ফাবিহা বিনতে হক

রাস্তাঘাটে তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটি, রিকশাচালকের সঙ্গে অহেতুক তর্ক কিংবা বাসে কন্ডাক্টরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা—সবই যেন আমাদের রাস্তাঘাটের চেনা চিত্র। কিন্তু গরম আসলে এমন পরিস্থিতি আরও বেড়ে যায়।
সূর্যের তেজ যত বাড়ে, মনে হয় যেন রাগের তেজও তত বাড়তে থাকে। একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘হিট হাইপোথিসিস’ বা ‘হিট–অ্যাগ্রেশন হাইপোথিসিস’ (তাপমাত্রা ও আক্রমণাত্মক আচরণের সম্পর্ক) বলা হয়।
তীব্র গরমে আমাদের শরীর এক ধরনের তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া (থার্মোরেগুলেশন) সক্রিয় করে। বাইরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে আমাদের শরীরেও কিছু পরিবর্তন আসে। যেমন শরীর শীতল রাখতে ঘাম এবং ত্বকে রক্তপ্রবাহ বাড়ে; এ সময় হৃদস্পন্দনও বেড়ে যেতে পারে। এই শারীরিক পরিবর্তনের ফলে শরীরে অস্বস্তি তৈরি হয়, যা খিটখিটে মেজাজ, ক্লান্তি ও ধৈর্যহীনতা বাড়াতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, অতিরিক্ত তাপে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন (যা আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে) হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেড়ে যেতে পারে। ফলে আমরা অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পড়ি।
এ ছাড়া তীব্র গরমে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, পানিশূন্যতা তৈরি হয়। আমরা অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। এই সবকিছুর সম্মিলিত ফলাফল হলো মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা অল্পতেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলা।
তাপমাত্রার সঙ্গে মানুষের আচরণের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েক দশকে বেশকিছু গবেষণা হয়েছে। গবেষকদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে অপরাধ ও অস্থিরতার সম্পর্ক থাকতে পারে। এর মধ্যে অ্যান্ডারসনের ‘হিট হাইপোথিসিস’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. ক্রেইগ অ্যান্ডারসন অনেক বছর ধরে এই বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের মধ্যে আক্রমণাত্মক আচরণের প্রবণতা বাড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের দিনে ঠান্ডা দিনের তুলনায় সহিংস অপরাধের হার কিছু ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে।
একই বিষয়ে বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ‘ল্যানসেট’-এর বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কারণে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার ঝুঁকি, হাসপাতালে ভর্তি এবং সংশ্লিষ্ট মৃত্যুহারের একটি সম্পর্ক থাকতে পারে।

এদিকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মার্শাল বার্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলের গবেষকরা একটি বড় সমীক্ষা চালিয়েছেন। তাঁদের মতে, তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সহিংসতা (যেমন মারামারি বা ঘরোয়া সহিংসতা) ৪ শতাংশ এবং গোষ্ঠীগত সংঘাত ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাঁদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সহিংস আচরণের ঝুঁকি পরিমিত হারে বাড়তে দেখা যায়।
অনেকের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে মরুভূমি বা গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষের রক্ত গরম। তবে আধুনিক বিজ্ঞান বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে।
গবেষকদের মতে, গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মানুষ এই তাপমাত্রায় অভ্যস্ত হওয়ার প্রক্রিয়া বা ‘অ্যাডাপ্টেশন’ তৈরি করে ফেলে। তবে তাপমাত্রা সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে গেলে সমস্যা শুরু হয়। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যানজট, শব্দদূষণ, ধুলাবালি বেড়ে যায়। ফলে বিরক্তি ও মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
গরম তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন গরমে প্রচুর পানি পান করুন। পানিশূন্যতা মনোযোগ, ক্লান্তি ও মেজাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সারাদিন অল্প অল্প করে একটু পর পর পানি পান করুন।
এ ছাড়া গরমের কারণে রাতে ঘুম না হলে মেজাজ ঠিক রাখা কঠিন। দুপুরের দিকে সামান্য বিশ্রাম বা রাতে ঠান্ডা পরিবেশে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। গরমে অতিরিক্ত ভারী বা অস্বস্তিকর খাবার এড়িয়ে হালকা ধরনের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
গরমে খুব প্রয়োজন না হলে দুপুরের কড়া রোদ যাবেন না। অতিরিক্ত তাপমাত্রা শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে, তাই বাইরে যাওয়ার সময় ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা যেতে পারে।
সবশেষে, যদি বুঝতে পারেন গরমের কারণে আপনার অস্বস্তি বাড়ছে, তাহলে সেই মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় তর্ক এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।

রাস্তাঘাটে তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটি, রিকশাচালকের সঙ্গে অহেতুক তর্ক কিংবা বাসে কন্ডাক্টরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা—সবই যেন আমাদের রাস্তাঘাটের চেনা চিত্র। কিন্তু গরম আসলে এমন পরিস্থিতি আরও বেড়ে যায়।
সূর্যের তেজ যত বাড়ে, মনে হয় যেন রাগের তেজও তত বাড়তে থাকে। একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘হিট হাইপোথিসিস’ বা ‘হিট–অ্যাগ্রেশন হাইপোথিসিস’ (তাপমাত্রা ও আক্রমণাত্মক আচরণের সম্পর্ক) বলা হয়।
তীব্র গরমে আমাদের শরীর এক ধরনের তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া (থার্মোরেগুলেশন) সক্রিয় করে। বাইরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে আমাদের শরীরেও কিছু পরিবর্তন আসে। যেমন শরীর শীতল রাখতে ঘাম এবং ত্বকে রক্তপ্রবাহ বাড়ে; এ সময় হৃদস্পন্দনও বেড়ে যেতে পারে। এই শারীরিক পরিবর্তনের ফলে শরীরে অস্বস্তি তৈরি হয়, যা খিটখিটে মেজাজ, ক্লান্তি ও ধৈর্যহীনতা বাড়াতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, অতিরিক্ত তাপে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন (যা আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে) হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেড়ে যেতে পারে। ফলে আমরা অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পড়ি।
এ ছাড়া তীব্র গরমে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, পানিশূন্যতা তৈরি হয়। আমরা অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। এই সবকিছুর সম্মিলিত ফলাফল হলো মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা অল্পতেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলা।
তাপমাত্রার সঙ্গে মানুষের আচরণের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েক দশকে বেশকিছু গবেষণা হয়েছে। গবেষকদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে অপরাধ ও অস্থিরতার সম্পর্ক থাকতে পারে। এর মধ্যে অ্যান্ডারসনের ‘হিট হাইপোথিসিস’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. ক্রেইগ অ্যান্ডারসন অনেক বছর ধরে এই বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের মধ্যে আক্রমণাত্মক আচরণের প্রবণতা বাড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের দিনে ঠান্ডা দিনের তুলনায় সহিংস অপরাধের হার কিছু ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে।
একই বিষয়ে বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ‘ল্যানসেট’-এর বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কারণে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার ঝুঁকি, হাসপাতালে ভর্তি এবং সংশ্লিষ্ট মৃত্যুহারের একটি সম্পর্ক থাকতে পারে।

এদিকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মার্শাল বার্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলের গবেষকরা একটি বড় সমীক্ষা চালিয়েছেন। তাঁদের মতে, তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সহিংসতা (যেমন মারামারি বা ঘরোয়া সহিংসতা) ৪ শতাংশ এবং গোষ্ঠীগত সংঘাত ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাঁদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সহিংস আচরণের ঝুঁকি পরিমিত হারে বাড়তে দেখা যায়।
অনেকের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে মরুভূমি বা গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষের রক্ত গরম। তবে আধুনিক বিজ্ঞান বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে।
গবেষকদের মতে, গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মানুষ এই তাপমাত্রায় অভ্যস্ত হওয়ার প্রক্রিয়া বা ‘অ্যাডাপ্টেশন’ তৈরি করে ফেলে। তবে তাপমাত্রা সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে গেলে সমস্যা শুরু হয়। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যানজট, শব্দদূষণ, ধুলাবালি বেড়ে যায়। ফলে বিরক্তি ও মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
গরম তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন গরমে প্রচুর পানি পান করুন। পানিশূন্যতা মনোযোগ, ক্লান্তি ও মেজাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সারাদিন অল্প অল্প করে একটু পর পর পানি পান করুন।
এ ছাড়া গরমের কারণে রাতে ঘুম না হলে মেজাজ ঠিক রাখা কঠিন। দুপুরের দিকে সামান্য বিশ্রাম বা রাতে ঠান্ডা পরিবেশে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। গরমে অতিরিক্ত ভারী বা অস্বস্তিকর খাবার এড়িয়ে হালকা ধরনের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
গরমে খুব প্রয়োজন না হলে দুপুরের কড়া রোদ যাবেন না। অতিরিক্ত তাপমাত্রা শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে, তাই বাইরে যাওয়ার সময় ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা যেতে পারে।
সবশেষে, যদি বুঝতে পারেন গরমের কারণে আপনার অস্বস্তি বাড়ছে, তাহলে সেই মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় তর্ক এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।

মনে রাখবেন, টাকা জমানো আর জীবন উপভোগ করার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। নির্দিষ্ট সীমা মেনে চললে আজকের দিনটাও সুন্দর হবে। আবার ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
১ ঘণ্টা আগে
অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কি মানুষের মতো অতীত রোমন্থন করতে পারে? নাকি তাদের স্মৃতি কেবল খাবার আর বাসস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের স্মৃতিশক্তি আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
২০ ঘণ্টা আগে
কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার সাধারণ জীবনযাপনের সঙ্গে দুনিয়া কাঁপানো সুপারস্টারদের দারুণ একটি মিল রয়েছে? শুনতে অবাক লাগলেও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কথাটি একদম সত্য। ক্যালিফোর্নিয়ার মনোবিজ্ঞানী রবার্ট পাফ তাঁর প্রবন্ধে এমন কথাই বলেছেন। আমাদের সবার জীবনেই ‘অদৃশ্য দর্শক’ বা ‘ইনভিজিবল অডিয়েন্স’ রয়েছে, যা
১ দিন আগে
সম্প্রতি ওমানে গাড়ির ভেতরে চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাতে ময়নাতদন্তের পর কার্বন মনোক্সাইডে শ্বাস গ্রহণকে কারণ হিসেবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।
২ দিন আগে