ডিজিটাল উঁকিঝুঁকি
প্রিয়াংকা সমদ্দার অর্পা

একটি ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে ভিডিও আছে মাত্র ৪টি, আর ফলোয়ার সংখ্যা মাত্র ১৮৪ জন। কিন্তু সেখানকার একটি ভিডিও এরই মধ্যে আড়াই লাখ বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাস্তায় একটি মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে আর আড়ালে থেকে কেউ একজন তাঁর ভিডিও করছে। ভিডিও ধারণকারী বলছে, ‘আমাগো বাংলাদেশে আইছে দেখছেন এম্রিকাত্তে। আপু একটু চেহারাটা দেখান। কখনো দেখি নাই এমন। ভাইয়া ভিডিওটা ভালো লাগলে লাইক কইরেন।’
এই ধরনের ভিডিও যারা বানাচ্ছে এবং ইন্টারনেটে ছড়াচ্ছে, তাঁরা যে অপরাধ করছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো আমাদের সমাজ নিয়ে। কেন রাস্তায় হেঁটে যাওয়া একটি মেয়ের অগোচরে তাঁর পোশাকের ভাঁজ বা পিঠের অংশ জুম করে দেখানো এ ধরনের ভিডিও আড়াই লাখ মানুষ দেখল? তাঁদের মনস্তত্ত্ব নিয়েও ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। কেন মানুষ এই ভিডিওগুলোতে লাইক ও কমেন্ট করছে?
অন্যের ব্যক্তিগত বা গোপন মুহূর্ত তাঁর অজান্তে দেখার যে নেশা, তাকেই ‘ভয়্যারিজম’ বলা হয়। তবে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ভয়্যারিজম’ সাধারণত কারও ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ মুহূর্ত গোপনে দেখার প্রবণতাকে বোঝায়।
ভিডিওতে যখন কাউকে তাঁর অজান্তে লুকিয়ে দেখানো হয়, তখন দর্শকরা এক ধরণের গোপন বা ‘নিষিদ্ধ আনন্দ’ পায়। কারণ তাঁরা এমন কিছু দেখছে যা আসলে দেখার কথা না। লুকিয়ে অন্যকে দেখার কৌতূহল মানুষের মনস্তত্ত্বের একটি জটিল দিক, যা কিছু ক্ষেত্রে বিকৃত আচরণেও রূপ নিতে পারে।
যাদের লুকিয়ে দেখার এই বিকৃত স্বভাব আছে, তাঁদেরকে বোঝাতে ‘পিপিং টম’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যেমন কেউ যখন ঘরের ভেতরে কাপড় পাল্টাচ্ছে, গোসল করছে বা কোনো ব্যক্তিগত মুহূর্তে আছে, তখন জানালা, দরজার ফুটো বা গোপন ক্যামেরা দিয়ে উঁকিঝুঁকি মেরে দেখা। এই একই মানসিকতার কারণেই অনেকে অন্যের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতেও আনন্দ পায়। মূলত অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় লুকিয়ে দেখাকে তাঁরা বিনোদনের উৎস মনে করে।
এখানে অবজেক্টিফিকেশন বা পণ্যায়নের ব্যাপারও কাজ করে। অনলাইনে কোনো ভিডিও দেখার সময় দর্শক অনেক সময় পর্দার মানুষটিকে আর রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে ভাবেন না। ভিডিওর মানুষটি তখন তাঁর কাছে কেবল একটি ‘বস্তু’ বা ভোগ্যপণ্যের মতো হয়ে যায়। যেহেতু মানুষটির সঙ্গে সরাসরি কোনো পরিচয় নেই, তাই সেই মেয়েটির কষ্ট বা যন্ত্রণার কথা দর্শক কল্পনাও করতে পারেন না।
আমরা প্রতিদিন যখন এমন অসংখ্য ভিডিও দেখতে থাকি, তখন ধীরে ধীরে অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে যায়। অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা বা কারো অনুমতির যে প্রয়োজন আছে—এই বোধগুলো আমাদের মন থেকে হারিয়ে যেতে থাকে। প্রথমে এই ধরনের ভিডিও দেখে আমাদের মনে অস্বস্তি হলেও, বারবার দেখতে দেখতে এক সময় এগুলো খুব সাধারণ ব্যাপার মনে হতে শুরু করে।
এ ধরনের ভিডিও বা কন্টেন্ট দেখার সময় মস্তিষ্কে এক ধরণের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এটি কিছু ক্ষেত্রে মানুষের কৌতূহল, উত্তেজনা বা বারবার একই ধরনের কনটেন্ট দেখার প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
