যদি বুঝতে পারেন আপনার দাম্পত্য জীবনে সাইলেন্ট ডিভোর্স চলছে তবে চুপচাপ বসে থাকবেন না। যদি মনে হয় সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে তবে প্রথমেই সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন।
স্ট্রিম ডেস্ক

বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় দারুণ সুখী পরিবার। স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে একেবারে সাজানো গোছানো সংসার। কিন্তু ভেতরের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর পার করছেন, অথচ কোনো মানসিক বা আবেগগত সম্পর্ক নেই।
একই বাড়িতে থাকলেও তাঁরা একে অপরের কাছে সম্পূর্ণ অচেনা দুজন মানুষ। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় দাম্পত্যের এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট ডিভোর্স’ বা নীরব বিবাহবিচ্ছেদ।
সাইলেন্ট ডিভোর্স হলো এমন এক পরিস্থিতি যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আইনিভাবে কোনো বিচ্ছেদ হয়নি। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কোনো মানসিক বা শারীরিক টান অবশিষ্ট নেই। কিন্তু বিভিন্ন পারপার্শ্বিক কারণ যেমন সন্তান, অর্থনৈতিক বিষয় বা সামাজিক মর্যাদার কারণে একসঙ্গে থাকতে বাধ্য হন।
এই পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছ থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান। হয়তো প্রয়োজনের তাগিদে কথাবার্তা বলেন। কিন্তু সেখানে ভালোবাসা বা মায়া-মমতা থাকে না বললেই চলে।
সম্পর্কে এমন দূরত্ব একদিনে তৈরি হয় না। সারাদিন এক ছাদের নিচে থাকলেও হয়তো প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া আর কোনো কথা পাচ্ছেন না বলার মতো। দুজনের কথা বলার আগ্রহ ফুরিয়েছে। যে কাজগুলো একসঙ্গে করতে ভালো লাগত যেমন ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, শপিং করা, এখন আর তা ভালো লাগছে না। মতের অমিল হচ্ছে বলে কথা বলাও বন্ধ। তাই ঝগড়াও হচ্ছে না।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে মনোবিজ্ঞানীরা জানান, সাইলেট ডিভোর্সে থাকা স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে কেবল রুমমেট ভাবতে শুরু করেন। তাঁদের মনোযোগ থাকে কেবল বাবা-মা হিসেবে দায়িত্ব পালনের দিকে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সব দম্পতির মধ্যেই কখনো কখনো দূরত্বের অনুভূতি আসতে পারে। কিন্তু সমস্যা তখনই চরম আকার ধারণ করে যখন তাঁরা এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে এড়িয়ে যান।
যেসব দম্পতির মধ্যে আগে সারাক্ষণ ঝগড়া হতো, তাঁদের মধ্যে হঠাৎ নীরবতা নেমে এলে সাময়িকভাবে স্বস্তি লাগতে পারে। কারণ তখন বাড়িতে আর কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি থাকে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এই নীরবতা আসলে বিপদ সংকেতের মত। সম্পর্কের মধ্যে ঝগড়া হওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘ঝগড়া’ শব্দটি শুনতে নেতিবাচক মনে হলেও এটা প্রমাণ করে, দু’জনের মধ্যে এখনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ইচ্ছা আছে। ঝগড়ার মাধ্যমে অন্তত একজন আরেকজনকে নিজের কষ্ট বা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বোঝানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু সাইলেন্ট ডিভোর্সে দম্পতিরা সাধারণত কোনো ঝগড়া করেন না। কারণ তাঁদের মধ্যে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করার কিংবা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে।
এই দম্পতিরা হয়তো শুধু দৈনন্দিন কাজ নিয়ে কথা বলেন। যেমন আজ রাতের খাবারে কী রান্না হবে বা কাল সন্তানকে কে স্কুলে দিয়ে আসবে। কিন্তু নিজেদের অনুভূতি, কষ্ট বা কোনো অস্বস্তিকর বিষয় নিয়ে তাঁরা কথা বলা বন্ধ করে দেন। একসঙ্গে থেকেও দু’জন আলোকবর্ষ দূরে সরে যান ক্রমশ।
