হুমায়ূন শফিক

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস’ (বেসিস) নির্বাচনে ‘ব্রিফকেস কোম্পানি’র আড়ালে বিপুল সংখ্যক ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। সদস্যপদ ও ভোটার তালিকা যথাযথভাবে যাচাই (অডিট) ছাড়াই আগামী ২৭ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হওয়ায় সংগঠনটিতে তীব্র অসন্তোষ ও স্বচ্ছতা সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ সদস্যদের দাবি, তালিকায় অসংগতির কারণে অনেক যোগ্য ব্যক্তি বাদ পড়লেও অসাধু উপায়ে অযোগ্যদের ভোটার করা হয়েছে।
বেসিসের বর্তমান সদস্যসংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮০০। তবে অভিযোগ রয়েছে, এর প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যই সরাসরি প্রযুক্তি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। অনেক প্রতিষ্ঠান মূলত ‘ব্রিফকেস কোম্পানি’ হিসেবে পরিচিত—যাদের কোনো কার্যকর ওয়েবসাইট বা অফিসের ঠিকানা নেই। অথচ এসব প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের এই ভোটারদের তালিকায় রেখেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে ভোটার তালিকার সংখ্যা নিয়ে। নির্বাচনের জন্য আবেদন করেছিলেন ৭২৫ জন সদস্য। কিন্তু ১৫ মে গভীর রাতে যখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাতে দেখা যায় ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৫-এ। অর্থাৎ আবেদন না করেই নতুন ২১০ জন ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বাড়তি এই ২১০ জন কারা এবং কীভাবে তাঁরা এলেন, তার কোনো সদুত্তর নেই নির্বাচন বোর্ডের কাছে।
অডিট ছাড়া নির্বাচন
সাধারণ সদস্য ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল—ভোটগ্রহণের আগে আর্থিক অডিট এবং সদস্যপদ যাচাই (মেম্বারশিপ অডিট) সম্পন্ন করা। উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের হাতে বেসিসের নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনা। কিন্তু প্রশাসক ও নির্বাচন বোর্ড সেই পথে না হেঁটে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের আয়োজন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বেসিস সদস্য স্ট্রিমকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা লেভেল প্লেইং ফিল্ডের দাবি করেছিলাম। কিন্তু অডিট ছাড়াই ৬০০ জনের একটি ভোটব্যাংক তৈরি করে নির্বাচন করা হচ্ছে, যাদের বড় অংশই ফ্যাসিস্টের দোসর। একই মালিকের একাধিক কোম্পানি থাকা এবং প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা ভোট দেওয়ার সুবিধা থাকায় অল্প কিছু লোক সহজেই পুরো নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে।’
ভোটার হতে পারেননি এমন কয়েকজন বেসিস সদস্যের সঙ্গে আলাপ করলে তাঁরা স্ট্রিমকে জানান, আমরা ভোটার হওয়ার জন্য সব ধরনের কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু তালিকায় আমাদের নাম নেই। আমাদের কেন বাদ দেওয়া হলো তা জানি না।
এছাড়া, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা একজন বেসিস সদস্য জানান, গতবার ভোট দিতে পারলেও এবার তালিকায় আমার নামই উঠেনি।
তালিকায় ফ্যাসিস্ট দোসরদের ছড়াছড়ি
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুরো জাতি যখন স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন বেসিসের তালিকায় উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে। ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, সালমান এফ রহমানের ব্যবসায়িক অংশীদার দোহাটেক নিউ মিডিয়া এবং বিতর্কিত গিগাটেক লিমিটেডের সামিরা জুবেরি হিমিকার মতো ব্যক্তিদের।
অভিযোগ রয়েছে, জেড কর্প সলিউশনসসহ এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকায় রয়েছে যাদের ওয়েবসাইট বর্তমানে অকার্যকর। এনআরবি জবস লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান ভবনে সংস্কারকাজ চলায় বর্তমানে কোনো কার্যকর অফিসের অস্তিত্ব নেই। অথচ এই তালিকায় স্থান হয়নি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় এবং যোগ্য অনেক উদ্যোক্তার।
প্রশাসকের ভূমিকা ও রহস্যময় নীরবতা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিযুক্ত প্রশাসক এ কে এম হাফিজুল্লাহ খান লিটন গত প্রায় ছয় মাস ধরে দায়িত্ব পালন করলেও সদস্যপদ হালনাগাদ বা অডিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দেননি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় প্রশাসক নিজেই হজ পালনের জন্য ছুটিতে আছেন। এতে করে এই পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে তিনি গত ১৭ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলাম বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠির বিষয় ছিল: ‘বেসিস নির্বাচন ২০২৬-২০২৮: চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রাপ্ত ত্রুটি সংশোধন প্রসঙ্গে’। চিঠি অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নে বিভিন্ন ধরনের অসংগতি ও ত্রুটি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটারের ছবির সঙ্গে তথ্যের অসামঞ্জস্য, টিআইএন নম্বর ভুল, বকেয়া পরিশোধের পরও নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এবং মেম্বারশিপ আইডির অসামঞ্জস্য (এএস-২৩ থেকে এএস-৫৪, এএস-৫৬ থেকে এএস-৭৬ এবং এএস-৭৮ থেকে এএস-১০৭ পর্যন্ত)। ত্রুটিগুলো যথাযথ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।
এদিকে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলামকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আবেদন না করে নাম আসার সুযোগ নেই।’ আবেদনকারী ও চূড়ান্ত ভোটারের সংখ্যার পার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমন হয়নি। আবেদন করেছেন ৩৬৫ জন, ৩২০ জনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৪৫ জন নানা কারণে বাদ পড়েছেন। হয়তো প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেননি তাঁরা।’
প্রশাসকের চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চিঠি পেয়েছি। তিনি এখন দেশে নেই। তবে চিঠিটি যাচাই না করে কিছু করা যাচ্ছে না। আজ যাচাই করেছি, স্যারের সঙ্গে কথাও হয়েছে। কিছু সমস্যার কথা তিনি জানিয়েছেন। এক ছবির জায়গায় অন্য ছবি আসার মতো ভুল হতেই পারে। এগুলো আমরা ঠিক করে ফেলব।’
ভোটার হওয়ার শর্তে ওয়েবসাইট থাকার বিষয়টি উল্লেখ করলে তানিয়া ইসলাম বলেন, ‘ওয়েবসাইটের তথ্য বেসিস দিয়েছে। সরবরাহকৃত তথ্য নিয়েই আমরা কাজ করেছি। ওয়েবসাইটে আমাদের প্রবেশাধিকার ছিল না, তাই দেখতে পারিনি।’
ইন্টারনেটে যাচাই করা যেত কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওয়েবসাইট যাচাইয়ের দায়িত্ব আমাদের নয়। তাঁরা তথ্য দেবেন, আমরা কাজ করব। তারপরও ভুল থাকলে ঠিক করব।’ প্রার্থীদের আবেদনের শেষ দিন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০ মে বিকেলের মধ্যেই সব ঠিক করে দেওয়া হবে।
প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা
বেসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভুয়া বা রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া ভোটাররা প্রভাবশালী থাকলে আইটি খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন গ্লোবাললিস্ট এসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও নাওয়িদ হোসেন। তিনি বলেন, এভাবে চললে সৃজনশীল উদ্যোক্তারা মুখ ফিরিয়ে নেবেন, যার ফলে মেধা পাচার হবে এবং উদ্ভাবন থমকে দাঁড়াবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেন, ‘বেসিসের লক্ষ্য আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নেওয়া, কিন্তু এই জগাখিচুড়ি নির্বাচন আমাদের লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।’
নাওয়িদ হোসেন জানান, প্রায় ২ হাজার ৮০০ সদস্যের মধ্যে ভোটার হয়েছেন মাত্র ৬০০ জনের কিছু বেশি। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য দেওয়া সময় ছিল অপর্যাপ্ত। নাওয়িদের মতে, প্রথম ভোটার তালিকাটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। পরবর্তীতে সংশোধন করা হলেও জটিলতা কাটেনি। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা তৈরিতে ডিজিটাল ডাটাবেজের সঠিক ব্যবহার করা হয়নি এবং ম্যানুয়ালি আবেদন জমার প্রক্রিয়াটি ছিল বিভ্রান্তিকর।
বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বেসিসের গঠনতন্ত্রের কিছু নিয়মকেও দায়ী করছেন সদস্যরা। তাঁদের মতে, ভোটার হওয়ার শর্তগুলো বাস্তবসম্মত নয়। নাওয়িদ হোসেন দাবি জানান যেন তালিকাটি আবার যাচাই করে যোগ্যদের সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘বেসিসের গঠনতন্ত্রের ৮.৩ এবং ১৪.৬ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিধি থাকলেও বর্তমানে যেকোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছে, যা গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন এবং নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ করবে।’

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস’ (বেসিস) নির্বাচনে ‘ব্রিফকেস কোম্পানি’র আড়ালে বিপুল সংখ্যক ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। সদস্যপদ ও ভোটার তালিকা যথাযথভাবে যাচাই (অডিট) ছাড়াই আগামী ২৭ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হওয়ায় সংগঠনটিতে তীব্র অসন্তোষ ও স্বচ্ছতা সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ সদস্যদের দাবি, তালিকায় অসংগতির কারণে অনেক যোগ্য ব্যক্তি বাদ পড়লেও অসাধু উপায়ে অযোগ্যদের ভোটার করা হয়েছে।
বেসিসের বর্তমান সদস্যসংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮০০। তবে অভিযোগ রয়েছে, এর প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যই সরাসরি প্রযুক্তি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। অনেক প্রতিষ্ঠান মূলত ‘ব্রিফকেস কোম্পানি’ হিসেবে পরিচিত—যাদের কোনো কার্যকর ওয়েবসাইট বা অফিসের ঠিকানা নেই। অথচ এসব প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের এই ভোটারদের তালিকায় রেখেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে ভোটার তালিকার সংখ্যা নিয়ে। নির্বাচনের জন্য আবেদন করেছিলেন ৭২৫ জন সদস্য। কিন্তু ১৫ মে গভীর রাতে যখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাতে দেখা যায় ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৫-এ। অর্থাৎ আবেদন না করেই নতুন ২১০ জন ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বাড়তি এই ২১০ জন কারা এবং কীভাবে তাঁরা এলেন, তার কোনো সদুত্তর নেই নির্বাচন বোর্ডের কাছে।
অডিট ছাড়া নির্বাচন
সাধারণ সদস্য ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল—ভোটগ্রহণের আগে আর্থিক অডিট এবং সদস্যপদ যাচাই (মেম্বারশিপ অডিট) সম্পন্ন করা। উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের হাতে বেসিসের নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনা। কিন্তু প্রশাসক ও নির্বাচন বোর্ড সেই পথে না হেঁটে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের আয়োজন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বেসিস সদস্য স্ট্রিমকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা লেভেল প্লেইং ফিল্ডের দাবি করেছিলাম। কিন্তু অডিট ছাড়াই ৬০০ জনের একটি ভোটব্যাংক তৈরি করে নির্বাচন করা হচ্ছে, যাদের বড় অংশই ফ্যাসিস্টের দোসর। একই মালিকের একাধিক কোম্পানি থাকা এবং প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা ভোট দেওয়ার সুবিধা থাকায় অল্প কিছু লোক সহজেই পুরো নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে।’
ভোটার হতে পারেননি এমন কয়েকজন বেসিস সদস্যের সঙ্গে আলাপ করলে তাঁরা স্ট্রিমকে জানান, আমরা ভোটার হওয়ার জন্য সব ধরনের কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু তালিকায় আমাদের নাম নেই। আমাদের কেন বাদ দেওয়া হলো তা জানি না।
এছাড়া, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা একজন বেসিস সদস্য জানান, গতবার ভোট দিতে পারলেও এবার তালিকায় আমার নামই উঠেনি।
তালিকায় ফ্যাসিস্ট দোসরদের ছড়াছড়ি
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুরো জাতি যখন স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন বেসিসের তালিকায় উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে। ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, সালমান এফ রহমানের ব্যবসায়িক অংশীদার দোহাটেক নিউ মিডিয়া এবং বিতর্কিত গিগাটেক লিমিটেডের সামিরা জুবেরি হিমিকার মতো ব্যক্তিদের।
অভিযোগ রয়েছে, জেড কর্প সলিউশনসসহ এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকায় রয়েছে যাদের ওয়েবসাইট বর্তমানে অকার্যকর। এনআরবি জবস লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান ভবনে সংস্কারকাজ চলায় বর্তমানে কোনো কার্যকর অফিসের অস্তিত্ব নেই। অথচ এই তালিকায় স্থান হয়নি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় এবং যোগ্য অনেক উদ্যোক্তার।
প্রশাসকের ভূমিকা ও রহস্যময় নীরবতা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিযুক্ত প্রশাসক এ কে এম হাফিজুল্লাহ খান লিটন গত প্রায় ছয় মাস ধরে দায়িত্ব পালন করলেও সদস্যপদ হালনাগাদ বা অডিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দেননি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় প্রশাসক নিজেই হজ পালনের জন্য ছুটিতে আছেন। এতে করে এই পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে তিনি গত ১৭ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলাম বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠির বিষয় ছিল: ‘বেসিস নির্বাচন ২০২৬-২০২৮: চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রাপ্ত ত্রুটি সংশোধন প্রসঙ্গে’। চিঠি অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নে বিভিন্ন ধরনের অসংগতি ও ত্রুটি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটারের ছবির সঙ্গে তথ্যের অসামঞ্জস্য, টিআইএন নম্বর ভুল, বকেয়া পরিশোধের পরও নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এবং মেম্বারশিপ আইডির অসামঞ্জস্য (এএস-২৩ থেকে এএস-৫৪, এএস-৫৬ থেকে এএস-৭৬ এবং এএস-৭৮ থেকে এএস-১০৭ পর্যন্ত)। ত্রুটিগুলো যথাযথ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।
