
পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র– এমন ঘোষণার পর এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অস্ত্রটি কী ধরনের, এর সক্ষমতা কতটা এবং মহাকাশে সামরিক শক্তির ভারসাম্যে এটি কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
তবে অস্ত্রটির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক বলেছেন, শত্রুপক্ষের হুমকি থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে কক্ষপথে থাকা এই অস্ত্র প্রয়োজনীয়। তবে এটি কখন উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বা এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কী, তা তিনি জানাননি।
মহাকাশনীতি ও সামরিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, অস্ত্রটি এমন কোনো আধুনকি ইলেকট্রনিক বা রেডিও-জ্যামিং ব্যবস্থা হতে পারে, যা সরাসরি স্যাটেলাইট ধ্বংস না করে তার যোগাযোগব্যবস্থা অচল করে দিতে সক্ষম।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সামরিক বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী ফেলো ড. ব্লেডিন বোয়েন বলেন, রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে একটি স্যাটেলাইট কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। তবে কক্ষপথে আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। এর মধ্যে এমন কাইনেটিক কিল ভেহিকল থাকতে পারে, যা কোনো স্যাটেলাইটে সরাসরি আঘাত করে সেটিকে ধ্বংস করতে পারে। তবে তার মতে, এমন অস্ত্র থাকার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
কোনো স্যাটেলাইটের কাছে গিয়ে সেটিকে পর্যবেক্ষণ বা ধরে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নেওয়ার মতো ‘গ্র্যাপলিং স্যাটেলাইট’ও একটি সম্ভাবনা বলে মনে করেন বোয়েন।
মহাকাশে বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণের কাজে সামরিক স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে।
গত এক দশকে রাশিয়া ও চীন অন্য দেশের স্যাটেলাইটের খুব কাছে গিয়ে বিভিন্ন কৌশলগত তৎপরতা চালিয়েছে। এসব ‘রেন্ডেভু অ্যান্ড প্রক্সিমিটি অপারেশন’ বা আরপিও ভবিষ্যতে ‘হান্টার-কিলার’ স্যাটেলাইট তৈরির পথ তৈরি করতে পারে।
কিংস কলেজ লন্ডনের ড. রড থর্নটন বলেন, এ ধরনের যান কোনো স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটাতে কিংবা সেটিকে ধাক্কা দিয়ে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দিতে পারে।
চীনের ‘স্পেস টাগ’ প্রযুক্তিও একইভাবে কোনো স্যাটেলাইট ধরে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নিতে সক্ষম। তবে এই প্রযুক্তি মহাকাশের আবর্জনা অপসারণেও ব্যবহার করা যায়।
রাশিয়ার রয়েছে স্থল ও বিমান থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য অ্যান্টি-স্যাটেলাইট (এএসএটি) ক্ষেপণাস্ত্র। থর্নটনের মতে, ন্যাটোর তুলনামূলক বেশি স্যাটেলাইট সক্ষমতার মোকাবিলায় রাশিয়া এসব অস্ত্রের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
চরম পরিস্থিতিতে মহাকাশে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানোর সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন থর্নটন। তিনি বলেন, এর ফলে সৃষ্ট তড়িৎচৌম্বকীয় পালস (ইএমপি) বিশাল এলাকাজুড়ে সুরক্ষাহীন স্যাটেলাইট অচল করে দিতে পারে। পৃথিবীর কক্ষপথ ক্রমেই বড় শক্তিগুলোর সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
সূত্র: বিবিসি
.png)






