আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ—৩
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর চতুর্থ পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
তারেক অণু

শোনা যায়, জনাব ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কুইন্স এলাকাতেই বড় হতে হতে একটু বখে গিয়েছিলেন। পরে জানলাম, এই অঞ্চলের বিশাল অংশের জমিই বাপ-দাদার আমল থেকেই নাকি তাঁর পরিবারের। পথে হাঁটতে হাঁটতেই চোখে পড়ল নানা দালানের গায়ে বড় বড় করে লেখা ‘ট্রাম্প’। কৌতূহল থেকে জেনে নিলাম, সবই তাঁর বাপের তালুক। কোথাও অফিস, কোথাও হাসপাতাল, এমনকি নদীর ধারে এক বিশাল গলফ কোর্সও নজরে এল।
কয়েক মাস আগে মিডিয়ায় এসেছিল, ট্রাম্পের মালিকানাধীন এক গলফ সেন্টারে টাইম ম্যাগাজিনের নকল ফটোশপ করা কভার টাঙানো ছিল, যেখানে তাঁকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। অথচ সেই সংখ্যার আসল কভারে ট্রাম্প নয়, ছিলেন টাইটানিক সিনেমার অভিনেত্রী কেট উইনস্লেট!

গলফ সেন্টারটার পাশ দিয়েই যাচ্ছিলাম, একবার ঢুঁ মেরে দেখি তো সেই বিটকেল নকল কভারটা এখনো ঝুলছে কিনা! কিন্তু সন্ধ্যা নামার তাড়া, আর জীবনে অহেতুক ঝামেলা না বাড়ানো, এই দুইয়ে মিলেই আর থামা হলো না।
আচ্ছা আগের পর্বে গল্প যেন কতদূর গড়িয়েছিল?
ওহ, আমার বড় ভাই তানভীর অপু আসা পর্যন্ত! আবার সে এসেছে ফিরিয়া! এখন এই দুই মাস প্রতিদিন তাঁর লাল প্যান্ট আর হাসি সহ্য করিতে হইবে! যদিও ভ্রমণসঙ্গী আর সুখাদ্যের পাচক হিসেবে সে দারুণ। দলের সবাই এখন আমেরিকায়। শুধু আমাদের প্রাণভোমরা কনক আদিত্য দাদা এলেই ‘Hasta la vista’ বলে রাস্তায় নামার পালা।

বিকেলে যাত্রা শুরু হলো নিউইয়র্ক আর নিউজার্সির সীমান্তে থাকা ‘পমোনা’র উদ্দেশ্যে। পমোনা কত দূরে—এই প্রশ্নের জবাবে আগের দিন স্বভাব ছড়াকার মৃদুলদা ছড়া কেটে শুনিয়েছিলেন,
‘কমও না
বেশিও না
এই হলো পমোনা’
যাত্রাপথে আমাদের শকটচালক (গাড়িচালক) নতুন বন্ধু অরিত্র সিদ্ধান্ত নিল, শহরের মেইন রোড এড়িয়ে ছিমছাম ছবির পর সবুজে ঘেরা রূপকথার বাড়ি দিয়ে সাজানো মহল্লা দিয়ে যাব। ভাগ্যিস তাই হয়েছিল! কী যে চমৎকার বাড়িগুলো!

পরিপাটি নকশা, সারি সারি স্থাপত্য আর প্রতিটা বাড়িতে বিশাল সব গাছ। লনের মিলিটারি ছাঁট সবুজ ঘাস কেমন যেন আরাম-আরাম এনে দেয় চোখে আর মনে। পরে জানা গেল, এই সব বাড়ি নাকি বেশ দামি। মানে ‘পশ এলাকা’। কিন্তু আমাদের অঞ্চলের মতো শুধু টাকার মালিক না, এখানের বাসিন্দারা সুরুচিরও মালিক।
প্রধান সড়কে ওঠার পর থেকে দু’পাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। লুসি আন্টি বললেন, এই সবুজের আয়ু মাত্র চার মাস। শরতে পাতাগুলো লাল, হলুদ, কমলা হয়ে ঝরে পড়ে, মাটির উর্বরতা বাড়ায়। কিন্তু শীত এলে সারি সারি পাতাহীন গাছের কঙ্কাল, তার ওপর হালকা তুষারের আস্তরণ বেশিক্ষণ সহ্য করা নাকি বেশির ভাগ মানুষের জন্য কঠিন।

