আন্তর্জাতিক চা দিবস আজ
স্ট্রিম ডেস্ক

বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে একা বসে থাকা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা—চায়ের উপস্থিতি যেন সবখানেই। তবে চা কেবল তৃষ্ণা মেটায় না। এর রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্যগুণ।
এক কাপ চা যেমন আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ করে, তেমনি এটি আমাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে চা পানের সময়টুকু আমাদের সামাজিক বন্ধনকেও আরও মজবুত করে তোলে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক প্রশান্তি দেয়।
পৃথিবীর সব ধরণের চা মূলত ‘ক্যামেলিয়া সিনেনসিস’ নামক একটি চিরহরিৎ উদ্ভিদ থেকে আসে। চা পাতাগুলো ঠিক কীভাবে প্রক্রিয়াজাত বা জারিত করা হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই চায়ের ধরণ ও স্বাদ বদলে যায়। যেমন, গ্রিন টি-র ক্ষেত্রে পাতাগুলোকে খুব সামান্য প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং দ্রুত শুকিয়ে ফেলা হয়। ফলে এর রঙ ও প্রাকৃতিক গুণাগুণ অটুট থাকে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গ্রিন টি-র জনপ্রিয়তা প্রচুর। অন্যদিকে, ব্ল্যাক টি তৈরিতে পাতাগুলোকে দীর্ঘক্ষণ জারিত হতে দেওয়া হয়। ফলে এর স্বাদ হয় কড়া এবং রঙ হয় লালচে-কালো। আর্ল গ্রে বা দার্জিলিং চা মূলত ব্ল্যাক টি-রই বিভিন্ন রূপ।
এ ছাড়া ওলং টি-র স্বাদ গ্রিন টি এবং ব্ল্যাক টি-র মাঝামাঝি পর্যায়ের হয়ে থাকে। চীনের অত্যন্ত দুর্লভ হোয়াইট টি তৈরি হয় একদম কচি পাতা থেকে, যাতে ক্যাফেইন খুব কম থাকে। এর বাইরেও ওষুধি গুণের জন্য বিভিন্ন গাছের মূল বা পাতা থেকে ভেষজ চা বা হারবাল টি তৈরি হয়, যা প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ব্যবহার করে আসছে।
চায়ের এই বিচিত্র রূপের পেছনে রয়েছে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ইতিহাস। চায়ের আদি জন্মভূমি চীন। সেখান থেকেই মূলত সারা বিশ্বে চা ছড়িয়ে পড়ে। ১৬০০ শতকের দিকে ইংল্যান্ডে চায়ের প্রচলন শুরু হয় এবং দ্রুতই এটি তাদের প্রধান পানীয়তে পরিণত হয়। ব্রিটিশদের মধ্যে বিকেলে হালকা নাস্তার সঙ্গে চা খাওয়ার যে ‘আফটারনুন টি’ সংস্কৃতি আছে, তা এক সময় অভিজাতদের আভিজাত্যের প্রতীক ছিল।
গবেষকদের মতে, নিয়মিত চা পান করার সঙ্গে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তির সম্পর্ক রয়েছে। চায়ের মধ্যে থাকা পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে গ্রিন টি-তে থাকা বিশেষ উপাদান হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটি শরীরের রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
এ ছাড়া এটি রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। গবেষণাগারে দেখা গেছে যে, চায়ের উপাদানগুলো ক্যান্সারের কোষ তৈরিতে বাধা দেয় এবং ক্ষতিকারক কোষের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। যদিও মানুষের ওপর এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব নিয়ে এখনও অনেক গবেষণা চলছে।
চায়ের ক্যাফেইন টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও বেশ কার্যকর। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অল্প পরিমাণে হলেও চা রাখার পরামর্শ দেন। কারণ এটি শরীরকে সজীব রাখতে সাহায্য করে। তবে যাদের শরীরে আয়রনের অভাব বা অ্যানিমিয়া রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত চা পানের ব্যাপারে কিছুটা সচেতন থাকা উচিত। কারণ চায়ের কিছু উপাদান শরীরকে আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে।
চায়ের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন তৈরি করা। পরিবারের সদস্য হোক কিংবা পুরোনো বন্ধু—এক কাপ চা হাতে বসলে পরিবেশটা যেন আপনাআপনিই সহজ ও আনন্দময় হয়ে ওঠে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই শুরু হয় মনের না বলা কথাগুলোর আদান-প্রদান।
এই যে যূথবদ্ধ সময় কাটানো, এটি আমাদের মানসিক চাপ কমিয়ে মনে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। গবেষণাও বলছে, একাকীত্ব দূর করতে এবং সামাজিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়ের আড্ডা দারুণ কার্যকর।
তথ্যসূত্র: নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি

বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে একা বসে থাকা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা—চায়ের উপস্থিতি যেন সবখানেই। তবে চা কেবল তৃষ্ণা মেটায় না। এর রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্যগুণ।
এক কাপ চা যেমন আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ করে, তেমনি এটি আমাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে চা পানের সময়টুকু আমাদের সামাজিক বন্ধনকেও আরও মজবুত করে তোলে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক প্রশান্তি দেয়।
পৃথিবীর সব ধরণের চা মূলত ‘ক্যামেলিয়া সিনেনসিস’ নামক একটি চিরহরিৎ উদ্ভিদ থেকে আসে। চা পাতাগুলো ঠিক কীভাবে প্রক্রিয়াজাত বা জারিত করা হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই চায়ের ধরণ ও স্বাদ বদলে যায়। যেমন, গ্রিন টি-র ক্ষেত্রে পাতাগুলোকে খুব সামান্য প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং দ্রুত শুকিয়ে ফেলা হয়। ফলে এর রঙ ও প্রাকৃতিক গুণাগুণ অটুট থাকে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গ্রিন টি-র জনপ্রিয়তা প্রচুর। অন্যদিকে, ব্ল্যাক টি তৈরিতে পাতাগুলোকে দীর্ঘক্ষণ জারিত হতে দেওয়া হয়। ফলে এর স্বাদ হয় কড়া এবং রঙ হয় লালচে-কালো। আর্ল গ্রে বা দার্জিলিং চা মূলত ব্ল্যাক টি-রই বিভিন্ন রূপ।
এ ছাড়া ওলং টি-র স্বাদ গ্রিন টি এবং ব্ল্যাক টি-র মাঝামাঝি পর্যায়ের হয়ে থাকে। চীনের অত্যন্ত দুর্লভ হোয়াইট টি তৈরি হয় একদম কচি পাতা থেকে, যাতে ক্যাফেইন খুব কম থাকে। এর বাইরেও ওষুধি গুণের জন্য বিভিন্ন গাছের মূল বা পাতা থেকে ভেষজ চা বা হারবাল টি তৈরি হয়, যা প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ব্যবহার করে আসছে।
চায়ের এই বিচিত্র রূপের পেছনে রয়েছে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ইতিহাস। চায়ের আদি জন্মভূমি চীন। সেখান থেকেই মূলত সারা বিশ্বে চা ছড়িয়ে পড়ে। ১৬০০ শতকের দিকে ইংল্যান্ডে চায়ের প্রচলন শুরু হয় এবং দ্রুতই এটি তাদের প্রধান পানীয়তে পরিণত হয়। ব্রিটিশদের মধ্যে বিকেলে হালকা নাস্তার সঙ্গে চা খাওয়ার যে ‘আফটারনুন টি’ সংস্কৃতি আছে, তা এক সময় অভিজাতদের আভিজাত্যের প্রতীক ছিল।
গবেষকদের মতে, নিয়মিত চা পান করার সঙ্গে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তির সম্পর্ক রয়েছে। চায়ের মধ্যে থাকা পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে গ্রিন টি-তে থাকা বিশেষ উপাদান হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটি শরীরের রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
এ ছাড়া এটি রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। গবেষণাগারে দেখা গেছে যে, চায়ের উপাদানগুলো ক্যান্সারের কোষ তৈরিতে বাধা দেয় এবং ক্ষতিকারক কোষের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। যদিও মানুষের ওপর এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব নিয়ে এখনও অনেক গবেষণা চলছে।
চায়ের ক্যাফেইন টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও বেশ কার্যকর। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অল্প পরিমাণে হলেও চা রাখার পরামর্শ দেন। কারণ এটি শরীরকে সজীব রাখতে সাহায্য করে। তবে যাদের শরীরে আয়রনের অভাব বা অ্যানিমিয়া রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত চা পানের ব্যাপারে কিছুটা সচেতন থাকা উচিত। কারণ চায়ের কিছু উপাদান শরীরকে আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে।
চায়ের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন তৈরি করা। পরিবারের সদস্য হোক কিংবা পুরোনো বন্ধু—এক কাপ চা হাতে বসলে পরিবেশটা যেন আপনাআপনিই সহজ ও আনন্দময় হয়ে ওঠে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই শুরু হয় মনের না বলা কথাগুলোর আদান-প্রদান।
এই যে যূথবদ্ধ সময় কাটানো, এটি আমাদের মানসিক চাপ কমিয়ে মনে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। গবেষণাও বলছে, একাকীত্ব দূর করতে এবং সামাজিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়ের আড্ডা দারুণ কার্যকর।
তথ্যসূত্র: নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি

এবারের কোরবানি ঈদে থাকতে পারে গরমের তীব্রতা। তাই এমন পোশাক নির্বাচন করা উচিত যা দেবে গরমে আরাম, থাকবে ফ্যাশনের ছোঁয়াও। তাই ‘কমফোর্ট’ বা আরামকে বেশি গুরুত্ব দিলে সারাদিন স্বস্তিতে কাটবে।
৪ ঘণ্টা আগে
১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ বা কিশোর অ্যাকাউন্ট চালুর মাধ্যমে একটি আলাদা সুরক্ষাবলয় তৈরির কাজ শুরু করেছে মেটা। আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতে ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তারা কঠোরভাবে নজর দিচ্ছে যাতে ১৩ বছরের কম বয়সী কেউ ভুল তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।
১ দিন আগে
নির্মাতা মিথুন জামানের রচনা ও পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নুড়ি’ ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘শর্ট ফিল্ম কর্নার–সিনেমা দ্য দোমাঁ’ বিভাগের মার্কেট ক্যাটালগে স্থান করে নিয়েছে।
১ দিন আগে
বাবুর্চি, ফটো এডিটিং, শিক্ষকতা থেকে দেশের স্বাধীনতার নায়ক—এক জীবনে সবই করেছেন হো চি মিন। ছোটবেলা থেকেই পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত হতে ছুটে বেড়িয়েছেন পৃথিবীব্যাপী। বৈচিত্র্যময় এক জীবন কাটানো এই বিপ্লবী নেতার জন্মদিন ১৯ মে।
১ দিন আগে