যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে জাপানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এক ধরনের প্রাকৃতিক থেরাপি, যার নাম ‘ফরেস্ট থেরাপি’ বা ‘ফরেস্ট বাথিং’। নামটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও, এই পদ্ধতি শরীর ও মনের ওপর এমন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রেস কমানো ও মানসিক স্বস্তিতে সহায়ক হতে পারে।
ফাবিহা বিনতে হক

প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, আমাদের জীবন ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে। আধুনিকতার স্পর্শে আমাদের আর পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে না। ঘুম ভাঙে অ্যালার্মের শব্দে। তারপর থেকেই শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। কাজের চাপ, ক্লান্তি আর দুশ্চিন্তা, সব মিলিয়ে মনটা অনেক সময় ভারী হয়ে যায়।
প্রচণ্ড কর্মব্যস্ত দিনের শেষে যখন অবসাদ এসে ভর করে, তখন আমরা অনেক সময় আবার ফোনটাই হাতে তুলে নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করে মন ভালো করার চেষ্টা করি। কিন্তু তাতে কি আসলেই ক্লান্তি দূর হয়? নাকি মনে ঘুরতে থাকে একটাই প্রশ্ন, ‘কোথায় শান্তি পাবো, কোথায় গেলে?’
এই যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসেবেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এক ধরনের প্রাকৃতিক থেরাপি, যার নাম ‘ফরেস্ট থেরাপি’ বা ‘ফরেস্ট বাথিং’। নামটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও, এই পদ্ধতি শরীর ও মনের ওপর এমন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রেস কমানো ও মানসিক স্বস্তিতে সহায়ক হতে পারে।
জাপানি ভাষায় একে বলা হয় ‘শিনরিন-ইয়োকু’। শিনরিন অর্থ জঙ্গল বা বন, আর ইয়োকু অর্থ গোসল বা স্নান। তবে এই ‘স্নানের’ সঙ্গে প্রথাগত স্নান বা গোসলের সম্পর্ক নেই। ফরেস্ট বাথিং মানে হলো সবুজের মধ্যে ডুবে থাকা।

আশির দশকের কথা। জাপানে তখন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিল মানুষের মানসিক চাপ আর বিষণ্নতা। এই পরিস্থিতিতে ১৯৮২ সালে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় ফরেস্ট বাথিং ধারণাটি চালু করে। এটি আসলে কোনো ব্যায়াম নয়, কোনো ট্রেকিং বা হাইকিংও নয়। এর মূল দর্শন হলো বনের মধ্যে ধীরস্থিরভাবে সময় কাটানো অর্থাৎ প্রকৃতির সঙ্গে নিজের ইন্দ্রিয়গুলোকে সংযুক্ত করা।
আপনি যখন কোনো বনের ভেতর দিয়ে হাঁটবেন আর চারপাশের দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ আর বাতাসকে অনুভব করবেন। এটিই হলো ফরেস্ট বাথিং-এর মূল কথা।
আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন, গভীর কোনো বনে বা পার্কের মধ্যে ঢুকলে হঠাৎ করেই মনটা কেমন শান্ত হয়ে যায়? এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কিছু কারণ। গাছপালা বা উদ্ভিদ নিজেদের পোকামাকড় ও পচন থেকে রক্ষা করার জন্য এক ধরনের বিশেষ তেল বা রাসায়নিক পদার্থ বাতাসে ছড়ায়, যার নাম ‘ফাইটনসাইড’। আমরা যখন বনের ভেতর দিয়ে হাঁটি, তখন নিঃশ্বাসের সঙ্গে এই ফাইটনসাইড আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।
আমেরিকার বিখ্যাত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, এই উপাদানটি আমাদের শরীরের জন্য টনিকের মতো কাজ করে। এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং শরীরের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর কোষগুলিকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, আপনি যখন প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাচ্ছেন, তখন আসলে আপনি অজান্তেই এক প্রাকৃতিক ওষুধের ডোজ নিচ্ছেন।
এছাড়া, আমাদের মস্তিষ্কের ওপর সারাদিন যে চাপ যায়, তা কমানোর জন্য ফরেস্ট থেরাপি এক মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রকৃতির সান্নিধ্য আমাদের শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়।

কর্টিসল হলো স্ট্রেস হরমোন, যা আমরা যখন চিন্তিত বা ভীত থাকি তখন বেড়ে যায়। বনের শান্ত পরিবেশ, পাখির ডাক, আর বাতাসের শব্দ আমাদের প্যারাসিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় করতে দারুণ সহায়ক। স্নায়ুতন্ত্রের এই অংশটি শরীরকে শিথিল বা রিলাক্স করতে সাহায্য করে।
ফরেস্ট থেরাপির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এটি আমাদের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনেকক্ষেত্রে বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম। আমাদের রক্তে এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা আছে, যাদের বলা হয় ‘ন্যাচারাল কিলার সেল’ বা এনকে সেল। এরা শরীরের ভেতরে ভাইরাসে আক্রান্ত কোষ কিংবা টিউমারের মতো ক্ষতিকর কোষ ধ্বংস করার কাজ করে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, যারা সবুজে ঘেরা পরিবেশে সময় কাটান, তাঁদের শরীরে এই এনকে সেলের সংখ্যা এবং এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এমনকি মাত্র একদিন বনে সময় কাটালে এই এনকে সেলের প্রভাব পরবর্তী আরো কয়েক দিন পর্যন্ত শরীরে থাকতে পারে।
সবুজ পরিবেশ শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে। যাদের হাইপারটেনশনের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য বনের নির্মল বাতাস আর শান্ত পরিবেশ অনেকটা প্রাকৃতিক চিকিৎসার মতো কাজ করে। গাছের মাঝে সময় কাটালে হৃৎস্পন্দন ধীরে আসে, রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এছাড়া আধুনিক জীবনের আরেক বড় সমস্যা হলো ঘুমের অভাব। সারাদিন মোবাইল, ল্যাপটপ আর কৃত্রিম আলোর দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে আমাদের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। বিকেল বা সন্ধ্যার আগে যদি কিছুক্ষণ প্রকৃতির আলো আর সবুজ পরিবেশে সময় কাটানো যায়, তাহলে শরীরের মেলাটোনিন হরমোন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে। এতে রাতে ঘুম সহজে আসে এবং ঘুম হয় আরও গভীর ও আরামদায়ক।
অনেকেই হয়ত ভাবছেন, আমরা তো ইট-পাথরের শহরে থাকি, এখানে বন পাব কোথায়?

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক বলছে, ফরেস্ট থেরাপির জন্য আপনাকে অরণ্যের গহীনে হারিয়ে যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনার বাড়ির পাশের কোনো পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন কিংবা লেকের পাড়ে যেখানে প্রচুর গাছপালা আছে, সেখানেই ফরেস্ট বাথিং করতে পারেন।
এখানে মূল বিষয় হলো প্রকৃতির সান্নিধ্য। যদি সেটাও সম্ভব না হয়, তবে নিজের বারান্দায় বাগান করুন বা ঘরের কোণে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখুন। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু জানলা দিয়ে বাইরের গাছপালা বা প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকলেও মানসিক চাপ অনেকখানি কমে যায়।
আসলে মানুষ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে প্রকৃতির মাঝেই বেঁচে ছিল। তাই আমাদের শরীর আর মন আজও প্রকৃতির সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি স্বস্তি খুঁজে পায়। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার কিছুক্ষণের জন্য হলেও ল্যাপটপ বন্ধ করে, মোবাইল দূরে রেখে সবুজের মাঝে হারিয়ে যান। দেখবেন, জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর, সহজ আর প্রাণবন্ত মনে হচ্ছে।

প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, আমাদের জীবন ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে। আধুনিকতার স্পর্শে আমাদের আর পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে না। ঘুম ভাঙে অ্যালার্মের শব্দে। তারপর থেকেই শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। কাজের চাপ, ক্লান্তি আর দুশ্চিন্তা, সব মিলিয়ে মনটা অনেক সময় ভারী হয়ে যায়।
প্রচণ্ড কর্মব্যস্ত দিনের শেষে যখন অবসাদ এসে ভর করে, তখন আমরা অনেক সময় আবার ফোনটাই হাতে তুলে নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করে মন ভালো করার চেষ্টা করি। কিন্তু তাতে কি আসলেই ক্লান্তি দূর হয়? নাকি মনে ঘুরতে থাকে একটাই প্রশ্ন, ‘কোথায় শান্তি পাবো, কোথায় গেলে?’
এই যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসেবেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এক ধরনের প্রাকৃতিক থেরাপি, যার নাম ‘ফরেস্ট থেরাপি’ বা ‘ফরেস্ট বাথিং’। নামটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও, এই পদ্ধতি শরীর ও মনের ওপর এমন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রেস কমানো ও মানসিক স্বস্তিতে সহায়ক হতে পারে।
জাপানি ভাষায় একে বলা হয় ‘শিনরিন-ইয়োকু’। শিনরিন অর্থ জঙ্গল বা বন, আর ইয়োকু অর্থ গোসল বা স্নান। তবে এই ‘স্নানের’ সঙ্গে প্রথাগত স্নান বা গোসলের সম্পর্ক নেই। ফরেস্ট বাথিং মানে হলো সবুজের মধ্যে ডুবে থাকা।

আশির দশকের কথা। জাপানে তখন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিল মানুষের মানসিক চাপ আর বিষণ্নতা। এই পরিস্থিতিতে ১৯৮২ সালে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় ফরেস্ট বাথিং ধারণাটি চালু করে। এটি আসলে কোনো ব্যায়াম নয়, কোনো ট্রেকিং বা হাইকিংও নয়। এর মূল দর্শন হলো বনের মধ্যে ধীরস্থিরভাবে সময় কাটানো অর্থাৎ প্রকৃতির সঙ্গে নিজের ইন্দ্রিয়গুলোকে সংযুক্ত করা।
আপনি যখন কোনো বনের ভেতর দিয়ে হাঁটবেন আর চারপাশের দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ আর বাতাসকে অনুভব করবেন। এটিই হলো ফরেস্ট বাথিং-এর মূল কথা।
আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন, গভীর কোনো বনে বা পার্কের মধ্যে ঢুকলে হঠাৎ করেই মনটা কেমন শান্ত হয়ে যায়? এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কিছু কারণ। গাছপালা বা উদ্ভিদ নিজেদের পোকামাকড় ও পচন থেকে রক্ষা করার জন্য এক ধরনের বিশেষ তেল বা রাসায়নিক পদার্থ বাতাসে ছড়ায়, যার নাম ‘ফাইটনসাইড’। আমরা যখন বনের ভেতর দিয়ে হাঁটি, তখন নিঃশ্বাসের সঙ্গে এই ফাইটনসাইড আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।
আমেরিকার বিখ্যাত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, এই উপাদানটি আমাদের শরীরের জন্য টনিকের মতো কাজ করে। এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং শরীরের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর কোষগুলিকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, আপনি যখন প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাচ্ছেন, তখন আসলে আপনি অজান্তেই এক প্রাকৃতিক ওষুধের ডোজ নিচ্ছেন।
এছাড়া, আমাদের মস্তিষ্কের ওপর সারাদিন যে চাপ যায়, তা কমানোর জন্য ফরেস্ট থেরাপি এক মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রকৃতির সান্নিধ্য আমাদের শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়।

কর্টিসল হলো স্ট্রেস হরমোন, যা আমরা যখন চিন্তিত বা ভীত থাকি তখন বেড়ে যায়। বনের শান্ত পরিবেশ, পাখির ডাক, আর বাতাসের শব্দ আমাদের প্যারাসিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় করতে দারুণ সহায়ক। স্নায়ুতন্ত্রের এই অংশটি শরীরকে শিথিল বা রিলাক্স করতে সাহায্য করে।
ফরেস্ট থেরাপির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এটি আমাদের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনেকক্ষেত্রে বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম। আমাদের রক্তে এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা আছে, যাদের বলা হয় ‘ন্যাচারাল কিলার সেল’ বা এনকে সেল। এরা শরীরের ভেতরে ভাইরাসে আক্রান্ত কোষ কিংবা টিউমারের মতো ক্ষতিকর কোষ ধ্বংস করার কাজ করে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, যারা সবুজে ঘেরা পরিবেশে সময় কাটান, তাঁদের শরীরে এই এনকে সেলের সংখ্যা এবং এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এমনকি মাত্র একদিন বনে সময় কাটালে এই এনকে সেলের প্রভাব পরবর্তী আরো কয়েক দিন পর্যন্ত শরীরে থাকতে পারে।
সবুজ পরিবেশ শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে। যাদের হাইপারটেনশনের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য বনের নির্মল বাতাস আর শান্ত পরিবেশ অনেকটা প্রাকৃতিক চিকিৎসার মতো কাজ করে। গাছের মাঝে সময় কাটালে হৃৎস্পন্দন ধীরে আসে, রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এছাড়া আধুনিক জীবনের আরেক বড় সমস্যা হলো ঘুমের অভাব। সারাদিন মোবাইল, ল্যাপটপ আর কৃত্রিম আলোর দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে আমাদের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। বিকেল বা সন্ধ্যার আগে যদি কিছুক্ষণ প্রকৃতির আলো আর সবুজ পরিবেশে সময় কাটানো যায়, তাহলে শরীরের মেলাটোনিন হরমোন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে। এতে রাতে ঘুম সহজে আসে এবং ঘুম হয় আরও গভীর ও আরামদায়ক।
অনেকেই হয়ত ভাবছেন, আমরা তো ইট-পাথরের শহরে থাকি, এখানে বন পাব কোথায়?

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক বলছে, ফরেস্ট থেরাপির জন্য আপনাকে অরণ্যের গহীনে হারিয়ে যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনার বাড়ির পাশের কোনো পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন কিংবা লেকের পাড়ে যেখানে প্রচুর গাছপালা আছে, সেখানেই ফরেস্ট বাথিং করতে পারেন।
এখানে মূল বিষয় হলো প্রকৃতির সান্নিধ্য। যদি সেটাও সম্ভব না হয়, তবে নিজের বারান্দায় বাগান করুন বা ঘরের কোণে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখুন। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু জানলা দিয়ে বাইরের গাছপালা বা প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকলেও মানসিক চাপ অনেকখানি কমে যায়।
আসলে মানুষ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে প্রকৃতির মাঝেই বেঁচে ছিল। তাই আমাদের শরীর আর মন আজও প্রকৃতির সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি স্বস্তি খুঁজে পায়। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার কিছুক্ষণের জন্য হলেও ল্যাপটপ বন্ধ করে, মোবাইল দূরে রেখে সবুজের মাঝে হারিয়ে যান। দেখবেন, জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর, সহজ আর প্রাণবন্ত মনে হচ্ছে।

ভালোবাসা মানে যার কাছে ঋণী, তাকে স্বীকার করা। যে নীরবে রক্ষা করে, তাকে কৃতজ্ঞতা জানানো। এই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তাই ভালোবাসার তালিকায় থাকুক সুন্দরবনও।
৬ ঘণ্টা আগে
১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে পহেলা ফাল্গুন কিংবা ভালবাসা দিবস হিসেবেই আমরা জানি। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে আমাদের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৮৩ সালের এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের জন্য এক অগ্নিঝরা দিন।
৬ ঘণ্টা আগে
আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে প্রকৃতিতে লেগেছে নতুনের ছোঁয়া। বসন্তে প্রকৃতিতে ঠিক কী কী পরিবর্তন হয়? আর বসন্তের সঙ্গে মনের কোনো সম্পর্ক আছে কি?
৭ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে এই ধারণা ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে। মিলেনিয়াল এবং জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে স্টেরিওটাইপ ভাঙার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের বড় একটা কারণ সোশ্যাল মিডিয়া ও পপ কালচার।
১০ ঘণ্টা আগে