রাজহাঁস ঘোরাঘুরি করছে দেখে পথের মধ্যে টলটলে এক হ্রদে থামা হলো বুকের হাপরে সুবাতাস ভরার জন্য। অরিত্র জানাল, এই হ্রদের চারপাশে কাঠের হাঁটার পথ আছে, পুরোটা ঘুরলে ঠিক এক মাইল! মানে হ্রদের চারপাশে একবার ঘুরে আসলেই আপনার এক মাইল হাঁটা হয়ে গেল!
(আমরা এখন মাইলের দেশে, কিলোমিটারের হিসাব এখানে নেই। ওজন মাপা হয় পাউন্ডে, কিলোগ্রামে না। আর তাপমাত্রা ফারেনহাইটে, সেলসিয়াসে না। এসব এখনো রপ্ত হয়নি। তাই মনে রাখার প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছি যে এক মাইলে ১.৬১ কিলোমিটার।)

হ্রদের পাশে একটি নোটিশে লেখা ছিল, এই এলাকা বন্যপ্রাণীর জন্য বাসযোগ্য রাখতে বহু বছর ধরে দেশি গাছ লাগানো হচ্ছে। তাও নানা জাতের গাছ-ফুল, ঘাস, গুল্ম, বিরুত, বনস্পতি। আর গাছ লাগানোর পর মানুষ আর নাক গলায় না। এমন ছোট ছোট সবুজ আশ্রয়স্থল আমাদের ইট-কাঠ-কংক্রিটে ভরা মরুভূমির মতো শহরগুলোতেও থাকা খুব দরকার।
সন্ধ্যার কমলা তুলির আঁচড় তখন আসি আসি করছে পশ্চিম আকাশে। সোনার সিংহ তখনো কেশর দুলিয়ে গর্জন করে ওঠেনি। তখন হাডসন নদী পেরোলাম আমরা, সুন্দর এক সেতু দিয়ে। শান্ত, বিস্তৃত জলরাশি। মাঝে মাঝে মালবাহী জলযান আছে কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

নদী আমি আজীবনই স্মৃতিতে জমাচ্ছি, সেই শৈশবের পদ্মা দিয়ে শুরু। আজ হাডসনের দেখা পেলাম। যদিও নৌকায় না নামলে, সাঁতার না কাটলে বা হাতে আলতো জল স্পর্শ না করলে নদী ভ্রমণ কি পুরো হয়?
দিনের আলো থাকতে থাকতেই পৌঁছে গেলাম আমাদের গন্তব্যে, আমাদের প্রিয় নীলু আপু এবং আশরাফ ভাইয়ের বাড়িতে। তাঁদের জন্যই এখানে আসা। এবং আগামী কয়েকদিন এখানে থেকেই তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরব। তাঁদের চমৎকার বাড়িটা একেবারে বনের কিনারে। একটু দূরে গর্জন করা হাইওয়ে, কিন্তু বাড়ির আঙিনায় বেড়াতে আসে হরিণের পাল। ধূসর কাঠবিড়ালি আর পাখির ঝাঁকেরা তো আছেই বাসিন্দা হিসেবে। সেই সঙ্গে আছে নীলু আপুর ফুলেল বাগান, আর আশরাফ ভাইয়ের সবজি কর্নার।

৩৮ বছর ধরে এই দম্পতি আছেন মার্কিন দেশে। সচলায়তন ব্লগে লেখালেখির সুবাদে নীলু আপু আমাদের কাছে মাতৃসমা। সেই সঙ্গে রুচি-অরুচি মিলে যাওয়ায় তিনি আসলেই অনেক আগেই আমাদের বন্ধু হয়ে গেছেন, বয়সের সীমানা অতিক্রম করে। তাঁদেরকে নিয়ে অনেক গল্প আসবে আগামী পর্বগুলোতে। শুধু একটা গর্ব করার মতো বিষয় জানিয়ে রাখি চুপি চুপি। তাঁদের বড় কন্যা তন্বী নন্দিনীর প্রথম বই ‘Bright lines’ প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত পেঙ্গুইন প্রকাশনা। আমার কোনো পরিচিত বাংলাদেশির বই পেঙ্গুইন এর আগে প্রকাশ করেছে বলে জানা ছিল না।
রাতে আপু আর ভাইয়া যেন এক ব্যাটেলিয়ন মানুষ খাওয়ানোর আয়োজন করলেন! বিশেষ করে এই আমেরিকায় এসে গরম গরম ভাতের সঙ্গে এত সুস্বাদু গরুর ভুড়ি খাওয়ার (টাটকা করলা ভাজি, মাছের ঝোল, দুর্দান্ত মুড়িঘণ্ট, বেগুনভাজার কথা বাদই দিলাম) পর জেট ল্যাগ উপেক্ষা করে এত রাতে লেখা চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন।
তাই বাকি গল্প পরেরদিন হবে। প্রস্তুত থাকুন, আমাদের সঙ্গে আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহাসিক শহরে যাবার জন্য।

শোনা যায়, জনাব ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কুইন্স এলাকাতেই বড় হতে হতে একটু বখে গিয়েছিলেন। পরে জানলাম, এই অঞ্চলের বিশাল অংশের জমিই বাপ-দাদার আমল থেকেই নাকি তাঁর পরিবারের। পথে হাঁটতে হাঁটতেই চোখে পড়ল নানা দালানের গায়ে বড় বড় করে লেখা ‘ট্রাম্প’। কৌতূহল থেকে জেনে নিলাম, সবই তাঁর বাপের তালুক। কোথাও অফিস, কোথাও হাসপাতাল, এমনকি নদীর ধারে এক বিশাল গলফ কোর্সও নজরে এল।
কয়েক মাস আগে মিডিয়ায় এসেছিল, ট্রাম্পের মালিকানাধীন এক গলফ সেন্টারে টাইম ম্যাগাজিনের নকল ফটোশপ করা কভার টাঙানো ছিল, যেখানে তাঁকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। অথচ সেই সংখ্যার আসল কভারে ট্রাম্প নয়, ছিলেন টাইটানিক সিনেমার অভিনেত্রী কেট উইনস্লেট!

গলফ সেন্টারটার পাশ দিয়েই যাচ্ছিলাম, একবার ঢুঁ মেরে দেখি তো সেই বিটকেল নকল কভারটা এখনো ঝুলছে কিনা! কিন্তু সন্ধ্যা নামার তাড়া, আর জীবনে অহেতুক ঝামেলা না বাড়ানো, এই দুইয়ে মিলেই আর থামা হলো না।
আচ্ছা আগের পর্বে গল্প যেন কতদূর গড়িয়েছিল?
ওহ, আমার বড় ভাই তানভীর অপু আসা পর্যন্ত! আবার সে এসেছে ফিরিয়া! এখন এই দুই মাস প্রতিদিন তাঁর লাল প্যান্ট আর হাসি সহ্য করিতে হইবে! যদিও ভ্রমণসঙ্গী আর সুখাদ্যের পাচক হিসেবে সে দারুণ। দলের সবাই এখন আমেরিকায়। শুধু আমাদের প্রাণভোমরা কনক আদিত্য দাদা এলেই ‘Hasta la vista’ বলে রাস্তায় নামার পালা।

বিকেলে যাত্রা শুরু হলো নিউইয়র্ক আর নিউজার্সির সীমান্তে থাকা ‘পমোনা’র উদ্দেশ্যে। পমোনা কত দূরে—এই প্রশ্নের জবাবে আগের দিন স্বভাব ছড়াকার মৃদুলদা ছড়া কেটে শুনিয়েছিলেন,
‘কমও না
বেশিও না
এই হলো পমোনা’
যাত্রাপথে আমাদের শকটচালক (গাড়িচালক) নতুন বন্ধু অরিত্র সিদ্ধান্ত নিল, শহরের মেইন রোড এড়িয়ে ছিমছাম ছবির পর সবুজে ঘেরা রূপকথার বাড়ি দিয়ে সাজানো মহল্লা দিয়ে যাব। ভাগ্যিস তাই হয়েছিল! কী যে চমৎকার বাড়িগুলো!

পরিপাটি নকশা, সারি সারি স্থাপত্য আর প্রতিটা বাড়িতে বিশাল সব গাছ। লনের মিলিটারি ছাঁট সবুজ ঘাস কেমন যেন আরাম-আরাম এনে দেয় চোখে আর মনে। পরে জানা গেল, এই সব বাড়ি নাকি বেশ দামি। মানে ‘পশ এলাকা’। কিন্তু আমাদের অঞ্চলের মতো শুধু টাকার মালিক না, এখানের বাসিন্দারা সুরুচিরও মালিক।
প্রধান সড়কে ওঠার পর থেকে দু’পাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। লুসি আন্টি বললেন, এই সবুজের আয়ু মাত্র চার মাস। শরতে পাতাগুলো লাল, হলুদ, কমলা হয়ে ঝরে পড়ে, মাটির উর্বরতা বাড়ায়। কিন্তু শীত এলে সারি সারি পাতাহীন গাছের কঙ্কাল, তার ওপর হালকা তুষারের আস্তরণ বেশিক্ষণ সহ্য করা নাকি বেশির ভাগ মানুষের জন্য কঠিন।

