ধর্ষণের পরে শিশু হত্যা, বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৪১
ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার শিশুর ছবি সংবলিত ব্যানার হাতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার শিশুর ছবি সংবলিত ব্যানার হাতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

নেপালে শিশুকে ধর্ষণের পরে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় ধর্ষণের বিরদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন দেশটির অধিকারকর্মী ও রাজনীতিকরা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাধেশ প্রদেশে নিখোঁজের তিন দিন পর গত সপ্তাহে ওই শিশুকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সিমারা শহরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভের পর শিশুটির পরিবারের সদস্যরা মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের একটি লিখিত চুক্তি হয়। সরকার গুরুতর অপরাধ-সংক্রান্ত আইন পর্যালোচনার পাশাপাশি শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই ঘটনায় দেশটির কিশোর অপরাধীদের বিচারব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ধর্ষণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ। মানবাধিকারকর্মী গৌরী প্রধান বলেন, এ ধরনের নৃশংস কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি বিচারব্যবস্থায় বৃহত্তর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে। তবে কিশোর অপরাধীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি চালুর দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

দেশটিতে আইন সংস্কারের দাবিও আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। তদন্তের শুরুতেই পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই পুলিশ হেফাজতে থাকা এক কিশোর সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

বারা জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, ‘এখন পর্যন্ত আমরা একজন পুলিশ সদস্যকে ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সরাসরি জড়িত হিসেবে পেয়েছি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমাদের কোনো ছাড় নেই।’

নেপাল পুলিশের তথ্যে, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের সাড়ে ২৫ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২০০টির বেশি মামলায় ভুক্তভোগী ১০ বছরের কম বয়সী মেয়ে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত