চার খুনের তদন্তে ‘একই শার্ট, ব্যাখ্যা দিলেন ডিবি প্রধান

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৪১
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। সংগৃহীত ছবি
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। সংগৃহীত ছবি

রংপুরে চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক আসামির সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর পরনের শার্টের মিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা উঠেছে। তবে দুই শার্ট এক নয় বলে দাবি করেছেন ডিবি প্রধান।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় তিনি যে শার্টটি পরেছিলেন, এখনো সেটিই তার পরনে রয়েছে। এ সময় তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগের সময়ের ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, আসামির পরনের শার্টের সঙ্গে তার শার্টের মিল নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে শার্টটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, সেদিন আমি ওই শার্টই পরেছিলাম এবং এখনো সেটিই পরে আছি। তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কতিপয় দুষ্কৃতকারী এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

গ্রেপ্তার আসামিদের ছবি দেখিয়ে সিদ্ধার্থ দাসের মা পাপড়ি দাসকে তার ছেলে কোনটি জানতে চাওয়া হলে তিনি শার্ট পরা সিদ্ধার্থকে দেখিয়ে বলেন, ‘এখন তো গেঞ্জি পাল্টাইছে। এই যে এইটা। গেঞ্জি পরা, সাদা গেঞ্জি পরা।’

ওই শার্টটি তাদের কি না এবং পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় সিদ্ধার্থ কী পরেছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে পাপড়ি দাস বলেন, ‘এই শার্ট না। গেঞ্জি ছিল।’

এসময় শার্টটির ব্র্যান্ড নিয়েও ব্যাখ্যা দেন ডিবি প্রধান।

লাশ উদ্ধারের দিন স্থানীয় বিভিন্ন ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে ঘটনাস্থলে সনাতন চক্রবর্তীকে একই ধরনের শার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায়। পরে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসকে আদালতে নেওয়ার সময় তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

তবে শুধু পোশাকের মিলকে কোনো ব্যক্তির ঘটনাস্থলে উপস্থিতি বা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ভিডিও ফুটেজের সময়, আসামিদের অবস্থান, ঘটনাস্থলের আলামতসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে দেখা জরুরি।

এদিকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশকে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক মিলন চ্যাটার্জি বলেন, চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে কী বলেছেন, তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত