প্যাট্রিস লুমুম্বার জন্মদিন
ফাবিহা বিনতে হক

আপনি যদি এবারের বিশ্বকাপে ডি আর কঙ্গোর খেলা দেখে থাকেন, তবে গ্যালারির একটা দৃশ্যে চোখ আটকেছে নিশ্চয়ই। কৃষ্ণাঙ্গ একজন মানুষ, চোখে চশমা, বাহারি রঙের শার্ট-প্যান্ট-টাই পরে বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন একেবারে মূর্তির মতো।
প্রথম দর্শনে হয়তো ভাববেন, পাগলাটে কেউ ভাইরাল হওয়ার নেশায় এমন করছেন। কিন্তু খেলার পুরো নব্বই মিনিট অপলক দৃষ্টিতে একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কি এতই সহজ? গ্যালারি-ভর্তি মানুষ যেখানে আনন্দ-উত্তেজনা নিয়ে খেলা দেখছে, এই একজন মানুষ স্থির হয়ে তাকানো সামনের দিকে। চোখের পলকও ফেলছেন না। অপলক দৃষ্টিতে কী দেখছেন তিনি? কঙ্গোর খেলা? অনাগত আগামী নাকি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অতীত?
২০১০-এর শুরু থেকে কঙ্গোর জাতীয় ফুটবল দল ‘লিওপার্ডস’-এর ম্যাচে নিয়মিত উপস্থিত হোন তিনি। আফ্রিকা কাপ অব নেশনস থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের মঞ্চ, যেখানেই কঙ্গো খেলেছে, সেখানেই ঠিক একই ভঙ্গিতে দেখা গেছে তাঁকে। মানুষটির নাম মিশেল কুকা এম্বোলাদিঙ্গা। কিন্তু তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘লুমুম্বা ভেয়া’ রেখেছেন যার অর্থ ‘লুমুম্বা বেঁচে আছেন’।
ভালোবাসা কিংবা সমর্থনের অনেক ধরনের ভাষা হয়। এই ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে মূর্তির মতো দাঁড়ানো যেন মিশেলের নিজস্ব এক ভাষা। এই নাম এবং সাজসজ্জা ও উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছেন কঙ্গোর স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা প্যাট্রিস লুমুম্বাকে। কিন্তু প্যাট্রিস লুমুম্বার প্রতি এত ভালোবাসা কেন জমেছে তাঁর? কে তিনি?
প্যাট্রিস লুমুম্বা কঙ্গোর উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংঠক। ১৯৬০ সালের জুন মাসের বেলজিয়ান শাসকদের থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে কঙ্গো। ওই বছরই মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন প্যাট্রিস লুমুম্বা। ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ সময়ে সদ্য স্বাধীন দেশের মন্ত্রিসভা নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পান তিনি। প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে তৎকালীন বেলজিয়ান রাজা বাউদুইন ঔপনিবেশিক শাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে পূর্বসূরি রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ডের হাত ধরে যে কঙ্গোর জনগণ ‘সভ্য’ হয়, সেটিও ভাষণে উল্লেখ করেন। তবে সেই বক্তব্যের কোনো জায়গায় দ্বিতীয় লিওপোল্ডের শাসনামলে কঙ্গোর লাখ লাখ মানুষ হত্যা বা নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনার উল্লেখ ছিল না।
দ্বিতীয় লিওপোল্ডের শাসনামলে কঙ্গোর মানুষের ওপর যে দমনমূলক আচরণ করা হয়, তা রাজা বাউদুইনকে স্বীকার করতে না দেখে চুপ থাকতে পারেননি প্যাট্রিস লুমুম্বা। অনুষ্ঠানে লুমুম্বার বক্তব্য দেওয়ার কথা না থাকলেও রাজা বাউদুইনের বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার সামনে কঙ্গোর মানুষের ওপর বেলজিয়ান শাসকদের অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেন তিনি। ঔপনিবেশিক শাসনামলে কঙ্গোবাসীদের যে অপমান সহ্য করতে হয়, তারও বর্ণনা দেন লুমুম্বা।
