শুধু ফার্সি কবিতাই নয়, বিশ্বসাহিত্যের প্রতিও খামেনির ছিল দারুণ আগ্রহ। আজীবন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও পাশ্চাত্য সাহিত্যের বড় ভক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ভিক্টর হুগোর বিখ্যাত উপন্যাস ‘লে মিজারেবলস’ তাঁর অত্যন্ত প্রিয়।
ফাবিহা বিনতে হক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর মৃত্যুতে ইরানের রাজনীতিতে একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তিনি টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে তিনি যেমন অনেকের প্রশংসা পেয়েছেন, তেমনি নানা বিতর্কেও জড়িয়েছেন।
বিশ্বে তিনি একজন ক্ষমতাবান নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে এই কঠোর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তাঁর আরেকটি ব্যক্তিগত দিকও ছিল। তিনি ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী, এমনকি কবিতাও লিখতেন।
খামেনির জন্ম ১৯৩৯ সালে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে। নাজাফ এবং কোমের মতো বড় বড় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ধর্মীয় চিন্তাভাবনা। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই তিনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। ধর্মীয় নেতা নওয়াব সাফাভির বক্তব্য ও আন্দোলন তাঁর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
ধর্মীয় শিক্ষায় বেড়ে উঠলেও সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর টান ছিল। তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে। এছাড়া খামেনি অনেক সময়ই বক্তব্যে সাহিত্যের বিভিন্ন উদ্ধৃতি ব্যবহার করতেন যার মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যের প্রতি প্রবল অনুরাগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
রাশিয়ান সাহিত্যের প্রতি খামেনির গভীর ঝোঁক ছিল। বিশেষ করে ‘সোশ্যালিস্ট রিয়ালিজম’ বা সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদের সাহিত্যকর্মগুলো আগ্রহ নিয়ে পড়তেন। ইরানের এক গণমাধ্যমে খামেনির সাহিত্যপ্রীতি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লেখক লিখেছেন, খামেনি মনে করতেন সাহিত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং প্রতিটি উপন্যাসেরই সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট বার্তা দেয়।
মাদ্রাসার পড়াশোনার সময়ে খামেনি ফার্সি সাহিত্যের নামকরা সব বই পড়তেন। তরুণ বয়সে কবিতাও লিখতেন। নিজের লেখা কবিতাগুলো তিনি প্রকাশ করতেন ‘আমিন’ ছদ্মনামে। সে সময়কার বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডায় তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরেও তাঁর এই চর্চার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘খামেনি’স ফেইলড এটেম্পট টু বি এ পয়েট এন্ড এ ম্যান অফ লেটার্স” শীর্ষক প্রবন্ধে খামেনির কবি হতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি যে বড় কবি হয়ে উঠতে পারেননি, সেটিও স্বীকার করেছিলেন। ইরানের তৎকালীন কবিতা বোদ্ধা যেমন করিম আমিরি ফিরুজকুহি এবং মেহেদি আখাওয়ান সালেস খামেনিকে সেভাবে স্বীকৃতি দেননি। খামেনি নিজেই তাঁর জীবনীগ্রন্থে অকপটে এসব স্বীকার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি সাহিত্য আড্ডায় যেতাম এবং কবিতা বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করতাম। তাঁরা আমাকে অনেক কদর করত। তারপর একদিন আমিরি ফিরুজকুহি আমাকে বললেন, এটা বড় দুঃখের বিষয় যে আপনি কবিতার পেছনে আপনার সময় নষ্ট করছেন।’
আমিরি ফিরুজকুহিকে তিনি শিল্প সমালোচক হিসেবে মানতেন এবং তাঁর মতামত খামেনির কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। খামেনি লিখেছেন, ফিরুজকুহি আসলে ঘুরিয়ে কথা বলেছিলেন, যা আমাদের সংস্কৃতিরই একটি অংশ। ইরানে কেউ যদি মনে করে যে কোনো ব্যক্তি কোনো একটি কাজের জন্য অযোগ্য—তা যেকোনো কাজই হোক না কেন তখন তাকে সরাসরি না বলে এভাবেই ঘুরিয়ে বলা হয়, যাতে সে অপমানিত বোধ না করে।
শুধু ফার্সি কবিতাই নয়, বিশ্বসাহিত্যের প্রতিও খামেনির দারুণ আগ্রহ ছিল। আজীবন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও পাশ্চাত্য সাহিত্যের বড় ভক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ভিক্টর হুগোর বিখ্যাত উপন্যাস ‘লে মিজারেবলস’ তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। এই সাহ্যিত্যকর্মটি তাঁর এতটাই পছন্দের ছিল যে ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবন পার করার পরও তিনি বইটি কয়েকবার পড়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলেছেন।
দীর্ঘ ৩৬ বছরের শাসনে খামেনিকে নানা আন্তর্জাতিক চাপ ও সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও তিনি ইরানকে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর নামে অনেক বিতর্ক থাকলেও তিনি কখনো পশ্চিমাশক্তির কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর অনুসারীদের কাছে তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং এক বিশ্বস্ত অভিভাবক।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর মৃত্যুতে ইরানের রাজনীতিতে একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তিনি টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে তিনি যেমন অনেকের প্রশংসা পেয়েছেন, তেমনি নানা বিতর্কেও জড়িয়েছেন।
বিশ্বে তিনি একজন ক্ষমতাবান নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে এই কঠোর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তাঁর আরেকটি ব্যক্তিগত দিকও ছিল। তিনি ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী, এমনকি কবিতাও লিখতেন।
খামেনির জন্ম ১৯৩৯ সালে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে। নাজাফ এবং কোমের মতো বড় বড় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ধর্মীয় চিন্তাভাবনা। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই তিনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। ধর্মীয় নেতা নওয়াব সাফাভির বক্তব্য ও আন্দোলন তাঁর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
ধর্মীয় শিক্ষায় বেড়ে উঠলেও সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর টান ছিল। তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে। এছাড়া খামেনি অনেক সময়ই বক্তব্যে সাহিত্যের বিভিন্ন উদ্ধৃতি ব্যবহার করতেন যার মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যের প্রতি প্রবল অনুরাগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
রাশিয়ান সাহিত্যের প্রতি খামেনির গভীর ঝোঁক ছিল। বিশেষ করে ‘সোশ্যালিস্ট রিয়ালিজম’ বা সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদের সাহিত্যকর্মগুলো আগ্রহ নিয়ে পড়তেন। ইরানের এক গণমাধ্যমে খামেনির সাহিত্যপ্রীতি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লেখক লিখেছেন, খামেনি মনে করতেন সাহিত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং প্রতিটি উপন্যাসেরই সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট বার্তা দেয়।
মাদ্রাসার পড়াশোনার সময়ে খামেনি ফার্সি সাহিত্যের নামকরা সব বই পড়তেন। তরুণ বয়সে কবিতাও লিখতেন। নিজের লেখা কবিতাগুলো তিনি প্রকাশ করতেন ‘আমিন’ ছদ্মনামে। সে সময়কার বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডায় তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরেও তাঁর এই চর্চার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘খামেনি’স ফেইলড এটেম্পট টু বি এ পয়েট এন্ড এ ম্যান অফ লেটার্স” শীর্ষক প্রবন্ধে খামেনির কবি হতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি যে বড় কবি হয়ে উঠতে পারেননি, সেটিও স্বীকার করেছিলেন। ইরানের তৎকালীন কবিতা বোদ্ধা যেমন করিম আমিরি ফিরুজকুহি এবং মেহেদি আখাওয়ান সালেস খামেনিকে সেভাবে স্বীকৃতি দেননি। খামেনি নিজেই তাঁর জীবনীগ্রন্থে অকপটে এসব স্বীকার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি সাহিত্য আড্ডায় যেতাম এবং কবিতা বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করতাম। তাঁরা আমাকে অনেক কদর করত। তারপর একদিন আমিরি ফিরুজকুহি আমাকে বললেন, এটা বড় দুঃখের বিষয় যে আপনি কবিতার পেছনে আপনার সময় নষ্ট করছেন।’
আমিরি ফিরুজকুহিকে তিনি শিল্প সমালোচক হিসেবে মানতেন এবং তাঁর মতামত খামেনির কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। খামেনি লিখেছেন, ফিরুজকুহি আসলে ঘুরিয়ে কথা বলেছিলেন, যা আমাদের সংস্কৃতিরই একটি অংশ। ইরানে কেউ যদি মনে করে যে কোনো ব্যক্তি কোনো একটি কাজের জন্য অযোগ্য—তা যেকোনো কাজই হোক না কেন তখন তাকে সরাসরি না বলে এভাবেই ঘুরিয়ে বলা হয়, যাতে সে অপমানিত বোধ না করে।
শুধু ফার্সি কবিতাই নয়, বিশ্বসাহিত্যের প্রতিও খামেনির দারুণ আগ্রহ ছিল। আজীবন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও পাশ্চাত্য সাহিত্যের বড় ভক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ভিক্টর হুগোর বিখ্যাত উপন্যাস ‘লে মিজারেবলস’ তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। এই সাহ্যিত্যকর্মটি তাঁর এতটাই পছন্দের ছিল যে ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবন পার করার পরও তিনি বইটি কয়েকবার পড়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলেছেন।
দীর্ঘ ৩৬ বছরের শাসনে খামেনিকে নানা আন্তর্জাতিক চাপ ও সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও তিনি ইরানকে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর নামে অনেক বিতর্ক থাকলেও তিনি কখনো পশ্চিমাশক্তির কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর অনুসারীদের কাছে তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং এক বিশ্বস্ত অভিভাবক।

মনে রাখবেন, টাকা জমানো আর জীবন উপভোগ করার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। নির্দিষ্ট সীমা মেনে চললে আজকের দিনটাও সুন্দর হবে। আবার ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
১ ঘণ্টা আগে
অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কি মানুষের মতো অতীত রোমন্থন করতে পারে? নাকি তাদের স্মৃতি কেবল খাবার আর বাসস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের স্মৃতিশক্তি আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
২০ ঘণ্টা আগে
কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার সাধারণ জীবনযাপনের সঙ্গে দুনিয়া কাঁপানো সুপারস্টারদের দারুণ একটি মিল রয়েছে? শুনতে অবাক লাগলেও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কথাটি একদম সত্য। ক্যালিফোর্নিয়ার মনোবিজ্ঞানী রবার্ট পাফ তাঁর প্রবন্ধে এমন কথাই বলেছেন। আমাদের সবার জীবনেই ‘অদৃশ্য দর্শক’ বা ‘ইনভিজিবল অডিয়েন্স’ রয়েছে, যা
১ দিন আগে
সম্প্রতি ওমানে গাড়ির ভেতরে চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাতে ময়নাতদন্তের পর কার্বন মনোক্সাইডে শ্বাস গ্রহণকে কারণ হিসেবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।
২ দিন আগে