ছে। এই নিরন্তর মহড়া ও নজরদারি আমেরিকার সামরিক বাজেটের একটি বড় অংশ গ্রাস করছে।
এসবের ফলে পেন্টাগনের যে শক্তি ও মনোযোগ এককভাবে চীনের ওপর—যাকে তারা 'প্যাসিং চ্যালেঞ্জ' বা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বলে—নিবদ্ধ করার কথা ছিল, তা এখন তিন মহাদেশে খণ্ডিত হয়ে পড়ছে। সামরিক পরিভাষায় একে বলা হয় 'স্ট্র্যাটেজিক ডিলিউশন' (Strategic Dilution)।
যখন একটি পরাশক্তিকে একসাথে তিনটি ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে অগ্নিনির্বাপকের (Firefighter) ভূমিকা পালন করতে হয়, তখন কোনো একটি ফ্রন্টেও তারা চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারে না। বেইজিং ঠিক এই সুযোগটিরই অপেক্ষা করছে। আমেরিকা যত বেশি ইউক্রেন বা লোহিত সাগরে ব্যস্ত থাকবে, তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের জন্য তত বেশি সুযোগ তৈরি হবে।
আমেরিকার বর্তমান সামরিক কৌশলের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো 'রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট' (Resource Management) বা সীমিত সম্পদের সুষম বণ্টন। পেন্টাগন যখনই কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে চায়, অন্য কোনো ফ্রন্টে জরুরি সংকট তৈরি হয়ে তাদের সেই পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করে। একেই বলা হচ্ছে 'মাল্টি-থিয়েটার ডিলেমা'।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আমেরিকার আধুনিক সমরাস্ত্রের মজুত বা 'ইনভেন্টরি'-তে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
ক. গোলাবারুদ সংকট: ইউক্রেন প্রতিদিন যে পরিমাণ ১৫৫ মিমি কামানের গোলা ব্যবহার করছে, আমেরিকার বর্তমান প্রতিরক্ষা শিল্প সেই গতিতে তা উৎপাদন করতে পারছে না।
খ. ইন্টারসেপ্টর মিসাইল: লোহিত সাগরে হুথিদের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে আমেরিকা যে SM-2 বা SM-6 এর মতো মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করছে, সেগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর এবং ব্যয়বহুল। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যে 'স্টকপাইল' জমানোর কথা ছিল, তা এখন মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে ক্ষয় হচ্ছে।
ওয়াশিংটন যখনই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নৌ-শক্তি মোকাবিলায় অত্যাধুনিক 'প্যাট্রিয়ট' (Patriot) মিসাইল সিস্টেম বা অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করতে চায়, তখনই ইউক্রেন বা ইসরায়েল থেকে জরুরি সাহায্যের আবেদন আসে। এই 'টানাপোড়েন' পেন্টাগনকে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করে, তারা চীনকে ঠেকানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেবে, নাকি বর্তমানের প্রক্সি যুদ্ধগুলোতে মিত্রদের পতনের হাত থেকে বাঁচাবে? এই দোলাচলের কারণে কোনো একটি নির্দিষ্ট থিয়েটারেও আমেরিকা তার পূর্ণ সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে পারছে না।
বর্তমানে আমেরিকা যে প্রক্সি যুদ্ধগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলোকে সামরিক ভাষায় 'অ্যাট্রিবিউশন ওয়ার' (War of Attrition) বলা যায়। রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মূল লক্ষ্য হলো সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে আমেরিকাকে ছোট ছোট ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখা। তারা জানে ওয়াশিংটনের জনমত দীর্ঘস্থায়ী এবং ব্যয়বহুল যুদ্ধের বিপক্ষে। কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন দিয়ে আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা বৈরী অক্ষের একটি অত্যন্ত সফল কৌশল। এটি আমেরিকার ধৈর্য এবং অর্থনৈতিক শক্তি উভয়কেই ক্রমে দুর্বল করে দিচ্ছে।
পেন্টাগনের জন্য সবচেয়ে বড় পরাজয় হলো তাদের 'মনোযোগের খণ্ডন'। বেইজিংয়ের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। আমেরিকা যত বেশি কিয়েভ বা তেল আবিবে ব্যস্ত থাকবে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্য বিস্তার বা তাইওয়ান প্রণালীতে সামরিক চাপ তৈরি করা তত সহজ হবে। বিরোধীদের এই সমন্বিত মেরূকরণ ওয়াশিংটনকে এমন এক চক্রে আবদ্ধ করেছে যেখানে তারা কোনো একটি ফ্রন্টেও পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে পারছে না, যা প্রকারান্তরে আমেরিকার বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
