লোককথা আছে, নিজের মৃত্যুদণ্ডের খবর শোনার পর ফরাসি রানি মেরি অ্যান্টোয়নেটের মাথার সব চুল নাকি এক রাতেই সাদা হয়ে গিয়েছিল।
ফাবিহা বিনতে হক

বয়স বাড়লে চুলে পাক ধরবে, সেটাই স্বাভাবিক। মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তায় চুলে পাকার কথাও লোকমুখে শুনি। লোককথা আছে, নিজের মৃত্যুদণ্ডের খবর শোনার পর ফরাসি রানি মেরি অ্যান্টোয়নেটের মাথার সব চুল নাকি এক রাতেই সাদা হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কি সত্যিই চুলের রং বদলে দিতে পারে? বিজ্ঞান বলছে, এমনটা হওয়া সম্ভব।
চুল পেকে যাওয়ার প্রধান কারণ কিন্তু মানসিক চাপ নয়। মানুষের চুল কখন পাকবে, তা মূলত জিন বা বংশগতির ওপর নির্ভর করে। তবে ওয়ার্ল্ড ট্রাইকোলজি সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ও গবেষক ডেভিড কিংসলে জানান, জিনগত কারণে চুল পাকলেও মানসিক চাপ সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
ডেভিড কিংসলের মতে, প্রত্যক্ষ চাপের পাশাপাশি পরোক্ষ মানসিক চাপও প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন অপুষ্টি, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং রক্তশূন্যতার মতো সমস্যাগুলোও চুলের রঙের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২০ সালে বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’ জার্নালে এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। ইঁদুরের ওপর করা ওই গবেষণায় দেখা যায়, মানসিক চাপ চুলের রঙের জন্য দায়ী ‘মেলানোসাইট’ কোষগুলোকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এই মেলানোসাইট মূলত চুলের গোড়ায় বা হেয়ার ফলিকলে থাকা স্টেম সেল থেকে তৈরি হয়।

গবেষকরা যখন ইঁদুরের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করেন, তখন তাদের চুলের গোড়ায় কর্টিকোস্টেরন (স্ট্রেস হরমোন) এবং নরপাইনফ্রাইনের (এক ধরনের হরমোন) মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে চুল তার নতুন রং তৈরির কোষের উৎসটি স্থায়ীভাবে হারিয়ে ফেলে এবং ইঁদুরের পশম সাদা হয়ে যায়।
ইঁদুরের ওপর করা গবেষণার ফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে সব সময় মেলে না। তবে ২০২১ সালে ‘ইলাইফ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, মানসিক চাপের কারণে মানুষের চুলও পেকে যেতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মানুষের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন সব সময় স্থায়ী হয় না।
ইলাইফ জার্নালের সেই গবেষণায় এমন মানুষদের বেছে নেওয়া হয়, যাঁদের মাথার কিছু ছিল চুল পাকা আর বাকি চুল কালো। তাঁদের বলা হয়েছিল, গত কয়েক মাসে মানসিক চাপের মাত্রা লিখে রাখতে। গবেষণায় দেখা যায়, চাকরি হারানোর মতো মানসিক চাপের ঘটনার সঙ্গে চুল পাকার সম্পর্ক রয়েছে। তবে চাপ দূর করা গেলে চুল আবার কালো রঙে ফিরে যেতে পারে।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্নায়ুবিজ্ঞানী এবং গবেষণার প্রধান লেখক মার্টিন পিকার্ড এ বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘গবেষণায় অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি ছুটিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ছুটি কাটানোর সময় আশ্চর্যজনকভাবে তার মাথার পাঁচটি সাদা চুল পুনরায় কালো হয়ে যায়!’
এ ছাড়া, মানুষের চুল পাকার বয়সে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। কারও ৩০ বছর বয়সে চুল পাকে, আবার কারও পাকে ৭০ বছর বয়সে। কখনো কি ভেবে দেখেছেন প্রতিটি চুলের জিনগত গঠন একই হওয়ার পরও কেন কিছু চুল আগে পাকে?
গবেষক পিকার্ড ও তাঁর দল বিভিন্ন গাণিতিক মডেলের সাহায্য নিয়ে বলছেন, চুল পাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট মাত্রা বা পর্যায় থাকে। মাঝবয়সে মানুষের চুল প্রাকৃতিকভাবেই পাকতে শুরু করে। ঠিক ওই সময়ে কেউ যদি অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভোগেন, তখন সেই চাপ চুলকে দ্রুত পাকিয়ে দিতে পারে।
গবেষক ডেভিড কিংসলেও এই কথার সঙ্গে একমত। তিনি জানান, বয়স বাড়লে চুলের রং ধরে রাখার কোষগুলো এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস চুল পাকার এই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে দিতে পারে।
পিকার্ড আরও জানান, যাঁদের চুল সবেমাত্র পাকতে শুরু করেছে, তাঁদের মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কমে গেলে সেই চুল আবার কালো হতে পারে। কিন্তু যাঁদের চুল বহু বছর ধরেই পাকা, তাঁদের চুল আর কালো হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডেভিড কিংসলেও জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের পাকা চুল আবার কালো হওয়ার ঘটনা তিনি খুব একটা দেখেননি। তবে যাঁরা চুল পড়ার কোনো চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো এমনটা ঘটতে পারে।
মার্টিন পিকার্ড মনে করেন, ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। যেখানে গবেষকরা কয়েক মাস ধরে অংশগ্রহণকারীদের পর্যবেক্ষণ করবেন এবং তাঁদের লালার মাধ্যমে স্ট্রেস হরমোন মেপে তা চুলের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন। যদিও এমন কাজ এখনো শুরু হয়নি।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মানসিক চাপ হয়তো আমাদের চুলে পাক ধরার একমাত্র কারণ নয়। কিন্তু এসব চাপ বা দুশ্চিন্তা আমাদের শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স

