আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ–৫
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর ষষ্ঠ পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
তারেক অণু

বিশ্রামের জন্য চমৎকার একটা সকাল ছিল আজ। কিন্তু শরীর তো আর ঘড়ি মানে না! ভোর ৪টায় ঘুম ভেঙে গেল। সেই যে ‘জেট ল্যাগ’ নামের সিন্দাবাদের অদৃশ্য দৈত্যটা ঘাড়ে চেপেছে, সে কিছুটা নমনীয় হলেও এখনও পুরোপুরি নামেনি।
বিছানায় এপাশ-ওপাশ না করে ভাবলাম বই পড়ি। চোখ আটকে গেল হুমায়ূন আহমেদের ভ্রমণসমগ্রে। অনেক বছর আগে তাঁর আমেরিকা নিয়ে লেখা পড়েছিলাম। ভাবলাম আরেকবার ঝালিয়ে নেই, যদি কোনো দরকারি তথ্য পাওয়া যায়।
প্রাইমারি স্কুলে এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে ‘হোটেল গ্রেভার ইন’ পড়েছিলাম। বন্ধুটি বইটা ছিঁড়ে ফেলতে চেয়েছিল কারণ সেখানে নাকি ‘অসভ্য’ কিছু কথা ছিল! সেটা শুনেই আসলে বইটার প্রতি আমার আগ্রহ বেড়েছিল। এখন আবারও পড়লাম। এটা ঠিক ভ্রমণ কাহিনী নয়, বরং লেখকের পিএইচডি করার সময়ের গল্প।

এটা যাও-বা পড়া গেল, ‘মে ফ্লাওয়ার’ আর ‘যশোহা বৃক্ষের দেশে’ পড়ে রীতিমত বিরক্ত হলাম। তরতর করে পড়া যায়, এছাড়া এই তিন বই নিয়ে কিছু বলার নেই। লাভের মধ্যে জানলাম যে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ল্যাটিন কোয়ার্টারে প্রিয় একাধিক লেখক থেকেছেন জীবন পথের বাঁকে। ঠিক করলাম, ওখানে গিয়ে সেই বাড়িগুলো খুঁজে বের করতে হবে।
সকালে নীলু আপু ওভেন থেকে গরম গরম ব্লুবেরি কেক বের করলেন। দারুণ সুস্বাদু কেক চেটেপুটে চা সহকারে খেয়ে গাছের ছায়ায় দোলনায় দুলতে দুলতেই মধ্যাহ্নভোজনের সময় হাজির! এরপর আমরা গেলাম কাছের এক বন পার্কে হাঁটতে। পার্কটির নাম একসময়ের বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা ‘বারগেস মেরেডিথ’-এর নামে। তিনি এই এলাকাতেই থাকতেন।
বনের ভেতর হাঁটার জন্য চমৎকার ট্রেইল আছে। দুপাশে উঁচু উঁচু গাছ, চারদিকে সবুজের মেলা। এমন কী বয়ে চলা জলধারাও আছে, যার শব্দ শুনে রবার্ট ফ্রষ্টের ‘The Hyla Brook’ কবিতার শেষ লাইনটা বারবার মনে আসছে, ‘We love the things we love, for what they are’

আমাদের সঙ্গে হাঁটার জন্য যোগ দিয়েছিলেন ক্যারোলিনা থেকে আসা শিরীন আপু। তিনি গত ৪০ বছর ধরে আমেরিকায় আছেন, রসায়নের প্রফেসর এবং চমৎকার কবিতা আবৃত্তি করেন। মৃদুমন্দ বাতাস আমাদের ছুঁয়ে দিতেই, তিনি বলে গেলেন বাতাসের সঙ্গে সঙ্গেই—
বাতাস যেতেছে বহি
তুমি কেন রহি রহি
তারি মাঝে ফেল দীর্ঘশ্বাস
সুদূরে বাজিছে বাঁশী
তুমি কেন ঢালো আসি
তারই মাঝে বিলাপ উচ্ছাস।
উঠিছে প্রভাত রবি
আকিঁছে সোনার ছবি
তুমি কেন ফেলো তাহে ছায়া
বারেক যে চলে যায়
কেহ তো তারে না চায়
তবু কেন তার এত মায়া!
পথের ধারে একটা চমৎকার সাদা ফুলের গাছ দেখলাম। দেখতে অনেকটা চালতা ফুলের মতো, কিন্তু আকারে ছোট। তার যে কী মিষ্টি ঘ্রাণ! সেন্ট বা সুগন্ধি বললে একে ছোট করা হবে, একে বলা যায় সত্যিকারের ‘অ্যারোমা’। জানতে পারলাম এর নাম ‘সসার ম্যাগনোলিয়া’।

হাঁটতে হাঁটতে জীবনের প্রথমবার সামনে থেকে কাঠবেড়ালি জাতীয় প্রাণী ‘চিপমাঙ্ক’। বড্ড বেশী কিউট। গাল ফুলিয়ে খাবার জমিয়ে রাখার দৃশ্যটা এত কিউট যে এক নিমেষেই মন ভালো হয়ে যায়। শিরীন আপুকে বলতেই তিনি আবারও আশ্রয় নিলেন রবি ঠাকুরে—
তোমার কাছে চাই নি কিছু,
জানাই নি মোর নাম--
তুমি যখন বিদায় নিলে
নীরব রহিলাম।
যখন তুমি শুধালে নাম
পেলেম বড়ো লাজ,
তোমার মনে থাকার মতো
করেছি কোন্ কাজ।
তোমায় দিতে পেরেছিলেম
একটু তৃষার জল,
এই কথাটি আমার মনে
রহিল সম্বল।
কুয়ার ধারে দুপুরবেলা
তেমনি ডাকে পাখি,
তেমনি কাঁপে নিমের পাতা--
আমি বসেই থাকি।
মনে মনে ভাবলাম, রবীন্দ্রনাথ কেন যে এত পাগল করা সব লাইন লিখে গেছেন!
বিকেলের দিকে আমরা একটু তাড়াহুড়ো করে বের হলাম নিউইয়র্কের বাংলা বইমেলায় যাওয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে অনেক চেনা-অচেনা মানুষের সঙ্গে দেখা হলো। বিশেষ করে যে জমকালো গোঁফ থাকলে সারা ঘর আলো হয়ে থাকে আর হাসির গমকে গমগম করতে থাকে, সেই গোঁফ জোড়ার মালিক অতি প্রিয় মানুষ লুৎফর রহমান রিটন ভাইয়ের সঙ্গে।
দেখা হওয়া মাত্রই জড়িয়ে ধরিয়ে বললেন, ‘আরেহ মিয়াঁ, তোমগো হাত থিকা কোথাও গিয়া রেহাই নাই দেখি!’ বেশ ভীড় বইমেলায়, আর অনেক অনেক বই। ভালো লাগল বাংলা বইকে কেন্দ্র করে এত মানুষের সমাগম দেখে। সাংবাদিক-লেখক বন্ধু পারমিতা হিমের সঙ্গে বইমেলাতেই দেখা হয় ঘুরে-ফিরে। এখানেও এর ব্যত্যয় হলো না। সে তাঁর ‘নারগিস’ উপন্যাসের বুক সাইনিংয়ের জন্য এসেছে। এরপর ওয়াশিংটন ডিসির বইমেলাতেও যাবে।

মেলায় একতলায় নাটক হচ্ছিল, অন্য তলায় চলছিল আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের বক্তৃতা। উপস্থাপনায় ছিলেন আহমেদ মাযহার ভাই। খানিক পরেই রিটন ভাইকে রীতিমত কিডন্যাপ করে নিয়ে বের হলাম রাতের খাবারের জন্য। এর পরের গন্তব্য ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার।
টাইমস স্কয়ার এক বিস্ময়। এত ঝলমলে আলো, এত শব্দ, এত মানুষের ভিড়। অথচ মনে হলো, এই ভিড় আর আওয়াজ না থাকলে জায়গাটা পূর্ণতা পেত না। এখানের প্রতিটা মানুষের আলাদা আলাদা গল্প আছে। আর কাহিনীর জন্ম হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডেই। দেখলাম এক যুগলকে ঘিরে সবাই হাততালি দিচ্ছে, তাঁরা মাত্রই আংটি বদল করেছে। আরও দেখলাম একদল কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী শাড়ি পরে ঘুরছে। শুনলাম এটা তাদের ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার উদযাপন, আর থিম হলো ‘বলিউড’।
এরই মাঝে নিজেই গল্প হয়ে উপস্থিত হলেন পুরোনো বন্ধু সালমান নিবিড়। সে এখন ম্যানহ্যাটনেই কাজ করে। তাঁর কাছে শুনলাম প্রবাসী জীবনের গল্প।
আমি সাধারণত ভিড় বা হট্টগোল এড়িয়ে চলি, কিন্তু টাইমস স্কয়ারে এসে মনে হলো—এগুলো না থাকলে এখানের প্রাণপাখি থাকবে না! মধ্যরাত পেরিয়ে গেল টাইম স্কয়ারেই। বাকী গল্প হবে আগামী বুধবার। ঠিক আছে?