রাজহাঁস ঘোরাঘুরি করছে দেখে পথের মধ্যে টলটলে এক হ্রদে থামা হলো বুকের হাপরে সুবাতাস ভরার জন্য। অরিত্র জানাল, এই হ্রদের চারপাশে কাঠের হাঁটার পথ আছে, পুরোটা ঘুরলে ঠিক এক মাইল! মানে হ্রদের চারপাশে একবার ঘুরে আসলেই আপনার এক মাইল হাঁটা হয়ে গেল!
(আমরা এখন মাইলের দেশে, কিলোমিটারের হিসাব এখানে নেই। ওজন মাপা হয় পাউন্ডে, কিলোগ্রামে না। আর তাপমাত্রা ফারেনহাইটে, সেলসিয়াসে না। এসব এখনো রপ্ত হয়নি। তাই মনে রাখার প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছি যে এক মাইলে ১.৬১ কিলোমিটার।)

হ্রদের পাশে একটি নোটিশে লেখা ছিল, এই এলাকা বন্যপ্রাণীর জন্য বাসযোগ্য রাখতে বহু বছর ধরে দেশি গাছ লাগানো হচ্ছে। তাও নানা জাতের গাছ-ফুল, ঘাস, গুল্ম, বিরুত, বনস্পতি। আর গাছ লাগানোর পর মানুষ আর নাক গলায় না। এমন ছোট ছোট সবুজ আশ্রয়স্থল আমাদের ইট-কাঠ-কংক্রিটে ভরা মরুভূমির মতো শহরগুলোতেও থাকা খুব দরকার।
সন্ধ্যার কমলা তুলির আঁচড় তখন আসি আসি করছে পশ্চিম আকাশে। সোনার সিংহ তখনো কেশর দুলিয়ে গর্জন করে ওঠেনি। তখন হাডসন নদী পেরোলাম আমরা, সুন্দর এক সেতু দিয়ে। শান্ত, বিস্তৃত জলরাশি। মাঝে মাঝে মালবাহী জলযান আছে কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

নদী আমি আজীবনই স্মৃতিতে জমাচ্ছি, সেই শৈশবের পদ্মা দিয়ে শুরু। আজ হাডসনের দেখা পেলাম। যদিও নৌকায় না নামলে, সাঁতার না কাটলে বা হাতে আলতো জল স্পর্শ না করলে নদী ভ্রমণ কি পুরো হয়?
দিনের আলো থাকতে থাকতেই পৌঁছে গেলাম আমাদের গন্তব্যে, আমাদের প্রিয় নীলু আপু এবং আশরাফ ভাইয়ের বাড়িতে। তাঁদের জন্যই এখানে আসা। এবং আগামী কয়েকদিন এখানে থেকেই তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরব। তাঁদের চমৎকার বাড়িটা একেবারে বনের কিনারে। একটু দূরে গর্জন করা হাইওয়ে, কিন্তু বাড়ির আঙিনায় বেড়াতে আসে হরিণের পাল। ধূসর কাঠবিড়ালি আর পাখির ঝাঁকেরা তো আছেই বাসিন্দা হিসেবে। সেই সঙ্গে আছে নীলু আপুর ফুলেল বাগান, আর আশরাফ ভাইয়ের সবজি কর্নার।

৩৮ বছর ধরে এই দম্পতি আছেন মার্কিন দেশে। সচলায়তন ব্লগে লেখালেখির সুবাদে নীলু আপু আমাদের কাছে মাতৃসমা। সেই সঙ্গে রুচি-অরুচি মিলে যাওয়ায় তিনি আসলেই অনেক আগেই আমাদের বন্ধু হয়ে গেছেন, বয়সের সীমানা অতিক্রম করে। তাঁদেরকে নিয়ে অনেক গল্প আসবে আগামী পর্বগুলোতে। শুধু একটা গর্ব করার মতো বিষয় জানিয়ে রাখি চুপি চুপি। তাঁদের বড় কন্যা তন্বী নন্দিনীর প্রথম বই ‘Bright lines’ প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত পেঙ্গুইন প্রকাশনা। আমার কোনো পরিচিত বাংলাদেশির বই পেঙ্গুইন এর আগে প্রকাশ করেছে বলে জানা ছিল না।
রাতে আপু আর ভাইয়া যেন এক ব্যাটেলিয়ন মানুষ খাওয়ানোর আয়োজন করলেন! বিশেষ করে এই আমেরিকায় এসে গরম গরম ভাতের সঙ্গে এত সুস্বাদু গরুর ভুড়ি খাওয়ার (টাটকা করলা ভাজি, মাছের ঝোল, দুর্দান্ত মুড়িঘণ্ট, বেগুনভাজার কথা বাদই দিলাম) পর জেট ল্যাগ উপেক্ষা করে এত রাতে লেখা চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন।
তাই বাকি গল্প পরেরদিন হবে। প্রস্তুত থাকুন, আমাদের সঙ্গে আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহাসিক শহরে যাবার জন্য।
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
২০ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
২১ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
২৫ জুলাই ২০২৬
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
২৫ জুলাই ২০২৬