মাহজাবিন নাফিসা

আশুরা এলেই পুরান ঢাকার হোসেনি দালান আবারও প্রাণ ফিরে পায়। কালো পোশাকে শোকযাত্রা, ‘ইয়া হোসেন’ ধ্বনি, তাজিয়া মিছিল—সব মিলিয়ে এটি শুধু শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় আচার নয়, বরং ঢাকার শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ। অনেকেই ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা ছাড়িয়ে এটিকে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শোকের এক সম্মিলিত স্মরণ হিসেবে দেখেন। এই দৃশ্যই বাংলাদেশের শিয়া-সুন্নি সম্পর্কের সবচেয়ে বড় পরিচয়—পার্থক্য আছে, কিন্তু বিভাজন নয়।
বাংলাদেশে শিয়া মুসলমানরা সংখ্যালঘু। তবে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে মুঘল আমলে, শিয়া অভিজাত, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এই অঞ্চলে শিয়া ঐতিহ্যের বিকাশ ঘটে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পুরান ঢাকার হোসেনি দালান, যা সপ্তদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী এটি নির্মাণ ও পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুঘল যুবরাজ শাহ শুজা, যিনি নিজে সুন্নি হলেও শিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। সেই সময় থেকেই বাংলায় শিয়া-সুন্নীদের মধ্যে সহাবস্থান ছিল স্বাভাবিক।
ইতিহাসবিদ রিচার্ড এম ইটন উল্লেখ করেছেন, বাংলায় ইসলামের বিস্তারে সুফি সাধক, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং সামাজিক মেলবন্ধনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলায় ইসলাম প্রধানত সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে নয়, কৃষি সম্প্রসারণ, নতুন জনবসতি এবং সুফি সাধকদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। স্থানীয় সমাজে ইসলামকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সুফিদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক সহাবস্থানও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। এ কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের মতো শিয়া-সুন্নি বিভাজন কখনোই বাংলাদেশের সমাজে প্রধান রাজনৈতিক বা সামাজিক ইস্যু হয়ে ওঠেনি।
এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় আশুরার অনুষ্ঠানগুলোতে। প্রতি বছর মহররম মাসে হোসেনি দালানে যে ধর্মীয় আলোচনা, মজলিস ও শোকানুষ্ঠান হয়, সেখানে শুধু শিয়া নয়, বহু সুন্নি মুসলমানও উপস্থিত থাকেন। আশুরার দিন বের হওয়া ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের চিত্র। ইতিহাসবিদদের মতে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অংশগ্রহণ ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই গড়ে উঠেছে।
শিয়া ও সুন্নি মুসলমান উভয়েই আশুরার গুরুত্ব স্বীকার করেন। উভয় সম্প্রদায়ই কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইনের (রা.) শাহাদাতকে ইসলামের ইতিহাসের এক অনন্য আত্মত্যাগ হিসেবে মনে করেন। তবে স্মরণের ধরনে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
শিয়া মুসলমানদের কাছে মহররমের প্রথম দশ দিন গভীর শোকের সময়। মজলিস, নওহা, মাতম এবং তাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে তারা কারবালার ঘটনাকে স্মরণ করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের অধিকাংশ সুন্নি মুসলমান আশুরায় নফল রোজা পালন, দোয়া এবং ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই মতপার্থক্য দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও বড় ধরনের শিয়া-সুন্নি সংঘাতে রূপ নেয়নি। অর্থাৎ আচার-পদ্ধতি আলাদা হলেও কারবালার প্রতি শ্রদ্ধাবোধে মৌলিক কোনো বিরোধ নেই।
বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির আলোচনায় প্রায়ই হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের কথা উঠে আসে। কিন্তু একইভাবে মুসলিম সমাজের ভেতরেও শিয়া ও সুন্নিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। বহু পরিবার, পাড়া কিংবা ব্যবসায়িক পরিসরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ রয়েছে। আশুরার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাও এই ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকার হোসেনি দালানকে ঘিরে যে পরিবেশ তৈরি হয়, তা কেবল একটি ইমামবাড়া বা ধর্মীয় স্থাপনার সীমায় আটকে নেই। এটি পুরান ঢাকার ইতিহাস, নগর সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বৈচিত্র্যের একটি জীবন্ত প্রতীক। এ কারণেই ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিবিষয়ক গবেষকেরা হোসেনি দালানকে শুধু শিয়া সম্প্রদায়ের কেন্দ্র নয়, বরং বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের শিয়া-সুন্নি সম্প্রীতির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ২০১৫ সালের মহররমে হোসেনি দালানে হামলা। আশুরার তাজিয়া মিছিল শুরুর প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। দেশ-বিদেশে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে জঙ্গিবাদবিরোধী তদন্তে এটিকে ধর্মীয় উগ্রবাদের অংশ হিসেবে দেখা হয়। তবে এই হামলা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শিয়া-সুন্নি সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। বরং হামলার পর বিভিন্ন মহল থেকে সংহতি প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করে আশুরার কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা শিয়া-সুন্নি সম্পর্ককে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রেখেছে। এর একটি কারণ হলো ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের শক্তিশালী বন্ধন। একই এলাকায় বসবাস, একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একই কর্মক্ষেত্র এবং একই সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ—এসবের মধ্য দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। ফলে মতপার্থক্য থাকলেও তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সম্পর্কের ওপর খুব কমই প্রভাব ফেলে।
গবেষণা নিবন্ধগুলোতেও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিলে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিয়া-সুন্নি মতবিরোধের কারণে নয়। রাজনৈতিক সহিংসতা, জঙ্গিবাদ বা বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বাস্তবতা বাংলাদেশের অবস্থানকে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা করে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের আবেগের মধ্যে মৌলিক মিল রয়েছে। ইমাম হুসাইনের আত্মত্যাগকে ন্যায়, সত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উভয় পক্ষই সম্মান করে। ধর্মীয় আচার ভিন্ন হলেও এই অভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতি পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি ভিত্তি তৈরি করেছে।
২০১৫ সালের ঘটনার পর আশুরার অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো, প্রবেশপথে তল্লাশি, সিসিটিভি নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের মতো পদক্ষেপ নিয়মিত ব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং আয়োজকেরাও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও, অতীতে কিছু শোকমিছিলে ধারালো অস্ত্র বা চেইন দিয়ে নিজেকে আঘাত করার চল ছিলো যা পরে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার কারণে নিষিদ্ধ করা হয়।
প্রতি বছর মহররম উপলক্ষে সংবাদমাধ্যমে যে চিত্র উঠে আসে, সেখানে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এই সহযোগিতামূলক পরিবেশই দেখায় যে নিরাপত্তা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, সামাজিক অংশগ্রহণেরও একটি বিষয়।

আশুরা এলেই পুরান ঢাকার হোসেনি দালান আবারও প্রাণ ফিরে পায়। কালো পোশাকে শোকযাত্রা, ‘ইয়া হোসেন’ ধ্বনি, তাজিয়া মিছিল—সব মিলিয়ে এটি শুধু শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় আচার নয়, বরং ঢাকার শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ। অনেকেই ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা ছাড়িয়ে এটিকে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শোকের এক সম্মিলিত স্মরণ হিসেবে দেখেন। এই দৃশ্যই বাংলাদেশের শিয়া-সুন্নি সম্পর্কের সবচেয়ে বড় পরিচয়—পার্থক্য আছে, কিন্তু বিভাজন নয়।
