হবিগঞ্জের হামলায় এনসিপি নিয়ে ছড়াল ভুয়া দাবি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২৩: ০০
সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এনসিপির গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর হয়। হামলা থেকে বাঁচতে দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটি ব্যাংকে আশ্রয় নেন। আজ ১৪৪ ধারার মধ্যে আহত নেতাকর্মীদের খোঁজ নিতে ও মামলা করতে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধায় নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সড়কে অবস্থান নেন।

এর মধ্যেই হামলাকে ঘিরে ফেসবুকে সম্পাদিত ছবি, ভুল পরিচয় ও ভিন্ন দেশের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফ্যাক্টচেকে দাবিগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সারজিস আলমের আহত হওয়ার ছবিটি সম্পাদিত

ফেসবুকে এনসিপি নেতা সারজিস আলমের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর এক হাত স্লিংয়ে ঝোলানো এবং কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত মোটা ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার করা। একটি পায়ের নিচের অংশেও সাদা ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার। তিনি দুই পাশে দুটি ক্রাচে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ছবিটি সম্পাদনা করা। সারজিস আলমের হাতে-পায়ে ব্যান্ডেজ, ক্রাচসহ এমন কোনো ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। (,)

মারধরের শিকার ব্যক্তি পাটওয়ারী নন

অন্য একটি ভিডিওতে মারধরের শিকার ব্যক্তিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করা হয়েছে। তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি নাসীরুদ্দীন নন। তিনি এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী মুবিন।

২৯ জুলাই ডেইলি বাংলাদেশ-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে ওই ব্যক্তির চেহারা স্পষ্ট দেখা যায়। সেখানে তিনি কয়েকজনকে হামলা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর ওপর হামলা করা হয়।

২৮ জুলাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পেজে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে সারজিস আলম আহত ব্যক্তিকে হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

‘জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, সিলেট’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টেও আহত ব্যক্তিকে হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী মুবিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের ভিডিও হবিগঞ্জে এনসিপি-জামায়াতের হামলা দাবি

ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছের বাসা লক্ষ্য করে এনসিপি এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালাচ্ছেন।

তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি হবিগঞ্জের নয়। এটি গত ২৮ জুলাই পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরের মিরপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাশ্মীরে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালালে বেশ কয়েকজন আহত হন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত