স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা। প্রত্যেক প্রতিনিধি মঞ্চের সামনে গেলে ক্বারিদের কণ্ঠে পবিত্র কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়।
ইসলামের ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনার এসব আয়াতের প্রতিটিই ছিল ইঙ্গিতপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, একেক আয়াতের মাধ্যমে মঞ্চে থাকা দেশ বা সংগঠনের মধ্যে যুদ্ধপরিস্থিতিতে ইরান ও মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে কে, কী করেছে, তা ফুটে উঠেছে।
খামেনির কফিনে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধা জানানোর সময় ক্বারিরা তেলাওয়াত করেন আল-ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত। এই আয়াতে বদর যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, যেখানে সংখ্যা ও অস্ত্রে অনেক পিছিয়ে থাকা মুসলিম বাহিনী ‘আল্লাহর ইচ্ছায়’ বহুগুণ বড় সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছিল। এই আয়াতের ভাবার্থ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের বিজয়ের ইঙ্গিত, তা স্পষ্ট হয়েছে।
৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান সৌদি আরবের মাটিতেই বদর যুদ্ধ হয়। সৌদির প্রতিনিধিদলের সামনে এই আয়াতের তেলাওয়াত প্রশংসা নাকি কটাক্ষ, নাকি দুটোই– এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এটি যে ইরানের ইচ্ছাকৃত ছিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান কেবল টিকেই থাকেনি, বরং অনেকের মতে, আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে। অন্যদিকে, সৌদি আরব যুদ্ধের সময় নীরবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে সক্রিয়ও ছিল সৌদি আরব। এই বাস্তবতায় আয়াতটির অর্থ আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে।
খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদল এসেছিল। এই উপস্থিতি ইরানের জন্য ছিল শক্তিমত্তার প্রদর্শনী। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানকে যতটা বিচ্ছিন্ন করতে চায়, বাস্তবে তা হয়নি– এটাই ছিল এই জানাজার মূল বার্তা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজের বাসভবনে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি, জামাতা, পুত্রবধূও মারা যান। তিন দিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয় খামেনির মরদেহ।
এই জানাজা ধর্মীয়। কিন্তু একইসঙ্গে ছিল রাষ্ট্রীয় বার্তার মঞ্চ। নিজের জনগণকে ইরান জানাল– রাষ্ট্রের সক্ষমতা এখনো অটুট। মিত্রদের আশ্বস্ত করল, তেহরান মাথা নত করেনি। বৃহৎ শক্তিগুলোকে দেখাল, ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনে করিয়ে দিল, ইরান সব কিছুর হিসাব রাখছে।
খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে উপস্থিত হওয়া প্রতিনিধিদের সামনে তেলাওয়াত করা আয়াতকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছে সংবাদমাধ্যম মিডিল ইস্ট আই।
প্রতিরোধ, অঙ্গীকার ও বিজয়ের ভাষা
ফিলিস্তিনের হামাস, ইসলামিক জিহাদ, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি, ইরাকের হাশদ আল-শাআবি এবং আফগানিস্তানের তালেবানের মতো ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রায় সবার জন্য বেছে নেওয়া আয়াতগুলোর বিষয়বস্তু ছিল একটাই, শাহাদাত, অঙ্গীকার ও বিজয়।
হামাসের প্রতিনিধিদলের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তেলাওয়াত করা হয় আল-আহজাবের ২৩ নম্বর আয়াত, যেখানে বলা হয়েছে– এরা সেই মানুষ যারা ‘আল্লাহর সঙ্গে তাদের প্রতিশ্রুতি সত্য প্রমাণ করেছে।’ কেউ সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে, কেউ অপেক্ষায় আছে। কিন্তু কেউই অঙ্গীকার বদলায়নি।
হিজবুল্লাহর উদ্দেশে তেরাওয়াত করা হয় আল-ইমরানের ১৩৯ নম্বর আয়াত, যেখানে বলা হয়েছে– ‘প্রকৃত বিশ্বাসীদের’ জন্য রয়েছে ‘শ্রেষ্ঠত্ব’। সামরিক ক্ষতিকে দেখানো হয়েছে ঐশ্বরিক নিয়তি ও পরীক্ষার অংশ হিসেবে, যেখানে আল্লাহ শহীদদের বেছে নেন এবং কে বিশ্বস্ত তা প্রকাশ পায়।
হুথিদের জন্য আল-ফাতহের ২৯ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। এই আয়াতে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথীদের ‘অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর’ এবং ‘একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল’ বলা হয়েছে। হাশদ আল-শাআবির উদ্দেশে তেলাওয়াত করা হয় আল-ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াত– ‘আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা মৃত নন। তারা জীবিত।’
ইসলামিক জিহাদ ও তালেবান– দুই সংগঠনের উদ্দেশে তেলাওয়াত করা হয় আল-ফাতহের ১ থেকে ৩ আয়াত, যেখানে উল্লেখ রয়েছে ‘স্পষ্ট বিজয়।’ দুটি ভিন্ন আন্দোলনের জন্য একই আয়াত ব্যবহার বলে দেয়, তেহরানের দৃষ্টিতে তাদের মর্যাদা একই রকম। এর মধ্যে একটি বার্তাও থাকতে পারে, আমেরিকাকে পরাজিত করেছে তালেবান। ইরানও তাদের হারিয়েছে এবং ফিলিস্তিনিরাও একদিন বিজয়ী হবে।
রাষ্ট্রীয় মিত্র: কৃতজ্ঞতা
চীন, রাশিয়া, ভারত ও মিসরের জন্য নির্বাচিত আয়াতে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। যুদ্ধ বা প্রতিরোধ নয়, ধার্মিকতা, আশ্বাস ও পুরস্কারের কথা জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সামনে তেলাওয়াত করা হয় আল-কাসাসের ৮৩ নম্বর আয়াত– ‘পরকালের চিরস্থায়ী ঠিকানা’ তাদের জন্য যারা ‘পৃথিবীতে অহংকার ও বিপর্যয় চায় না।’ আয়াত শেষ হয়– ‘আর শুভ পরিণাম কেবল খোদাভীরুদের জন্যই’।

চীনের প্রতিনিধি দলের জন্য তেলাওয়াত করা হয় আল-ইমরানের ১২৬ নম্বর আয়াত, যেখানে বলা হয়েছে– ‘আল্লাহ এটা তোমাদের জন্য সুসংবাদ ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্যই নির্ধারণ করেছেন। আর বিজয় তো কেবল আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।’
ভারতের প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তেলাওয়াত করা হয় হিজবুল্লাহর জন্য আল-ইমরানের ১৩৯ নম্বর আয়াত। তবে এখান থেকে শহীদ ও যুদ্ধের অংশটুকু বাদ দিয়ে, অনেকটা নরম সুরে তেলাওয়াত করেন ক্বারি, ‘হতাশ হয়ো না বা দুঃখ করো না।’
মিসরের উদ্দেশে দুটি আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। প্রথমটি আল-হিজরের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর এবং দ্বিতীয়টি আল-বাইয়্যিনাহর ৭ ও ৮ নম্বর আয়াত– ‘যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে’ তারাই ‘সর্বোত্তম সৃষ্টি।’
এসব দেশ ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানকে সরাসরি কিংবা নীরব সমর্থন দিয়েছিল। তবে ইরানের প্রতিরোধের গল্পে তাদের জায়গা নেই। তাদের সামনে পড়া আয়াতগুলো যেন ছিল কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।
আঞ্চলিক অংশীদ্বার: মাঝামাঝি অবস্থান
কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশ যারা প্রতিরোধ অক্ষেও ছিল না কিংবা রাষ্ট্রীয় মিত্রও নয়। বরং ইরানের কাছে এদের অবস্থান মাঝামাঝি। কাতারের প্রতিনিধিদের সামনে তেলাওয়াত করা হয় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ ও তালেবানের জন্য ‘স্পষ্ট বিজয়ের’ আল-ফাতহের ১ নম্বর আয়াত। তবে এখানে এর অর্থ ভিন্ন– লড়াইয়ের আহ্বান নয়, কূটনৈতিক সহায়তার স্বীকৃতি।

তুরস্কের জন্য তেলাওয়াত করা হয় আন-নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত– ‘যারা তাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করে’, তারা ‘যারা পিছিয়ে থাকে’ তাদের চেয়ে উচ্চে। আঙ্কারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধাসক্ত’ বলে সতর্ক করেছিলেন।
পাকিস্তান যুদ্ধের শুরু থেকেই কাতারের সঙ্গে মিলে কূটনৈতিক সমাধানে নেতৃত্ব দিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেতু তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল ইসলামাবাদ।
লেবানন ও সৌদি আরব: প্রচ্ছন্ন তিরস্কার
হিজবুল্লাহর জন্য তেলাওয়াত করা আয়াতের সঙ্গে তুলনা করলে সৌদি আরবের পাশাপাশি লেবাননের সরকারের প্রতিও ছিল তেহরানের প্রচ্ছন্ন তিরস্কার। লেবাননের প্রতিনিধিদের জন্য আন-নিসার ৬৬ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়– ‘আমি যদি তাদের আদেশ করতাম নিজেদের হত্যা করতে অথবা নিজেদের ঘর ছেড়ে যেতে, তবে তাদের মধ্যে অল্পই তা পালন করত। আর তারা যে উপদেশ পেয়েছিল তা যদি করত, তা তাদের জন্য অনেক ভালো হতো।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননের সরকার ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ভূমিকা না রেখে বরং হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ হামলার সমালোচনা করেছে। এই আয়াত দিয়ে ইরান যেন সেই অনীহার কথাই মনে করিয়ে দিল।

ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা। প্রত্যেক প্রতিনিধি মঞ্চের সামনে গেলে ক্বারিদের কণ্ঠে পবিত্র কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়।
ইসলামের ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনার এসব আয়াতের প্রতিটিই ছিল ইঙ্গিতপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, একেক আয়াতের মাধ্যমে মঞ্চে থাকা দেশ বা সংগঠনের মধ্যে যুদ্ধপরিস্থিতিতে ইরান ও মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে কে, কী করেছে, তা ফুটে উঠেছে।
খামেনির কফিনে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধা জানানোর সময় ক্বারিরা তেলাওয়াত করেন আল-ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত। এই আয়াতে বদর যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, যেখানে সংখ্যা ও অস্ত্রে অনেক পিছিয়ে থাকা মুসলিম বাহিনী ‘আল্লাহর ইচ্ছায়’ বহুগুণ বড় সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছিল। এই আয়াতের ভাবার্থ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের বিজয়ের ইঙ্গিত, তা স্পষ্ট হয়েছে।
৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান সৌদি আরবের মাটিতেই বদর যুদ্ধ হয়। সৌদির প্রতিনিধিদলের সামনে এই আয়াতের তেলাওয়াত প্রশংসা নাকি কটাক্ষ, নাকি দুটোই– এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এটি যে ইরানের ইচ্ছাকৃত ছিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান কেবল টিকেই থাকেনি, বরং অনেকের মতে, আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে। অন্যদিকে, সৌদি আরব যুদ্ধের সময় নীরবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে সক্রিয়ও ছিল সৌদি আরব। এই বাস্তবতায় আয়াতটির অর্থ আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে।
খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদল এসেছিল। এই উপস্থিতি ইরানের জন্য ছিল শক্তিমত্তার প্রদর্শনী। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানকে যতটা বিচ্ছিন্ন করতে চায়, বাস্তবে তা হয়নি– এটাই ছিল এই জানাজার মূল বার্তা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজের বাসভবনে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি, জামাতা, পুত্রবধূও মারা যান। তিন দিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয় খামেনির মরদেহ।
এই জানাজা ধর্মীয়। কিন্তু একইসঙ্গে ছিল রাষ্ট্রীয় বার্তার মঞ্চ। নিজের জনগণকে ইরান জানাল– রাষ্ট্রের সক্ষমতা এখনো অটুট। মিত্রদের আশ্বস্ত করল, তেহরান মাথা নত করেনি। বৃহৎ শক্তিগুলোকে দেখাল, ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনে করিয়ে দিল, ইরান সব কিছুর হিসাব রাখছে।
খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে উপস্থিত হওয়া প্রতিনিধিদের সামনে তেলাওয়াত করা আয়াতকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছে সংবাদমাধ্যম মিডিল ইস্ট আই।
প্রতিরোধ, অঙ্গীকার ও বিজয়ের ভাষা
ফিলিস্তিনের হামাস, ইসলামিক জিহাদ, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি, ইরাকের হাশদ আল-শাআবি এবং আফগানিস্তানের তালেবানের মতো ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রায় সবার জন্য বেছে নেওয়া আয়াতগুলোর বিষয়বস্তু ছিল একটাই, শাহাদাত, অঙ্গীকার ও বিজয়।
হামাসের প্রতিনিধিদলের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তেলাওয়াত করা হয় আল-আহজাবের ২৩ নম্বর আয়াত, যেখানে বলা হয়েছে– এরা সেই মানুষ যারা ‘আল্লাহর সঙ্গে তাদের প্রতিশ্রুতি সত্য প্রমাণ করেছে।’ কেউ সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে, কেউ অপেক্ষায় আছে। কিন্তু কেউই অঙ্গীকার বদলায়নি।
হিজবুল্লাহর উদ্দেশে তেরাওয়াত করা হয় আল-ইমরানের ১৩৯ নম্বর আয়াত, যেখানে বলা হয়েছে– ‘প্রকৃত বিশ্বাসীদের’ জন্য রয়েছে ‘শ্রেষ্ঠত্ব’। সামরিক ক্ষতিকে দেখানো হয়েছে ঐশ্বরিক নিয়তি ও পরীক্ষার অংশ হিসেবে, যেখানে আল্লাহ শহীদদের বেছে নেন এবং কে বিশ্বস্ত তা প্রকাশ পায়।
হুথিদের জন্য আল-ফাতহের ২৯ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। এই আয়াতে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথীদের ‘অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর’ এবং ‘একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল’ বলা হয়েছে। হাশদ আল-শাআবির উদ্দেশে তেলাওয়াত করা হয় আল-ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াত– ‘আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা মৃত নন। তারা জীবিত।’
ইসলামিক জিহাদ ও তালেবান– দুই সংগঠনের উদ্দেশে তেলাওয়াত করা হয় আল-ফাতহের ১ থেকে ৩ আয়াত, যেখানে উল্লেখ রয়েছে ‘স্পষ্ট বিজয়।’ দুটি ভিন্ন আন্দোলনের জন্য একই আয়াত ব্যবহার বলে দেয়, তেহরানের দৃষ্টিতে তাদের মর্যাদা একই রকম। এর মধ্যে একটি বার্তাও থাকতে পারে, আমেরিকাকে পরাজিত করেছে তালেবান। ইরানও তাদের হারিয়েছে এবং ফিলিস্তিনিরাও একদিন বিজয়ী হবে।
রাষ্ট্রীয় মিত্র: কৃতজ্ঞতা
চীন, রাশিয়া, ভারত ও মিসরের জন্য নির্বাচিত আয়াতে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। যুদ্ধ বা প্রতিরোধ নয়, ধার্মিকতা, আশ্বাস ও পুরস্কারের কথা জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সামনে তেলাওয়াত করা হয় আল-কাসাসের ৮৩ নম্বর আয়াত– ‘পরকালের চিরস্থায়ী ঠিকানা’ তাদের জন্য যারা ‘পৃথিবীতে অহংকার ও বিপর্যয় চায় না।’ আয়াত শেষ হয়– ‘আর শুভ পরিণাম কেবল খোদাভীরুদের জন্যই’।

চীনের প্রতিনিধি দলের জন্য তেলাওয়াত করা হয় আল-ইমরানের ১২৬ নম্বর আয়াত, যেখানে বলা হয়েছে– ‘আল্লাহ এটা তোমাদের জন্য সুসংবাদ ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্যই নির্ধারণ করেছেন। আর বিজয় তো কেবল আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।’
ভারতের প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তেলাওয়াত করা হয় হিজবুল্লাহর জন্য আল-ইমরানের ১৩৯ নম্বর আয়াত। তবে এখান থেকে শহীদ ও যুদ্ধের অংশটুকু বাদ দিয়ে, অনেকটা নরম সুরে তেলাওয়াত করেন ক্বারি, ‘হতাশ হয়ো না বা দুঃখ করো না।’
মিসরের উদ্দেশে দুটি আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। প্রথমটি আল-হিজরের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর এবং দ্বিতীয়টি আল-বাইয়্যিনাহর ৭ ও ৮ নম্বর আয়াত– ‘যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে’ তারাই ‘সর্বোত্তম সৃষ্টি।’
এসব দেশ ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানকে সরাসরি কিংবা নীরব সমর্থন দিয়েছিল। তবে ইরানের প্রতিরোধের গল্পে তাদের জায়গা নেই। তাদের সামনে পড়া আয়াতগুলো যেন ছিল কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।
আঞ্চলিক অংশীদ্বার: মাঝামাঝি অবস্থান
কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশ যারা প্রতিরোধ অক্ষেও ছিল না কিংবা রাষ্ট্রীয় মিত্রও নয়। বরং ইরানের কাছে এদের অবস্থান মাঝামাঝি। কাতারের প্রতিনিধিদের সামনে তেলাওয়াত করা হয় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ ও তালেবানের জন্য ‘স্পষ্ট বিজয়ের’ আল-ফাতহের ১ নম্বর আয়াত। তবে এখানে এর অর্থ ভিন্ন– লড়াইয়ের আহ্বান নয়, কূটনৈতিক সহায়তার স্বীকৃতি।

তুরস্কের জন্য তেলাওয়াত করা হয় আন-নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত– ‘যারা তাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করে’, তারা ‘যারা পিছিয়ে থাকে’ তাদের চেয়ে উচ্চে। আঙ্কারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধাসক্ত’ বলে সতর্ক করেছিলেন।
পাকিস্তান যুদ্ধের শুরু থেকেই কাতারের সঙ্গে মিলে কূটনৈতিক সমাধানে নেতৃত্ব দিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেতু তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল ইসলামাবাদ।
লেবানন ও সৌদি আরব: প্রচ্ছন্ন তিরস্কার
হিজবুল্লাহর জন্য তেলাওয়াত করা আয়াতের সঙ্গে তুলনা করলে সৌদি আরবের পাশাপাশি লেবাননের সরকারের প্রতিও ছিল তেহরানের প্রচ্ছন্ন তিরস্কার। লেবাননের প্রতিনিধিদের জন্য আন-নিসার ৬৬ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়– ‘আমি যদি তাদের আদেশ করতাম নিজেদের হত্যা করতে অথবা নিজেদের ঘর ছেড়ে যেতে, তবে তাদের মধ্যে অল্পই তা পালন করত। আর তারা যে উপদেশ পেয়েছিল তা যদি করত, তা তাদের জন্য অনেক ভালো হতো।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননের সরকার ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ভূমিকা না রেখে বরং হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ হামলার সমালোচনা করেছে। এই আয়াত দিয়ে ইরান যেন সেই অনীহার কথাই মনে করিয়ে দিল।
.png)

টানা ছয় দিনের বিক্ষোভের মুখে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মেজর জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতি। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ভিড় দেখা গেছে। অনশনরত সোনম ওয়াংচুক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সান হোসে, লন্ডন এবং ডাবলিনেও বিক্ষোভ হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হুমকির মুখে চীন ও ভারতগামী সৌদি আরবের দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার লোহিত সাগরে পথ পরিবর্তন করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
৪ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বেড়ে সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে নিতে কংগ্রেসের কাছে জরুরি তহবিল চেয়েছে পেন্টাগন।
৫ ঘণ্টা আগে