বাংলাদেশে শিয়া মুসলমানরা সংখ্যালঘু। তবে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে মুঘল আমলে, শিয়া অভিজাত, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এই অঞ্চলে শিয়া ঐতিহ্যের বিকাশ ঘটে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পুরান ঢাকার হোসেনি দালান, যা সপ্তদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী এটি নির্মাণ ও পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুঘল যুবরাজ শাহ শুজা, যিনি নিজে সুন্নি হলেও শিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। সেই সময় থেকেই বাংলায় শিয়া-সুন্নীদের মধ্যে সহাবস্থান ছিল স্বাভাবিক।
ইতিহাসবিদ রিচার্ড এম ইটন উল্লেখ করেছেন, বাংলায় ইসলামের বিস্তারে সুফি সাধক, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং সামাজিক মেলবন্ধনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলায় ইসলাম প্রধানত সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে নয়, কৃষি সম্প্রসারণ, নতুন জনবসতি এবং সুফি সাধকদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। স্থানীয় সমাজে ইসলামকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সুফিদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক সহাবস্থানও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। এ কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের মতো শিয়া-সুন্নি বিভাজন কখনোই বাংলাদেশের সমাজে প্রধান রাজনৈতিক বা সামাজিক ইস্যু হয়ে ওঠেনি।
এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় আশুরার অনুষ্ঠানগুলোতে। প্রতি বছর মহররম মাসে হোসেনি দালানে যে ধর্মীয় আলোচনা, মজলিস ও শোকানুষ্ঠান হয়, সেখানে শুধু শিয়া নয়, বহু সুন্নি মুসলমানও উপস্থিত থাকেন। আশুরার দিন বের হওয়া ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের চিত্র। ইতিহাসবিদদের মতে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অংশগ্রহণ ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই গড়ে উঠেছে।
শিয়া ও সুন্নি মুসলমান উভয়েই আশুরার গুরুত্ব স্বীকার করেন। উভয় সম্প্রদায়ই কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইনের (রা.) শাহাদাতকে ইসলামের ইতিহাসের এক অনন্য আত্মত্যাগ হিসেবে মনে করেন। তবে স্মরণের ধরনে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
শিয়া মুসলমানদের কাছে মহররমের প্রথম দশ দিন গভীর শোকের সময়। মজলিস, নওহা, মাতম এবং তাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে তারা কারবালার ঘটনাকে স্মরণ করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের অধিকাংশ সুন্নি মুসলমান আশুরায় নফল রোজা পালন, দোয়া এবং ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই মতপার্থক্য দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও বড় ধরনের শিয়া-সুন্নি সংঘাতে রূপ নেয়নি। অর্থাৎ আচার-পদ্ধতি আলাদা হলেও কারবালার প্রতি শ্রদ্ধাবোধে মৌলিক কোনো বিরোধ নেই।
বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির আলোচনায় প্রায়ই হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের কথা উঠে আসে। কিন্তু একইভাবে মুসলিম সমাজের ভেতরেও শিয়া ও সুন্নিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। বহু পরিবার, পাড়া কিংবা ব্যবসায়িক পরিসরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ রয়েছে। আশুরার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাও এই ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকার হোসেনি দালানকে ঘিরে যে পরিবেশ তৈরি হয়, তা কেবল একটি ইমামবাড়া বা ধর্মীয় স্থাপনার সীমায় আটকে নেই। এটি পুরান ঢাকার ইতিহাস, নগর সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বৈচিত্র্যের একটি জীবন্ত প্রতীক। এ কারণেই ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিবিষয়ক গবেষকেরা হোসেনি দালানকে শুধু শিয়া সম্প্রদায়ের কেন্দ্র নয়, বরং বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের শিয়া-সুন্নি সম্প্রীতির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ২০১৫ সালের মহররমে হোসেনি দালানে হামলা। আশুরার তাজিয়া মিছিল শুরুর প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। দেশ-বিদেশে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে জঙ্গিবাদবিরোধী তদন্তে এটিকে ধর্মীয় উগ্রবাদের অংশ হিসেবে দেখা