যখন কেউ হুট করে কোনো এমন ধরণের ভিডিও দেখে, তখন মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ সক্রিয় হতে পারে। এতে ডোপামিনসহ কিছু রাসায়নিকের ভূমিকা থাকতে পারে, যা মানুষের মধ্যে সাময়িক আগ্রহ, উত্তেজনা বা আনন্দের অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এটি দর্শককে তাৎক্ষণিক আনন্দ বা ‘ইউফোরিয়া’ দেয়। এভাবেই মানুষ লুপে আটকে যায়।
কিছু মানুষের মধ্যে অনেক সময় শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ও নির্গত হয়। তবে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং সব মানুষের ক্ষেত্রে একইভাবে ঘটে, এমন নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এটি সাময়িকভাবে মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কমিয়ে দেয়। এতে দর্শক এক ধরনের কৃত্রিম শান্তি পায়, যা তাঁকে চারপাশের বাস্তব সমস্যা থেকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে রাখে।
আবার ভিডিওর প্রেক্ষাপট যদি এমন হয় যে এটি একটি ‘গোপন’ বা ‘লুকিয়ে করা’ কাজ। তবে দর্শকের মধ্যে অ্যাড্রেনালিন রাশ হয়। এতে সামান্য পরিমাণে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) নিঃসৃত হতে পারে। এই ভয় এবং আনন্দের মিশ্রণই অনেককে এই ধরনের কন্টেন্টের প্রতি আসক্ত করে তোলে।
ইউরোপ বা আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোতেও এই ধরনের বিকৃত আচরণ দিন দিন বাড়ছে। যুক্তরাজ্যে ‘আপস্কার্টিং’ এত বেশি বেড়ে গিয়েছিল যে ২০১৯ সালে এটি বন্ধ করতে কঠোর আইন করতে বাধ্য হয়েছে। এর থেকে বোঝা যায়, পোশাকের স্বাধীনতা বা উন্নত সমাজব্যবস্থা থাকলেও মানুষের এই বিকৃত মানসিকতা পুরোপুরি দূর হচ্ছে না।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় এই সমস্যাটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সেখানে একে বলা হয় ‘মোলকা’। গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে বা জুম লেন্স দিয়ে লুকিয়ে নারীদের ভিডিও করা সেখানে একটি বড় অপরাধমূলক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এর প্রতিবাদে হাজার হাজার নারী দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছিলেন।
এ ছাড়া জাপান এবং চীনেও গোপন ক্যামেরা বা লুকিয়ে জুম ভিডিও করার এই প্রবণতা দেখা যায়। অর্থাৎ, এটি বিশ্বজুড়ে সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম অনেকটা নেশার মতো আমাদের আটকে ফেলে। কিছুদিন আগে একজন আমেরিকান তরুণী ‘মেটা’র বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম তাঁকে দীর্ঘসময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রেখেছে এবং তা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অ্যালগরিদম আসলে এভাবেই কাজ করে। আপনি কোনো ভিডিও একবার দেখলে সিস্টেম মনে করে এটি আপনার পছন্দ। এরপর আপনার সামনে বারবার একই ধরনের ভিডিও আসতে থাকে। আপনি চাইলেও এই চক্র থেকে সহজে বের হতে পারেন না।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, অ্যালগরিদম কোনো নৈতিকতা বোঝে না। সে বোঝে শুধু ‘ইউজার রিটেনশন’। কে কতক্ষণ স্ক্রিনে চোখ রাখল। আপনি কৌতূহলবশত বা ভুল করে এ ধরনের কোনো কনটেন্টে ক্লিক করা মাত্রই সিস্টেম আপনার অবচেতন মনকে বন্দি করে ফেলে। এরপর আপনার ফিডে অনবরত আসতে থাকে সেসব ভিডিও।
প্রাচীন আমলের সেই ‘পিপিং টম’ বা লুকিয়ে দেখা মানুষেরা আগে দরজার ফুটো বা জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারত। কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে সেই বিকৃত মানুষেরা এখন স্মার্টফোন হাতে আমাদের আশেপাশেই ঘুরছে। তারা বাসে আমাদের পাশের সিটেই বসছে কিংবা রাস্তা দিয়ে আমাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।
আর আমরা যারা এই ভিডিওগুলোতে লাইক দিচ্ছি, কমেন্ট করছি বা স্রেফ স্ক্রল করে দেখে যাচ্ছি, আমরাও অজান্তেই সেই বিকৃত ‘পিপিং টম’-এর ডিজিটাল সংস্করণে পরিণত হচ্ছি। আমাদের এই লাইক-শেয়ারের কারণেই ভিডিওগুলো লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে। কোনো মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করা যখন একটি সমাজের কাছে ‘বিনোদনের উৎস’ হয়ে দাঁড়ায়, তখন বুঝতে হবে সেই সমাজের নৈতিক কাঠামো ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছে। একজনের অসম্মতিকে আনন্দ হিসেবে গ্রহণ করা সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়।

একটি ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে ভিডিও আছে মাত্র ৪টি, আর ফলোয়ার সংখ্যা মাত্র ১৮৪ জন। কিন্তু সেখানকার একটি ভিডিও এরই মধ্যে আড়াই লাখ বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাস্তায় একটি মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে আর আড়ালে থেকে কেউ একজন তাঁর ভিডিও করছে। ভিডিও ধারণকারী বলছে, ‘আমাগো বাংলাদেশে আইছে দেখছেন এম্রিকাত্তে। আপু একটু চেহারাটা দেখান। কখনো দেখি নাই এমন। ভাইয়া ভিডিওটা ভালো লাগলে লাইক কইরেন।’
এই ধরনের ভিডিও যারা বানাচ্ছে এবং ইন্টারনেটে ছড়াচ্ছে, তাঁরা যে অপরাধ করছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো আমাদের সমাজ নিয়ে। কেন রাস্তায় হেঁটে যাওয়া একটি মেয়ের অগোচরে তাঁর পোশাকের ভাঁজ বা পিঠের অংশ জুম করে দেখানো এ ধরনের ভিডিও আড়াই লাখ মানুষ দেখল? তাঁদের মনস্তত্ত্ব নিয়েও ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। কেন মানুষ এই ভিডিওগুলোতে লাইক ও কমেন্ট করছে?
অন্যের ব্যক্তিগত বা গোপন মুহূর্ত তাঁর অজান্তে দেখার যে নেশা, তাকেই ‘ভয়্যারিজম’ বলা হয়। তবে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ভয়্যারিজম’ সাধারণত কারও ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ মুহূর্ত গোপনে দেখার প্রবণতাকে বোঝায়।
ভিডিওতে যখন কাউকে তাঁর অজান্তে লুকিয়ে দেখানো হয়, তখন দর্শকরা এক ধরণের গোপন বা ‘নিষিদ্ধ আনন্দ’ পায়। কারণ তাঁরা এমন কিছু দেখছে যা আসলে দেখার কথা না। লুকিয়ে অন্যকে দেখার কৌতূহল মানুষের মনস্তত্ত্বের একটি জটিল দিক, যা কিছু ক্ষেত্রে বিকৃত আচরণেও রূপ নিতে পারে।
যাদের লুকিয়ে দেখার এই বিকৃত স্বভাব আছে, তাঁদেরকে বোঝাতে ‘পিপিং টম’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যেমন কেউ যখন ঘরের ভেতরে কাপড় পাল্টাচ্ছে, গোসল করছে বা কোনো ব্যক্তিগত মুহূর্তে আছে, তখন জানালা, দরজার ফুটো বা গোপন ক্যামেরা দিয়ে উঁকিঝুঁকি মেরে দেখা। এই একই মানসিকতার কারণেই অনেকে অন্যের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতেও আনন্দ পায়। মূলত অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় লুকিয়ে দেখাকে তাঁরা বিনোদনের উৎস মনে করে।