আমেরিকার জন্য 'মাল্টি-থিয়েটার ডিলেমা' কাটিয়ে ওঠার একমাত্র কার্যকর অস্ত্র হলো তার শক্তিশালী মিত্রজোট। পেন্টাগন এখন স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে যে, একা সব ফ্রন্টে সামরিক ও আর্থিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। তাই ওয়াশিংটন এখন 'একক আধিপত্য' (Unipolar Hegemony) থেকে সরে এসে 'সমন্বিত প্রতিরক্ষা' (Integrated Deterrence) নীতির দিকে ঝুঁকছে। ইউরোপে NATO-র পরিধি বাড়িয়ে রাশিয়াকে কোণঠাসা করা এবং অন্যদিকে ইন্দো-প্যাসিফিকে AUKUS (অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, আমেরিকা) ও QUAD (ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা)-এর মতো জোটগুলোকে সক্রিয় করা এখন তাদের প্রধান কৌশল। এই জোটগুলোর লক্ষ্য হলো এমন এক অভেদ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা যাতে আমেরিকার অনুপস্থিতিতেও মিত্ররা নিজ নিজ অঞ্চলে বৈরী শক্তির মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। এটি আমেরিকার জন্য একটি 'ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার' হিসেবে কাজ করছে, যা তাদের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের উত্থান ঠেকাতে পেন্টাগনের বর্তমান বাজি হলো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকা; যাকে আমেরিকা এই অঞ্চলের স্থায়িত্বের জন্য 'নেট সিকিউরিটি প্রোভাইডার' হিসেবে দেখতে চায়।
দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের একাধিপত্য রুখতে ফিলিপাইনের সামরিক ঘাঁটিগুলোর আধুনিকায়ন এবং জাপানের কয়েক দশকের 'শান্তিবাদী' নীতি ভেঙে তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ করার পেছনে আমেরিকার সক্রিয় সমর্থন রয়েছে।
পেন্টাগন এখন বুঝতে পারছে দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান প্রণালিতে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে স্থানীয় মিত্রদের শক্তিশালী করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর। তবে শেষ পর্যন্ত আমেরিকার বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্ব টিকে থাকবে কি না তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন কতটা দক্ষতার সাথে তার এই 'অ্যালায়েন্স স্ট্র্যাটেজি' বজায় রাখতে পারে তার ওপর।

স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী একক মেরু বিশ্বব্যবস্থায় আমেরিকার যে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ছিল, তা আজ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। ওয়াশিংটন এখন আর কেবল একটি ফ্রন্টে মনোনিবেশ করে বৈশ্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে না। সামরিক ভাষায় একে বলা হচ্ছে 'স্ট্র্যাটেজিক ওভারস্ট্রেচ' বা কৌশলগত অতি-প্রসারণ। একদিকে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েকশ সামরিক ঘাঁটির রক্ষণাবেক্ষণ—সব মিলিয়ে পেন্টাগন এখন 'রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট' বা সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। ফলে এককভাবে 'বিশ্বের পুলিশ' হওয়ার দিন ফুরিয়ে আসছে, আর শুরু হয়েছে অগ্রাধিকার বেছে নেয়ার কঠিন লড়াই।
এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের মতো একাধিক সক্রিয় ফ্রন্টে সামরিক ও আর্থিক রসদ জোগান দেয়া ওয়াশিংটনের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-শক্তি এবং রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকি পেন্টাগনকে তাদের গ্লোবাল ডমিন্যান্স বা বৈশ্বিক আধিপত্যের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। শেষ পর্যন্ত মিত্রশক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে এবং কৌশলগত সংকোচন নীতি গ্রহণ করেই আমেরিকাকে হয়তো এই 'মাল্টি-থিয়েটার ডিলেমা' থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।
পেন্টাগনের সর্বশেষ জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে (National Defense Strategy) চীনকে কেবল একটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হয়নি; বরং তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে 'প্যাসিং চ্যালেঞ্জ' (Pacing Challenge) হিসেবে। এর গূঢ় অর্থ হলো, চীনই বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্র যার সামরিক, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমেরিকার বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার মতো পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনের সমরবিদরা মনে করেন, রাশিয়ার সামরিক