হয়। তবে এই হামলা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শিয়া-সুন্নি সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। বরং হামলার পর বিভিন্ন মহল থেকে সংহতি প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করে আশুরার কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা শিয়া-সুন্নি সম্পর্ককে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রেখেছে। এর একটি কারণ হলো ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের শক্তিশালী বন্ধন। একই এলাকায় বসবাস, একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একই কর্মক্ষেত্র এবং একই সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ—এসবের মধ্য দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। ফলে মতপার্থক্য থাকলেও তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সম্পর্কের ওপর খুব কমই প্রভাব ফেলে।
গবেষণা নিবন্ধগুলোতেও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিলে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিয়া-সুন্নি মতবিরোধের কারণে নয়। রাজনৈতিক সহিংসতা, জঙ্গিবাদ বা বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বাস্তবতা বাংলাদেশের অবস্থানকে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা করে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের আবেগের মধ্যে মৌলিক মিল রয়েছে। ইমাম হুসাইনের আত্মত্যাগকে ন্যায়, সত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উভয় পক্ষই সম্মান করে। ধর্মীয় আচার ভিন্ন হলেও এই অভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতি পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি ভিত্তি তৈরি করেছে।
২০১৫ সালের ঘটনার পর আশুরার অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো, প্রবেশপথে তল্লাশি, সিসিটিভি নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের মতো পদক্ষেপ নিয়মিত ব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং আয়োজকেরাও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও, অতীতে কিছু শোকমিছিলে ধারালো অস্ত্র বা চেইন দিয়ে নিজেকে আঘাত করার চল ছিলো যা পরে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার কারণে নিষিদ্ধ করা হয়।
প্রতি বছর মহররম উপলক্ষে সংবাদমাধ্যমে যে চিত্র উঠে আসে, সেখানে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এই সহযোগিতামূলক পরিবেশই দেখায় যে নিরাপত্তা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, সামাজিক অংশগ্রহণেরও একটি বিষয়।
.png)

১৯৯৫ সালে অ্যামাজন প্রথম যে পণ্যটি বিক্রি করেছিল, সেটি ছিল ডগলাস হফস্ট্যাডারের লেখা বই ‘ফ্লুইড কনসেপ্টস অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ’। তিন দশক পর সেই অনলাইন বইয়ের দোকানটির বাজারমূল্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মাত্র তিন মাসেই প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করেছে ২০০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য
৪ ঘণ্টা আগে
হুমায়ুন আজাদের বহুল আলোচিত এই উক্তিগুলো পাওয়া যায় ‘হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ’ বইয়ে। কিন্তু বইটি কেবল এমন কিছু আপাত-নিরীহ অথচ গভীর সত্য উচ্চারণে ভরা—এমনটা ভাবলে ভুল হবে। বইয়ের পাঁচ নম্বর প্রবচনেই পাঠক থমকে যেতে পারেন। সেখানে লেখা, ‘শামসুর রাহমানকে একটি অভিনেত্রীর সাথে টিভিতে দেখা গেছে।
৭ ঘণ্টা আগে
হোমারের লেখা মহাকাব্য ‘ওডিসি’র প্রধান চরিত্র ওডিসিউস বাড়ি ফেরার পর তার বিশ্বস্ত কুকুর আর্গোস তাকে চিনতে পারে। তাদের পুনর্মিলনের এই আবেগঘন দৃশ্যটি বর্ণনা করতে হোমার ব্যবহার করেছেন মাত্র প্রায় ৪০টি লাইন। অথচ এটি পুরো মহাকাব্যের অন্যতম আবেগঘন ঘটনা। মহাকাব্যের এই দৃশ্যটি পর্দায় নতুন করে তুলে ধরেছেন
১১ আগস্ট ২০২৬
পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত বন্য প্রাণীগুলোর একটি সিংহ। ছোটবেলা থেকেই গল্প, সিনেমা আর ছবিতে আমরা তাকে দেখে এসেছি বনের রাজা হিসেবে। তার গর্জন, কেশর আর রাজকীয় উপস্থিতি যেন আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। ‘বনের রাজা’কে বিশ্ব সিংহ দিবসের পরের দিন একটু অন্যভাবে চেনা যাক।
১১ আগস্ট ২০২৬