এখানে অবজেক্টিফিকেশন বা পণ্যায়নের ব্যাপারও কাজ করে। অনলাইনে কোনো ভিডিও দেখার সময় দর্শক অনেক সময় পর্দার মানুষটিকে আর রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে ভাবেন না। ভিডিওর মানুষটি তখন তাঁর কাছে কেবল একটি ‘বস্তু’ বা ভোগ্যপণ্যের মতো হয়ে যায়। যেহেতু মানুষটির সঙ্গে সরাসরি কোনো পরিচয় নেই, তাই সেই মেয়েটির কষ্ট বা যন্ত্রণার কথা দর্শক কল্পনাও করতে পারেন না।
আমরা প্রতিদিন যখন এমন অসংখ্য ভিডিও দেখতে থাকি, তখন ধীরে ধীরে অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে যায়। অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা বা কারো অনুমতির যে প্রয়োজন আছে—এই বোধগুলো আমাদের মন থেকে হারিয়ে যেতে থাকে। প্রথমে এই ধরনের ভিডিও দেখে আমাদের মনে অস্বস্তি হলেও, বারবার দেখতে দেখতে এক সময় এগুলো খুব সাধারণ ব্যাপার মনে হতে শুরু করে।
এ ধরনের ভিডিও বা কন্টেন্ট দেখার সময় মস্তিষ্কে এক ধরণের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এটি কিছু ক্ষেত্রে মানুষের কৌতূহল, উত্তেজনা বা বারবার একই ধরনের কনটেন্ট দেখার প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
যখন কেউ হুট করে কোনো এমন ধরণের ভিডিও দেখে, তখন মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ সক্রিয় হতে পারে। এতে ডোপামিনসহ কিছু রাসায়নিকের ভূমিকা থাকতে পারে, যা মানুষের মধ্যে সাময়িক আগ্রহ, উত্তেজনা বা আনন্দের অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এটি দর্শককে তাৎক্ষণিক আনন্দ বা ‘ইউফোরিয়া’ দেয়। এভাবেই মানুষ লুপে আটকে যায়।
কিছু মানুষের মধ্যে অনেক সময় শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ও নির্গত হয়। তবে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং সব মানুষের ক্ষেত্রে একইভাবে ঘটে, এমন নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এটি সাময়িকভাবে মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কমিয়ে দেয়। এতে দর্শক এক ধরনের কৃত্রিম শান্তি পায়, যা তাঁকে চারপাশের বাস্তব সমস্যা থেকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে রাখে।
আবার ভিডিওর প্রেক্ষাপট যদি এমন হয় যে এটি একটি ‘গোপন’ বা ‘লুকিয়ে করা’ কাজ। তবে দর্শকের মধ্যে অ্যাড্রেনালিন রাশ হয়। এতে সামান্য পরিমাণে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) নিঃসৃত হতে পারে। এই ভয় এবং আনন্দের মিশ্রণই অনেককে এই ধরনের কন্টেন্টের প্রতি আসক্ত করে তোলে।
ইউরোপ বা আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোতেও এই ধরনের বিকৃত আচরণ দিন দিন বাড়ছে। যুক্তরাজ্যে ‘আপস্কার্টিং’ এত বেশি বেড়ে গিয়েছিল যে ২০১৯ সালে এটি বন্ধ করতে কঠোর আইন করতে বাধ্য হয়েছে। এর থেকে বোঝা যায়, পোশাকের স্বাধীনতা বা উন্নত সমাজব্যবস্থা থাকলেও মানুষের এই বিকৃত মানসিকতা পুরোপুরি দূর হচ্ছে না।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় এই সমস্যাটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সেখানে একে বলা হয় ‘মোলকা’। গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে বা জুম লেন্স দিয়ে লুকিয়ে নারীদের ভিডিও করা সেখানে একটি বড় অপরাধমূলক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এর প্রতিবাদে হাজার হাজার নারী দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছিলেন।