লুমুম্বার বক্তব্যের সমর্থনে কয়েকবার হাততালি দেওয়া হয়, আগত অতিথিরা দাঁড়িয়ে তাঁকে সাধুবাদ জানান। তবে লুমুম্বার বক্তব্য শুনে বেলজিয়ানরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। এর আগে কৃষ্ণাঙ্গদের কেউই ইউরোপিয়ানদের সামনে এভাবে কথা বলার সাহস পায়নি। পরদিন বেলজিয়ান পত্র-পত্রিকায় কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বাকে ‘অশিক্ষিত চোর’ আখ্যা দেওয়া হয়।
বেলজিয়ামের অনেকে মনে করেন, অনুষ্ঠানে সবার সামনে দেশের রাজা ও সরকারি কর্মকর্তাদের অপমান করেছেন লুমুম্বা। সেই বক্তব্য দিয়ে যে নিজের বিপদ ডেকে আনলেন প্যাট্রিস লুমুম্বা, তা অনেকেই বুঝতে পারেন। এ কারণে এই বক্তব্যের ঠিক পরের বছরই হত্যার শিকার হোন তিনি। লুমুম্বাকে হত্যার পেছনে বেলজিয়াম সরকারেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকারও প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল কারণ ইউরোপীয় শাসন থেকে মুক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে হেলে পড়ার সম্ভাবনা ছিল কঙ্গোর। বিশেষ করে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লুমুম্বার আপসহীন অবস্থান চিন্তায় ফেলে মার্কিন সরকারকে। ফলে মৃত্যু অবধারিতভাবে লেখা হয়ে যায় লুমুম্বার ভাগ্যে।
মূলত স্বাধীনতার পরপরই কঙ্গোকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সাত মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কঙ্গোর এই প্রধানমন্ত্রী প্রাণ হারান। ১৯৬০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বাকে বরখাস্ত করেন কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাসা-ভুবু। এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে কঙ্গোর সেনাপ্রধান কর্নেল জোসেফ মোবুটু দেশের ক্ষমতা দখল করেন। কঙ্গোর সেনাবাহিনী দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই লুমুম্বাকে গৃহবন্দি করে। সেখান থেকে তিনি দেশের পশ্চিমাঞ্চলের দিকে পালিয়ে গেলেও ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে ধরা পড়েন। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর মনে হয়, লুমুম্বা ওই অঞ্চলে বেশি দিন থাকলে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক বেলজিয়াম তখন কঙ্গোর সেনাবাহিনীকে পরামর্শ দেয়, লুমুম্বাকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাটাঙ্গা প্রদেশ সরিয়ে নেওয়া উচিত। ১৯৬১ সালের ১৬ জানুয়ারি কাটাঙ্গায় নেওয়ার পথে লুমুম্বাকে মারধর করা হয়। প্রদেশটিতে পৌঁছানোর পর তার ওপর আবার হামলা করে কাটাঙ্গার নেতারা।
১৯৬১ সালের ১৭ জানুয়ারি দুই সহযোগীর সঙ্গে প্যাট্রিস লুমুম্বকেও ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেলজিয়ান পুলিশ কমিশনার জেরার্ড সুটে। ওপরের মহল থেকে আদেশ আসে, লুমুম্বাসহ তিনজনের মরদেহ এমনভাবে উধাও করতে হবে, যাতে কেউ কখনো সেগুলোর টিকিটিও খুঁজে না পায়। লুমুম্বাসহ তিনজনের মরদেহ একেবারে নিশ্চিহ্ন করতে এক দল গঠন করেন সুটে। পেশাদার খুনেদের মতো তাদের সঙ্গে ছিল করাত, সালফিউরিক অ্যাসিড, ফেইস মাস্ক ও হুইস্কি। পুরো প্রক্রিয়াকে পরে সুটে ‘নরকের ভেতর যাত্রা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