হুমকি সাময়িক বা আঞ্চলিক হলেও, চীনের উত্থান একটি পদ্ধতিগত পরিবর্তন যা বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি এবং সেখানে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র মোতায়েন করে চীন ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলের জলসীমায় নিজেদের আধিপত্য জানান দিয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক মহড়া এবং 'এক চীন' নীতি কার্যকর করার দৃঢ় সংকল্প আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। পেন্টাগনের আশঙ্কা তাইওয়ান যদি চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার প্রতিরক্ষা বলয় (First Island Chain) ভেঙে পড়বে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান পথগুলো বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
সামরিক শক্তির পাশাপাশি চীন এখন প্রযুক্তির ময়দানেও আমেরিকার সমকক্ষ হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে চীন আমেরিকার ওপর এক ধরনের 'টেকনিক্যাল লিভারেজ' তৈরির চেষ্টা করছে। পেন্টাগন মনেকরে আধুনিক যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এখন আর কেবল কামানের গোলায় নয়, বরং মাইক্রোচিপের সক্ষমতায় নির্ধারিত হয়। তাই চীনের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পেন্টাগনের দীর্ঘদিনের মূল পরিকল্পনা ছিল মধ্যপ্রাচ্যের 'অন্তহীন যুদ্ধ' থেকে নিজেদের গুটিয়ে আনা এবং সেই বিপুল সামরিক সরঞ্জাম ও মনোযোগ ইন্দো-প্যাসিফিকে সরিয়ে নেয়া। এই নীতির নাম দেয়া হয়েছিল 'পিভট টু এশিয়া' (Pivot to Asia)। এর লক্ষ্য ছিল বেইজিংয়ের চারপাশ ঘিরে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যূহ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবতার নিঠুর পরিহাসে, ইউক্রেন বা গাজার মতো ফ্রন্টগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় আমেরিকার এই কৌশলগত স্থানান্তর বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবুও পেন্টাগনের টেবিলে অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বরে এখনো 'চীনের ছায়া' বা প্যাসিং চ্যালেঞ্জই রয়ে গেছে।
পেন্টাগন যখন তার সামরিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু 'পিভট টু এশিয়া' (Pivot to Asia) নীতির মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সরিয়ে নিতে চাইলো, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা তাকে পুনরায় আঁকড়ে ধরলো। গত কয়েক বছরে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও মিসাইল হামলা আমেরিকার বৈশ্বিক রণকৌশলকে ওলটপালট করে দিয়েছে। ওয়াশিংটন এই অঞ্চল থেকে সৈন্য কমিয়ে আনতে চাইলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তাকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এখানে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করাতে বাধ্য করছে।
আমেরিকা কেন মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে পারছে না, তার প্রধান কারণ হলো বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বা জ্বালানি সরবরাহ। লোহিত সাগর এবং বাব-আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ১২% থেকে ১৫% সমুদ্র বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। হুথিদের হামলার কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলে আমেরিকার ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’-এর মতো নৌ-অভিযান চালাতে হচ্ছে, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের জন্য বরাদ্দ করা অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার ও বিমানবাহী রণতরীগুলোকে (যেমন: ইউএসএস আইজেনহাওয়ার বা ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট) লোহিত সাগরে প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অবস্থানের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার। ইরানের সমর্থিত 'অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স' (হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুথি) যখন ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানছে, তখন ওয়াশিংটন চাইলেও উদাসীন থাকতে পারছে না। এই ছায়াযুদ্ধ আমেরিকাকে এক অনিচ্ছুক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে রেখেছে যা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল, অন্যদিকে এটি চীনের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করার পথে একটি বড় অন্তরায়।
