বাংলা নববর্ষের রূপান্তর: ঢাকার মাহিফরাস থেকে ডিজিটাল যুগ

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৫০
স্ট্রিম গ্রাফিক

ভোরের নরম আলোয় রমনার বটমূল যখন এসরাজের সুরে জেগে ওঠার সঙ্গেই জেগে ওঠে বাংলাদেশ। বৈশাখ মানেই কি কেবল রমনার বটমূল, পান্তা-ইলিশ আর লাল-পেড়ে শাড়ি? নাকি এর গভীরে প্রোথিত আছে কর আদায়ের ইতিহাস, রাজকীয় ফরমান আর প্রতিরোধের এক জীবন্ত আখ্যান?

ধুলামাখা ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, বাঙালির এই নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা বদল নয়, বরং এক বিবর্তনের যাত্রা। সম্রাট আকবরের দরবার থেকে শুরু করে আজকের নিউইয়র্ক বা লন্ডনের রাজপথ পর্যন্ত বিস্তৃত এ যাত্রা।

ইতিহাসের উৎস সন্ধানে

বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক কে, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। একদল গবেষক মনে করেন, সপ্তম শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন নরপতি রাজা শশাঙ্ক সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী এই অব্দের সূচনা করেছিলেন। ভারততত্ত্ববিদ জেমস প্রিন্সেপ এবং ঐতিহাসিক নীতীশ সেনগুপ্ত তাঁদের গবেষণায় শশাঙ্ককেই বঙ্গাব্দের প্রবর্তক হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন।

তবে বর্তমানে গ্রহণযোগ্য মত হচ্ছে আজকের যে সুশৃঙ্খল বাংলা সনের কাঠামো আমরা দেখি, তা মোগল সম্রাট আকবরের কৃতিত্ব। ইতিহাসবিদ আবুল ফজল তাঁর ‘আইন-ই-আকবরি’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে হিজরি সনের ওপর ভিত্তি করে কৃষি খাজনা আদায়ের অসুবিয়ার কারণে আকবর একটি নতুন ফসলি সনের প্রবর্তন করেন।

বিশিষ্ট গবেষক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান তাঁর ‘বাংলা নববর্ষ’ গ্রন্থে তথ্য দিয়েছেন, ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে আকবর এই ‘তারিখ-ই-এলাহি’ প্রবর্তন করেন, যা পরে ‘বঙ্গাব্দ’ নামে পরিচিতি পায়। আমীর ফতেহউল্লাহ সিরাজি মোগল রাজজ্যোতিষী হিসেবে হিজরি চন্দ্র সন এবং হিন্দু সৌর সনের সংমিশ্রণে এই অব্দটি তৈরি করেছিলেন।

সিরাজুল ইসলামের মত এই যে মুঘল আমলে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে খাজনা পরিশোধ করতে হতো এবং পরের দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে প্রজাদের মিষ্টিমুখ করাতেন জমিদাররা।

মুঘল আমলের ঢাকা ও মাহিফরাসদের ভোজ

মুঘল শাসনামলে ঢাকা যখন সুবাহ বাঙ্গালার রাজধানী, তখন নববর্ষের আমেজ ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে ঢাকার মাহিফরাস সম্প্রদায় বা মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নববর্ষের এক বিশেষ জৌলুস ছিল। এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত এবং হাফিজা খাতুন রচিত ‘ঢাকাই খাবার’ বইতে তিনি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন সে সময়ের খাদ্য সংস্কৃতির।

হাফিজা খাতুনের বর্ণনা অনুসারে, মাহিফরাসরা নববর্ষের দিনে বড় আকারের রুই বা কাতল মাছের কালিয়া রান্না করতেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন, বছরের প্রথম দিনে বড় মাছ খেলে সারা বছর ব্যবসায় বরকত থাকবে। তবে পান্তা-ইলিশের কোনো দাপট তখন ছিল না। বরং আভিজাত্য প্রদর্শনের উৎসব হিসেবে অভিজাত মাছ হিসেবে রুই বা কাতলা পরিবেশন করা হতো।

হাকিম হাবিবুর রহমান তাঁর ‘ঢাকা পঁচাস বারাস পহলে’ বইতে আরও উল্লেখ করেছেন, সে সময়ের ঢাকা শহরের বিভিন্ন মহল্লায় ‘চৈত্রসংক্রান্তি’ এবং ‘নববর্ষ’ উপলক্ষে মেলা বসত। সেখানে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মানুষ যোগ দিত। মূলত বাণিজ্যিক লেনদেন ও সামাজিক মেলামেশার কেন্দ্র ছিল এই উৎসব।