প্রায় ৪০ বছর পর ১৯৯৯ সালে প্রথম জনসম্মুখে স্বীকার করেন, লুমুম্বা হত্যায় তিনি জড়িত ছিলেন এবং কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রীর সোনায় বাঁধানো দাঁত তাঁর হেফাজতে রয়েছে। তবে লুমুম্বার মরদেহের অন্যান্য অংশ একসময় থাকলেও এখন নেই।
কঙ্গোর সাবেক প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বা হত্যার অনেক বছর পরও তাঁর সন্তানরা জানতেন না, ঠিক কী হয়েছিল বাবার সঙ্গে, কীভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। কারণ কঙ্গোর সরকারি কর্মকর্তারা লুমুম্বার মৃত্যু নিয়ে মুখে একেবারে কুলুপ এঁটেছিলেন। এ বিষয়ে লুমুম্বার মেয়ে জুলিয়ানা বলেন, ‘যখন প্রথম শুনি বাবার দেহের একটি অংশ বেলজিয়ামে একজনের কাছে রয়েছে, তখন কেমন লেগেছিল, তা বলার ভাষা নেই।’
লুমুম্বার দাঁত পুলিশ কমিশনার সুটে একটি বাক্সে রেখেছিলেন। সেটি তাঁর বাড়িতেই থাকত। ২০১৬ সালে হুমো নামে বেলজিয়ান এক ম্যাগাজিনে সুটের মেয়ে গোদেলিভের সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। এরপরই লুমুম্বার একমাত্র দেহাবশেষ নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়। সাক্ষাৎকারে সুটের মেয়ে বলেছিলেন, ‘প্যাট্রিস লুমুম্বার মরদেহ নিয়ে তাঁর বাবা যে ঘৃণ্য কাজ করেছেন, তা পরে বুঝতে পারেন তিনি। ২০০০ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁকে এজন্য কষ্ট পেতে হয়।’

আপনি যদি এবারের বিশ্বকাপে ডি আর কঙ্গোর খেলা দেখে থাকেন, তবে গ্যালারির একটা দৃশ্যে চোখ আটকেছে নিশ্চয়ই। কৃষ্ণাঙ্গ একজন মানুষ, চোখে চশমা, বাহারি রঙের শার্ট-প্যান্ট-টাই পরে বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন একেবারে মূর্তির মতো।
প্রথম দর্শনে হয়তো ভাববেন, পাগলাটে কেউ ভাইরাল হওয়ার নেশায় এমন করছেন। কিন্তু খেলার পুরো নব্বই মিনিট অপলক দৃষ্টিতে একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কি এতই সহজ? গ্যালারি-ভর্তি মানুষ যেখানে আনন্দ-উত্তেজনা নিয়ে খেলা দেখছে, এই একজন মানুষ স্থির হয়ে তাকানো সামনের দিকে। চোখের পলকও ফেলছেন না। অপলক দৃষ্টিতে কী দেখছেন তিনি? কঙ্গোর খেলা? অনাগত আগামী নাকি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অতীত?
২০১০-এর শুরু থেকে কঙ্গোর জাতীয় ফুটবল দল ‘লিওপার্ডস’-এর ম্যাচে নিয়মিত উপস্থিত হোন তিনি। আফ্রিকা কাপ অব নেশনস থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের মঞ্চ, যেখানেই কঙ্গো খেলেছে, সেখানেই ঠিক একই ভঙ্গিতে দেখা গেছে তাঁকে। মানুষটির নাম মিশেল কুকা এম্বোলাদিঙ্গা। কিন্তু তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘লুমুম্বা ভেয়া’ রেখেছেন যার অর্থ ‘লুমুম্বা বেঁচে আছেন’।
ভালোবাসা কিংবা সমর্থনের অনেক ধরনের ভাষা হয়। এই ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে মূর্তির মতো দাঁড়ানো যেন মিশেলের নিজস্ব এক ভাষা। এই নাম এবং সাজসজ্জা ও উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছেন কঙ্গোর স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা প্যাট্রিস লুমুম্বাকে। কিন্তু প্যাট্রিস লুমুম্বার প্রতি এত ভালোবাসা কেন জমেছে তাঁর? কে তিনি?
প্যাট্রিস লুমুম্বা কঙ্গোর উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংঠক। ১৯৬০ সালের জুন মাসের বেলজিয়ান শাসকদের থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে কঙ্গো। ওই বছরই মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন প্যাট্রিস লুমুম্বা। ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ সময়ে সদ্য স্বাধীন দেশের মন্ত্রিসভা নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পান তিনি। প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে তৎকালীন বেলজিয়ান রাজা বাউদুইন ঔপনিবেশিক শাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে পূর্বসূরি রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ডের হাত ধরে যে কঙ্গোর জনগণ ‘সভ্য’ হয়, সেটিও ভাষণে উল্লেখ করেন। তবে সেই বক্তব্যের কোনো জায়গায় দ্বিতীয় লিওপোল্ডের শাসনামলে কঙ্গোর লাখ লাখ মানুষ হত্যা বা নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনার উল্লেখ ছিল না।
দ্বিতীয় লিওপোল্ডের শাসনামলে কঙ্গোর মানুষের ওপর যে দমনমূলক আচরণ করা হয়, তা রাজা বাউদুইনকে স্বীকার করতে না দেখে চুপ থাকতে পারেননি প্যাট্রিস লুমুম্বা। অনুষ্ঠানে লুমুম্বার বক্তব্য দেওয়ার কথা না থাকলেও রাজা বাউদুইনের বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার সামনে কঙ্গোর মানুষের ওপর বেলজিয়ান শাসকদের অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেন তিনি। ঔপনিবেশিক শাসনামলে কঙ্গোবাসীদের যে অপমান সহ্য করতে হয়, তারও বর্ণনা দেন লুমুম্বা।
লুমুম্বার বক্তব্যের সমর্থনে কয়েকবার হাততালি দেওয়া হয়, আগত অতিথিরা দাঁড়িয়ে তাঁকে সাধুবাদ জানান। তবে লুমুম্বার বক্তব্য শুনে বেলজিয়ানরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। এর আগে কৃষ্ণাঙ্গদের কেউই ইউরোপিয়ানদের সামনে এভাবে কথা বলার সাহস পায়নি। পরদিন বেলজিয়ান পত্র-পত্রিকায় কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বাকে ‘অশিক্ষিত চোর’ আখ্যা দেওয়া হয়।
বেলজিয়ামের অনেকে মনে করেন, অনুষ্ঠানে সবার সামনে দেশের রাজা ও সরকারি কর্মকর্তাদের অপমান করেছেন লুমুম্বা। সেই বক্তব্য দিয়ে যে নিজের বিপদ ডেকে আনলেন প্যাট্রিস লুমুম্বা, তা অনেকেই বুঝতে পারেন। এ কারণে এই বক্তব্যের ঠিক পরের বছরই হত্যার শিকার হোন তিনি। লুমুম্বাকে হত্যার পেছনে বেলজিয়াম সরকারেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকারও প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল কারণ ইউরোপীয় শাসন থেকে মুক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে হেলে পড়ার সম্ভাবনা ছিল কঙ্গোর। বিশেষ করে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লুমুম্বার আপসহীন অবস্থান চিন্তায় ফেলে মার্কিন সরকারকে। ফলে মৃত্যু অবধারিতভাবে লেখা হয়ে যায় লুমুম্বার ভাগ্যে।
মূলত স্বাধীনতার পরপরই কঙ্গোকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সাত মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কঙ্গোর এই প্রধানমন্ত্রী প্রাণ হারান। ১৯৬০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বাকে বরখাস্ত করেন কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাসা-ভুবু। এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে কঙ্গোর সেনাপ্রধান কর্নেল জোসেফ মোবুটু দেশের ক্ষমতা দখল করেন। কঙ্গোর সেনাবাহিনী দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই লুমুম্বাকে গৃহবন্দি করে। সেখান থেকে তিনি দেশের পশ্চিমাঞ্চলের দিকে পালিয়ে গেলেও ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে ধরা পড়েন। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর মনে হয়, লুমুম্বা ওই অঞ্চলে বেশি দিন থাকলে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক বেলজিয়াম তখন কঙ্গোর সেনাবাহিনীকে পরামর্শ দেয়, লুমুম্বাকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাটাঙ্গা প্রদেশ সরিয়ে নেওয়া উচিত। ১৯৬১ সালের ১৬ জানুয়ারি কাটাঙ্গায় নেওয়ার পথে লুমুম্বাকে মারধর করা হয়। প্রদেশটিতে পৌঁছানোর পর তার ওপর আবার হামলা করে কাটাঙ্গার নেতারা।