সন্তানের বয়স যত কমই হোক না কেন, বাবা-মায়ের মধ্যে মানসিক দূরত্ব থাকলে সন্তানরা খুব সহজেই তা বুঝতে পারে। এমন পরিবারের সন্তানরা দমবন্ধ করা পরিবেশে বড় হতে থাকে। সাইলেন্ট ডিভোর্সের ফলে শুধু স্বামী-স্ত্রীর নয় শিশুদের মানসিক চাহিদাও অপূর্ণ থেকে যায়। শিশুদের মনে হতে পারে বাবা-মায়ের এই নীরব দ্বন্দ্বে তাদের যেকোনো এক পক্ষ নিতে হবে। এই পক্ষ নেওয়ার প্রক্রিয়াটিও শিশুদের জন্য বেশ কষ্টের। এমন অস্বস্তিকর পরিবেশে বেড়ে ওঠার প্রভাব বড় হওয়ার পরও সন্তানের মধ্যে দেখা যায়। তাঁরা যেকোনো ‘কমিটেড রিলেশনশিপে’ যেতে ভয় পায়। এই শিশুরা বড় হয়ে ভাবে সব সম্পর্কের পরিণতি বুঝি এমনই হয়।
যদি বুঝতে পারেন আপনার দাম্পত্য জীবনে সাইলেন্ট ডিভোর্স চলছে তবে চুপচাপ বসে থাকবেন না। যদি মনে হয় সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে তবে প্রথমেই সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। জিজ্ঞেস করুন, তিনিও একই দূরত্ব অনুভব করছেন কি না। এই আলোচনা হয়তো কিছুটা অস্বস্তিকর হবে। কিন্তু সম্পর্ক ঠিক করতে চাইলে দু’জনের কথা বলা খুবই জরুরি। সন্তান লালন-পালন, আর্থিক নিরাপত্তা বা পরিবারের অন্য কোনো বিষয় নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলে তা মনের মধ্যে পুষে রাখবেন না। কথা না বলে বিষয়গুলো এড়িয়ে গেলে ক্ষোভ শুধু বাড়তেই থাকে।
প্রয়োজনে ‘কাপলস’ থেরাপির সাহায্য নিতে পারেন। থেরাপি মানেই যে জোর করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা তা কিন্তু নয়। থেরাপি মূলত দম্পতিদের নিজেদের না বলা কথাগুলো প্রকাশ করতে সাহায্য করে। সমাজের চাপে মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সম্পর্ক বয়ে বেড়ানো ঠিক নয়। এ ধরনের সাইলেন্ট ডিভোর্স জীবনে শুধু অশান্তিই নিয়ে আসে, কোনো সমাধান দিতে পারে না।

বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় দারুণ সুখী পরিবার। স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে একেবারে সাজানো গোছানো সংসার। কিন্তু ভেতরের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর পার করছেন, অথচ কোনো মানসিক বা আবেগগত সম্পর্ক নেই।
একই বাড়িতে থাকলেও তাঁরা একে অপরের কাছে সম্পূর্ণ অচেনা দুজন মানুষ। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় দাম্পত্যের এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট ডিভোর্স’ বা নীরব বিবাহবিচ্ছেদ।
সাইলেন্ট ডিভোর্স হলো এমন এক পরিস্থিতি যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আইনিভাবে কোনো বিচ্ছেদ হয়নি। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কোনো মানসিক বা শারীরিক টান অবশিষ্ট নেই। কিন্তু বিভিন্ন পারপার্শ্বিক কারণ যেমন সন্তান, অর্থনৈতিক বিষয় বা সামাজিক মর্যাদার কারণে একসঙ্গে থাকতে বাধ্য হন।
এই পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছ থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান। হয়তো প্রয়োজনের তাগিদে কথাবার্তা বলেন। কিন্তু সেখানে ভালোবাসা বা মায়া-মমতা থাকে না বললেই চলে।
সম্পর্কে এমন দূরত্ব একদিনে তৈরি হয় না। সারাদিন এক ছাদের নিচে থাকলেও হয়তো প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া আর কোনো কথা পাচ্ছেন না বলার মতো। দুজনের কথা বলার আগ্রহ ফুরিয়েছে। যে কাজগুলো একসঙ্গে করতে ভালো লাগত যেমন ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, শপিং করা, এখন আর তা ভালো লাগছে না। মতের অমিল হচ্ছে বলে কথা বলাও বন্ধ। তাই ঝগড়াও হচ্ছে না।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে মনোবিজ্ঞানীরা জানান, সাইলেট ডিভোর্সে থাকা স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে কেবল রুমমেট ভাবতে শুরু করেন। তাঁদের মনোযোগ থাকে কেবল বাবা-মা হিসেবে দায়িত্ব পালনের দিকে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সব দম্পতির মধ্যেই কখনো কখনো দূরত্বের অনুভূতি আসতে পারে। কিন্তু সমস্যা তখনই চরম আকার ধারণ করে যখন তাঁরা এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে এড়িয়ে যান।
