ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ আরব আমিরাতের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ০০
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি। ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে ইরান এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর আল জাজিরা

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অঞ্চলটির শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন পরিস্থিতির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এর একটি ইউএইর আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে পড়েছে এবং অন্যটি জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। দেশের নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইউএইর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটি একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ হতে পারে।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে

ইরান যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহে আরব আমিরাতের ওপর সবচেয়ে বেশি হামলা চালায় ইরান। ইরানের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা ছিল।

তখন ৫৩০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। মে মাসের পর মঙ্গলবারই প্রথম ইউএইকে লক্ষ্য করে হামলা হয়।

এর আগে আবুধাবি অভিযোগ করেছিল, হরমুজ প্রণালিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) দুটি জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক মার্কিন জেনারেল মার্ক কিমিটের মতে, আরব আমিরাতের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার দুবাইয়ের মাধ্যমে দেশটির বার্ষিক আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ের ওপর নির্ভরশীল।

কিমিট মনে করেন, অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো আপাতত আরব আমিরাতের পথ অনুসরণ করবে না। তবে ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। দেশটির পদক্ষেপকে তেহরান যুদ্ধের কাছাকাছি কোনো পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ আরব আমিরাতের