বিশ্রামের জন্য চমৎকার একটা সকাল ছিল আজ। কিন্তু শরীর তো আর ঘড়ি মানে না! ভোর ৪টায় ঘুম ভেঙে গেল। সেই যে ‘জেট ল্যাগ’ নামের সিন্দাবাদের অদৃশ্য দৈত্যটা ঘাড়ে চেপেছে, সে কিছুটা নমনীয় হলেও এখনও পুরোপুরি নামেনি।
বিছানায় এপাশ-ওপাশ না করে ভাবলাম বই পড়ি। চোখ আটকে গেল হুমায়ূন আহমেদের ভ্রমণসমগ্রে। অনেক বছর আগে তাঁর আমেরিকা নিয়ে লেখা পড়েছিলাম। ভাবলাম আরেকবার ঝালিয়ে নেই, যদি কোনো দরকারি তথ্য পাওয়া যায়।
প্রাইমারি স্কুলে এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে ‘হোটেল গ্রেভার ইন’ পড়েছিলাম। বন্ধুটি বইটা ছিঁড়ে ফেলতে চেয়েছিল কারণ সেখানে নাকি ‘অসভ্য’ কিছু কথা ছিল! সেটা শুনেই আসলে বইটার প্রতি আমার আগ্রহ বেড়েছিল। এখন আবারও পড়লাম। এটা ঠিক ভ্রমণ কাহিনী নয়, বরং লেখকের পিএইচডি করার সময়ের গল্প।

এটা যাও-বা পড়া গেল, ‘মে ফ্লাওয়ার’ আর ‘যশোহা বৃক্ষের দেশে’ পড়ে রীতিমত বিরক্ত হলাম। তরতর করে পড়া যায়, এছাড়া এই তিন বই নিয়ে কিছু বলার নেই। লাভের মধ্যে জানলাম যে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ল্যাটিন কোয়ার্টারে প্রিয় একাধিক লেখক থেকেছেন জীবন পথের বাঁকে। ঠিক করলাম, ওখানে গিয়ে সেই বাড়িগুলো খুঁজে বের করতে হবে।
সকালে নীলু আপু ওভেন থেকে গরম গরম ব্লুবেরি কেক বের করলেন। দারুণ সুস্বাদু কেক চেটেপুটে চা সহকারে খেয়ে গাছের ছায়ায় দোলনায় দুলতে দুলতেই মধ্যাহ্নভোজনের সময় হাজির! এরপর আমরা গেলাম কাছের এক বন পার্কে হাঁটতে। পার্কটির নাম একসময়ের বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা ‘বারগেস মেরেডিথ’-এর নামে। তিনি এই এলাকাতেই থাকতেন।
বনের ভেতর হাঁটার জন্য চমৎকার ট্রেইল আছে। দুপাশে উঁচু উঁচু গাছ, চারদিকে সবুজের মেলা। এমন কী বয়ে চলা জলধারাও আছে, যার শব্দ শুনে রবার্ট ফ্রষ্টের ‘The Hyla Brook’ কবিতার শেষ লাইনটা বারবার মনে আসছে, ‘We love the things we love, for what they are’

আমাদের সঙ্গে হাঁটার জন্য যোগ দিয়েছিলেন ক্যারোলিনা থেকে আসা শিরীন আপু। তিনি গত ৪০ বছর ধরে আমেরিকায় আছেন, রসায়নের প্রফেসর এবং চমৎকার কবিতা আবৃত্তি করেন। মৃদুমন্দ বাতাস আমাদের ছুঁয়ে দিতেই, তিনি বলে গেলেন বাতাসের সঙ্গে সঙ্গেই—
বাতাস যেতেছে বহি
তুমি কেন রহি রহি
তারি মাঝে ফেল দীর্ঘশ্বাস
সুদূরে বাজিছে বাঁশী
তুমি কেন ঢালো আসি
তারই মাঝে বিলাপ উচ্ছাস।
উঠিছে প্রভাত রবি
আকিঁছে সোনার ছবি
তুমি কেন ফেলো তাহে ছায়া
বারেক যে চলে যায়
কেহ তো তারে না চায়
তবু কেন তার এত মায়া!
পথের ধারে একটা চমৎকার সাদা ফুলের গাছ দেখলাম। দেখতে অনেকটা চালতা ফুলের মতো, কিন্তু আকারে ছোট। তার যে কী মিষ্টি ঘ্রাণ! সেন্ট বা সুগন্ধি বললে একে ছোট করা হবে, একে বলা যায় সত্যিকারের ‘অ্যারোমা’। জানতে পারলাম এর নাম ‘সসার ম্যাগনোলিয়া’।

