ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করবে পাকিস্তান সরকার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ০৮
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: রয়টার্স

কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এ আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে পাকিস্তান সরকার। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে এক ভিডিওবার্তায় এ কথা জানিয়েছেন দেশটির আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার। খবর রয়টার্স

সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী, আগামী দুই দিনের মধ্যে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগার থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার কথা। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসককে তাঁকে দেখার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেন, আদালতের দেওয়া আদেশটি প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে সরকার আদালতের রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো দণ্ডিত বন্দির চিকিৎসা কারাগারের ভেতরে অথবা সরকারি হাসপাতালে হওয়ার কথা। তাই আদালতের আদেশ পরিবর্তনের জন্য সরকার আবেদন করবে।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে বন্দী আছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় সাজা হয়েছে। তবে ইমরান খান এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।

ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে গত বছর থেকে তাঁর পরিবার ও দল উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, কারাগারে থাকার সময় তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এ অবস্থায় তাঁর উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও পরিবার।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে পিটিআই। দলটি বলেছে, আদালতের নির্দেশ ‘অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণভাবে’ বাস্তবায়ন করা উচিত।

ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার নির্দেশ

ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিমের সঙ্গে সপ্তাহে দুবার ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। তারা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।

ইমরানের ছোট ছেলে কাসিম বলেছেন, তাঁর বাবার স্বাস্থ্যই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, তাঁরা আশা করছেন সরকার আদালতের নির্দেশ মেনে চলবে, তাঁর বাবাকে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেবে এবং তাঁদের পাকিস্তানে গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য ভিসা দেবে।

একের পর এক মামলায় ইমরান

২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর পর থেকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি, সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় সহিংস হামলায় উসকানি এবং অবৈধ বিবাহের মতো অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

একটি মামলা ছাড়া তাঁর সব দণ্ডই স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল বিচারাধীন রয়েছে। তবে তিনি সব অপরাধ অস্বীকার করেছেন।

ইমরানের দল পিটিআই ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল। এখনো পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রদেশে দলটির বড় জনসমর্থন রয়েছে।

তবে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে পিটিআইকে দলীয় নির্বাচনি প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে দলটির প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়।

নির্বাচনে পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পান। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তাঁরা এককভাবে সরকার গঠন করতে পারেননি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করবে পাকিস্তান সরকার