এদিকে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলামকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আবেদন না করে নাম আসার সুযোগ নেই।’ আবেদনকারী ও চূড়ান্ত ভোটারের সংখ্যার পার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমন হয়নি। আবেদন করেছেন ৩৬৫ জন, ৩২০ জনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৪৫ জন নানা কারণে বাদ পড়েছেন। হয়তো প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেননি তাঁরা।’
প্রশাসকের চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চিঠি পেয়েছি। তিনি এখন দেশে নেই। তবে চিঠিটি যাচাই না করে কিছু করা যাচ্ছে না। আজ যাচাই করেছি, স্যারের সঙ্গে কথাও হয়েছে। কিছু সমস্যার কথা তিনি জানিয়েছেন। এক ছবির জায়গায় অন্য ছবি আসার মতো ভুল হতেই পারে। এগুলো আমরা ঠিক করে ফেলব।’
ভোটার হওয়ার শর্তে ওয়েবসাইট থাকার বিষয়টি উল্লেখ করলে তানিয়া ইসলাম বলেন, ‘ওয়েবসাইটের তথ্য বেসিস দিয়েছে। সরবরাহকৃত তথ্য নিয়েই আমরা কাজ করেছি। ওয়েবসাইটে আমাদের প্রবেশাধিকার ছিল না, তাই দেখতে পারিনি।’
ইন্টারনেটে যাচাই করা যেত কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওয়েবসাইট যাচাইয়ের দায়িত্ব আমাদের নয়। তাঁরা তথ্য দেবেন, আমরা কাজ করব। তারপরও ভুল থাকলে ঠিক করব।’ প্রার্থীদের আবেদনের শেষ দিন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০ মে বিকেলের মধ্যেই সব ঠিক করে দেওয়া হবে।
প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা
বেসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভুয়া বা রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া ভোটাররা প্রভাবশালী থাকলে আইটি খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন গ্লোবাললিস্ট এসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও নাওয়িদ হোসেন। তিনি বলেন, এভাবে চললে সৃজনশীল উদ্যোক্তারা মুখ ফিরিয়ে নেবেন, যার ফলে মেধা পাচার হবে এবং উদ্ভাবন থমকে দাঁড়াবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেন, ‘বেসিসের লক্ষ্য আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নেওয়া, কিন্তু এই জগাখিচুড়ি নির্বাচন আমাদের লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।’
নাওয়িদ হোসেন জানান, প্রায় ২ হাজার ৮০০ সদস্যের মধ্যে ভোটার হয়েছেন মাত্র ৬০০ জনের কিছু বেশি। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য দেওয়া সময় ছিল অপর্যাপ্ত। নাওয়িদের মতে, প্রথম ভোটার তালিকাটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। পরবর্তীতে সংশোধন করা হলেও জটিলতা কাটেনি। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা তৈরিতে ডিজিটাল ডাটাবেজের সঠিক ব্যবহার করা হয়নি এবং ম্যানুয়ালি আবেদন জমার প্রক্রিয়াটি ছিল বিভ্রান্তিকর।
বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বেসিসের গঠনতন্ত্রের কিছু নিয়মকেও দায়ী করছেন সদস্যরা। তাঁদের মতে, ভোটার হওয়ার শর্তগুলো বাস্তবসম্মত নয়। নাওয়িদ হোসেন দাবি জানান যেন তালিকাটি আবার যাচাই করে যোগ্যদের সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘বেসিসের গঠনতন্ত্রের ৮.৩ এবং ১৪.৬ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিধি থাকলেও বর্তমানে যেকোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছে, যা গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন এবং নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ করবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরেই মায়েদের ‘ব্রেস্টফিডিং’ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে, নানা কারণে মায়েরা তাদের শিশুদের ব্রেস্টফিডিং করান না। ফলে শিশুরা সংক্রামকসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এই দুটি ধারণাই ভুল।
২ দিন আগে
বিশ্বায়নের যুগে বর্তমানে শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল, ট্যাবলেট ও টিভি যেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন অধিকাংশ পরিবারই শিশুকে খাওয়ানো থেকে শুরু করে শান্ত রাখা পর্যন্ত নানা কাজে স্ক্রিন ব্যবহার করে। খেলার মাঠ, বই কিংবা সামাজিক মেলামেশার পাশাপাশি স্ক্রিনও এখন তাদের শেখা ও বিনোদনের প্রধান মাধ্যম।
২ দিন আগে
ভোজনরসিকদের খুবই প্রিয় একটি খাবার ‘লবস্টার’। ইদানীং ‘লাক্সারি ফুড’ হিসেবে ফাইন ডাইন রেস্টুরেন্টগুলোতে এর চাহিদা ব্যাপক।
৪ দিন আগে
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন জন টার্নাস। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিটির দায়িত্ব নেবেন তিনি।
২১ এপ্রিল ২০২৬