স্টুডেন্টদের জন্য সুখবর, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ বাড়ছে নিউজিল্যান্ডে
স্ট্রিম ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা শেষ করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর। আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েটরা পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে এই ভিসা দেওয়া হবে। আর যাঁরা এই ভিসায় আবেদন করতে পারবেন না, তাঁদের জন্যও থাকছে নতুন ছয় মাসের শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ওয়ার্ক ভিসা। নতুন ভিসার মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডে থেকে কাজ করার পাশাপাশি চাকরি খোঁজারও সুযোগ থাকবে।
পোস্ট-স্টাডি ভিসা কারা পাবেন?
নতুন নিয়মে নিউজিল্যান্ডে লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা শেষ করা শিক্ষার্থীরা পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা হলো ব্যাচেলর বা স্নাতক ডিগ্রি শেষ করার পর করা উচ্চশিক্ষার কোর্স।
তবে এই ভিসা পেতে হলে গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমার পুরো কোর্সটি নিউজিল্যান্ডে ফুল-টাইম, অর্থাৎ নিয়মিতভাবে পুরো সময় ধরে পড়তে হবে। আগের কোনো পড়াশোনা থেকে পাওয়া ক্রেডিট দিয়ে কোর্সের কিছু অংশ শেষ করলে সেটি এই ভিসার যোগ্যতা হিসেবে ধরা হবে না।
এ ছাড়া আবেদনকারীর ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে। এই ডিগ্রি নিউজিল্যান্ডের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে হতে পারে, আবার বিদেশের কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকেও হতে পারে। ব্যাচেলর ডিগ্রি কবে শেষ করেছেন, তার ওপর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকছে না।
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য আলাদা ‘আইকিউএ’ করতে হবে না। আইকিউএ হলো বিদেশের কোনো ডিগ্রি নিউজিল্যান্ডের শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান কি না, তা যাচাই করার প্রক্রিয়া। তবে আবেদনের সময় ব্যাচেলর ডিগ্রির সনদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দিতে হবে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা তাঁদের গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমার পড়াশোনার সময় অনুযায়ী পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা পেতে পারেন।
পোস্ট-স্টাডি ভিসা না পেলেও থাকছে ছয় মাসের সুযোগ
যেসব গ্র্যাজুয়েট পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার জন্য যোগ্য হবেন না, তাঁদের জন্য নতুন শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ওয়ার্ক ভিসা চালু করছে নিউজিল্যান্ড।
এই ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে নিউজিল্যান্ডে লেভেল ৫, ৬ বা ৭-এর কোনো যোগ্য কোর্সে কমপক্ষে ২৪ সপ্তাহ ফুল-টাইম পড়াশোনা করতে হবে। অর্থাৎ কোর্সটি নিয়মিতভাবে পুরো সময় ধরে করতে হবে।
তবে ইংরেজি ভাষার কোর্স, ফাউন্ডেশন কোর্স বা ব্রিজিং কোর্স এই ভিসার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ছাড়া যাঁদের পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার সুযোগ আছে, তাঁরা এই ছয় মাসের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
আবেদনকারীর নিজের থাকা-খাওয়ার খরচ চালানোর জন্য কমপক্ষে ৫ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার থাকতে হবে। ভিসার আবেদন করার সময় আবেদনকারীকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা এবং তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকার মতো শর্তও পূরণ করতে হবে।
এই ভিসার জন্য আবেদন করার সময় আগে থেকেই কোনো চাকরি ঠিক করে রাখার প্রয়োজন নেই। ভিসা পাওয়ার পর এর নিয়ম মেনে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করা যাবে। অর্থাৎ পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি না থাকলেও নিউজিল্যান্ডে থেকে চাকরি খোঁজার সুযোগ থাকবে।
তবে এই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ছয় মাস। একজন ব্যক্তি এই ভিসা শুধু একবার পেতে পারবেন এবং এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
এই ভিসায় কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। যেমন ভিসাধারী নিজের ব্যবসা চালাতে পারবেন না। এ ছাড়া এই ভিসার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গীর জন্য ওয়ার্ক ভিসা বা সন্তানের জন্য ডিপেনডেন্ট চাইল্ড স্টুডেন্ট ভিসা-এর আবেদন করা যাবে না। ডিপেনডেন্ট চাইল্ড বলতে বাবা-মায়ের ভিসার ওপর নির্ভরশীল সন্তানকে বোঝানো হয়।
আবেদন শুরু ১৬ নভেম্বর, এরপরও থাকছে অন্য ভিসার সুযোগ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা এবং শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ওয়ার্ক ভিসা; দুই ধরনের ভিসার আবেদনই ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হবে। আবেদন করা যাবে নিউজিল্যান্ডের ইনহ্যান্সড ইমিগ্রেশন অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে।
নতুন ছয় মাসের ভিসাটি মূলত পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেবে। এই সময়ে উপযুক্ত চাকরি পেলে এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে কেউ অ্যাক্রেডিটেড এমপ্লয়ার ওয়ার্ক ভিসা (এইডব্লিউভি)-এর মতো অন্য ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এইডব্লিউভি হলো নিউজিল্যান্ড সরকারের অনুমোদিত কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করার ভিসা।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস
.png)