হাঁটতে হাঁটতে জীবনের প্রথমবার সামনে থেকে কাঠবেড়ালি জাতীয় প্রাণী ‘চিপমাঙ্ক’। বড্ড বেশী কিউট। গাল ফুলিয়ে খাবার জমিয়ে রাখার দৃশ্যটা এত কিউট যে এক নিমেষেই মন ভালো হয়ে যায়। শিরীন আপুকে বলতেই তিনি আবারও আশ্রয় নিলেন রবি ঠাকুরে—
তোমার কাছে চাই নি কিছু,
জানাই নি মোর নাম--
তুমি যখন বিদায় নিলে
নীরব রহিলাম।
যখন তুমি শুধালে নাম
পেলেম বড়ো লাজ,
তোমার মনে থাকার মতো
করেছি কোন্ কাজ।
তোমায় দিতে পেরেছিলেম
একটু তৃষার জল,
এই কথাটি আমার মনে
রহিল সম্বল।
কুয়ার ধারে দুপুরবেলা
তেমনি ডাকে পাখি,
তেমনি কাঁপে নিমের পাতা--
আমি বসেই থাকি।
মনে মনে ভাবলাম, রবীন্দ্রনাথ কেন যে এত পাগল করা সব লাইন লিখে গেছেন!
বিকেলের দিকে আমরা একটু তাড়াহুড়ো করে বের হলাম নিউইয়র্কের বাংলা বইমেলায় যাওয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে অনেক চেনা-অচেনা মানুষের সঙ্গে দেখা হলো। বিশেষ করে যে জমকালো গোঁফ থাকলে সারা ঘর আলো হয়ে থাকে আর হাসির গমকে গমগম করতে থাকে, সেই গোঁফ জোড়ার মালিক অতি প্রিয় মানুষ লুৎফর রহমান রিটন ভাইয়ের সঙ্গে।
দেখা হওয়া মাত্রই জড়িয়ে ধরিয়ে বললেন, ‘আরেহ মিয়াঁ, তোমগো হাত থিকা কোথাও গিয়া রেহাই নাই দেখি!’ বেশ ভীড় বইমেলায়, আর অনেক অনেক বই। ভালো লাগল বাংলা বইকে কেন্দ্র করে এত মানুষের সমাগম দেখে। সাংবাদিক-লেখক বন্ধু পারমিতা হিমের সঙ্গে বইমেলাতেই দেখা হয় ঘুরে-ফিরে। এখানেও এর ব্যত্যয় হলো না। সে তাঁর ‘নারগিস’ উপন্যাসের বুক সাইনিংয়ের জন্য এসেছে। এরপর ওয়াশিংটন ডিসির বইমেলাতেও যাবে।

মেলায় একতলায় নাটক হচ্ছিল, অন্য তলায় চলছিল আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের বক্তৃতা। উপস্থাপনায় ছিলেন আহমেদ মাযহার ভাই। খানিক পরেই রিটন ভাইকে রীতিমত কিডন্যাপ করে নিয়ে বের হলাম রাতের খাবারের জন্য। এর পরের গন্তব্য ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার।
টাইমস স্কয়ার এক বিস্ময়। এত ঝলমলে আলো, এত শব্দ, এত মানুষের ভিড়। অথচ মনে হলো, এই ভিড় আর আওয়াজ না থাকলে জায়গাটা পূর্ণতা পেত না। এখানের প্রতিটা মানুষের আলাদা আলাদা গল্প আছে। আর কাহিনীর জন্ম হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডেই। দেখলাম এক যুগলকে ঘিরে সবাই হাততালি দিচ্ছে, তাঁরা মাত্রই আংটি বদল করেছে। আরও দেখলাম একদল কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী শাড়ি পরে ঘুরছে। শুনলাম এটা তাদের ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার উদযাপন, আর থিম হলো ‘বলিউড’।
এরই মাঝে নিজেই গল্প হয়ে উপস্থিত হলেন পুরোনো বন্ধু সালমান নিবিড়। সে এখন ম্যানহ্যাটনেই কাজ করে। তাঁর কাছে শুনলাম প্রবাসী জীবনের গল্প।
আমি সাধারণত ভিড় বা হট্টগোল এড়িয়ে চলি, কিন্তু টাইমস স্কয়ারে এসে মনে হলো—এগুলো না থাকলে এখানের প্রাণপাখি থাকবে না! মধ্যরাত পেরিয়ে গেল টাইম স্কয়ারেই। বাকী গল্প হবে আগামী বুধবার। ঠিক আছে?
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
২০ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
২০ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
১ দিন আগে
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
২৫ জুলাই ২০২৬