মিরাজ শেখ ‘নিখোঁজের’ সাড়ে ৪ মাস, ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ৩০
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে ‘নিখোঁজ’ বাগেরহাটের মিরাজ শেখকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের গুম হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দা মিরাজ ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জয়মনি হাট থেকে তাকে তুলে নেন কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয় দেওয়া সাদা পোশাকধারী দুই ব্যক্তি। পরে তারা মিরাজকে হারবাড়িয়া কোস্টগার্ড স্টেশনের পন্টুনে নিয়ে গেলে সেখানে মোংলার দিক থেকে কোস্টগার্ডের একটি স্পিডবোট আসে। সেই স্পিডবোটে আট থেকে ১০ জন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য ছিলেন বলে দাবি মিরাজের পরিবারের।

সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের বোন লিজা ইসলাম জানান, স্পিডবোটটির গায়ে স্পষ্টভাবে ‘বাংলাদেশ কোস্টগার্ড’ লেখা ছিল। ঘটনাটি উপস্থিত গ্রামবাসী ও মিরাজের স্ত্রীর সামনেই ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।

লিজা বলেন, মিরাজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জয়মনি হাটের চায়ের দোকানদার আল আমিনের জিম্মায় রাখা ছিল। মিরাজকে নিয়ে যাওয়ার প্রায় ১০ দিন পর গভীর রাতে রবিন নামে একজন ব্যক্তি ও মিজান মাঝি এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। রবিন নিজেকে কোস্টগার্ডের সদস্য পরিচয় দেন এবং কার্ড দেখান।

লিজা আরও জানান, গত ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল কোস্টগার্ড সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মিরাজ তাদের হেফাজতে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। অপরাধ পাওয়া না গেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।

স্বামীর খোঁজ না পেয়ে গত ২৩ এপ্রিল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মিরাজের স্ত্রী মুক্তা ফাতেমা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘স্বামীকে ফিরে পেতে এর আগে আমরা মানববন্ধন করেছিলাম। সেখানে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। আমাদের মারধর করে মামলাও দেওয়া হয়।’ এই ঘটনায় তারা ২৭ দিন জেলে ছিলেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এই ঘটনাটি বাংলাদেশে সংঘটিত প্রথম গুমের ঘটনা। অবিলম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মিরাজ শেখকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করা, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

উল্লেখ্য, এর আগে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে নিখোঁজ মিরাজকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পর ঘটনাটি তদন্তে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত