নাহিদা নাহিদ

কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের একটি কবিতার দুটি পংক্তি—‘খোদা আমাকে মানুষ বানালো, আমি হতে চেয়েছিলাম বই।’ হ্যাঁ একজন সংবেদনশীল, সৃষ্টিপ্রবণ মানুষের কাছে বইয়ের অস্তিত্ব একটা মানব জনমের চেয়েও অধিক মূল্যবান। বইয়ের শ্রেষ্ঠত্ব গ্রহণসাপেক্ষ, প্রমাণ সাপেক্ষ নয়। বই সংগ্রহ কারো কারো নেশা, ছোট একটা লাইব্রেরি হলেও যার থাকে তার নিজেকে আত্মিক ধনী মনে করাটা সহজ।
সৈয়দ মুজতবা আলী যেমনটা বলতেন, বই কিনে কেউ কখনো দেউলিয়া হয় না; বরং যার বাড়িতে বই নেই, সে-ই প্রকৃত অর্থে দরিদ্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে বইকে দেখেছিলেন এক শান্ত মহাসমুদ্র হিসেবে, যেখানে মানুষের হৃদয়ের উত্থান-পতনের শব্দ শোনা যায়। তাঁর চোখে লাইব্রেরি ছিল মানুষের তৈরি এক অমরলোক, যেখানে শত বছরের কল্লোল একটি শঙ্খের মধ্যে জমা হয়ে থাকে। রোমান মনীষী সিসেরো তো বলেই দিয়েছেন, বইহীন ঘর আর প্রাণহীন দেহ মূলত একই কথা। হুমায়ূন আহমেদের কাছে বই ছিল এমন এক বন্ধু, যে কেবল দিতে জানে কিন্তু বিনিময়ে কিছুই নিতে জানে না।
এই প্রাণহীন যান্ত্রিক জগত থেকে মুক্তি পেতে মানুষ যুগে যুগে বইয়ের কাছেই ফিরেছে। বইকে কেমন হতে হয়? ফ্রানৎস কাফকার মতে, একটি বইয়ের হওয়া উচিত আমাদের ভেতরে জমে থাকা বরফ-সমুদ্র কাটার এক ধারালো কুঠারের মতো। এই সুরক্ষার নেশাতেই মানুষ ‘বিবলিওম্যানিয়া’ বা বই সংগ্রহের প্রবল নেশায় আক্রান্ত হবে। প্রমথ চৌধুরীর মতে, সুশিক্ষিত লোকমাত্রই স্বশিক্ষিত, তিনি লাইব্রেরিকে হাসপাতালের চেয়েও বেশি উপকারী মনে করেন। জর্জ আর. আর. মার্টিন যথার্থই বলেছেন যে, একজন পাঠক মরার আগে এক হাজার জীবন যাপন করে, আর যে বই পড়ে না সে বাঁচে কেবল একবার।
কিন্তু বর্তমান সময়টা বইয়ের জন্য সংকটের। একসময় যেমন বিশ্বসাহিত্যে শোরগোল উঠেছিল, ‘ছোটগল্প কি মরে যাচ্ছে?’ আধুনিক এই যান্ত্রিক সময়েও একই প্রশ্ন উঠছে, ‘বইয়ের কি মৃত্যু ঘটছে?’ ই-বুক, অডিও বুক আর তথ্যের দ্রুতগামী প্রবাহের এই যুগে মুদ্রণ যন্ত্রের ঘড়ঘড়ানি থেমে যাওয়ার আশঙ্কা অমূলক নয়। কিন্তু বই তার অস্তিত্বে যে পূর্ণতার শক্তি বহন করে, তা কি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব? বিশ্বখ্যাত চিন্তাবিদ উমবার্তো একোর ভাষায়, বই হলো চাকা বা কাঁচির মতো এমন এক স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিখুঁত আবিষ্কার, যাকে নতুন করে উন্নত করার কিছু নেই; এটি তার পূর্ণতা নিয়েই জন্মেছে।
বিশিষ্ট লেখক ফিলিপ পুলম্যানও বই সম্পর্কে বলেছেন, ‘চাকার পরেই মানুষের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে বই হলো সেরা।’ কিন্তু সমকালীন বাস্তবতা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। মানুষ ক্রমশ কাগুজে বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। শুধু কাগুজে নয়, সবধরনের বইপড়ার প্রতিই মানুষের একধরনের চরম ঔদাসীন্য চলমান। আধুনিক মানুষের এই পাঠবিমুখতার প্রধান কারণ স্ক্রিন-কালচারের আগ্রাসন। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম আমাদের মস্তিষ্ককে ইনস্ট্যান্ট ডোপামিনে অভ্যস্ত করে তুলেছে, ফলে একটি গভীর মননশীল বই পড়ার জন্য যে ধৈর্য ও একাগ্রতা প্রয়োজন, তা হারিয়ে যাচ্ছে। তথ্যের অতিপ্রবাহে মানুষ এখন গভীরে যাওয়ার চেয়ে ভাসা-ভাসা স্ক্রলিংয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বিনোদনের অসংখ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভিড়ে বই পড়ার সেই ধ্রুপদী অভ্যাস এখন অনেকের কাছেই ধীরগতির বলে মনে হয়।
কিন্তু ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলার দিকে তাকালে বোঝা যায়, বই আসলে মরছে না, বই কেবল তার নতুন খোলস পাল্টাচ্ছে। প্রাচীন চীনে ৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে যখন বিশ্বের প্রথম মুদ্রিত বই ‘ডায়মন্ড সূত্র’ আত্মপ্রকাশ করে, কিংবা ১৪৫৫ সালে জোহানেস গুটেনবার্গের প্রেসে যখন প্রথম আধুনিক ‘৪২-লাইনের বাইবেল’ প্রকাশ করে, তখন থেকেই বই তার অমরত্বের প্রমাণ দিয়ে আসছে। অতীতে বইয়ের সংকট মোকাবিলায় বিদ্বৎসমাজ সমাজের প্রয়াস যেমন ছিল, এখনো আছে। একদম শুরুর দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উইপোকা বা আর্দ্রতার মতো প্রাকৃতিক শত্রু ছাড়াও বইকে লড়তে হয়েছে মানুষের অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে।
প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা মধ্যযুগে নালন্দার বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার ধ্বংস করার মতো ঘটনাগুলো মানবসভ্যতার স্মৃতি মুছে ফেলারই অপচেষ্টা বলা যায়। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের ঘটা করে বই পোড়ানোর উৎসব প্রমাণ করে, বইয়ের শক্তিকে শাসকরা সব সময়ই ভয় পেয়েছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগের পণ্ডিতরা বইকে রক্ষার জন্য ‘অনুবাদ আন্দোলন’ ও ‘অনুলিপি’ তৈরির প্রথা চালু করেছিলেন, যাতে একটি পাণ্ডুলিপি ধ্বংস হলেও জ্ঞান টিকে থাকে যুগের পর যুগ। মধ্যযুগীয় লাইব্রেরিগুলোতে বইকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার চেইনড লাইব্রেরি পদ্ধতি কিংবা প্রাচীন ভারতে পুঁথিকে বিশেষ ভেষজ প্রলেপ দিয়ে টিকিয়ে রাখার কৌশলগুলো ছিল বইকে অমর করার এক নিরন্তর সংগ্রাম।
অতীতের সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও বইকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় প্রাজ্ঞজন ও গবেষকরা প্রযুক্তিবান্ধব কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তাঁরা প্রাচীন এবং দুর্লভ পাণ্ডুলিপিগুলোকে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে চিরস্থায়ী রূপ দিচ্ছেন, যাতে মূল কপি নষ্ট হলেও তার জ্ঞান বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের আর্কাইভে সুরক্ষিত থাকে। মুদ্রণ উপকরণের ক্রমবর্ধমান মূল্য মোকাবিলায় প্রকাশকরা অন-ডিমান্ড প্রিন্টিং এবং মানসম্মত ই-বুক সংস্করণ জনপ্রিয় করছেন। এ ছাড়া পাঠককে বইমুখী করতে আমাদের দেশেই পাড়া-মহল্লায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি স্থাপন এবং অমর একুশে বইমেলার মতো উৎসবগুলোকে জাতীয় চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছেন। ফলত, বইয়ের ফরম্যাট পাল্টালেও তার অন্তর্নিহিত আত্মার মৃত্যু অসম্ভব।
বই কেবল একটি পণ্য নয়; বই একটি তৃষ্ণা। বইয়েট ক্ষেত্রে আরব্য উপন্যাসের একটি আদিম প্রবাদ সব সময়ের জন্যই অকাট্য। প্রবাদটি বলে, ‘একটি বই হলো একটি বাগান যা আপনি আপনার পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারেন।’ হোর্হে লুইস বোরহেস কাছে স্বর্গ হচ্ছে কিছু বইয়ের সমষ্টির এক বিশাল লাইব্রেরি। প্রকৃতই সেই স্বর্গের সন্ধানেই মানুষ আজও মলাট ওল্টায়। যতক্ষণ পৃথিবীতে মানুষের কৌতুহল ও কল্পনাশক্তি জাগ্রত থাকবে, ততক্ষণ অক্ষর ও আত্মার এই অবিনশ্বর পথচলা থামবে না। বই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে তার নতুন কোনো অবয়বে, মানুষের হৃদয়ের সবটুকু উত্তাপ নিয়ে।

কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের একটি কবিতার দুটি পংক্তি—‘খোদা আমাকে মানুষ বানালো, আমি হতে চেয়েছিলাম বই।’ হ্যাঁ একজন সংবেদনশীল, সৃষ্টিপ্রবণ মানুষের কাছে বইয়ের অস্তিত্ব একটা মানব জনমের চেয়েও অধিক মূল্যবান। বইয়ের শ্রেষ্ঠত্ব গ্রহণসাপেক্ষ, প্রমাণ সাপেক্ষ নয়। বই সংগ্রহ কারো কারো নেশা, ছোট একটা লাইব্রেরি হলেও যার থাকে তার নিজেকে আত্মিক ধনী মনে করাটা সহজ।
সৈয়দ মুজতবা আলী যেমনটা বলতেন, বই কিনে কেউ কখনো দেউলিয়া হয় না; বরং যার বাড়িতে বই নেই, সে-ই প্রকৃত অর্থে দরিদ্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে বইকে দেখেছিলেন এক শান্ত মহাসমুদ্র হিসেবে, যেখানে মানুষের হৃদয়ের উত্থান-পতনের শব্দ শোনা যায়। তাঁর চোখে লাইব্রেরি ছিল মানুষের তৈরি এক অমরলোক, যেখানে শত বছরের কল্লোল একটি শঙ্খের মধ্যে জমা হয়ে থাকে। রোমান মনীষী সিসেরো তো বলেই দিয়েছেন, বইহীন ঘর আর প্রাণহীন দেহ মূলত একই কথা। হুমায়ূন আহমেদের কাছে বই ছিল এমন এক বন্ধু, যে কেবল দিতে জানে কিন্তু বিনিময়ে কিছুই নিতে জানে না।
এই প্রাণহীন যান্ত্রিক জগত থেকে মুক্তি পেতে মানুষ যুগে যুগে বইয়ের কাছেই ফিরেছে। বইকে কেমন হতে হয়? ফ্রানৎস কাফকার মতে, একটি বইয়ের হওয়া উচিত আমাদের ভেতরে জমে থাকা বরফ-সমুদ্র কাটার এক ধারালো কুঠারের মতো। এই সুরক্ষার নেশাতেই মানুষ ‘বিবলিওম্যানিয়া’ বা বই সংগ্রহের প্রবল নেশায় আক্রান্ত হবে। প্রমথ চৌধুরীর মতে, সুশিক্ষিত লোকমাত্রই স্বশিক্ষিত, তিনি লাইব্রেরিকে হাসপাতালের চেয়েও বেশি উপকারী মনে করেন। জর্জ আর. আর. মার্টিন যথার্থই বলেছেন যে, একজন পাঠক মরার আগে এক হাজার জীবন যাপন করে, আর যে বই পড়ে না সে বাঁচে কেবল একবার।
কিন্তু বর্তমান সময়টা বইয়ের জন্য সংকটের। একসময় যেমন বিশ্বসাহিত্যে শোরগোল উঠেছিল, ‘ছোটগল্প কি মরে যাচ্ছে?’ আধুনিক এই যান্ত্রিক সময়েও একই প্রশ্ন উঠছে, ‘বইয়ের কি মৃত্যু ঘটছে?’ ই-বুক, অডিও বুক আর তথ্যের দ্রুতগামী প্রবাহের এই যুগে মুদ্রণ যন্ত্রের ঘড়ঘড়ানি থেমে যাওয়ার আশঙ্কা অমূলক নয়। কিন্তু বই তার অস্তিত্বে যে পূর্ণতার শক্তি বহন করে, তা কি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব? বিশ্বখ্যাত চিন্তাবিদ উমবার্তো একোর ভাষায়, বই হলো চাকা বা কাঁচির মতো এমন এক স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিখুঁত আবিষ্কার, যাকে নতুন করে উন্নত করার কিছু নেই; এটি তার পূর্ণতা নিয়েই জন্মেছে।
বিশিষ্ট লেখক ফিলিপ পুলম্যানও বই সম্পর্কে বলেছেন, ‘চাকার পরেই মানুষের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে বই হলো সেরা।’ কিন্তু সমকালীন বাস্তবতা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। মানুষ ক্রমশ কাগুজে বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। শুধু কাগুজে নয়, সবধরনের বইপড়ার প্রতিই মানুষের একধরনের চরম ঔদাসীন্য চলমান। আধুনিক মানুষের এই পাঠবিমুখতার প্রধান কারণ স্ক্রিন-কালচারের আগ্রাসন। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম আমাদের মস্তিষ্ককে ইনস্ট্যান্ট ডোপামিনে অভ্যস্ত করে তুলেছে, ফলে একটি গভীর মননশীল বই পড়ার জন্য যে ধৈর্য ও একাগ্রতা প্রয়োজন, তা হারিয়ে যাচ্ছে। তথ্যের অতিপ্রবাহে মানুষ এখন গভীরে যাওয়ার চেয়ে ভাসা-ভাসা স্ক্রলিংয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বিনোদনের অসংখ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভিড়ে বই পড়ার সেই ধ্রুপদী অভ্যাস এখন অনেকের কাছেই ধীরগতির বলে মনে হয়।
কিন্তু ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলার দিকে তাকালে বোঝা যায়, বই আসলে মরছে না, বই কেবল তার নতুন খোলস পাল্টাচ্ছে। প্রাচীন চীনে ৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে যখন বিশ্বের প্রথম মুদ্রিত বই ‘ডায়মন্ড সূত্র’ আত্মপ্রকাশ করে, কিংবা ১৪৫৫ সালে জোহানেস গুটেনবার্গের প্রেসে যখন প্রথম আধুনিক ‘৪২-লাইনের বাইবেল’ প্রকাশ করে, তখন থেকেই বই তার অমরত্বের প্রমাণ দিয়ে আসছে। অতীতে বইয়ের সংকট মোকাবিলায় বিদ্বৎসমাজ সমাজের প্রয়াস যেমন ছিল, এখনো আছে। একদম শুরুর দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উইপোকা বা আর্দ্রতার মতো প্রাকৃতিক শত্রু ছাড়াও বইকে লড়তে হয়েছে মানুষের অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে।
প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা মধ্যযুগে নালন্দার বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার ধ্বংস করার মতো ঘটনাগুলো মানবসভ্যতার স্মৃতি মুছে ফেলারই অপচেষ্টা বলা যায়। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের ঘটা করে বই পোড়ানোর উৎসব প্রমাণ করে, বইয়ের শক্তিকে শাসকরা সব সময়ই ভয় পেয়েছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগের পণ্ডিতরা বইকে রক্ষার জন্য ‘অনুবাদ আন্দোলন’ ও ‘অনুলিপি’ তৈরির প্রথা চালু করেছিলেন, যাতে একটি পাণ্ডুলিপি ধ্বংস হলেও জ্ঞান টিকে থাকে যুগের পর যুগ। মধ্যযুগীয় লাইব্রেরিগুলোতে বইকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার চেইনড লাইব্রেরি পদ্ধতি কিংবা প্রাচীন ভারতে পুঁথিকে বিশেষ ভেষজ প্রলেপ দিয়ে টিকিয়ে রাখার কৌশলগুলো ছিল বইকে অমর করার এক নিরন্তর সংগ্রাম।
অতীতের সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও বইকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় প্রাজ্ঞজন ও গবেষকরা প্রযুক্তিবান্ধব কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তাঁরা প্রাচীন এবং দুর্লভ পাণ্ডুলিপিগুলোকে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে চিরস্থায়ী রূপ দিচ্ছেন, যাতে মূল কপি নষ্ট হলেও তার জ্ঞান বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের আর্কাইভে সুরক্ষিত থাকে। মুদ্রণ উপকরণের ক্রমবর্ধমান মূল্য মোকাবিলায় প্রকাশকরা অন-ডিমান্ড প্রিন্টিং এবং মানসম্মত ই-বুক সংস্করণ জনপ্রিয় করছেন। এ ছাড়া পাঠককে বইমুখী করতে আমাদের দেশেই পাড়া-মহল্লায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি স্থাপন এবং অমর একুশে বইমেলার মতো উৎসবগুলোকে জাতীয় চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছেন। ফলত, বইয়ের ফরম্যাট পাল্টালেও তার অন্তর্নিহিত আত্মার মৃত্যু অসম্ভব।
বই কেবল একটি পণ্য নয়; বই একটি তৃষ্ণা। বইয়েট ক্ষেত্রে আরব্য উপন্যাসের একটি আদিম প্রবাদ সব সময়ের জন্যই অকাট্য। প্রবাদটি বলে, ‘একটি বই হলো একটি বাগান যা আপনি আপনার পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারেন।’ হোর্হে লুইস বোরহেস কাছে স্বর্গ হচ্ছে কিছু বইয়ের সমষ্টির এক বিশাল লাইব্রেরি। প্রকৃতই সেই স্বর্গের সন্ধানেই মানুষ আজও মলাট ওল্টায়। যতক্ষণ পৃথিবীতে মানুষের কৌতুহল ও কল্পনাশক্তি জাগ্রত থাকবে, ততক্ষণ অক্ষর ও আত্মার এই অবিনশ্বর পথচলা থামবে না। বই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে তার নতুন কোনো অবয়বে, মানুষের হৃদয়ের সবটুকু উত্তাপ নিয়ে।

আজ সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। এ দিনে তাঁর অনুরাগীরা নানা কাজের মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করেন। তিনি অসামান্য প্রতিভাবান একজন চলচ্চিত্রকার হিসেবেই সবচেয়ে পরিচিত। স্বল্প যন্ত্রপাতি ও বাজেটে তিনি বানিয়েছেন অসাধারণ সব সিনেমা। রেখে গিয়েছেন হাতে করা নিখুঁত ইলাস্ট্রেশন। তবে গল্পকার সত্যজিৎ যেন অনেকটাই আলোচন
৪ ঘণ্টা আগে
বিশ্ব বই দিবসে এই শিরোনামটি দেখে আপনি হয়তো চমকে উঠছেন। কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন, সস্তা একটা ক্লিকবেইট, ফোকাস কমে যাওয়া আর অনন্ত কন্টেন্টের যুগে স্রেফ পাঠক ধরার ধান্দা। কেউ হয়তো ভ্রু কুঁচকে বা হেসে ভাবছেন, বই কীভাবে পড়তে হয় মানে? অক্ষরের পর অক্ষর গড়গড় করে পড়ে যাব। ব্যাস! বই পড়া আবার শিখতে হয় নাকি?
৪ ঘণ্টা আগে
ক্লাস সিক্সে পড়ি, সে সময়ে এক আত্মীয়ের বাড়ি গেলাম। বুকশেলফে রাখা বইগুলো উল্টেপাল্টে দেখছি, চোখ পড়ল কালবেলা নামে এক উপন্যাসের ওপর। হাতে নিতেই প্রায় ছোঁ মেরে আমার আত্মীয় বইটি তুলে নিলেন। ‘এসব বড়দের বই, পড়লে মানে বুঝবে না এসবের’। এভাবেই আমাদের অনেকের ‘বড়দের বই’য়ের সঙ্গে পরিচয়।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রত্যেকেরই শৈশব, কৈশোর বা যৌবনে চুরির ইতিহাস থাকে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে প্রতিবেশীর স্ত্রী এসে দুর্গাকে একটি পুঁতির মালা চুরির দায়ে অভিযুক্ত করেন। আর সেই চুরির প্রবণতাকে উৎসাহ দেওয়ার অপরাধে সর্বজয়াকে দোষী সাব্যস্ত করেন। দুর্গা যথারীতি সেই অভিযোগকে অস্বীকার করে।
৭ ঘণ্টা আগে