ইংরেজ আমল বর্ষবরণ

ব্রিটিশ আমলে বাংলা নববর্ষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চরিত্র আরও স্পষ্ট হয়। তখন প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘পুণ্যাহ’। জমিদাররা তাঁদের প্রজাদের কাছ থেকে বছরের প্রথম দিন বকেয়া খাজনা আদায় করতেন। এ পুণ্যাহ ছিল জমিদার ও প্রজাদের মধ্যকার একটি আনুষ্ঠানিক পুনর্মিলনী। যদিও এটি মূলত কর আদায়ের উৎসব ছিল, তবুও এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকত মেলা, ঘোড়দৌড়, যাত্রা আর কবিগানের আসর। ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম দেখিয়েছেন, জমিদারি আমলের এই প্রথাটি ১৯৫০ সালে স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্টের মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায়।

তবে পুণ্যাহর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও তার একটি বাণিজ্যিক রূপ আমাদের মধ্যে টিকে থাকে, যাকে আমরা বলি ‘হালখাতা’। হাল, অর্থাৎ নতুন হিসাবের খাতা খোলা উপলক্ষে ব্যবসায়ীগণ তাদের খদ্দেরদের নেমন্তন্ন করে মিষ্টিমুখ করায়। এবং খদ্দেররা তাদের বকেয়া পরিশোধ করেন এ দিনে।

বর্তমান সময়ের হালখাতা

জমিদারি আমল শেষ হলেও ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ টিকে রইল আপন মহিমায়। চৈত্র মাসের শেষে পুরোনো হিসাব চুকিয়ে বৈশাখের প্রথম দিনে নতুন খাতা খোলার নামই হালখাতা। আজও পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার বা তাঁতীবাজারে গেলে দেখা যায় সেই চিরচেনা দৃশ্য—দোকানিরা লাল কাপড়ে মোড়ানো খাতা সাজিয়ে বসে আছেন। সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষক ড. অনুপম সেনের মতে, হালখাতা কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের এক অনন্য সেতুবন্ধন। যদিও বর্তমানে ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন এবং ক্রেডিট কার্ডের যুগে হালখাতার জৌলুস কমেছে, কিন্তু ঐতিহ্যের খাতিরে আজও অনেক ব্যবসায়ী এই প্রথা ধরে রেখেছেন।

পাকিস্তান আমল ও রমনার বটমূল

বাংলা নববর্ষের আজকের আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক রূপটি গড়ে ওঠে পাকিস্তান আমলের চরম প্রতিকূলতার মধ্যে। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন বাঙালি সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রসংগীতের ওপর আঘাত হানে, তখন পহেলা বৈশাখ হয়ে ওঠে বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রতীক। ১৯৬৭ সালে ছায়ানট প্রথম রমনার বটমূলে বর্ষবরণের আয়োজন করে।

অধ্যাপক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. সনজীদা খাতুন তাঁর স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ ‘শিকড় খোঁজা’তে লিখেছেন, তাঁরা যখন বটমূলে জমায়েত হতেন, তখন কেবল গান গাওয়া নয় বরং লক্ষ্য ছিল অস্তিত্বের ঘোষণা দেওয়া। ‘পাকিস্তান সরকার যখন রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করতে চাইল, তখন পহেলা বৈশাখ হয়ে উঠল আমাদের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র’, তিনি বলছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেই সময় রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া ছিল একধরনের ‘সাংস্কৃতিক দ্রোহ’।

বটমূলের সেই গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ কেবল ঋতু আবাহন ছিল না, ছিল পাকিস্তানি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার ইশতেহার।

এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও মঙ্গল শোভাযাত্রা

আশির দশকে বাংলাদেশে যখন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের শাসন চলছে, তখন সংস্কৃতিমনা মানুষ আবারও রাজপথে নামে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্র-শিক্ষকরা এক অভিনব মিছিল বের করেন—যা আজ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে খ্যাত। মূলত সামরিক শাসনের অন্ধকার থেকে মুক্তির প্রত্যাশায় এটি শুরু হয়েছিল। অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর তাঁর লেখায় এই শোভাযাত্রাকে বাঙালির লৌকিক সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আশি ও নব্বই দশকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন: উৎসবের নতুন রসদ

আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনই মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণির হাতে উৎসব করার মতো নগদ অর্থ তুলে দেয়। তিনটি প্রধান খাত এই সময়ে অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়: তৈরি পোশাক শিল্প, রেমিট্যান্স এবং ক্ষুদ্রঋণ।

বিজিএমইএ এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এটি আকাশচুম্বী হতে থাকে। ১৯৯৪-৯৫ সালে এই আয় ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ১৯৯০ সালের দিকে এই শিল্পে শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫-৬ লাখ, যা নব্বইয়ের দশকের শেষে ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

মজার বিষয় হলো, এর প্রায় ৯০ শতাংশই ছিলেন নারী। অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, পোশাক শিল্পের এই নারী শ্রমিকদের হাতে নগদ অর্থ আসায় গ্রামীণ ও শহরতলীর অর্থনীতিতে কেনাকাটার ধুম পড়ে। পহেলা বৈশাখের নতুন শাড়ি বা পোশাক কেনা তখন থেকেই একটি ব্যাপক সামাজিক প্রথায় রূপ নিতে শুরু করে।

নব্বইয়ের দশকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৯৯০-৯১ সালে রেমিট্যান্স ছিল ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার, যা ১৯৯৯-২০০০ সালে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। প্রবাসী শ্রমিকদের এই টাকা গ্রামীণ মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনে। গ্রামের মেলাগুলোতে তখন মাটির পুতুলের পাশাপাশি প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের পণ্যের সমাহার দেখা দিতে শুরু করে, যা এই নতুন টাকার প্রবাহেরই ফল।

নব্বইয়ের দশকে গ্রামীণ ব্যাংক এবং ব্র্যাক-এর মতো এনজিওগুলোর মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণের প্রসার ঘটে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন (১৯৯৫) অনুযায়ী, সে সময় ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ছিল ২০ লক্ষাধিক এবং ঋণের পরিমাণ ছিল কয়েক হাজার কোটি টাকা। এই ক্ষুদ্রঋণের ফলে গ্রামীণ কুটির শিল্প পুনরুজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলার বাঁশ-বেত ও মাটির কারুপণ্য তৈরিতে এই ঋণের বড় অবদান ছিল।

মোবাইল অপারেটরদের যুগে বৈশাখের নতুন ব্র্যান্ডিং

একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে, বিশেষ করে ২০০৫ সালের দিকে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন প্রযুক্তির বিস্ফোরণ ঘটে। গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, একটেল (বর্তমান রবি) এবং এয়ারটেলের মতো টেলিকম কোম্পানিগুলো বাংলা নববর্ষকে তাদের ব্র্যান্ডিংয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়।

২০০৫ সালে গ্রামীণফোন তাদের ‘ডিজুস’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে তরুণদের বৈশাখ পালনের ধরনে পরিবর্তন আনে। বাংলালিংক শুরু করে বিশাল বিশাল আলপনা আঁকার কর্মসূচি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের ২০০৫-০৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যায়। এই কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করে কনসার্ট ও উৎসবের স্পনসর করা শুরু করে। পান্তা-ইলিশের বাণিজ্যিকীকরণ এবং ‘বৈশাখী অফার’—এই সংস্কৃতিগুলো মূলত ২০০৫ সালের পরবর্তী করপোরেট বিপ্লবেরই ফল।

সীমানা ছাড়িয়ে: প্রবাসে বাঙালির বৈশাখ

বাঙালির এই উৎসব এখন আর কেবল মানচিত্রের সীমানায় বন্দী নেই। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, লন্ডনের ব্রিক লেন কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই-আবুধাবিতে থাকা লাখো প্রবাসী বাংলাদেশি এখন মহাসমারোহে নববর্ষ পালন করেন। প্রবাসী লেখিকা ও গবেষক জেনিফার বার্লাক তাঁর বেঙ্গলি ডায়াসপোরা ইন দ্য ইউকে গবেষণায় দেখিয়েছেন, প্রবাসীদের কাছে পহেলা বৈশাখ মানে হলো স্বদেশের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া।

লন্ডনের বৈশাখী মেলা এখন ইউরোপের অন্যতম বড় দক্ষিণ এশীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা যখন মরুভূমির উত্তাপের মাঝেও লাল-সাদা পাঞ্জাবি পরে জড়ো হন, তখন তা কেবল আনন্দ নয়, বরং বিদেশের মাটিতে একখণ্ড বাংলাদেশ হয়ে ওঠে।

ফলে আজকের প্রেক্ষাপটে বাংলা নববর্ষ সত্যিকার অর্থেই একটি সর্বজনীন উৎসব। এটি বিশ্বের বিরল উৎসবগুলোর একটি, যার সঙ্গে কোনো ধর্মের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি যেমন কৃষকের উৎসব, তেমনি এটি করপোরেট এক্সিকিউটিভের উৎসব। বৈশাখের ভোরে যখন বর্ণিল সাজে মানুষ রাজপথে নেমে আসে, তখন ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে একটি জাতিসত্তাই প্রধান হয়ে ওঠে।

মধ্যযুগের খাজনা আদায় থেকে শুরু হয়ে আজকের এই ডিজিটাল ও গ্লোবাল মহোৎসব—বিবর্তনের পথটা ছিল দীর্ঘ। কখনো এটি ছিল রাজস্বের মাধ্যম, কখনো প্রতিবাদের ভাষা, আর এখন এটি আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। প্রযুক্তি বদলেছে, অর্থনীতির ধরন বদলেছে, কিন্তু বৈশাখের সেই আবেদন— মলিন মর্ম মুছায়ে নতুন করে বাঁচার যে স্বপ্ন—তা আজও অমলিন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত