চুল কাটার ভিডিওতে জামায়াত নেতার সংশ্লিষ্টার দাবি যাচাইয়ে মেলেনি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১২: ২৬
স্ট্রিম গ্রাফিক

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, সাপের খেলা দেখাতে এলাকায় প্রবেশ করায় বেদে পরিবারের নারীদের চুল কেটে দিয়েছেন ‘মুগদা উপজেলা’ জামায়াতের নেতা আলী হাসান। ভিডিওর ওপর বসানো লেখায় এমন দাবি করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাছে বাঁধা এক নারীর চুল এক ব্যক্তি জোরপূর্বক কেটে দিচ্ছেন।

এ ধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে

তবে স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরির অভিযোগে তিন নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার ভিডিও।

The Crack Team নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টটিতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মন্তব্য পড়েছে ৪৩৫টি। আর ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে ১১ হাজার ৮০০ বার।

ভিডিওটির কী–ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডেইলি নিরপেক্ষ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই ভিডিও প্রতিবেদনে বলা হয়, রূপগঞ্জে তিন নারীকে বেঁধে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও প্রতিবেদনের দৃশ্যের সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়। সেখানে এক নারীকে বসা অবস্থায় দেখা যায় এবং একজন বয়স্ক ব্যক্তি তার চুল কাটছেন।

আরও অনুসন্ধানে প্রথম আলোর ২ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরির অভিযোগে তিন নারীর চুল কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। ঘটনাটি রূপগঞ্জ উপজেলার ডহরগাঁও এলাকায় ঘটে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলামের বরাতে বলা হয়, রূপগঞ্জ উপজেলার ডহরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার বাড়িতে সোনার চেইন চুরির অভিযোগে তিন নারীকে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় সেলিম মিয়াসহ তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন মিলে তিন নারীর চুল কেটে দিয়ে তাঁদের মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই তিন নারীকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়।

মূলত, প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ঘটনাটির সঙ্গে কোনো জামায়াত নেতা বা রাজনৈতিক সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে চুরির অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজনের হাতে তিন নারীকে বেঁধে মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাবিটির বিষয়ে জানতে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুস সাত্তার সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্ট্রিম। তিনি জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর তাঁরা শোনেননি। এই প্রতিবেদকের যোগাযোগের পর খোঁজ নিয়েও এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

অধিকতর তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বশীল জামায়াত নেতা বনি ইয়ামিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তিনি স্ট্রিমকে জানান, আলী হাসান নামে কোনো মুরব্বি মুগদা জামায়াতে আছেন বলে তাঁর জানা নেই। নারীদের চুল কাটার ব্যাপারেও তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি অপপ্রচার হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

সম্পর্কিত