বয়স বাড়লে চুলে পাক ধরবে, সেটাই স্বাভাবিক। মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তায় চুলে পাকার কথাও লোকমুখে শুনি। লোককথা আছে, নিজের মৃত্যুদণ্ডের খবর শোনার পর ফরাসি রানি মেরি অ্যান্টোয়নেটের মাথার সব চুল নাকি এক রাতেই সাদা হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কি সত্যিই চুলের রং বদলে দিতে পারে? বিজ্ঞান বলছে, এমনটা হওয়া সম্ভব।
চুল পেকে যাওয়ার প্রধান কারণ কিন্তু মানসিক চাপ নয়। মানুষের চুল কখন পাকবে, তা মূলত জিন বা বংশগতির ওপর নির্ভর করে। তবে ওয়ার্ল্ড ট্রাইকোলজি সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ও গবেষক ডেভিড কিংসলে জানান, জিনগত কারণে চুল পাকলেও মানসিক চাপ সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
ডেভিড কিংসলের মতে, প্রত্যক্ষ চাপের পাশাপাশি পরোক্ষ মানসিক চাপও প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন অপুষ্টি, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং রক্তশূন্যতার মতো সমস্যাগুলোও চুলের রঙের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২০ সালে বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’ জার্নালে এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। ইঁদুরের ওপর করা ওই গবেষণায় দেখা যায়, মানসিক চাপ চুলের রঙের জন্য দায়ী ‘মেলানোসাইট’ কোষগুলোকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এই মেলানোসাইট মূলত চুলের গোড়ায় বা হেয়ার ফলিকলে থাকা স্টেম সেল থেকে তৈরি হয়।