বর্তমান বাস্তবতা হলো পেন্টাগনের বাজেটে যে অর্থ ও সরঞ্জাম চীনের ‘প্যাসিং চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলার জন্য রাখা হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ এখন মধ্যপ্রাচ্যের ছোটোখাটো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সস্তা ড্রোন ও রকেট ঠেকাতে ব্যয় হচ্ছে। কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল দিয়ে কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন ধ্বংস করার এই অসম যুদ্ধ আমেরিকার সামরিক ভাণ্ডারে টান ফেলছে। ফলে 'ইন্দো-প্যাসিফিক' যখন আমেরিকার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের 'অন্তহীন গোলকধাঁধা' তখন তার বাস্তবতার নিঠুর পরিহাস হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
আমেরিকার বৈশ্বিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের মধ্যে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী ও কৌশলগত সামরিক অক্ষ। যদিও এদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নেই তবুও ওয়াশিংটনকে ব্যস্ত রাখতে এই তিন শক্তি এখন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সমীকরণটি আরও স্পষ্ট হয়েছে, যেখানে মস্কোর সামরিক প্রয়োজন মেটাতে পিয়ংইয়ং এবং তেহরান সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার টিকে থাকার পেছনে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার ভূমিকা আজ আর গোপন নেই। কারণ:
১. ইরানি ড্রোন প্রযুক্তি: ইরান তাদের তৈরি সাশ্রয়ী কিন্তু কার্যকর 'শাহেদ' (Shahed-136) কামিকাজে ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার বিমান শক্তিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। কয়েক হাজার ডলারের এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে আমেরিকাকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের পেট্রিয়ট মিসাইল খরচ করতে হচ্ছে।
২. উত্তর কোরিয়ার গোলাবারুদ: গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে কয়েক মিলিয়ন রাউন্ড কামানের গোলা এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল সরবরাহ করেছে। এর বিনিময়ে রাশিয়া হয়তো পিয়ংইয়ংকে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি বা উন্নত সাবমেরিন নির্মাণে সহায়তা করছে, যা আমেরিকার মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জন্য এক বিশাল নিরাপত্তা ঝুঁকি।
আমেরিকার সামরিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসে বর্তমান সময়টি এক অভূতপূর্ব সংকটের। আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সমন্বিত তৎপরতা ওয়াশিংটনকে এমন এক 'তিন ফ্রন্টের মরণফাঁদে' ফেলেছে, যা তাদের বিশ্বব্যাপী সামরিক আধিপত্যের ভিত্তি নাড়িয়ে দিচ্ছে। নিচে তিনটি থিয়েটারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
ইউক্রেন এখন আমেরিকার জন্য একটি 'ব্ল্যাক হোল' বা অতল গহ্বরে পরিণত হয়েছে। রাশিয়াকে রুখতে ওয়াশিংটনকে কেবল রাজনৈতিক সমর্থন নয়, বরং শত শত বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র (যেমন: হিমার্স, আব্রামস ট্যাংক, প্যাট্রিয়ট মিসাইল) এবং অর্থ সহায়তা দিতে হচ্ছে। এরফলে আমেরিকার নিজস্ব অস্ত্রের মজুদে (Stockpile) টান পড়ছে।
অনেকক্ষেত্রে পেন্টাগনকে তাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত গোলাবারুদ ইউক্রেনে পাঠাতে হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের এই দীর্ঘসূত্রতা আমেরিকাকে ইউরোপীয় ফ্রন্টে এমনভাবে আটকে রেখেছে যে, তারা চাইলেও এশিয়া-প্যাসিফিকে তাদের পূর্ণ শক্তি স্থানান্তর করতে পারছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কৌশল ছিল 'মিনিমাম এনগেজমেন্ট' বা ন্যূনতম সম্পৃক্ততা, কিন্তু ইরানের 'অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স' সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে। গাজা সংঘাতের পর থেকে হিজবুল্লাহ এবং বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা সামলাতে আমেরিকাকে বিশাল নৌ-বহর মোতায়েন করতে হচ্ছে। বর্তমানে ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরে একাধিক বিমানবাহী রণতরি (Aircraft Carriers) এবং ডেস্ট্রয়ার প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে। এই নৌ-শক্তিগুলো মূলত চীনের নৌ-বাহিনীকে নজরদারিতে রাখার জন্য এশিয়ায় থাকার কথা ছিল, কিন্তু ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ক ওয়াশিংটনকে পশ্চিম এশিয়ায় পুনরায় ব্যস্ত করে তুলেছে।
পেন্টাগন যখন চীনের ওপর মনোযোগ দিতে চায়, ঠিক তখনই পিয়ংইয়ং তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক মিসাইল (ICBM) বা পারমাণবিক পরীক্ষার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের নজর কেড়ে নেয়। কিম জং উন-এর উত্তর কোরিয়া এখন আর কেবল আঞ্চলিক হুমকি নয়, বরং রাশিয়ার সাথে সামরিক চুক্তির পর তারা আরও সাহসী হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকাকে কোরিয় উপদ্বীপে নিয়মিত 'স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট' বা কৌশলগত বোমারু বিমান এবং পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন পাঠাতে হচ্ছে। এই নিরন্তর মহড়া ও নজরদারি আমেরিকার সামরিক বাজেটের একটি বড় অংশ গ্রাস করছে।
এসবের ফলে পেন্টাগনের যে শক্তি ও মনোযোগ এককভাবে চীনের ওপর—যাকে তারা 'প্যাসিং চ্যালেঞ্জ' বা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বলে—নিবদ্ধ করার কথা ছিল, তা এখন তিন মহাদেশে খণ্ডিত হয়ে পড়ছে। সামরিক পরিভাষায় একে বলা হয় 'স্ট্র্যাটেজিক ডিলিউশন' (Strategic Dilution)।
যখন একটি পরাশক্তিকে একসাথে তিনটি ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে অগ্নিনির্বাপকের (Firefighter) ভূমিকা পালন করতে হয়, তখন কোনো একটি ফ্রন্টেও তারা চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারে না। বেইজিং ঠিক এই সুযোগটিরই অপেক্ষা করছে। আমেরিকা যত বেশি ইউক্রেন বা লোহিত সাগরে ব্যস্ত থাকবে, তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের জন্য তত বেশি সুযোগ তৈরি হবে।
আমেরিকার বর্তমান সামরিক কৌশলের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো 'রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট' (Resource Management) বা সীমিত সম্পদের সুষম বণ্টন। পেন্টাগন যখনই কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে চায়, অন্য কোনো ফ্রন্টে জরুরি সংকট তৈরি হয়ে তাদের সেই পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করে। একেই বলা হচ্ছে 'মাল্টি-থিয়েটার ডিলেমা'।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আমেরিকার আধুনিক সমরাস্ত্রের মজুত বা 'ইনভেন্টরি'-তে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
ক. গোলাবারুদ সংকট: ইউক্রেন প্রতিদিন যে পরিমাণ ১৫৫ মিমি কামানের গোলা ব্যবহার করছে, আমেরিকার বর্তমান প্রতিরক্ষা শিল্প সেই গতিতে তা উৎপাদন করতে পারছে না।
খ. ইন্টারসেপ্টর মিসাইল: লোহিত সাগরে হুথিদের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে আমেরিকা যে SM-2 বা SM-6 এর মতো মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করছে, সেগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর এবং ব্যয়বহুল। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যে 'স্টকপাইল' জমানোর কথা ছিল, তা এখন মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে ক্ষয় হচ্ছে।
ওয়াশিংটন যখনই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নৌ-শক্তি মোকাবিলায় অত্যাধুনিক 'প্যাট্রিয়ট' (Patriot) মিসাইল সিস্টেম বা অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করতে চায়, তখনই ইউক্রেন বা ইসরায়েল থেকে জরুরি সাহায্যের আবেদন আসে। এই 'টানাপোড়েন' পেন্টাগনকে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করে, তারা চীনকে ঠেকানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেবে, নাকি বর্তমানের প্রক্সি যুদ্ধগুলোতে মিত্রদের পতনের হাত থেকে বাঁচাবে? এই দোলাচলের কারণে কোনো একটি নির্দিষ্ট থিয়েটারেও আমেরিকা তার পূর্ণ সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে পারছে না।
বর্তমানে আমেরিকা যে প্রক্সি যুদ্ধগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলোকে সামরিক ভাষায় 'অ্যাট্রিবিউশন ওয়ার' (War of Attrition) বলা যায়। রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মূল লক্ষ্য হলো সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে আমেরিকাকে ছোট ছোট ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখা। তারা জানে ওয়াশিংটনের জনমত দীর্ঘস্থায়ী এবং ব্যয়বহুল যুদ্ধের বিপক্ষে। কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন দিয়ে আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা বৈরী অক্ষের একটি অত্যন্ত সফল কৌশল। এটি আমেরিকার ধৈর্য এবং অর্থনৈতিক শক্তি উভয়কেই ক্রমে দুর্বল করে দিচ্ছে।
পেন্টাগনের জন্য সবচেয়ে বড় পরাজয় হলো তাদের 'মনোযোগের খণ্ডন'। বেইজিংয়ের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। আমেরিকা যত বেশি কিয়েভ বা তেল আবিবে ব্যস্ত থাকবে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্য বিস্তার বা তাইওয়ান প্রণালীতে সামরিক চাপ তৈরি করা তত সহজ হবে। বিরোধীদের এই সমন্বিত মেরূকরণ ওয়াশিংটনকে এমন এক চক্রে আবদ্ধ করেছে যেখানে তারা কোনো একটি ফ্রন্টেও পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে পারছে না, যা প্রকারান্তরে আমেরিকার বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
আমেরিকার জন্য 'মাল্টি-থিয়েটার ডিলেমা' কাটিয়ে ওঠার একমাত্র কার্যকর অস্ত্র হলো তার শক্তিশালী মিত্রজোট। পেন্টাগন এখন স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে যে, একা সব ফ্রন্টে সামরিক ও আর্থিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। তাই ওয়াশিংটন এখন 'একক আধিপত্য' (Unipolar Hegemony) থেকে সরে এসে 'সমন্বিত প্রতিরক্ষা' (Integrated Deterrence) নীতির দিকে ঝুঁকছে। ইউরোপে NATO-র পরিধি বাড়িয়ে রাশিয়াকে কোণঠাসা করা এবং অন্যদিকে ইন্দো-প্যাসিফিকে AUKUS (অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, আমেরিকা) ও QUAD (ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা)-এর মতো জোটগুলোকে সক্রিয় করা এখন তাদের প্রধান কৌশল। এই জোটগুলোর লক্ষ্য হলো এমন এক অভেদ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা যাতে আমেরিকার অনুপস্থিতিতেও মিত্ররা নিজ নিজ অঞ্চলে বৈরী শক্তির মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। এটি আমেরিকার জন্য একটি 'ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার' হিসেবে কাজ করছে, যা তাদের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের উত্থান ঠেকাতে পেন্টাগনের বর্তমান বাজি হলো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকা; যাকে আমেরিকা এই অঞ্চলের স্থায়িত্বের জন্য 'নেট সিকিউরিটি প্রোভাইডার' হিসেবে দেখতে চায়।
দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের একাধিপত্য রুখতে ফিলিপাইনের সামরিক ঘাঁটিগুলোর আধুনিকায়ন এবং জাপানের কয়েক দশকের 'শান্তিবাদী' নীতি ভেঙে তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ করার পেছনে আমেরিকার সক্রিয় সমর্থন রয়েছে।
পেন্টাগন এখন বুঝতে পারছে দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান প্রণালিতে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে স্থানীয় মিত্রদের শক্তিশালী করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর। তবে শেষ পর্যন্ত আমেরিকার বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্ব টিকে থাকবে কি না তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন কতটা দক্ষতার সাথে তার এই 'অ্যালায়েন্স স্ট্র্যাটেজি' বজায় রাখতে পারে তার ওপর।

২০২৬ সালের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ছায়া যুদ্ধের কৌশলগত পর্দা পুরোপুরি সরে গিয়ে এক সরাসরি সামরিক সংঘাতের সূচনা হয়েছে, যেখানে ইরান তার প্রক্সি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে।
১ দিন আগে
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে প্রতিনিয়ত বাড়ছে হতাহত ও ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পরিমাণ। ১৭ মার্চের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পুরো অঞ্চলে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু ইরানেই নিহতের সংখ্যা ১৩০০ থেকে ১৪৪৪ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে শত শত বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। মিনাব শহরের একটি স্কুলেই ১
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ালেও হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যত অচল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে যায়। কিন্তু ইরান সরাসরি প্রচলিত অবরোধ না দিয়েও এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
২ দিন আগে
মুক্তবাণিজ্য এবং পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য কেশম এখন পরিণত হয়েছে এক সম্মুখসমরের দুর্গে। সেই সঙ্গে এই দ্বীপ হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন করা মার্কিন মেরিন সেনাদের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু বা স্ট্র্যাটেজিক প্রাইজ হয়ে উঠেছে।
২ দিন আগে