এ ছাড়া জাপান এবং চীনেও গোপন ক্যামেরা বা লুকিয়ে জুম ভিডিও করার এই প্রবণতা দেখা যায়। অর্থাৎ, এটি বিশ্বজুড়ে সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম অনেকটা নেশার মতো আমাদের আটকে ফেলে। কিছুদিন আগে একজন আমেরিকান তরুণী ‘মেটা’র বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম তাঁকে দীর্ঘসময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রেখেছে এবং তা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অ্যালগরিদম আসলে এভাবেই কাজ করে। আপনি কোনো ভিডিও একবার দেখলে সিস্টেম মনে করে এটি আপনার পছন্দ। এরপর আপনার সামনে বারবার একই ধরনের ভিডিও আসতে থাকে। আপনি চাইলেও এই চক্র থেকে সহজে বের হতে পারেন না।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, অ্যালগরিদম কোনো নৈতিকতা বোঝে না। সে বোঝে শুধু ‘ইউজার রিটেনশন’। কে কতক্ষণ স্ক্রিনে চোখ রাখল। আপনি কৌতূহলবশত বা ভুল করে এ ধরনের কোনো কনটেন্টে ক্লিক করা মাত্রই সিস্টেম আপনার অবচেতন মনকে বন্দি করে ফেলে। এরপর আপনার ফিডে অনবরত আসতে থাকে সেসব ভিডিও।
প্রাচীন আমলের সেই ‘পিপিং টম’ বা লুকিয়ে দেখা মানুষেরা আগে দরজার ফুটো বা জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারত। কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে সেই বিকৃত মানুষেরা এখন স্মার্টফোন হাতে আমাদের আশেপাশেই ঘুরছে। তারা বাসে আমাদের পাশের সিটেই বসছে কিংবা রাস্তা দিয়ে আমাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।
আর আমরা যারা এই ভিডিওগুলোতে লাইক দিচ্ছি, কমেন্ট করছি বা স্রেফ স্ক্রল করে দেখে যাচ্ছি, আমরাও অজান্তেই সেই বিকৃত ‘পিপিং টম’-এর ডিজিটাল সংস্করণে পরিণত হচ্ছি। আমাদের এই লাইক-শেয়ারের কারণেই ভিডিওগুলো লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে। কোনো মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করা যখন একটি সমাজের কাছে ‘বিনোদনের উৎস’ হয়ে দাঁড়ায়, তখন বুঝতে হবে সেই সমাজের নৈতিক কাঠামো ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছে। একজনের অসম্মতিকে আনন্দ হিসেবে গ্রহণ করা সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়।

বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে একা বসে থাকা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা—চায়ের উপস্থিতি যেন সবখানেই। তবে চা কেবল তৃষ্ণা মেটায় না। এর রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্যগুণ।
২ ঘণ্টা আগে
এবারের কোরবানি ঈদে থাকতে পারে গরমের তীব্রতা। তাই এমন পোশাক নির্বাচন করা উচিত যা দেবে গরমে আরাম, থাকবে ফ্যাশনের ছোঁয়াও। তাই ‘কমফোর্ট’ বা আরামকে বেশি গুরুত্ব দিলে সারাদিন স্বস্তিতে কাটবে।
৬ ঘণ্টা আগে
১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ বা কিশোর অ্যাকাউন্ট চালুর মাধ্যমে একটি আলাদা সুরক্ষাবলয় তৈরির কাজ শুরু করেছে মেটা। আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতে ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তারা কঠোরভাবে নজর দিচ্ছে যাতে ১৩ বছরের কম বয়সী কেউ ভুল তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।
১ দিন আগে
নির্মাতা মিথুন জামানের রচনা ও পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নুড়ি’ ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘শর্ট ফিল্ম কর্নার–সিনেমা দ্য দোমাঁ’ বিভাগের মার্কেট ক্যাটালগে স্থান করে নিয়েছে।
১ দিন আগে