যেসব দম্পতির মধ্যে আগে সারাক্ষণ ঝগড়া হতো, তাঁদের মধ্যে হঠাৎ নীরবতা নেমে এলে সাময়িকভাবে স্বস্তি লাগতে পারে। কারণ তখন বাড়িতে আর কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি থাকে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এই নীরবতা আসলে বিপদ সংকেতের মত। সম্পর্কের মধ্যে ঝগড়া হওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘ঝগড়া’ শব্দটি শুনতে নেতিবাচক মনে হলেও এটা প্রমাণ করে, দু’জনের মধ্যে এখনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ইচ্ছা আছে। ঝগড়ার মাধ্যমে অন্তত একজন আরেকজনকে নিজের কষ্ট বা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বোঝানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু সাইলেন্ট ডিভোর্সে দম্পতিরা সাধারণত কোনো ঝগড়া করেন না। কারণ তাঁদের মধ্যে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করার কিংবা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে।
এই দম্পতিরা হয়তো শুধু দৈনন্দিন কাজ নিয়ে কথা বলেন। যেমন আজ রাতের খাবারে কী রান্না হবে বা কাল সন্তানকে কে স্কুলে দিয়ে আসবে। কিন্তু নিজেদের অনুভূতি, কষ্ট বা কোনো অস্বস্তিকর বিষয় নিয়ে তাঁরা কথা বলা বন্ধ করে দেন। একসঙ্গে থেকেও দু’জন আলোকবর্ষ দূরে সরে যান ক্রমশ।
সন্তানের বয়স যত কমই হোক না কেন, বাবা-মায়ের মধ্যে মানসিক দূরত্ব থাকলে সন্তানরা খুব সহজেই তা বুঝতে পারে। এমন পরিবারের সন্তানরা দমবন্ধ করা পরিবেশে বড় হতে থাকে। সাইলেন্ট ডিভোর্সের ফলে শুধু স্বামী-স্ত্রীর নয় শিশুদের মানসিক চাহিদাও অপূর্ণ থেকে যায়। শিশুদের মনে হতে পারে বাবা-মায়ের এই নীরব দ্বন্দ্বে তাদের যেকোনো এক পক্ষ নিতে হবে। এই পক্ষ নেওয়ার প্রক্রিয়াটিও শিশুদের জন্য বেশ কষ্টের। এমন অস্বস্তিকর পরিবেশে বেড়ে ওঠার প্রভাব বড় হওয়ার পরও সন্তানের মধ্যে দেখা যায়। তাঁরা যেকোনো ‘কমিটেড রিলেশনশিপে’ যেতে ভয় পায়। এই শিশুরা বড় হয়ে ভাবে সব সম্পর্কের পরিণতি বুঝি এমনই হয়।
যদি বুঝতে পারেন আপনার দাম্পত্য জীবনে সাইলেন্ট ডিভোর্স চলছে তবে চুপচাপ বসে থাকবেন না। যদি মনে হয় সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে তবে প্রথমেই সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। জিজ্ঞেস করুন, তিনিও একই দূরত্ব অনুভব করছেন কি না। এই আলোচনা হয়তো কিছুটা অস্বস্তিকর হবে। কিন্তু সম্পর্ক ঠিক করতে চাইলে দু’জনের কথা বলা খুবই জরুরি। সন্তান লালন-পালন, আর্থিক নিরাপত্তা বা পরিবারের অন্য কোনো বিষয় নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলে তা মনের মধ্যে পুষে রাখবেন না। কথা না বলে বিষয়গুলো এড়িয়ে গেলে ক্ষোভ শুধু বাড়তেই থাকে।
প্রয়োজনে ‘কাপলস’ থেরাপির সাহায্য নিতে পারেন। থেরাপি মানেই যে জোর করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা তা কিন্তু নয়। থেরাপি মূলত দম্পতিদের নিজেদের না বলা কথাগুলো প্রকাশ করতে সাহায্য করে। সমাজের চাপে মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সম্পর্ক বয়ে বেড়ানো ঠিক নয়। এ ধরনের সাইলেন্ট ডিভোর্স জীবনে শুধু অশান্তিই নিয়ে আসে, কোনো সমাধান দিতে পারে না।

মনে রাখবেন, টাকা জমানো আর জীবন উপভোগ করার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। নির্দিষ্ট সীমা মেনে চললে আজকের দিনটাও সুন্দর হবে। আবার ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
৯ ঘণ্টা আগে
অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কি মানুষের মতো অতীত রোমন্থন করতে পারে? নাকি তাদের স্মৃতি কেবল খাবার আর বাসস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের স্মৃতিশক্তি আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
১ দিন আগে
কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার সাধারণ জীবনযাপনের সঙ্গে দুনিয়া কাঁপানো সুপারস্টারদের দারুণ একটি মিল রয়েছে? শুনতে অবাক লাগলেও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কথাটি একদম সত্য। ক্যালিফোর্নিয়ার মনোবিজ্ঞানী রবার্ট পাফ তাঁর প্রবন্ধে এমন কথাই বলেছেন। আমাদের সবার জীবনেই ‘অদৃশ্য দর্শক’ বা ‘ইনভিজিবল অডিয়েন্স’ রয়েছে, যা
১ দিন আগে
সম্প্রতি ওমানে গাড়ির ভেতরে চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাতে ময়নাতদন্তের পর কার্বন মনোক্সাইডে শ্বাস গ্রহণকে কারণ হিসেবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।
২ দিন আগে