১৯৬১ সালের ১৭ জানুয়ারি দুই সহযোগীর সঙ্গে প্যাট্রিস লুমুম্বকেও ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেলজিয়ান পুলিশ কমিশনার জেরার্ড সুটে। ওপরের মহল থেকে আদেশ আসে, লুমুম্বাসহ তিনজনের মরদেহ এমনভাবে উধাও করতে হবে, যাতে কেউ কখনো সেগুলোর টিকিটিও খুঁজে না পায়। লুমুম্বাসহ তিনজনের মরদেহ একেবারে নিশ্চিহ্ন করতে এক দল গঠন করেন সুটে। পেশাদার খুনেদের মতো তাদের সঙ্গে ছিল করাত, সালফিউরিক অ্যাসিড, ফেইস মাস্ক ও হুইস্কি। পুরো প্রক্রিয়াকে পরে সুটে ‘নরকের ভেতর যাত্রা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
প্রায় ৪০ বছর পর ১৯৯৯ সালে প্রথম জনসম্মুখে স্বীকার করেন, লুমুম্বা হত্যায় তিনি জড়িত ছিলেন এবং কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রীর সোনায় বাঁধানো দাঁত তাঁর হেফাজতে রয়েছে। তবে লুমুম্বার মরদেহের অন্যান্য অংশ একসময় থাকলেও এখন নেই।
কঙ্গোর সাবেক প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বা হত্যার অনেক বছর পরও তাঁর সন্তানরা জানতেন না, ঠিক কী হয়েছিল বাবার সঙ্গে, কীভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। কারণ কঙ্গোর সরকারি কর্মকর্তারা লুমুম্বার মৃত্যু নিয়ে মুখে একেবারে কুলুপ এঁটেছিলেন। এ বিষয়ে লুমুম্বার মেয়ে জুলিয়ানা বলেন, ‘যখন প্রথম শুনি বাবার দেহের একটি অংশ বেলজিয়ামে একজনের কাছে রয়েছে, তখন কেমন লেগেছিল, তা বলার ভাষা নেই।’
লুমুম্বার দাঁত পুলিশ কমিশনার সুটে একটি বাক্সে রেখেছিলেন। সেটি তাঁর বাড়িতেই থাকত। ২০১৬ সালে হুমো নামে বেলজিয়ান এক ম্যাগাজিনে সুটের মেয়ে গোদেলিভের সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। এরপরই লুমুম্বার একমাত্র দেহাবশেষ নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়। সাক্ষাৎকারে সুটের মেয়ে বলেছিলেন, ‘প্যাট্রিস লুমুম্বার মরদেহ নিয়ে তাঁর বাবা যে ঘৃণ্য কাজ করেছেন, তা পরে বুঝতে পারেন তিনি। ২০০০ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁকে এজন্য কষ্ট পেতে হয়।’
.png)

বাড়ির ছোট ছেলেটা গল্প শুনতে খুব ভালোবাসত। বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদ তাঁকে দিয়ে মাথা টিপিয়ে নিতেন। বিনিময়ে খুলে যেত অদ্ভুত সব মজার গল্পের ঝাঁপি। তখন কি কেউ জানত, সেই ছোট ছেলেটিই একদিন বড় হয়ে হাসির রাজ্য গড়ে তুলবে? লেখা আর কার্টুন হয়ে উঠবে তাঁর সঙ্গী। তিনি আর কেউ নন, দেশের জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক আ
০১ জুলাই ২০২৬
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আজ। কত কিছু মনে পড়ছে। ২০২৪ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’ শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছিল গণ-অভ্যুত্থানে এবং পতন ঘটিয়েছিল দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের।
০১ জুলাই ২০২৬
ফেসবুকে কেউ যদি কোন থ্রিলার বই-এর খোঁজ করেন এর পর থেকে ফেসবুক তাঁকে থ্রিলার বই-এর খবর পাঠাতে থাকবে। এবং তিনি শুধু এ ধরনের বই-ই পড়তে থাকবেন। ভয়টা এখানেই। তিনি হয়তো জানতেও পারবেন না যে থ্রিলারের বাইরেও রোমান্টিক ও অ্যাডভেঞ্চার ধরনের বই রয়ে গেছে।
৩০ জুন ২০২৬
আহমদ ছফাকে শুধু একজন কথাসাহিত্যিক হিসেবে পড়লে তাঁর গুরুত্বের বড় একটি অংশ অধরা থেকে যায়। আবার তাঁকে কেবল রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে দেখলেও তাঁর চিন্তার পূর্ণতা ধরা পড়ে না। সাহিত্য, রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়—এসবকে তিনি কখনো বিচ্ছিন্নভাবে দেখেননি।
৩০ জুন ২০২৬