স্ট্রিম ডেস্ক

আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হয়েছে কোরবানি ঈদের ছুটি। ঈদের ছুটি মানেই ঘরমুখো মানুষের স্রোত। গতকাল রোববার রাত থেকেই দলে দলে যে যেভাবে পারছে রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছে। প্রতি ঈদে যানবাহনের চরম সংকট ও ভাড়াসহ নানা কারণে যাত্রীরা বিকল্প উপায়ে গ্রামের বাড়িতে যান। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পণ্যবাহী ট্রাকে বা পিকআপে করে যাত্রা। প্রতি ঈদেই দেখা যায় এই ট্রাকগুলো দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে, মারা যাচ্ছে মানুষ।
আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কালিহাতীতে একটি যাত্রীবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১৫ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও কয়েকজন।
প্রতি ঈদেই দেশের মহাসড়কগুলোতে এমন মৃত্যুর মিছিল নতুন কোনো ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং যাত্রী নিরাপত্তার প্রতি চরম অবহেলার পুনরাবৃত্তি।
তবে এই বিষয়ে আইন বা সচেতনতা কি নেই? সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে, তেমন এই নিয়ে দেশে আইনও আছে। তবে নেই আইনের প্রয়োগ।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাংলাদেশ পুলিশ ২০২৪ সালে একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, কীভাবে ঈদের সময় ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন সবাই। এছাড়াও প্রতি ঈদেই তারা ফেসবুকে ও প্রধান সড়কে বিভিন্ন প্রচারণা চালায়। তবে সাধারণ মানুষ এসব প্রচারণাকে কতটা গুরুত্ব দেয়, তা ভাবার বিষয়।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আছে আইনও। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন করলে এটি ১০২ ধারা অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। উল্লিখিত ধারা অমান্য করার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এছাড়াও, লাইসেন্স ছাড়া বা ফিটনেস বিহীন গাড়ি চালালে অনধিক ২৫ হাজার টাকা বা ৬ মাসের জেল হতে পারে। নির্ধারিত গতিসীমার অতিরিক্ত গতিতে বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালালে অনধিক দশ হাজার টাকা জরিমানা বা ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান আছে।
আইন থাকলেও এইসব আইনের প্রয়োগ দেখা যায় না। রাস্তায় হরহামেশাই ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ি চলতে দেখা যায়। ঈদের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে ও বেশি আয়ের লোভে পরিবহন মালিকরা সবরকম গাড়িই রাস্তায় নামিয়ে দেয়। এছাড়াও, যাত্রীরা বাড়ি যাওয়ার অন্য উপায় না পেয়ে ট্রাক বা পিক-আপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরে না—তার কার্যকর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হয়। বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আইন, জরিমানা ও শাস্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে ঈদ এলেই মহাসড়কে সেই চিত্র ভিন্ন হয়ে যায়। পরিবহন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, পর্যাপ্ত গণপরিবহনের অভাব এবং নজরদারির দুর্বলতার সুযোগে পণ্যবাহী ট্রাক ও পিক-আপে যাত্রী পরিবহন এখন ‘স্বাভাবিক’ চর্চায় পরিণত হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, শুধু দুর্ঘটনার পর অভিযান চালানো বা প্রচারণা চালিয়ে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। ঈদের আগে থেকেই মহাসড়কে নিয়মিত তদারকি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত গণপরিবহন নিশ্চিত করা এবং পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ কয়েক ঘণ্টা দ্রুত বাড়ি পৌঁছানোর চেষ্টা অনেক সময় পুরো পরিবারের জন্য আজীবনের ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়ায়।

আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হয়েছে কোরবানি ঈদের ছুটি। ঈদের ছুটি মানেই ঘরমুখো মানুষের স্রোত। গতকাল রোববার রাত থেকেই দলে দলে যে যেভাবে পারছে রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছে। প্রতি ঈদে যানবাহনের চরম সংকট ও ভাড়াসহ নানা কারণে যাত্রীরা বিকল্প উপায়ে গ্রামের বাড়িতে যান। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পণ্যবাহী ট্রাকে বা পিকআপে করে যাত্রা। প্রতি ঈদেই দেখা যায় এই ট্রাকগুলো দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে, মারা যাচ্ছে মানুষ।
আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কালিহাতীতে একটি যাত্রীবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১৫ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও কয়েকজন।
প্রতি ঈদেই দেশের মহাসড়কগুলোতে এমন মৃত্যুর মিছিল নতুন কোনো ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং যাত্রী নিরাপত্তার প্রতি চরম অবহেলার পুনরাবৃত্তি।
তবে এই বিষয়ে আইন বা সচেতনতা কি নেই? সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে, তেমন এই নিয়ে দেশে আইনও আছে। তবে নেই আইনের প্রয়োগ।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাংলাদেশ পুলিশ ২০২৪ সালে একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, কীভাবে ঈদের সময় ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন সবাই। এছাড়াও প্রতি ঈদেই তারা ফেসবুকে ও প্রধান সড়কে বিভিন্ন প্রচারণা চালায়। তবে সাধারণ মানুষ এসব প্রচারণাকে কতটা গুরুত্ব দেয়, তা ভাবার বিষয়।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আছে আইনও। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন করলে এটি ১০২ ধারা অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। উল্লিখিত ধারা অমান্য করার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এছাড়াও, লাইসেন্স ছাড়া বা ফিটনেস বিহীন গাড়ি চালালে অনধিক ২৫ হাজার টাকা বা ৬ মাসের জেল হতে পারে। নির্ধারিত গতিসীমার অতিরিক্ত গতিতে বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালালে অনধিক দশ হাজার টাকা জরিমানা বা ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান আছে।
আইন থাকলেও এইসব আইনের প্রয়োগ দেখা যায় না। রাস্তায় হরহামেশাই ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ি চলতে দেখা যায়। ঈদের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে ও বেশি আয়ের লোভে পরিবহন মালিকরা সবরকম গাড়িই রাস্তায় নামিয়ে দেয়। এছাড়াও, যাত্রীরা বাড়ি যাওয়ার অন্য উপায় না পেয়ে ট্রাক বা পিক-আপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরে না—তার কার্যকর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হয়। বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আইন, জরিমানা ও শাস্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে ঈদ এলেই মহাসড়কে সেই চিত্র ভিন্ন হয়ে যায়। পরিবহন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, পর্যাপ্ত গণপরিবহনের অভাব এবং নজরদারির দুর্বলতার সুযোগে পণ্যবাহী ট্রাক ও পিক-আপে যাত্রী পরিবহন এখন ‘স্বাভাবিক’ চর্চায় পরিণত হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, শুধু দুর্ঘটনার পর অভিযান চালানো বা প্রচারণা চালিয়ে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। ঈদের আগে থেকেই মহাসড়কে নিয়মিত তদারকি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত গণপরিবহন নিশ্চিত করা এবং পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ কয়েক ঘণ্টা দ্রুত বাড়ি পৌঁছানোর চেষ্টা অনেক সময় পুরো পরিবারের জন্য আজীবনের ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়ায়।
.png)
চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। প্রতিটি সংগ্রহশালায় ক্যানভাস থেকে ক্যানভাসে তিনি খুঁজেছেন শিল্পের ভাষা; রঙ, আলো আর তুলির আঁচড়ে অনুভব করেছেন শিল্পীদের জীবন, সময় ও সৃষ্টির গল্প। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজ
১ ঘণ্টা আগে
ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১ দিন আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
১ দিন আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
২৫ জুলাই ২০২৬