গবেষকরা যখন ইঁদুরের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করেন, তখন তাদের চুলের গোড়ায় কর্টিকোস্টেরন (স্ট্রেস হরমোন) এবং নরপাইনফ্রাইনের (এক ধরনের হরমোন) মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে চুল তার নতুন রং তৈরির কোষের উৎসটি স্থায়ীভাবে হারিয়ে ফেলে এবং ইঁদুরের পশম সাদা হয়ে যায়।
ইঁদুরের ওপর করা গবেষণার ফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে সব সময় মেলে না। তবে ২০২১ সালে ‘ইলাইফ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, মানসিক চাপের কারণে মানুষের চুলও পেকে যেতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মানুষের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন সব সময় স্থায়ী হয় না।
ইলাইফ জার্নালের সেই গবেষণায় এমন মানুষদের বেছে নেওয়া হয়, যাঁদের মাথার কিছু ছিল চুল পাকা আর বাকি চুল কালো। তাঁদের বলা হয়েছিল, গত কয়েক মাসে মানসিক চাপের মাত্রা লিখে রাখতে। গবেষণায় দেখা যায়, চাকরি হারানোর মতো মানসিক চাপের ঘটনার সঙ্গে চুল পাকার সম্পর্ক রয়েছে। তবে চাপ দূর করা গেলে চুল আবার কালো রঙে ফিরে যেতে পারে।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্নায়ুবিজ্ঞানী এবং গবেষণার প্রধান লেখক মার্টিন পিকার্ড এ বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘গবেষণায় অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি ছুটিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ছুটি কাটানোর সময় আশ্চর্যজনকভাবে তার মাথার পাঁচটি সাদা চুল পুনরায় কালো হয়ে যায়!’
এ ছাড়া, মানুষের চুল পাকার বয়সে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। কারও ৩০ বছর বয়সে চুল পাকে, আবার কারও পাকে ৭০ বছর বয়সে। কখনো কি ভেবে দেখেছেন প্রতিটি চুলের জিনগত গঠন একই হওয়ার পরও কেন কিছু চুল আগে পাকে?
গবেষক পিকার্ড ও তাঁর দল বিভিন্ন গাণিতিক মডেলের সাহায্য নিয়ে বলছেন, চুল পাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট মাত্রা বা পর্যায় থাকে। মাঝবয়সে মানুষের চুল প্রাকৃতিকভাবেই পাকতে শুরু করে। ঠিক ওই সময়ে কেউ যদি অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভোগেন, তখন সেই চাপ চুলকে দ্রুত পাকিয়ে দিতে পারে।
গবেষক ডেভিড কিংসলেও এই কথার সঙ্গে একমত। তিনি জানান, বয়স বাড়লে চুলের রং ধরে রাখার কোষগুলো এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস চুল পাকার এই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে দিতে পারে।
পিকার্ড আরও জানান, যাঁদের চুল সবেমাত্র পাকতে শুরু করেছে, তাঁদের মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কমে গেলে সেই চুল আবার কালো হতে পারে। কিন্তু যাঁদের চুল বহু বছর ধরেই পাকা, তাঁদের চুল আর কালো হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডেভিড কিংসলেও জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের পাকা চুল আবার কালো হওয়ার ঘটনা তিনি খুব একটা দেখেননি। তবে যাঁরা চুল পড়ার কোনো চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো এমনটা ঘটতে পারে।
মার্টিন পিকার্ড মনে করেন, ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। যেখানে গবেষকরা কয়েক মাস ধরে অংশগ্রহণকারীদের পর্যবেক্ষণ করবেন এবং তাঁদের লালার মাধ্যমে স্ট্রেস হরমোন মেপে তা চুলের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন। যদিও এমন কাজ এখনো শুরু হয়নি।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মানসিক চাপ হয়তো আমাদের চুলে পাক ধরার একমাত্র কারণ নয়। কিন্তু এসব চাপ বা দুশ্চিন্তা আমাদের শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স

মনে রাখবেন, টাকা জমানো আর জীবন উপভোগ করার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। নির্দিষ্ট সীমা মেনে চললে আজকের দিনটাও সুন্দর হবে। আবার ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
১ ঘণ্টা আগে
অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কি মানুষের মতো অতীত রোমন্থন করতে পারে? নাকি তাদের স্মৃতি কেবল খাবার আর বাসস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের স্মৃতিশক্তি আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
২০ ঘণ্টা আগে
কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার সাধারণ জীবনযাপনের সঙ্গে দুনিয়া কাঁপানো সুপারস্টারদের দারুণ একটি মিল রয়েছে? শুনতে অবাক লাগলেও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কথাটি একদম সত্য। ক্যালিফোর্নিয়ার মনোবিজ্ঞানী রবার্ট পাফ তাঁর প্রবন্ধে এমন কথাই বলেছেন। আমাদের সবার জীবনেই ‘অদৃশ্য দর্শক’ বা ‘ইনভিজিবল অডিয়েন্স’ রয়েছে, যা
১ দিন আগে
সম্প্রতি ওমানে গাড়ির ভেতরে চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাতে ময়নাতদন্তের পর কার্বন মনোক্সাইডে শ্বাস গ্রহণকে কারণ হিসেবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।
২ দিন আগে